বুধবার, ০৩ মার্চ ২০২১, ০৪:৫৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
মাদ্রাসা প্রধানদের জন্য সুখবর প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলার প্রস্তুতি শুরু হাজারবার কুরআন খতমকারী আলী আর নেই তানোরে আওয়ামী লীগ মুখোমুখি উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিবাদন জানিয়ে পাবনা জেলা ছাত্রলীগের আনন্দ মিছিল দিনাজপুর বিরামপুর পৌরসভায় ১১ মাসপর বেতন পেলেন কর্মকর্তা ও কর্মচারী গণ করোনার টিকা নিলেন মির্জা ফখরুল ও তার স্ত্রী রাজনীতিতে সামনে আরও খেলা আছে ইসিকে অপদস্ত করতে সবই করছেন মাহবুব তালুকদার: সিইসি ৪ অতিরিক্ত সচিবের দফতর বদল এ সংক্রান্ত আদেশ জারি রাজারহাটে কৃষক গ্রুপের মাঝে কৃষিযন্ত্র বিতরণ জামালপুরে কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার পত্নীতলায় জাতীয় ভোটার দিবস পালিত পত্নীতলা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত প্রফেসর মোঃ হানিফকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বরিশালের সর্বস্তরের মানুষ।

অ্যাজমা (Asthma) কিভাবে দূর হবে

 

এটি (Bronchial Asthma) ব্রঙ্কিয়াল এ্যাজমা নামেও পরিচিত। শ্বাসনালীতে বাতাস চলাচলে বিঘ্ন ঘটলে এটি হয়ে থাকে এবং এটি ফুসফুসের একটি প্রদাহজনিত রোগ। ফুসফুসে বায়ু বহনকারী টিউব বা নালীকে ব্রঙ্কাই (Bronchi) এবং ব্রঙ্কিওল (Bronchiole) বলা হয়।

এই রোগে শ্বাসনালীর অস্বাভাবিক সংকোচন-প্রসারণের কারণে নালী সরু হয়ে যায় এবং প্রদাহ সৃষ্টি হয়। এই টিউব এর শ্লৈষ্মিক বা মিউকাসের আস্তরণে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি হয় এবং এর ফলে শ্লেষ্মা ও শ্বেত রক্ত কনিকা নিঃসৃত হয়।

এই কারণে শ্বাসনালীর সংকীর্ণতা আরো তীব্র পর্যায়ে পৌঁছায়। বেশ কিছু রোগীর মধ্যে শ্বাসনালীর এই সংকীর্ণতা ঠাণ্ডা বাতাস, ধুলো, পরাগরেণু, ব্যায়াম বা ধূমপানের কারণে হয়ে থাকে। উপসর্গের তীব্রতা মৃদু থেকে প্রাণঘাতি- বিভিন্ন পর্যায়ের হতে পারে।

কারণ
পরিবেশগত ও জেনেটিক (উত্তরাধিকার সুত্রে প্রাপ্ত) কারণের জন্য এটা হতে পারে।

যে সব কারণে এ্যাজমার প্রভাব ত্বরান্বিত হয় তা হলো-
বিভিন্ন বস্তুর ব্যবহার যা অ্যালার্জির ট্রিগার হিসেবে কাজ করে এবং এর উপসর্গ সৃষ্টি করতে পারে। ট্রিগারের প্রভাব ব্যক্তি বিশেষে ভিন্ন হয়ঃ

• পরাগরেণু, পশুর লোম, তেলাপোকা এবং ধূলিকণাবিশিষ্ট অতি ক্ষুদ্র পরজীবী কীট।
• শ্বাস প্রশ্বাসের ইনফেকশন যেমন সাধারণ ঠাণ্ডার জন্য।
• নির্দিষ্ট প্রকারের ব্যায়ামের জন্য এই সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।
• ঠান্ডা বাতাসের উপস্থিতি।
• বায়ু দূষণকারী পদার্থ, যেমন ধোঁয়া।
• বেটা ব্লকার,অ্যাসপিরিন এবং ইবিউপ্রফেন সহ কিছু কিছু ঔষধের ব্যবহার।
• আবেগ এবং মানসিক চাপ।
• সালফাইট (Sulfites) এবং প্রিজারভেটিভ (Preservative) আছে এমন কিছু ধরনের চিংড়ি, শুকনো ফল, প্রক্রিয়াজাত আলু, বিয়ার এবং ওয়াইনসহ খাদ্য ও পানীয় গ্রহনের ফলে।
• গ্যাস্ট্রোইসোফিজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (GERD) এর কারণে পাকস্থলীর এসিড গলার দিকে ফিরে আসলে।
• মহিলাদের মাসিকের সময়।

