Home / বিনোদন / আপন গতিতে দোল খাচ্ছে অপরুপ ঘাস ফুল

আপন গতিতে দোল খাচ্ছে অপরুপ ঘাস ফুল

 

মোঃ নাসির উদ্দিন, ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ শরৎকাল আসতে এখনো দেরি। প্রকৃতির নানা রুপ সে সময়ে বয়ে আনে এক কাব্যপ্রেমীর গল্প। বাতাসে ছড়ায় তার সুঘ্রাণ। রাখাল কবিতায় ‘রাখাল ছেলে রাখাল ছেলে, বারেক ফিরে চাও, বাঁকা গাঁয়ের পথটি বেয়ে কোথায় চলে যাও’। ঠিক তেমনি এক যেন বাঁকা গাঁয়ের মেঠো পথ। রাস্তার দুই ধারে পথে ছেঁয়ে আছে অজস্র সবুজ ঘাস। ফুটে আছে নাম না হরেক রকমের ফুল।

সরেজমিনে গত বুধবার যমুনা নদীর চরাঞ্চলবাসীর জীবনযাত্রার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে এমনি ঘাস ফুলের এক প্রকৃতির মনোরম দৃশ্য দেখা গেছে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার মতিন সাহেবের ফেরীঘাট এলাকার অদূরে (চায়না) বেরীবাঁধ নামে পর্যটনের খ্যাত জায়গায়। শুধু চায়না বাঁধ এলাকাতেই নয়। সিরাজগঞ্জ মতিন সাহেবের ফেরীঘাট সংলগ্ন শেখ রাসেল স্মৃতি পৌর পার্ক, বঙ্গবন্ধু ফটো গ্যালারী চত্বরসহ শহর রক্ষা বাঁধের স্পটগুলোতেও এমন মনোরম দৃশ্য দেখা গেছে।

বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে নানা জাতের ঘাস তার সৌন্দর্য্য বাড়াতে ফুল ফুটেছে। আবার এই ফুল বাতাসে দোল খাচ্ছে। এতে সেখানকার পরিবেশে সৌন্দর্য্য বাড়িয়েছে ফুলগুলো। অন্যদিকে- রোদের ঝলকানি, তারপর মেঘের কালো ছায়া। কখনও রোদ আবার কখনও বৃষ্টি, এ যেন প্রকৃতির এক অপরূপ ভালবাসা। আকাশে রঙ ছিটানো মেঘ আর রোদের লুকোচুরি।

জানা যায়, গেল কয়েক মাস ধরে মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে বিনোদন ও পর্যটন কেন্দ্রগুলো বন্ধ রয়েছে। মানুষের পায়ের ছাপ নেই ঘুরে বেড়ানোর এই মনোবিলাস স্পটগুলোতে। সে সুযোগে ছোট ছোট নানা জাতের ঘাসগুলো আপন গতিতে বেড়ে উঠেছে। মানুষের পদচারণা না থাকায় প্রকৃতিতে অবাদ পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। দেখা নেই বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রগুলো ও পর্যটনগুলোতে নেই দর্শাণার্থীদের উপস্থিতি। এতে সৌন্দর্য্য ছড়াচ্ছে আপনা আপনি রাস্তার পাশে জন্ম নেয়া ঘাষ ফুলগুলো।

সিরাজগঞ্জের চায়না বাঁধে কর্মরত এক পরিচর্যা কর্মী বলেন, এই ঘাস আপনা আপনি জন্ম নিয়েছে। তাতে এখন ফুল ফুটেছে। কিন্তু এই ঘাস তেমন পরিচর্যা করতে হয়নি। চায়না বাঁধ এলাকায় করোনা ভাইরাসে কারণে মানুষজনের উপস্থিতি নেই। বাঁধের চতুর্পাশে ঘাসে ফুল ফুটেছে। কিন্তু করোনার আগেও এমন ফুল ফুটতে দেখা যায়নি। তিনি আরো বলেন, বাঁধে আসা দর্শণার্থী বেড়াতে এসে ঘাসের উপর বসে আনন্দ করে। এতে ফুলতো ফোঁটা দুরের কথা ঘাস তেমন বেড়ে উঠে না। এখন ফুল আর ফুল বাতাসে দোল খাচ্ছে।

কথা হয় বেড়াতে আসা স্থানীয় শরীফ নামে এক স্কুল ছাত্রের সাথে। শরীফ জানায়, করোনায় কয়েকমাস ধরে স্কুল বন্ধ। কোথাও মনের উল্লাসে খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘশ্বাস ফেলতে পারছি না। ঘরবন্ধি থাকতে থাকতে ভাল লাগছিল না। তবুও ঝুঁকি নিয়ে পরিবারের সাথে আমাদের এলাকার চায়না বাঁধ এলাকায় বহুদিন পর ঘুরতে আসছি। সবুজ ঘাসের দোল খেলা দেখে খুব ভালো লাগছে।

চায়না বাঁধে বেড়াতে আসা আখতার হোসেন খান বলেন, দীর্ঘদিন করোনার কারণে ঘরবন্দী ছিলাম। প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়া হত না। হঠাৎ করেই নৌকাযোগে ভূঞাপুর থেকে সিরাজগঞ্জের এই চায়না বাঁধে বেড়াতে এসেছি ঘাস ফুলের এই সৌন্দর্য্য দেখতে। ঘাসে মানুষের ছোয়া না থাকায় এতে ফুল ফুটেছে। এছাড়া অচেনা অনেক ফুল দেখা যাচ্ছে। যা অন্যান্য সময়ে এমন সৌন্দর্য্য দেখা যায় না।

নিউজটি লাইক দিন ও আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

About jahir

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

কিশোর বললো আমি আমার দেশে মরতে চাই, জানালেন এন্ড্রু’র স্ত্রী লিপিকা

সিঙ্গাপুরে টানা ৯ মাস চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফিরলেও মরনব্যাধি ক্যানসার কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পীকে ...