সোমবার, ১০ মে ২০২১, ১১:০৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
করোনা মুক্তির দোয়া করতে মুসলমানদের মসজিদে যাওয়ার অনুরোধ করলো ভারতের পুলিশ লক্ষ্মীপুরে ভুমি কর্মকর্তাকে মারধর মামলায় : আ’লীগ নেতা গ্রেপ্তার মিরসরাই সমিতি কুয়েতের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল ঈদের আগে স্বর্ণের দামে সুখবর কাঁকনহাটে গম জব্দ অভিযোগের তীর উঠেছে মেয়রের দিকে নড়াইলে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যা নকলায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক ভবনে আগুন। ২ লাখ খামারি ২৯২ কোটি টাকা প্রণোদনা পাবে পাকেরহাটে নাসিম সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঈদ উপহার বিতরণ তানোরে প্রধানমন্ত্রীর অনুদান নিয়ে মেয়রের প্রচারণা ? শ্যামনগর জোবেদা সোহরাব মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় অভ্যন্তরে ঢালাই রাস্তার উদ্বোধন স্বাস্থ্যবিধি মেনে দেশব্যাপী রাতে গণপরিবহন চালুর দাবি করোনায় ঈদবাজার ও ঈদ উদযাপন  সাইফুল ইসলাম চৌধুরী  ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের সুফল পাচ্ছেনা বরিশালবাসী মা দিবসের শুভেচ্ছা

আলিয়া মাদরাসা শিক্ষা দিবসের ডাক-২০১৯ অধ্যাপক আবদুছ ছবুর মাতুব্বর

আজ ১লা অক্টোবর। আলিয়া মাদরাসা শিক্ষার ২৪০ তম দিবস। ১৭৮০ সনে কোলকাতা শহরের বৈঠকখানা রোডের একটি ভাড়া বাড়ীতে যে শিক্ষা শুরু হয় উক্ত শিক্ষাই আজকের আলিয়া মাদরাসা শিক্ষা। এ শিক্ষা চালুর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ছিল তৎকালীন সময়ের ইসলামের শত্রু বৃটিশদের হাত থেকে ইসলামের নূন্যতম শিক্ষাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য মুসলমানদের সর্বশেষ প্রচেষ্ঠা। প্রায় আড়াইশত বছর ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে শাসনদ-ের বিভিন্ন ষড়যন্ত্র, হিংসা-প্রতিহিংসা ও ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবিলা করে আলিয়া মাদরাসা শিক্ষা আজও টিকে আছে। এজন্য মহান আল্লাহ তায়লার দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। আলহামদুলিল্লাহ। দুনিয়া যতদিন টিকে থাকবে ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও আঘাত ততদিন চলবে। অতীতে ইসলামের পতাকাবাহীরা এ সকল ইসলাম বিরোধীদের মোকাবিলা যেমন করেছেন আগামি দিনেও প্রজন্মের পর প্রজন্মকে ইসলামের শত্রুদের মোকাবিলা তেমনিভাবে করতে হবে। এটা ইসলামের অমোঘ বিধান। আলিয়া মাদরাসা শিক্ষার ২৪০ তম দিবসে এসে এ শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ঠ সবার প্রতি উদাত্ত আহ্বান আসুন আমরা আলিয়া মাদরাসা শিক্ষার ইতিহাসকে ভালো করে জানি এবং তাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে প্রমান করি আলিয়া মাদরাসা শিক্ষাই যুগের চাহিদার আলোকে একমাত্র গ্রহনযোগ্য শিক্ষা।