লক্ষণ
এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

• কাশি (Cough)
• শ্বাসকষ্ট (Shortness of breath)
• শ্বাসপ্রশ্বাসের সময় শব্দ হওয়া (Wheezing)
• শ্বাস নিতে সমস্যা দেখা দেওয়া (Difficulty breathing)
• নাক বদ্ধ হয়ে যাওয়া (Nasal congestion)
• জ্বর (Fever)
• বুকের তীক্ষ্ণ ব্যথা (Sharp chest pain)
• কোরাইজা (Coryza)
• বুকের চাপা ব্যথা (Chest tightness)
• অ্যালার্জিজনিত প্রতিক্রিয়া (Allergic reaction)
• কাশির সাথে শ্লেষ্মা নির্গত হওয়া (Coughing up sputum)
• বুকে ভার অনুভব করা (Congestion in chest)

চিকিৎসা
টেস্ট
চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত টেস্টগুলি করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন:

• আর্টেরিয়াল ব্লাড গ্যাসেস (এ-বি-জি-এস) (Arterial blood gases (ABGs))
• ইওসিনোফিল (Eosinophil count)
• ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম (ই-সি-জি) (Electrocardiogram, ECG)
• আই-জি-ই (IgE)
• এক্স-রে, চেস্ট পি-এ ভিউ (X-ray, Chest P/A view)
• নেবুলাইজার থেরাপি (Nebulizer therapy)
• পালমোনারী ফাংশন টেস্ট (Pulmonary function test)
ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়
যে যে বিষয়ের কারনে এ্যাজমা হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়ঃ
• পরাগরেণু
• পশুর লোম
• শ্বাসযন্ত্রের উপরের অংশের ভাইরাসজনিত ইনফেকশন।
• সালফাইট সমৃদ্ধ খাদ্য ও পানীয় গ্রহন।
• সিগারেটের ধোঁয়া।
• বায়ু দূষণ
• ধুলো

এছাড়াও ব্যায়ামের কারণে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশ্বব্যাপী হাঁপানিতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, কিন্তু এর সঠিক কোনো কারণ এখনো জানা যায়নি। কিছু গবেষক বলেছেন ক্রমবর্ধমান শিল্পায়ন এবং বায়ু দূষণের কারণে এটি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে শিল্পোন্নত দেশগুলোর শিশুরা আগের প্রজন্মের চেয়ে এই জীবাণু থেকে অনেকটাই নিরাপদ।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ পুরুষ এবং মহিলা উভয়ের মধ্যেই এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে।
জাতিঃ শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম। অপর দিকে, কৃষ্ণাঙ্গ, হিস্প্যানিক এবং অন্যান্য জাতিদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

কোন ধরনের ডাক্তাররা এই রোগের চিকিৎসা করেন ?
উত্তরঃ এ্যাজমার চিকিৎসার জন্য পালমোনোলজিস্ট বা এলার্জিস্টের পরামর্শ নিতে হবে।
হেলথ টিপস্
নিম্নলিখিত উপাদান ব্যবহারের মাধ্যমে এ্যাজমার প্রকোপ কমানো যায়-
• আদা (Ginger)
• সরিষার তেল (Mustard Oil)
• ডুমুর (Figs)
• রসুন (Garlic)
• কফি (Coffee)
• ইউক্যালিপ্টাস গাছ হতে সংগৃহীত তেল (Eucalyptus Oil)
• মধু (Honey)
• পেঁয়াজ(Onions)
• লেবু (Lemon)
• স্যামন মাছ (Salmon)

Please Share This Post in Your Social Media

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

38346218
Users Today : 1721
Users Yesterday : 2774
Views Today : 10839
Who's Online : 20
© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/