বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৭:৫২ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
মেয়েটা কী সত্যি খারাপ?আমার চোখ দুটো আমি সরাতে পারছিলাম না অপরাধী ভাব যেনো, এক খুনের মামলার আসামী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের পরীক্ষা ১৭ মে পর্যন্ত স্থগিত খ্যাতিমান ব্যাংকার খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ আর নেই প্রতি কিলোমিটারে বাস ভাড়া হবে ২ টাকা ২০ পয়সা নির্ধারণ গেইল-রশিদ খানরা ফিরে গেলেন, অর্থের লোভে সেরা অলরাউন্ডার সাকিব এবার প্রযোজকের বাড়িতে দেখা গেলো বুবলিকে, কারণটা কি মাসুদ রানা সিনেমার নায়িকা কে এই সুন্দরী? জামালপুরে চাঁদাবাজির মামলায় কলেজ অধ্যক্ষ জেল হাজতে আমার বউয়ের দিকে আঙুল তুললে মেনে নেবো না: নাসির মুজিববর্ষে বৃক্ষরোপণের কথা বলে ‘বনবন্ধু’ ইকবালের কোটি টাকার প্রতারণা পটুয়াখালীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ডিজিটাল ম্যারাথন’ অনুষ্ঠিত।  দেশ বরেণ্য অর্থনীতিবিদ খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের মৃত্যুতে কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)’র শোক ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২১ স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন: ৫টি লক্ষ্য ঘোষণা স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র রাষ্ট্রবিনির্মাণের স্মারক: ১০ এপ্রিলকে ‘প্রজাতন্ত্র দিবস’ ঘোষণা করতে হবে সবুজ আন্দোলন উপদেষ্টা পরিষদে যুক্ত হলেন ৪ বিশিষ্ট নাগরিক

আজ পবিত্র ফাতিহা-ই-ইয়াজদাহম

পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম আজ সোমবার। সারাদেশে যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদায় ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে দিবসটি পালিত হবে।

গাউসুল আযম বড় পীর হজরত আবদুল কাদের জিলানি (র.) এর ওফাত দিবস বিশ্বের মুসলমানদের কাছে ‘ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম’ নামে পরিচিত।

‘ইয়াজদাহম’ ফারসি শব্দ, যার অর্থ এগারো; ‘ফাতিহা-ই-ইয়াজদাহম’ বলতে এগারো এর ফাতিহা শরিফকে বোঝায়। এককথায় রবিউস সানি মাসের ১১ তারিখের ইছালে সওয়াব মিলাদ মাহফিলকে ‘ফাতিহা-ই-ইয়াজদাহম’ বলে।

তা ফারসি ভাষার প্রভাবে বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তান উপমহাদেশসহ আফগানিস্তান, ইরান, বৃহৎ রাশিয়ার মুসলিম-অধ্যুষিত অঞ্চল, ইরাক প্রভৃতি স্থানে ‘ফাতিহা-ই-ইয়াজদাহম’ অর্থাৎ এগারো এর ফাতিহা নামে উদ্যাপিত হয়।

এই পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম ইমামুল আউলিয়া পীরানে পীর গাউসুল আযম দস্তগীর হজরত মুহিউদ্দিন আবদুল কাদের জিলানি (র.) এর স্মরণে পালিত হয়।

ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে সোমবার বাদ মাগরিব ওয়াজ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

ওলিকুল শিরোমণি ১০৭৭ খ্রিষ্টাব্দ মোতাবেক ৪৭০ হিজরি সালের ১ রমজান ইরাকের বাগদাদের প্রায় ৪০০ মাইল অদূরে জিলান নগরের সুবিখ্যাত সাইয়্যেদ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম হজরত সাইয়্যেদ আবু সালেহ মুসা। মাতার নাম উম্মুল খায়ের ফাতেমা। তার বাবার বংশ হজরত ইমাম হাসান (রা.) এর সঙ্গে এবং মায়ের বংশ হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) এর সঙ্গে মিলিত হয়; এ কারণে তাকে ‘আল-হাসানি ওয়া আল-হোসাইনি’ বলা হয়।