আলিয়া মাদরাসার প্রকৃতি এবং পরিচয় সর্বমহলে উন্মুক্ত ও সার্বজনীন। এ শিক্ষা সরকার কর্তৃক স্বিকৃত ও আর্থিকভাবে আনুকূল্য প্রাপ্ত। এ শিক্ষার সিলেবাস-কারিকুলামকে জাতীয় শিক্ষা কমিশন গঠনের মাধ্যমে সময়ে সময়ে যুগোপযোগী করা হয়। এখানে রয়েছে ওহীর জ্ঞান ও মানুষের জ্ঞানের মধ্যে সামঞ্জস্যতা বিধানের অপূর্ব ব্যাবস্থা। মানুষের মধ্যে উদ্ভূত ও লালিত অনৈতিকতাকে নৈতিকতায় আনয়ন, দেশ ও জাতীকে সৎ, যোগ্য ও নৈকিতকতার ভিত্তিতে গড়ে তুলতেই এ শিক্ষার সৃষ্টি। আলিয়া মাদরাসার সিলেবাস-কারিকুলাম যেমন সরকার নির্ধারণ করে থাকেন তেমনি এর অবকাঠামো তৈরী করাও সরকারের দায়িত্ব। ১৭৮০ সনে মুসলিমদের কৌশলগত অনুরোধের প্রেক্ষিতে বৃটিশ সরকার আলিয়া মাদরাসা শিক্ষার পৃষ্ঠপোষকতা করে। প্রায় দুইশত বছর বৃটিশ সরকারের সার্বিক তত্ববধানে এ শিক্ষা চলতে থাকে। অতঃপর ভারত ভাগ হলে কোলকাতা আলিয়া মাদরাসা যেমন তৎকালীন ভারত সরকার পরিচালনা করেছে তেমনি পূর্ব পাকিস্তানের আলিয়া মাদরাসা তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের দিক নির্দেশনায় পরিচালিত হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সরকার আলিয়া মাদরাসা শিক্ষা পরিচালনা করছে। এজন্য পৃথক শিক্ষা বোর্ড রয়েছে এবং অধিদপ্তর রয়েছে।
মাদরাসা শিক্ষার প্রকৃতি ও পরিচয় এ কথাই প্রমাণ করে পাক-ভারত উপমহাদেশে ইসলামের আগমন ইতিহাস যতদিনের মাদরাসা শিক্ষার ইতিহাসও ততদিনের। ইসলামের আগমনকালে নওমুসলিমরা যে শিক্ষা পেয়েছিল আলিয়া মাদরাসা উক্ত শিক্ষারই একটি যুগোপযোগী সংস্কারমাত্র। এ অঞ্চলে ইসলামের আগমন হয় ৩ ভাবে। ১. দায়ী বা মুবাল্লিগদের দ্বারা। ২. মুসলিম বনিকদের দ্বারা। ৩. এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে। কেউ কেউ বলেন রাসুলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) এর জীবদ্দশাতেই ইসলামের দায়ী বনিকদের এদেশে আগমন ঘটে এবং তারা ইসলামের দাওয়াত প্রদান করেন। আবার কেউ কেউ বলেন খোলাফায়ে রাশেদীনদের শাসনামলে এদেশে ইসলামের আগমন ঘটে। রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলামের আগমন ঘটে ৭০৬ র্খৃষ্টাব্দে মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু বিজয়ের মাধ্যমে। আর গোটা ভারতবর্ষে মুসলিম শাসন এবং ইসলামী শিক্ষার পূর্নাঙ্গতা পায় প্রায় পাঁচশত বছর পরে ইখতিয়ার উদ্দীন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজী কর্তৃক বাংলা বিজয়ের মাধ্যমে । মুসলিম রাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় কাঠামো প্রতিষ্ঠার পূর্ব পর্যন্ত এ অঞ্চলে মুসলিমদের শিক্ষার জন্য যে শিক্ষা চালু ছিল তা ছিল ইসলামের দায়ী ও মুবাল্লিগদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত। যে শিক্ষাকে অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা বলা যায়। ৭০৫ খৃষ্টাব্দ থেকে ১২০৩ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত দীর্ঘ সাড়ে সাতশত বছর রাষ্ট্রীয়ভাবে তথা মুসলিম শাসন সময়ে এ অঞ্চলে একমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু ছিল। যে শিক্ষার মূল ভিত্তি ছিল ইসলাম।
আজকের আলিয়া মাদরাসা শিক্ষা যখন চালু হয় তখন বাংলা অঞ্চল ছাড়া ভারতের সর্বত্র মুসলিম শাসন চলছিল। কিন্তু বাংলা অঞ্চলের কর্তৃত্ব নামে-বেনামে ইংরেজদের হাতে ছিল। মীর জাফর ও মীর কাসেম ছিল ইংজেদের হাতের পুতুলমাত্র। অল্প সময়ের ব্যবধানে ইংরেজরা বাংলা অঞ্চলের ইজারা সরাসরি নিজ হাতে গ্রহন করে। মুসলমানদের দুর্বলতা ও আত্মকলহের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ১৭৫৭ সনের ২৩ জুন পলাশীর প্রান্তরে ইংরেজরা বাংলার শেষ নবাব সিরাজ-উদ-দৌলাকে পরাজিত করে। তখনই বাংলায় মুসলিম শাসনের অবসান ঘটে। তারই ধারাবাহিকতায় আস্তে আস্তে মুসলমানদের রাজনৈতিক অধিকার ভুলুন্ঠিত হতে থাকে, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি দূরাবস্থায় পড়ে, সামাজিক অবক্ষয় প্রকট আকার ধারণ করে এবং মুসলিম শিক্ষা-সংস্কৃতি বিলুপ্ত হতে থাকে। বিশেষ করে মুসলমানদের ভবিষ্যত প্রজন্ম শিশুরা ইসলামী শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হতে থকে। এমনি এক প্রেক্ষাপটে কোলকাতা শহরের কিছু বিশিষ্ঠ ব্যাক্তি এগিয়ে আসেন। সম্মিলিত পরামর্শের মাধ্যমে মুসলিম নেতৃস্থানীয় ব্যাক্তিবর্গ এমর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন যে, আমাদের আগামি দিনের শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিত করনে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা জরুরী। এ বিষয়ে আরও সিদ্ধান্ত হয় যে, যথাশীঘ্র একটি মুসলিম প্রতিনিধি দল বৃটিশ লর্ড হেস্ট্রিংস এর সাথে দেখা করে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাবনা উত্থাপন করবে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একটি মুসলিম প্রতিনিধিবর্গ বড় লর্ড এর সাথে ১৭৮০ সনের ২৭ আগষ্ট দেখা করেন এবং স্মারকলিপি প্রদান করেন। মুসলিমদের এই দাবীর প্রেক্ষিতে ১৭৮০ সনের ১ অক্টোবর মোল্লা মজদুদ্দীন সাহেবকে প্রতিষ্ঠানের প্রধান করে এবং দরসে নিজামিয়া শিক্ষা ধারার সিলেবাস-কারিকুলাম অনুসরন করে মাদরাসাটি চালু করা হয়। মাদরাসার নামকরন করা হয় “কোলকাতা সরকারী আলিয়া মাদরাসা”।
ইসলামী শিক্ষা থেকে বঞ্চিত কোলকাতা অঞ্চলের মানুষ বৃটিশদের অধীনে ইতোমধ্যে ২৩ টি বছর (১৭৫৭ থেকে ১৭৮০ সন) অতিক্রম করেছে। তখনও ভারত বর্ষে কেন্দ্রীয়ভাবে মুসলিম শাসন চলছে। কিন্তু বাংলা অঞ্চলের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা ও সংস্কৃতি নিয়ে কেন্দ্রীয় শাসন কোন কথা বলেনি হয়তোবা তাদের বলার কিছুই ছিল না। বাধ্য হয়ে কোলকাতার মুসলিমরা ইংরেজদের স্মরনাপন্ন হয় এবং প্রতিষ্ঠা করে কোলকাতা সরকারি আলিয়া মাদরাসা। ইতিহাস স্বাক্ষী কোলকাতার মুসলিমদের ইসলাম শিক্ষা অর্জনের শেষ অবলম্বন এই মাদরাসা নিয়েও চলতে থাকে গভীর ষড়যন্ত্র। বিশেষ করে ইসলামের চীরশত্রু হিন্দুরা ও নাস্তিকরা কারণে-অকারণে মাদরাসার সিলেবাস-কারিকুলামে অযাচিত হস্তক্ষেপ করতে থাকে। এ সকল ষড়যন্ত্রকারীরা বৃটিশ শাসনকে ঢালসরূপ সামনে রেখে কখনো ইংরেজী ভাষা শিখাকে বাধ্যতামূলক করে, কখনো ফারসী ভাষাকে বিলুপ্ত করে আবার কখনো পূর্ব থেকে চলে আসা আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে। পাকিস্তান শাসনামলে আলিয়া মাদরাসা শিক্ষার একটি উইং ছিল নিউ স্কীম মাদরাসা শিক্ষা নামে। যে উইংটি সৃষ্টি করা হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে শিক্ষার্থী সরবরাহের রিক্রুটিং সেন্টার হিসেবে। এ উদ্যোগটি বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করে। কারণ এ শিক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা সরকারী-বেসরকারী প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে চাকুরী করার সুযোগ লাভ করে। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা এ শিক্ষার প্রতি ইর্ষাপরায়ণ হয়ে ১৯৫৮ সনে বিলুপ্ত ঘোষনা করে।
