বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ১০:১০ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
ভ্রমণ বিলাসী মন, বাইকে চড়ে রাজশাহী থেকে টাঙ্গাইল  বহুতলা ভবন থেকে পড়ে সাভারে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত‍্যু বাংলাদেশে পরিবেশ সংক্রান্ত বিচার: সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, বেলা ঈদে মিলাদুন্নবী এক অবিস্মরণীয় দিন!! আন্তর্জাতিকভাবে বয়কটের মাধ্যমে ফ্রান্সের ঔদ্ধত্যের সমুচিত জবাব দেয়া হবে -শায়েখে চরমোনাই সেই স্বামী সৌভাগ্যবান যে স্ত্রীর মাঝে এই ৪টি গুণ আছে যে খাবারটি যৌ’ব’ন ধরে রাখে ও নতুন চুল গজায়, দেখে নিন কিভাবে খাবেন স্ত্রী যদি পরকিয়া করে তাহলে হাতেনাতে ধরবেন কিভাবে ! বৌ’দি’দে’র প্রতি যে কারনে ছেলেরা আকর্ষিত হয় জেনে নিন! সাঁথিয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি টুটুলকে দলীয় পদ থেকে অব্যহতি প্রদান সুস্থ থাকার ১০ সূত্রঃ কনডম ব্যবহারের আগে যে ৫টি বিষয় মাথায় রাখবেন সব দলের ১২ ম্যাচ শেষে পয়েন্ট টেবিল ২০২০ সালে ব্রাজিলের ম্যাচের সময়সূচী, কখন, কোথায় মুক্তিযোদ্ধাদের নামের আগে ‘বীর’ লিখতে হবে, আদেশ জারি

আত্মহত্যা কেন ? এবং এর প্রতিকার কিভাবে সম্ভব ?

( জনসচেতনতা বাড়াতে শেয়ার কিংবা নিজ নিজ টাইমলাইনে প্রচার করুন )
গত ২দিন আগে Sumaia Sultana Adeeba

https://mbasic.facebook.com/sumaiasultana.adiba

নামের একটি মেয়ে আত্মহত্যা করলো । তার ওয়াল ঘেটে ও পরিচিত জনদের সাথে কথা বলে যা বুঝা গেলো, প্রচণ্ড মানসিক যন্ত্রনা, পারিবারিক অবহেলা ও সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগে সদ্য এইচএসসি পাশ করা মেয়েটি আত্মহত্যার পথ বেঁছে নিলো । কিন্তু আত্মহত্যাই কি ছিল তার জীবনের সকল সমস্যার সমাধান ? এত সুন্দর জীবন টাকে কেন সে অকালেই শেষ করে দিল ?

পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আত্মহত্যা একটি গুরম্নত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। মানুষের মৃত্যুর কয়েকটি সাধারণ কারণের মধ্যে আত্মহত্যা একটি অন্যতম কারণ। আর এই সমস্যা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে । প্রতিদিনই খবরের কাগজ খুললে ২/৩ টি আত্মহত্যার নিউজ চোখে পড়ে । অনেক ঘটনা আবার মিডিয়া পর্যন্ত পৌছায় না।
আত্মহত্যা করা মানুষটিকে নিয়ে আমাদের মাঝে অনেক আলোচনা সমালোচনা হয়ে থাকে, বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই মানুষটিকে দোষী করা হয়, ঘৃণা জানানো হয় নিজের সুন্দর জীবনটি অনায়াসে শেষ করে চলে যাওয়া সেই মৃত ব্যাক্তিটির উপর । কিন্তু কেউ কি কখনও ভেবেছে তার এই সুন্দর ও মায়াবী জীবনটি কেন সে এভাবে অকালেই শেষ করে দিল ?
অতিসম্প্রতি বাংলাদেশের শহরাঞ্চলে বিশেষ করে ঢাকার স্কুল ও কলেজের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিশেষ করে কিশোরী বা তদূর্ধ্ব বয়সী কমলমতি মেয়েরা বখাটে ও বিপদগামী যুবকদের প্রথম মৌখিকভাবে উত্ত্যক্ত হয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে । কখনও কখনও তরুণীদের কেউ প্রেমে ব্যর্থ হয়ে কিংবা নিজের ইজ্জত সম্বল হারিয়ে সমাজের ঘৃণার চোখ থেকে বেঁচে যেতে নিজের জীবনটাই শেষ করে দিচ্ছে । আবার কখনও কখনও তরুনরা প্রেমে ব্যর্থ হয়ে প্রেমিকার উপর জেদ ধরে আত্মহত্যার পথ বেঁছে নিচ্ছে ।
আজকাল বেশীরভাগ আত্মহত্যা হচ্ছে প্রেমে ব্যর্থতা, মিথ্যে ভালোবাসার জালে ফাঁদা, পারিবারিক কলহ, বখাটেদের দ্বারা ধর্ষণের স্বীকার হওয়া, পথে ঘাটে বখাটেদের উত্যক্তে , ও পারিবারিক অবহেলার কারনে । এই তো মাস দুয়েক আগে ছাত্র ইউনিয়নের নেত্রী আফসানা আত্মহত্যা করলো , গোপনে বিয়ে করেছিলেন ছাত্রলীগের তেজগাও কলেজ শাখার নেতা রবিন কে । পরবর্তীতে দাম্পত্য কলহ বেধে আত্মহত্যার পথ বেঁছে নেয় আফসানা ।
================================================
আত্মহত্যার প্রবনতা রুখতে করনীয় –
========================
কষ্ট অনেক। কিছু কিছু কষ্ট তো এমনও হয় যে সবকিছু ছিঁড়ে-খুঁড়ে ফেলতে ইচ্ছে করে। যাঁর হয় সে-ই বোঝে তাঁর মাঝে কী হয়ে যাচ্ছে, তবে কষ্টের ঘূর্ণিপাকে কিন্তু অনেকেই পড়েন। আর তখনই আসতে পারে নিজেকে শেষ করে দেওয়ার ভয়াবহ ইচ্ছা।দুনিয়াতে বেঁচে থাকার সামান্য ইচ্ছেটুকু আর থাকেনা তখন । শত কষ্টে পরলেও সেই কষ্ট ও সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসার উপায় খুজতে হবে । আত্মহত্যার পথই আসল বেরিয়ে আসার উপায় নয় ।
** সমস্যা যত কঠিনই হোক, বিষণ্ণতা যত গভীর হোক আশা ছেড়ে দেওয়া যাবে না। হাল ছাড়া যাবে না। নিজেকে বলতে শিখুন সময় সবকিছু ঠিক করে দেবে। প্রকৃতি ভালো কিছু রাখবেই আপনার জন্য । আল্লাহর উপর আস্থা রাখুন, আল্লাহ নিশ্চয়ই আপনার জন্যে ভালো কিছু রেখেছে ।
** কখনোই দুর্বল মুহূর্তে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবেনা । একাকীত্ব বোধ করছেন বা বাঁচার কোনো কারণই পাচ্ছেন না, তবে চারদিকে ভালো করে তাকান, তাকিয়ে দেখুন আপনার চেয়েও মানুষ অনেক কষ্টে আছে, তাদের দিকে তাকালে আপনার আত্মশক্তি আরও বেড়ে যাবে । তাদের দিকে তাকালে দেখবেন আপনার সমস্যার ও সমাধান বের হয়ে গিয়েছে । নিজেকে বলুন আপনি একা নন, ওই নিচুস্তরের মানুষগুলা ঠিক আপনার কাতারেই । একা একা থেকে হলেও নিজেকে নিয়ে ভাবুন, নিজেকে সময় দিন আর ভাবতে থাকুন কিভাবে আগামীর দিনটাকে সুন্দর ভাবে কাটানো যায় ।
** তরুন তরুণীদের জন্যে বাবা মা’ই হল পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বন্ধু, বাবা মায়ের উপরে আর কোন বন্ধু থাকতে পারেনা, সমস্যা যত বড়ই হোক ছোট থাকতেই পরিবারের সাথে শেয়ার করুন । সমস্যা অধিক মাত্রায় চলে গেলে মা বেঁচে থাকলে মা’কে বলুন নতুবা বাবাকে বলুন। বাবা মায়ের কেউ বেঁচে না থাকলে নিজের বিশ্বাসের সবচেয়ে কাছের মানুষটিকে বলুন । এই ক্ষেত্রে এমন কেউ না থাকলেও একজন সাইক্রিয়াটিস্ট এর কাছে শেয়ার করুন ।
** প্রেম ঘটিত কোন অঘটন কখনোই পরিবার থেকে লুকিয়ে রাখবেন না, যথাসম্ভব বুঝিয়ে বলুন , বাবা মায়ের কেউ বুঝতে না চাইলে তৃতীয় বিশ্বস্ত কারো সাহায্য নিন, যত্রতত্র কাউকে বিশ্বাস করবেন না। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কাউকে না জেনে বিশ্বাস করবেন না । নিজের গোপন কিছু শেয়ার করবেন না । নিজের গোপনীয় কোন ছবি কাছের মানুষকে বিশ্বাস করে আবেগের তাড়নায় দিতে যাবেন না । মনে রাখবেন আবেগ দিয়ে জীবন চলেনা ।
