সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ০৬:২৫ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
বাংলাদেশি শিক্ষকদের আমেরিকান ফেলোশিপের আবেদন চলছে ঘরের কোন জিনিস কতদিন পরপর পরিষ্কার করা জরুরি কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্মম নির্যাতন, পায়ুপথে মাছ ঢুকানোর চেষ্টা পদ্মায় ভেসে উঠল শিশুর মরদেহ ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল বোনের ৭ দিনের সাধারণ ছুটির ঘোষণা আসতে পারে টার্গেট রমজান মাস তৎপর হয়ে উঠেছে ‘ভিক্ষুক চক্র’ মামুনুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে মিলেছে ৩ ডায়েরি এই ফলগুলো খেয়েই দেখুন! বাস নেই-লঞ্চ নেই, বাড়িতে যাওয়াও থেমে নেই কঠোর লকডাউনেও খোলা থাকবে শিল্প-কারখানা গৃহকর্মীসহ ৯জন করোনায় আক্রান্ত, খালেদার জন্য কেবিন বুকিং বাংলাদেশে করোনা মৃত্যুতে আজও রেকর্ড, বেড়েছে শনাক্ত ২০ এপ্রিল পর্যন্ত ফ্লাইট বন্ধ সাধারণ ছুটির ঘোষণা আসছে

আভ্যন্তরীণ কোন্দল ও মতবিরোধে রাবি শিক্ষকরা!

রাবি প্রতিনিধি:
আভ্যন্তরীণ কোন্দল ও মতবিরোধসহ নানা বিষয়কে কেন্দ্র করে দ্ব›েদ্ব জড়াচ্ছেন রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষকরা। শিক্ষকদের মাঝে এসব দ্বন্দ গড়াচ্ছে হুমকি, পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন, হাতাহাতি, সাধারণ ডায়েরি এমনকি মামলা পর্যায়েও।সংশ্লিষ্টরাবলছেন, শিক্ষকদের এমনঅর্ন্তদ্ব›েদ্ব ব্যহত হচ্ছে বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ।
গত কয়েক মাসের ঘটনা পর্যালোচনা বলছে, হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে একটি, সহকর্মীকে অভিযুক্ত করে সাধারণ ডায়েরি হয়েছে তিনটি, হুমকি দেয়ার ঘটনা ঘটেছে তিনটি এবং হাতাহাতি হয়েছে একবার।যার সূচনা হয়
গত ২৭ই ফেব্রূয়ারি বিভাগের নাম পরিবর্তনের দাবিতে অনশনরত পপুলেশন সায়েন্স এন্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাথে একাতœতা প্রকাশ করায় অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. ফরিদ খানকে সহকারী প্রক্টর হুমায়ূন করিরের উপস্থিতিতে হুমকি দেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক তারেক নূর। এসময় তিনি পা ভেঙে দেয়ার হুমকি দেন এবং অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন।
এর আগে গত ২৬শে জানুয়ারি রোববার ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সোলাইমান চৌধুরী অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে। ক্রপ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে দায়ের করা মামলার সিদ্ধান্তের আগেই শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া অবৈধ আখ্যা দিয়ে উপাচার্যের বাস ভাবনের সামনে প্ল্যাকার্ড নিয়ে অবস্থানের সময় হুমায়ুন কবীর তাকে দেখে নেবেন বলে হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
গত ২৩ই জানুয়ারিউর্দু বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. নাসিরুদ্দিনের বিরুদ্ধে একাডেমিক জালিয়াতি এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেন বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক ড. মো. রশিদুল আলম। এ ঘটনায় বিভাগেরই আরেক শিক্ষক ড. মুহাম্মাদ শহীদুল ইসলাম তাকে হুমকি দেন বলে অভিযোগ তুলে মতিহার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন ভুক্তভোগী শিক্ষক (জিডি নং: ৯১১)।
অন্যদিকে, শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে শিক্ষকদের মাঝে অর্ন্তকোন্দল লেগেই আছে ক্রপ সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি বিভাগে। বিভাগের এক শিক্ষক তার অপর এক সহকর্মীর বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা এবং হুমকি দেয়ার অভিযোগে সাধারণ ডায়েরি করেছেন। এর মাঝে শিক্ষকদের মাঝে একবার হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে।
গত বছরের আগস্টে অধ্যাপক মু. আলী আসগর ২০১৯ মাসে ক্রপ সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বিষয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। একই বছরের ৯ই নভেম্বর রিট আবেদন প্রত্যাহার না করলে অধ্যাপক খাইরুল ইসলাম তার ক্ষতি করবেন বলে হুমকি দেন বলে অভিযোগে করেন অধ্যাপক ড. মু. আলী আসগর। এ প্রসঙ্গে মতিহার থানায় তিনি একটিসাধারণ ডায়েরি করেন (জিডি নং-৩৮৮)।
গত ৩১শে ডিসেম্বর শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলনে বাকবিতন্ডা ও হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন বিভাগের শিক্ষকদের বিবদমান দুটি পক্ষ। দুটি পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেন। প্ল্যানিং কমিটির তিন সদস্য- অধ্যাপক মু. আলী আসগর, নুরুল আলম এবং কাওছার আলী অভিযোগ করেন, প্ল্যানিং কমিটির সদস্যদের না জানিয়ে গোপনে দুটি সভা ডাকেন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম। সেখানে উপস্থিত নাথাকলেও দুই সদস্যকে উপস্থিত দেখানো হয়। অপরদিকে অভিযোগের বিষয়ে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমি সঠিক সময় চিঠি ইস্যু করেছি। তারা হয়তো বক্স খুলে দেখেননি, তাই চিঠি পাননি।”
সবশেষে, গত ১৩ই ফেব্রূয়ারি হত্যার উদ্দ্যেশ্যে আঘাত করার অভিযোগে অধ্যাপক খাইরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মতিহার থানায় মামলা করেন অধ্যাপক মু. আলী আসগর (মামলা নং-১৯/৬৮)।
একে অপরের প্রতি শিক্ষকদের এ মারমুখী অবস্থান নিয়ে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব বলেন, শিক্ষকদের মাঝে মতবিরোধ থাকাটা খারাপ কিছু নয় বরং মতামতের ভিন্নতা অনেক সময় উন্নত সমাজ গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তবে বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মাঝে সাম্প্রতিক এরকম ঘটনাগুলো একই সাথে দুঃখজনক এবং লজ্জাজনক। বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মাঝে আবশ্যিকভাবে কিছু উন্নত গুণাবলী বিশেষ করে সুবিবেচনাবোধ ও চিন্তাশীলতা উপস্থিতি থাকা উচিত। শিক্ষকদের পরমত সহিষ্ণুতার গুণটি লালন করা উচিত এবং আচার-আচরণে আরো সংযত হওয়া উচিত। শিক্ষকদের মাঝে হুমকি-ধামকি, আক্রমণাতœক এসব আচরণের সংবাদ আমাদের পীড়া দেয়। এসব আচরণের মাধ্যমে তারা শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই খারাপ দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন।###

Please Share This Post in Your Social Media

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

38442184
Users Today : 395
Users Yesterday : 1265
Views Today : 4960
Who's Online : 26
© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/
Design And Developed By Freelancer Zone