মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১, ১১:৩০ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ডাবের খোসায় গর্ত ভরাট‍! নিয়মিত পর্নো ভিডিও দেখতেন শিশুবক্তা রফিকুল আইপিএল নিয়ে জুয়ার আসর থেকে আটক ১৪ কারাগারে কেমন কাটছে পাপিয়ার দিনকাল এক ঘুমে কেটে গেলো ১৩ দিন! কেউ ‘কাজের মাসি’, কেউবা ‘সেক্সি ননদ-বৌদি’ ৬৪২ শিক্ষক-কর্মচারীর ২৬ কোটি টাকা ছাড় করোনায় আরো ৬৯ জনের মৃত্যু, আক্রন্ত ৬০২৮ বাংলাদেশে করোনা টানা তিনদিন রেকর্ডের পর কমল মৃত্যু, শনাক্তও কম করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপি শো-রুম থেকে প্যান্ট চুরি করে ধরা খেলেন ছাত্রলীগ নেতা করোনা নিঃশব্দ ও অদৃশ্য ঘাতক,সতর্কতাই এ থেকে মুক্তির একমাত্র পথ ——-ওসি দীপক চন্দ্র সাহা তানোরে প্রণোদনার কৃষি উপকরণ বিতরণ শিবগঞ্জে কৃষি জমিতে শিল্প পার্কের প্রস্তাবনায় এলাকাবাসীর মানববন্ধন সড়কের বেহাল দশায় চরম জনদুর্ভোগ

“বাবা, রশিদটা রাখুন। পথে লাগতে পারে”