** ” তোমাকে ছাড়া বাঁচবো না ” এই কথাটি হল চরম মিথ্যে কথা । দু দিনের পরিচয়ে কেউ আপনাকে এমন কথা বললেই তা বিশ্বাস করে ভুল করবেন না , কারো জন্যে পৃথিবী থেমে থাকেনা এমনকি কারো জীবন থেমে থাকেনা । তাকে বিশ্বাস করে আপনি আপনার জীবন দিয়ে দিলেও সে ঠিকই অন্য কাউকে নিয়ে আরাম আয়েশেই জীবন যাপন করবে ।
** বিবাহিত হলে স্বামী/ স্ত্রীর প্রতি আস্থা রাখুন, একে অন্যকে সবকিছু শেয়ার করুন । মনে রাখবেন বিবাহিত জীবনে আপনার স্বামী/ স্ত্রী যতই খারাপ হোকনা কেন সেই আপনার প্রকৃত বন্ধু । বিপদে আপদে সেই আপনার পাশে দাঁড়াবে । পরকিয়ার নামে যে আপনাকে ছাড়া বাচবেনা বলে ফন্দি ফিকির আঁটছে সেই আপনার বিপদের সময় আপনাকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে আগে নিজের জীবন বাঁচাবে । তাই পরকিয়ায় লিপ্ত হবেন না । মনে রাখবেন একটি পরকিয়া শুধু কয়েকটি জীবন ও কয়েকটি পরিবারই ধ্বংস করেনা ধ্বংস করে দেয় একটি সমাজ ।
** জীবনটাকে ছোট ভাব্বেন না, জীবন তো অনেক বড়। দুই/চার বছর দিয়ে কি পুরো জীবন মাপা যায়? আর এই কয়দিনের কষ্টেই জীবনটাকে শেষ করে ফেলার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন? প্রকৃতির ওপর ভরসা রাখুন। আল্লাহর উপর আস্থা রাখুন। বারবার বলুন, ‘ভালো আপনার হবেই। অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন হবেই।’ ভালো কিছু অবশ্যই আপনার জন্যে অপেক্ষা করছে । সুখ দুঃখ মিলিয়েই জীবন , এক জীবনের অর্ধেক সুখ আর অর্ধেক দুঃখ , তাই দুটুকেই সামলে রাখার মানসিকতা তৈরি করুন ।
** এক জীবনের সমস্যা সমাধানে আত্মহত্যাই আসল সমাধান নয় । একবার ভাবুন আপনার মা-বাবার কথা, সন্তানের কথা বা যে মানুষগুলো আপনাকে ভালোবাসে, তাঁদের কথা। আপনি মারা গেলে তাঁদের কতটা কষ্ট হবে! নিজের ছোট ভাই বোনের দিকে তাকান । বেশী কষ্ট হলে বাসার বাচ্চাদের কোলে নিন তাদের আদর করুন, তাদের সাথে গল্প করুন দেখবেন মুহূর্তের মধ্যেই আপনার মানসিক অবস্থার পরিবর্তন হবে ।
** মদ্যপান করা বা মাদক সেবন করা থেকে বিরত থাকুন। বিষণ্ণতা কাটাতে এগুলো সাহায্য তো করেই না, বরং আপনাকে আরো হতাশায় জড়িয়ে ফেলে। এর বদলে নিজেকে কর্মক্ষম রাখুন। কাজের মধ্যে ডুবে থাকুন। পাশাপাশি চেষ্টা করুন পছন্দের কাজগুলো করতে।
** মুসলমান হলে নিয়মিত নামাজ পড়ুন, কুরআন শরীফ জানা থাকলে নিয়মিত কুরআন পড়ুন । না জানা থাকলে কাল থেকেই শিখে নিন । আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন । ইন শা আল্লাহ একমাত্র আল্লাহই পারেন আপনার সকল সমস্যার সমাধান করতে ।
============================================================
** অভিবাবকদের প্রতি করনীয় –
=====================
আপনার সন্তানকে সবসময় নজরে রাখুন , তার চলা ফেরা ও আচার ব্যাবহারে নজর রাখুন । সন্তানের গতিবিধির উপর নজর রাখুন, রাত করে বাসায় ফিরতে দেরী হলে প্রথমেই বকাঝকা না করে বুঝিয়ে বলুন। সন্তানের সমস্যাকে বড় করে না দেখে তার বিপদের সময় তার পাশে বন্ধু হয়ে দাঁড়ান । সবসময় অভিবাবকগিরি চলেনা , কিছু কিছু সময় বন্ধুত্বপূর্ণ আচরনে সকল সমস্যা সমাধান কড়া সম্ভব । আপনার সন্তান ধর্ষণের স্বীকার হলে তাকে মানসিক চাপ থেকে দূরে রাখতে তাকে সাহস দিন । সন্তানের যে কোন সমস্যায় তাকে সাহস দিয়ে যান, তার পাশে দাঁড়ান , বলতে না চাইলে ইনিয়ে বিনিয়ে যে কোন উপায়ে সন্তানের সমস্যা জেনে নিন । চাপা কষ্ট বর্তমানের তরুন তরুণীরা সহ্য করতে পারেনা সে ক্ষেত্রে কষ্ট শেয়ার করলে তাদের মানসিক দিক হালকা হয় । তাই তাদের থেকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে তাদের সমস্যা জেনে তাদেরকে সাহস দিন । সন্তানের বিপদের সময় অবশ্যই তার সাথে খারাপ আচরন করবেন না । আপনার আচরন তাকে আত্মহত্যার পথ বেঁছে নিতে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে ।
আপনার জীবন হয়ে উঠুক আনন্দময় ও সুন্দর । মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলের সমস্যাগুলা কাটিয়ে উঠার তৌফিক দান করুক, আমিন ।
Courtesy মেজর ডালিম https://mbasic.facebook.com/cpaten.dalim

Please Share This Post in Your Social Media

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

37702669
Users Today : 6385
Users Yesterday : 4343
Views Today : 17013
Who's Online : 121
© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/
Design & Developed BY Freelancer Zone