দেশের সংবাদ l Deshersangbad.com » আজ পবিত্র জুমা, জুমার দিনের মুসল্লিরা সাধারণ ইচ্ছাকৃতভাবে ৫টি ভুল করে থাকে



আজ পবিত্র জুমা, জুমার দিনের মুসল্লিরা সাধারণ ইচ্ছাকৃতভাবে ৫টি ভুল করে থাকে

৬:৪৫ পূর্বাহ্ণ, এপ্রি ১২, ২০১৯ |জহির হাওলাদার

73 Views

পবিত্র জুমার দিন মুমিন মুসলমান এমন কিছু ভুল করেন, যাতে একটু সতর্ক থাকলেই তা হয় না। অথচ সাধারণ এ ভুলগুলো না হলে অনেক সহজেই সাওয়াব ও মর্যাদার অধিকারী হওয়া যায়।

জুমার দিনের মুসল্লিরা ইচ্ছাকৃতভাবে ৫টি ভুল করে থাকে। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। সাধারণ এ ভুলগুলো থেকে বাঁচতে প্রত্যেককেই সতর্ক থাকা জরুরি।

জুমার দিনের সাধারণ ৫টি ভুল হলো-

(১) খুতবার সময় কথা:

জুমার নামাজের খুতবার সময় কথা বলা প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষিদ্ধ করেছেন। কথা বলার দ্বারা অন্যকে খুতবা শুনতে বাধাগ্রস্ত করায়ও অনুমতি নেই। খুতবার সময় প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিম উম্মাহকে চুপ থাকতে বলেছেন।

সুতরাং ইমাম যখন খুতবা দেয় তখন চুপ থাকা উচিত। সাপ্তাহিক জুমার খুতবা সব মুসলিমের জন্য অনেক উপকারি। কারণ জুমার খুতবায় দ্বীন ও দৈনন্দিন অনেক বিষয়ে বয়ান পেশ করা হয়। হাদিসে এসেছে-

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘ইমাম যখন জুমার খুতবা দেয়, তখন তুমি তোমার কোনো সাথীকে চুপ থাকতে এবং খুতবার শোনার আহ্বান কর তবে নিঃসন্দেহে এটাও (চুপ থাকা ও খুতবা শোনার কথা বলা) শয়তানের কাজ।’ (বুখারি)

(২) খুতবা না শোনা:

মুসল্লিদের মধ্যে এমন অনেকে আছে যারা ইচ্ছাকৃতভাবে খুতবা শোনে না কিংবা খুতবার সময় কথাবার্তায় সময় অতিবাহিত করে, সে ব্যক্তি জুমার নামাজ থেকেও অনুপস্থিত থাকে। যারা মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনে না, তারা পুরস্কারও পাবে না। তাই প্রত্যেক মুসলমানের উচিত মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা। হাদিসে এসেছে-

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি (ইমামের) খুতবার সময় নিজেকে কথা বলা থেকে বিরত না রাখবে সে জুমার পুরস্কার থেকে বঞ্চিত হবে।’ (মুসলিম)

(৩) শুক্রবার নামাজের সময় কাজ করা:

জুমার দিন নামাজের সময় যেকোনো কাজ করা নিষিদ্ধ। তারপরও মানুষ এ দিন নামাজ বাদ দিয়ে কাজে ব্যস্ত থাকে। শুক্রবার যখনই জুমার নামাজের আজান হবে তখনই সব কাজ রেখে মসজিদের দিকে ছুটে যেতে হবে। আল্লাহ তায়ালা জুমার নামাজের নির্দেশ দিয়ে বলেন-

‘হে মুমিনগণ! যখন জুমার দিন নামাজের জন্য (আজান) আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও। আর বেচা-কেনা বর্জন কর। এটাই তোমাদের জন্য সর্বোত্তম, যদি তোমরা বুঝতে পার।’ (সূরা জুমআ : আয়াত ৯)

(৪) জুমার নামাজে দেরিতে যাওয়া:

সব সময় শুক্রবার জুমার নামাজের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা। কোনো অজুহাতে জুমার নামাজে দেরি করে যাওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা যাবে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, শুক্রবার তাড়াতাড়ি জুমআর উদ্দেশ্যে গোসল করে মসজিদের দিকে যাওয়ার জন্য রয়েছে পুরস্কার। হাদিসে এসেছে-

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘প্রত্যেক জুমার দিন মসজিদের দরজায় ফেরেশতা অবস্থান করেন। ক্রমানুসারে মসজিদে আগমনকারীদের নাম লিখতে থাকেন। যে সবার আগে আসে তার জন্য মোটাতাজা উট কুরবানির সাওয়াব লেখেন। তারপর যে আসে তার জন্য গাভী কুরবানির সাওয়াব লেখেন। তারপর আগমনকারীর জন্য মুরগি দানের সাওয়াব লেখেন। তারপর আগমনকারী ব্যক্তি ডিম দানকারীর সাওয়াব পাবে। অতঃপর ইমাম যখন মিম্বারে আরোহন করেন তখন ফেরেশতা (সাওয়াব লেখার) খাতা বন্ধ করে মনোযোগ সহকারে ইমামের খুতবা শুনতে থাকেন।’ (বুখারি)

(৫) অপরিস্কার কাপড় পরিধান:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমার নামাজের জন্য ভালো পোশাক পরিধান করতে বলেছেন। তিনি নিজেও শুক্রবার সর্বোত্তম পোশাক পরিধান করতেন। জুমার নামাজের জন্য অতিরিক্ত এক জোড়া পোশাক তৈরির তাগিদ দিয়েছেন। হাদিসে এসেছে-

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের মধ্যে কারো ওপর দোষ আসবে না , যদি সে নিজের প্রয়োজনীয় কাপড় ছাড়াও সামর্থ্য থাকলে আরো দু’টি কাপড় জুমার নামাজের জন্য বানিয়ে নেয়া।’ (ইবনে মাজাহ, মিশকাত)

মূল কথা:

জুমার দিন ইচ্ছা করলেই প্রিয়নবী (সা.) ঘোষিত সুন্নাতগুলো যথাযথ পালন করা যায়। বিনিময়ে লাভ করা যায় অনেক সাওয়াব ও কল্যাণ। অথচ মানুষ ইচ্ছা করে-

খুতবার সময় কথা বলে।
ইমামের খুতবা শোনা থেকে বিরত থাকে।
জুমার নামাজের সময় হওয়া সত্ত্বেও কাজে ব্যস্ত থাকে।
জুমার নামাজে দেরি আসে এবং
অবহেলা বশতঃ অপরিস্কার, পুরাতন কাপড় পরিধান করে।

সুতরাং জুমার দিনের এ সাধারণ ভুলগুলো থেকে বেরিয়ে এসে হাদিসের নিদের্শনা অনুযায়ী, খুতবার সময় হট্টগোল না করে খুতবা শোনা, আজান হওয়ার নামাজের প্রস্তুতি গ্রহণ করে তাড়াতাড়ি মসজিদের দিকে ছুটে যাওয়া এবং জুমার দিন সর্বোত্তম পোশাক পরিধান করা।

মহান রাব্বুল আরামিন আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহকে পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা অনুযায়ী জুমার দিনের এ সাধারণ ভুলগুলো থেকে হেফাজত থাকার এবং জুমার দিনের করণীয় কাজগুলো যথাযথ আদায় করার তাওফিক দান করুন। আল্লাহুম্মা আমিন।

Spread the love

৮:২৬ পূর্বাহ্ণ, এপ্রি ১৯, ২০১৯

আইপিএল এক ম্যাচের জন্য সাড়ে ৮ কোটি টাকা!...

37 Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




উপদেষ্টা পরিষদ:

১। ২।
৩। জনাব এডভোকেট প্রহলাদ সাহা (রবি)
এডভোকেট
জজ কোর্ট, লক্ষ্মীপুর।

৪। মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
ডাইরেক্টর
ষ্ট্যান্ডার্ড ডেভেলপার গ্রুপ

প্রধান সম্পাদক:

সম্পাদক ও প্রকাশক:

জহির উদ্দিন হাওলাদার

নির্বাহী সম্পাদক
উপ-সম্পাদক :
ইঞ্জিনিয়ার নজরুল ইসলাম সবুজ চৌধুরী
বার্তা সম্পাদক :
সহ বার্তা সম্পাদক :
আলমগীর হোসেন

সম্পাদকীয় কার্যালয় :

১১৫/২৩, মতিঝিল, আরামবাগ, ঢাকা - ১০০০ | ই-মেইলঃ dsangbad24@gmail.com | যোগাযোগ- 01813822042 , 01923651422

Copyright © 2017 All rights reserved www.deshersangbad.com

Design & Developed by Md Abdur Rashid, Mobile: 01720541362, Email:arashid882003@gmail.com

Translate »