রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ০৮:৩০ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
সাবেক ডাকসু ভিপি নুরকে নিয়ে ড. রেজা কিবরিয়ার নতুন দল হাতে কোরআন লিখলেন আওয়ামী লীগ নেত্রী দিয়া ‘অবিলম্বে সরকারিভাবে ’৭১-এর গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে’ সরকার মুক্তিযুদ্ধের গৌরবকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে- ……..আ স ম রব গোবিন্দগঞ্জে শহীদ মিনারের ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন চট্টগ্রামে পূজামণ্ডপে হামলায় কারাগারে ৮৪ জন বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে — বিশ্ব ক্ষুধা দিবস পালিত ক্ষুধা মুক্ত বিশ্ব গড়ে তুলতে পরিবেশবান্ধব কৃষি ও খাদ্য সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার দাবি শিবগঞ্জে বৃদ্ধার চেইন ছিনতাই, গ্রেফতার ৫নারী হাজীগঞ্জে শিশু ধর্ষণ-মৃত্যুর ঘটনা গুজব: পূজা উদযাপন পরিষদ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় যুব সংগ্রাম পরিষদ গঠন করুন: যুব জাগপা শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব এহছানে এলাহীকে এসএফসিএল শ্রমিক-কর্মচারীদের পক্ষে মানপত্র প্রদান কবির বাড়ি কবি কে, এম, তোফাজ্জেল হোসেন( জুয়েল খান) অধিকাংশ মন্ত্রী-এমপি পাগল হয়ে গেছে : মোমিন মেহেদী রাবির হল খুলছে কাল, সব ধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন দুমকিতে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের মানববন্ধন।

আওয়ামী লীগবিরোধীরাই বড় আওয়ামী লীগ  !

তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধিঃ
রাজশাহী-১ আসনের রাজনৈতিক অঙ্গনে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগবিরোধীরা ফের মাথাচাঁড়া দিয়ে উঠেছে। তাদের দাপটে মুল স্রোতের
আদর্শিক ও ত্যাগীরা রীতিমত কোনঠাসা। জামায়াত-বিএনপির আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতায় নৌকা বিরোধী অবস্থান নেয়া এক কথায় আওয়ামী লীগবিরোধীরাই এখন বড় আওয়ামী লীগ। অভিজ্ঞ মহলের ভাষ্য, এদের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিৎ যা দেখে অন্যরা সতর্ক ও নিরুৎসাহিত হয়, নইলে অন্যরাও দলবিরোধী কাজে উৎসাহিত হবে। তারা বলেন, স্থানীয় সাংসদের দয়ায় দলের গুরুত্বপুর্ণ পদে আসিন হয়ে  প্রায় কুঁড়ি বছর তাঁর দুই বগলের নিচে বসে সবকিছু লেবেনচুষের (চকলেট) মতো চুষে মোটাতাজা হয়েছেন। অথচ কুঁড়ি বছর পরে তাদের মনে সাংসদ ব্যক্তি হিসেবে ভাল না, তবে তিনি কেনো ভাল না তাদের কাছে তার কোনো ব্যাক্ষ্যা নাই। স্থানীয় সাংসদের বিরুদ্ধে যারা দলের সভাপতির কাছে মিথ্যা নালিশ করেছে, যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ঘরের মধ্য ঘর, মশারির মধ্য মশারি টাঙ্গিয়ে দলের চেইন অব কমান্ড ভেঙ্গে দলীয় কোন্দল সৃস্টি,জামায়াত-বিএনপির এজেন্ডা বাস্তবায়ন ও বিশ্বাস ঘাতকতা করেছে এখন তারাই বড় আওয়ামী লীগ হয়ে ত্যাগীদের ছবক দিচ্ছে-? অর্থাৎ আওয়ামী লীগ বিরোধীরাই এখন বড় আওয়ামী লীগ- !
জানা গেছে,  তানোর পৌরসভার নির্বাচনে এবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে স্থানীয় সাংসদ এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের অর্থসহ
সার্বিক সহযোগীতায় মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ইমরুল হক। কিন্ত নির্বাচিত হয়েই তিনি সরাসরি তাদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অথচ ২০১১ সালের পৌরসভা নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে তিনিই দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে দলীয় প্রার্থীর পরাজয় নিশ্চিত করেছিলেন। এবারের নির্বাচনে তাঁর সঙ্গে ভিড়েছিলেন বিভিন্ন সময়ে জাতীয় সংসদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী ও তাদের সমর্থকেরা বা আওয়ামী লীগবিরোধীরা। যারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ উপেক্ষা করে এসব নির্বাচনে প্রকাশ্যে নৌকার বিরুদ্ধে ভোট করে নৌকাবিরোধীদের বিজয়ে বিজয় উল্লাস করেছেন।
এমনকি ইমরুলের নির্বাচনী জনসভায় তাঁরা ইমরুল হকের পক্ষে ও এমপিকে কটাক্ষ করে বক্তব্যও দিয়েছেন। তানোর পৌরসভা নির্বাচনে ইমরুল হকের একটি নির্বাচনী জনসভায় উপস্থিত ছিলেন এক সময়ের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা। ওই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রয়াত মেরাজ উদ্দিন মোল্লা। তিনি ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের দলীয় প্রার্থী আয়েন উদ্দিনের বিরুদ্ধে কলস মার্কা প্রতীক নিয়ে লড়েছিলেন। ওই নির্বাচনে প্রয়াত মেরাজ উদ্দিন বিদ্রোহী না হলে দলীয় প্রার্থী আয়েন উদ্দিন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতেন। তানোরের ওই জনসভায় বক্তব্য দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন। ২০০৯ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী গোলাম রাব্বানীর বিপরীতে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে তিনি চাকা প্রতীক নিয়ে ভোট করে দলীয় প্রার্থীর পরাজয় নিশ্চিত
করেছিলেন। গত ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত তানোরের মুন্ডুমালা পৌরসভা নির্বাচনে তিনি অসুস্থতার কথা বলে দলের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনের মাঠে নামেননি। তবে নির্বাচনের দিন গোলাম রাব্বানীর সঙ্গে আব্দুল্লাহ আল-মামুন ভোটকেন্দ্রে অবস্থান করে প্রকাশ্যে নৌকার বিপক্ষ ভোট করেন। ওই নির্বাচনে জগ প্রতিকে বিদ্রোহী প্রার্থী  সাইদুর রহমান জয়ী হন। সেই সাইদুর রহমানও ইমরুল হকের পক্ষের জনসভায় উপস্থিত ছিলেন। ইমরুল হকের পক্ষে এসেছেন তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক রেজাউল ইসলামও। তিনি ২০১১ সালে উপজেলার কলমা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিপরীতে অংশ নিয়ে হেরে যান। একই ইউনিয়নে ২০১৯ সালে উপনির্বাচন হলে রেজাউল ইসলাম আবার দলীয় প্রার্থীর বিপরীতে অংশ নিয়ে হেরে যান। ছিলেন শরিফুল ইসলাম তিনি উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ২০১৯ সালে তানোর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে ওয়ার্কার্স পার্টিতে যোগ দিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন। ওই নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে হেরে যান। ইমরুল হকের পক্ষে আসা বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এ কে এম আতাউর রহমান। গত ১৬ জানুয়ারি নির্বাচনে তিনি কাঁকনহাট পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে ১৯৮৫ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে অংশ নেন। ২০১৪ সালে আবার বিদ্রোহী প্রার্থী হন তিনি। পরে দলীয় প্রার্থীকে সমর্থন দেন। এক সময়ের বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিজের নির্বাচনী জনসভায় জড়ো করার বিষয়ে ইমরুল হক বলেছিলেন, তাঁর ভোট দরকার। এ জন্য সবাইকে বলেছেন। জাতীয় পার্টির লোকেরাও তাঁর পক্ষে কাজ করছেন। এর আগে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট করার ব্যাপারে ইমরুল হক বলেন, তখন কেন্দ্র থেকে মনোনয়ন দেওয়া হতো না।স্থানীয়ভাবে দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া হতো। তাই তাকে বিদ্রোহী বলা যাবে না।এদিকে তারা আবারো এমপি-উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান ও মুলধারার নেতাকর্মীদের মাইনাস করে বিভিন্ন কর্মসুচির নামে দলীয়কোন্দল সৃষ্টি করছে বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

https://twitter.com/WDeshersangbad

https://www.facebook.com/Dsangbad

https://www.facebook.com/Dsangbad

All rights reserved © deshersangbad.com 2011-2021
Design And Developed By Freelancer Zone