পিতৃকুল-মাতৃকুল উভয় দিক থেকেই হজরত আলী (রা.) এর বংশধর অর্থাৎ মহানবী (সা.) এর বংশধর। ইসলামকে নতুন জীবন দেয়ার জন্য তিনি পরবর্তী সময়ে হজরত মুহিউদ্দিন আবদুল কাদের (র.) নামে পরিচিতি লাভ করেন। জিলান শহরের অধিবাসী বিধায় তার নামের শেষে ‘জিলানী’ উপাধি সংযুক্ত করা হয়েছে।

শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন অত্যন্ত উন্নত চরিত্রের অধিকারী। কৈশোরের একটি সত্যবাদিতার বাস্তব ঘটনা তার অসাধারণতার প্রমাণ দেয়। একদা তার মা লেখাপড়ার জন্য বিদেশ গমনের সব ব্যবস্থা করে ৪০টি স্বর্ণমুদ্রা গোপনে সংরক্ষণ করে দিয়ে বললেন, ‘বাবা আবদুল কাদের, বিপদ যতই কঠিন হোক না কেন, আল্লাহর ওপর ভরসা রাখবে। সদা সত্য কথা বলবে, কখনো মিথ্যা কথা বলবে না।’ তিনি বাগদাদের উদ্দেশে বণিক কাফেলার সঙ্গে পথ চললেন।

একপর্যায়ে বণিক কাফেলা ডাকাত দলের কবলে পড়লে সব মালপত্র লুণ্ঠিত হয়। ডাকাত দল যাত্রীদের সব অর্থকড়ি কেড়ে নিয়ে বালক হজরত আবদুল কাদের জিলানী (র.) এর কাছে এসে বলল, ‘এই ছেলে! তোমার কাছে কী আছে?’ বালক উত্তর দিল, ‘আমার জামার আস্তিনের ভেতর ৪০টি স্বর্ণমুদ্রা আছে।’ বালক অত্যন্ত শান্ত অথচ দৃঢ় কণ্ঠে ডাকাতদের বলল, ‘আমার আম্মা আমাকে বিদায়কালে উপদেশ দিয়ে বলেছেন, ‘বাবা, কখনো মিথ্যা কথা বলবে না, সদা সত্য কথা বলবে।’ তাই আমি আপনাদের কাছে সত্য কথা বলে দিয়েছি। আমার মাতৃ-আজ্ঞা পালন করেছি।’

বালকের মুখে এমন জবাব শুনে ডাকাত-সর্দার দারুণ ভয় পেল। এক অদৃশ্য মহাসত্তার ভয়ে তার অন্তর কেঁপে উঠল। ডাকাত-সর্দার বালকের পায়ে লুটিয়ে পড়ল, অনুনয়-বিনয় করে ক্ষমা চাইল। ডাকাত-সর্দার তার সত্যবাদিতার পরিচয় পেয়ে যাত্রীদের প্রত্যেকের অর্থকড়ি ও মালামাল ফিরিয়ে দেয় এবং তার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে মুসলমান হয়ে যায়।

আল্লাহর বাণী ও মিষ্টভাষী বক্তৃতা দিয়ে বড় পীর কোটি কোটি মানুষকে ইসলামের পথে ফিরিয়ে আনেন এবং সমকালীন বিশ্বে আউলিয়া কিরামের ওপর সুউচ্চ মর্যাদা লাভ করেন। সারা বিশ্বের মধ্যে তার ভক্ত ও মুরিদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বলে খ্যাতি ছিল। আল্লাহ তাকে সব ওলির চেয়ে অধিক কারামতি দান করেছিলেন। ফলে তিনি আল্লাহর দ্বীনকে দুনিয়াতে ছড়িয়ে দেয়ার ক্ষমতা অর্জন করেছিলেন।

ইসলামের চির আলোকময় পথে ডাকার জন্য তিনি অনেক ওয়াজ-নসিহতও করেছেন; যাতে ছিল বিস্ময়কর প্রভাব। তার প্রতিটি কথা মানুষের হৃদয়ে দারুণভাবে গেঁথে যেত, তাদের পরকালের চিন্তায় বিভোর করে তুলত।

সারা জীবন পথহারা মানুষকে সঠিক পথের সন্ধান দিয়ে আল্লাহ প্রেমিক মহান সাধক, ওলিকুল শিরোমণি ১১৬৮ খ্রিষ্টাব্দ মোতাবেক ৫৬১ হিজরির ১১ রবিউস সানি ৯১ বছর বয়সে পরলোকগমন করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

38320583
Users Today : 1133
Users Yesterday : 3479
Views Today : 2874
Who's Online : 37
© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/