ঢাকা-চট্টগ্রাম ট্রেনে উঠেই দেখি আমার উল্টো দিকে এক অসুস্থ বৃদ্ধ মাথা নিচু করে বসে আছেন। টিটিকে টিকিট দেখাতে না পেরে ভদ্রলোকের চোখেমুখে এতটাই অপরাধী ভাব যেনো, এক খুনের মামলার আসামী। টিটির অকথ্য ভাষার গালাগালি আমি সহ্য করতে পারছিলাম না। একটু কর্কশ ভাষায় বলে ফেললাম “টিটি সাহেব ফাইনসহ কতো? আমি দেবো”।
টিটি বললো, আপনি দেবেন কেনো?
আমি বললাম,তাতে আপনার কী? টাকা নিয়ে রশিদ কেটে দিন।রশিদটা বৃদ্ধের হাতে দিয়ে বললাম, “বাবা,
রশিদটা রাখুন। পথে লাগতে পারে”।কাঁদতে কাঁদতে বৃদ্ধ বললো,বাবা তুমি আমার মান সম্মান বাঁচালে।পরিস্থিতি স্বাভাবিকের জন্য মৃদু হেঁসে বললাম,আপনি ঢাকায় কোথায় থাকেন?বৃদ্ধ বললো,সে এক ইতিহাস। আপনার কি শোনার সময় হবে?আমি বললাম,অবশ্যই, বলুন।বৃদ্ধ বললো,আমি পাইকপাড়া বশিরউদ্দিন
স্কুলে B.Sc শিক্ষক ছিলাম।
শিক্ষক শুনেই আমি অবাক হয়ে বললাম, “স্যার, আমাকে তুমি করে বলবেন।
ওনি বললো,বাইশ বছর পর স্যার শব্দটি শুনে
চোখের পানি ধরে রাখতে পারলামনা রে বাবা।
টিস্যু এগিয়ে দিয়ে বললাম,স্যার, আপনার গল্পটা বলুন।
ওনি বললো,তিন বছর বয়সের যমজ দুটো ছেলে আমার। আর একমাত্র মেয়েটি জন্মের সময় ওদের মায়ের মৃত্যু হয়। সন্তানদের দিকে তাকিয়ে আর বিয়ে করলাম না। পাইকপাড়ায় মাথা গুঁজার ঠাঁই করি। সন্তানদেরকে বাবা-মায়ের আদর দিয়ে বড় করলাম। বড় ছেলেটা বুয়েট থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করলো। ছোটো ছেলেটা ঢাকা মেডিক্যাল থেকে পাস করলো।
আমি বললাম,মেয়েটিকে কি পড়ালেন?
স্যার বললো,নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষজনের ধারনা মেয়েকে লেখাপড়া শিখিয়ে লাভ কী।পরের বাড়ি চলে যাবে। বরঞ্চ ছেলেকে সুশিক্ষিত করে তুললে বৃদ্ধ বয়সে একটু মাথা গুঁজার ঠাঁই হবে।
আমরা খুব স্বার্থপর জাতী রে বাবা। মেয়েটি ইন্টারমিডিয়েট পাস করার সাথে সাথে বিয়ে দিয়ে দিলাম। ছাত্রী ভালো ছিলো।
আমি বললাম, তারপর?
স্যার বললো, ছেলে দু’টোকে বিয়ে করালাম। ছেলে দুটোর অনুরোধে জমিটুকু বিক্রি করে বড় ছেলেকে পল্টনে আর ছোটো ছেলেকে উত্তরায় ফ্ল্যাট কিনে দিলাম।
আমি বললাম,মেয়েকে কিছুই দেন নাই?
কাঁদতে কাঁদতে স্যার বললো, সেটাই একটা বিরাট ভুল বাবা। ছেলের বৌদের সিদ্ধান্ত প্রতি মাসের ১-১৫দিন বড় ছেলের বাসায়, আর ১৬-৩০দিন ছোট ছেলের বাসায় সুটক্যাস নিয়ে ছুটাছুটি।মেয়ে অবশ্যই বহুবার বলেছে আব্বা আপনি আমার কাছে চলে আসেন। কোন মুখ নিয়ে যাবো? কতোদিন যাবৎ বুকের বাম দিকটা ব্যথা করতেছে।
আমি বললাম,ডাক্তার দেখাননি?
মৃদু হেঁসে স্যার বললো, ডাক্তার আবার, ছোটো বৌমাকে বললাম আর কয়েকটা দিন থাকি। সে সুটক্যাসটা বাহিরে ফেলে দিয়ে ইংরেজিতে বললো, See you next month।বড় ছেলের বাসায় গিয়ে দেখি তালা মারা। দারোয়ান বললো, ওরা দু’সপ্তাহের জন্য মালেশিয়া গেছে। তারা জানে নির্ধারিত সময়ানুযায়ী আমার আসার কথা। পকেটে বিষ কেনার পয়সাও নেই। তাই ভাবলাম মেয়েই শেষ অবলম্বন।
আমি জিজ্ঞেস করলাম, মেয়ে কী করে?
ওনি বললো,স্বামীটা খুব ভালো। আমার মেয়েকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে পড়িয়ে, ওরা দু’জনই প্রাইভেট ব্যাংকে চাকরি করে।
আমি বললাম,আপনার মেয়ে যদি আপনাকে গ্রহণ না করে?
স্যার বললো,মেয়ের পায়ে ধরে কান্না করলে আমাকে তাঁড়িয়ে দেবে না।
আমি আবার বললাম,এতো আত্মবিশ্বাস? মেয়ে কি জানে আপনি আসছেন?
স্যার:- না, আমার তো মোবাইল নেই।
আমি:- নাম্বার দিন, কথা বলিয়ে দিচ্ছি।
স্যার:- না না বাবা, মোবাইলে তো মেয়ের পা ধরে মাফ চাইতে পারবো না। পরে যদি নিষেধ করে দেয়।
আমি বলছি আপনার মেয়ে কোনোদিন বাবাকে তাড়িয়ে দেবে না।
এক প্রকার জোর করে ফোন ডায়েরি দেখে স্পিকার অন করে ডায়াল করলাম।
আমি:- “হ্যালো, আপনি কি শাহানা?”
অপরপ্রান্ত:- “জ্বী, কে বলছেন”?
আমি:- “একখানা সুখবর দেওয়ার জন্য ফোন করলাম”।
অপর প্রান্ত:- “কিসের সুখবর”?
আমি:- “কিছুক্ষনের মধ্যে আপনার বাবা অর্থাৎ স্যার রেল স্টেশনে পৌঁছাবেন”।
মেয়েটি চিৎকার দিয়ে বলে উঠলো, এই শুনছো, আব্বা আসছেন। চলো আমরা স্টেশনে যাই। কতোদিন হয় আব্বাকে দেখি না। “নিবিড়” চলো বাবা, তোর নানা ভাই আসছে, চল স্টেশনে যাই।
কিছুক্ষন পর স্টেশনে ট্রেনটি ধীর গতিতে চলছিলো। জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখলাম। ঘরের সাধারণ কাপড় পরা স্বামী সন্তানসহ এক নারী অধীর আগ্রহে তাকিয়ে যাত্রী খুঁজছিলো। তাকানো দেখেই বুঝে গিয়ে স্যারকে বললাম “আপনার মেয়ে”?
স্যার বেশ নার্ভাস স্বরে বললো “হো মা”।
আমি ইশারা দিতেই ওরা দরজার সামনে এসে গেলো। স্বামী স্যারের ভাঙ্গা স্যুটকেসটা নিয়ে পাঁ ছুঁয়ে সালাম করলো। মেয়েটি বাবাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছিলো। স্যারের চোখ ভরা অশ্রু আমাকে বিদায় দিলো। ট্রেন ছুটতে লাগলো।মেয়ে,জামাই আর নাতি স্যারকে ধরে আস্তে আস্তে নিয়ে যাচ্ছে আর ট্রেনটির দিকে তাকাচ্ছিলো।
মেয়েটির কান্না দেখে মনে হলো মা তার হারিয়ে যাওয়া সন্তানকে বহুদিন পর ফিরে পেলো।
আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবছিলাম “আজ আমার বাবা বেঁচে থাকলে হয়তো এই আনন্দের থেকে আমিও বঞ্চিত হতাম না”।
RESPECT🖤

Please Share This Post in Your Social Media

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

38444374
Users Today : 1329
Users Yesterday : 1256
Views Today : 17173
Who's Online : 30
© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/
Design And Developed By Freelancer Zone