স্বাধীন বাংলাদেশে আলিয়া মাদরাসা শিক্ষাকে বারবার বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা করতে হয়েছে। অবশ্য একথা স্বিকার করতে হবে কখনো কখনো কোনো কোনো শাসক তার শাসন অস্তীত্বকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে অথবা সাধারণ মানুষের দৃষ্টিতে সে ইসলাম প্রিয় শাসক তা প্রমাণে আলিয়া মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়নে কম-বেশী ভূমিকা রেখেছেন। ফলে এ শিক্ষা আজ হাটি-হাটি পা-পা করে পূর্নাংগ মান পেয়েছে। আজও গোপনে বা প্রকাশ্যে এ শিক্ষাকে ষড়যন্ত্রের থাবা তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। কিন্তু ষড়যন্ত্রের এ জালকে ছিন্ন করার জন্য মিঃ নাথ, আল্লামা কশগরী (রাহ), মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ, মাওলানা এম এ মান্নান, তৎকালীন ছাত্রনেতা আবুল আহসান মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান, মাওলানা কে এম আবদুস সোবহানের মত কোন সাহসী এবং কৌশলী নেতৃত্বের আগমন হবে কি! হে আল্লাহ তোমার নিকট বিনীত প্রার্থনা, তুমি নিজ হাতে এই শিক্ষাকে বাচাঁও এবং এমন এক নেতৃত্ব প্রদান করো যিনি সকল ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে এ শিক্ষার স্বকীয়তা রক্ষা করবে এবং এ শিক্ষাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। কারণ আজ সেই ঐতিহ্যবাহী আলিয়া মাদরসা শিক্ষা তার ঐতিহ্য এবং স্বকীয়তা হারাতে বসেছে। পঙ্গুত্ব বরণ করেছে অনেক আগেই। সর্বত্র আশংকা ! এ শিক্ষার মৃত্যু না জানি সময়ের ব্যপার মাত্র। সরকারী-বেসরকারী ব্যাক্তি-গোষ্ঠীগুলো অবিরাম ধারায় ষড়যন্ত্রের সাঁড়াষী আক্রমন চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আলিয়া মাদরাসা শিক্ষার বর্তমান হাল খুবই ভয়াভহ। বিষযটি খুব খোলাসা করা দরকার আছে মনে করি না। তবে একটু স্মরন করিয়ে দেয়া প্রয়োজন। সিলেবাসের মধ্যে সাধারন বিষয় ও আরবী বিষয়ের আনুপাতিক অবস্থান যথাক্রমে ৮০/২০, ফাজিল ও কামিল শ্রেনীতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অপরদিকে ডিগ্রী ও মাস্টার্স কলেজের শিক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনামূলক জরিপ সুখকর নয়। মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এবং আরবী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধর্মী, নাস্তিক ও মাদরাসা শিক্ষা বিদ্বেষী কর্তৃপক্ষের নিত্য নুতন প্রঞ্জাপণ আলিয়া মাদরাসা শিক্ষার অস্তীত্বকে হুমকীর মুখে ঠেলে দিয়েছে। মাদরাসার সনদধারীদের চাকুরীর দরজা প্রায় বন্ধ। মাদরাসা ছাত্রদের উচ্চ শিক্ষাগ্রহনের ক্ষেত্রে সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা পদ্ধতি চালু করায় সেখানে মাদরাসা ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তি বন্ধ। অবিভাবকগন হতাশ হয়ে মাদরাস বিমুখ হয়ে পড়ছেন। জংগী তৎপরতার সাথে মাদরাসা শিক্ষাকে সম্পৃক্ত করার অপ-চেষ্টার কারণে মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অবিভাবক ও সংশ্লিষ্ঠ সকলেই আজ সদা ভীত ও সন্ত্রস্ত। ফলে ছাত্র-ছাত্রীদের ক্রমবর্ধমান এ হৃাস মাদরাসা শিক্ষাকে অকালে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে !
বর্তমানে মানগত দিক থেকে আলিয়া মাদরাসা শিক্ষা আজ অনেকাংশে পরিপূর্ণ যেমন- শিশু শ্রেনী থেকে মাস্টার্স শ্রেনী পর্যন্ত মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় সনদ দেয়া হয়েছে। সিলেবাস কারিকুলামে সাধারণ শিক্ষার ন্যায় সামঞ্জস্যতা বিধান করা হয়েছে। চাকুরী ক্ষেত্রে মাদরাসা শিক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা সকল ক্ষেত্রে আবেদন করতে পারে। বি সি এস পরীক্ষা, মেডিকেল, কমিশন র‌্যাংক, ব্যাংক-বিমা সকল সেক্টরেই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় যেমন আজ মাদরাসা শিক্ষিতরা অংশগ্রহন করতে পারে তেমনি কর্মরতও আছে। স্ব-স্ব ক্ষেত্রেও তারা আজ প্রতিষ্ঠিত যেমন ব্যবসা-বানিজ্য, সাংবাদিকতা, আইন পেশা ইত্যাদি। রাজনীতিতেও আজ তারা পিছিয়ে নেই। মন্ত্রী, এম পি, চেয়ারম্যন পদে অনেককেই দেখা যাচ্ছে। তবে প্রাপ্তি থেকে অপ্রাপ্তির পাল্লা অনেক বেশী ভারী, বলা যায় শতাংশ হারে এরা অনেকটা অধিকার বঞ্চিত। কোন কোন ক্ষেত্রে বিমাতাসুলভ আচরনেরও শিকার। যেমন- সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তথা হাই স্কুলে ছাত্র-ছাত্রী সরবরাহে রিক্রুটিং সেন্টার বা ফিডার ইনস্টিটিউট হিসেবে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, রেজিস্টার্ড স্কুল, এন জি ও পরিচালিত প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। পক্ষান্তরে মাদরাসার দাখিল স্তরে ছাত্র-ছাত্রী সরবরাহে সরকারী কোন ইবতেদায়ী মাদরাসা নেই। স্বতন্ত্রভাবে যে সকল ইবতেদায়ী মাদরাসা রয়েছে তা আবার মৃত্যু প্রায়। অবকাঠামোগত দিক থেকে অধিকাংশ মাদরাসা আজো জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থার তুলনায় অনেক কম। সিলেবাস-কারিকুলামের বিন্যাসব্যবস্থা বিভিন্নভাবে সমস্যাগ্রস্থ যেমন সাধারন শিক্ষার তুলনায় মাদরাসার সিলেবাস অনেক বেশী, সিলেবাসের জেনারেল বিষয়গুলো মাদরাসা শিক্ষা উপযোগী নয়, আরবী বিষয় ও সাধারণ বিষয়সমূহের মধ্যে সমন্বয় করতে গিয়ে মাদরসা শিক্ষা আজ তার স্বকিয়তা হারাচ্ছে, সহ-শিক্ষার বিষবাস্প মাদরাসার পরিবেশকে ভারী করে তুলছে। মাদরাসার পোষাককে নাটক-সিনেমার খলনায়ক চরিত্রে প্রদর্শন করে মাদরাসা শিক্ষাকে সমাজে হেয় করা হচ্ছে। উন্নত শিক্ষক তৈরীতে প্রয়োজনীয় শিক্ষক প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা নেই। যতটুকু আছে তাদেরও বেতনের স্কেলগত কোন মূল্যায়ন নেই।
আলিয়া মাদরাসা শিক্ষা নিয়ে ষড়যন্ত্রের কালো মেঘ ক্রমান্বেই ধেয়ে আসছে। ভবিষ্যতের কথা একমাত্র আল্লাহ তায়লাই জানেন। বান্দাকে তার প্রঞ্জা, অভিঞ্জতা, বিশ্লেষনী শক্তি দিয়ে আগামীদিনের করণীয় বিষয় নির্ধারণে দায়িত্ব দিয়েছে এবং কাল কিয়ামতে বান্দারা এ বিষয়ে জিজ্ঞাশিত হবে। আলিয়া মাদরাসা শিক্ষার ভবিষ্যতে নিয়ে যে সকল ষড়যন্ত্র হতে পারে- যেমন ক) নিউ স্কীম মাদরাসার ভাগ্যবরন ঃ ১৯১২ সনে প্রস্তাবিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলাসিক স্টাডিজ ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থী সরবরাহ নিশ্চিত করতে কোলকাতা সরকারি আলিয়া মাদরাসাকে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়। একদিকে ওল্ড স্কীম মাদরাসা অপরদিকে নিউ স্কীম মাদরাসা। নিউ স্কীম মাদরাসা থেকে উত্তীর্ন শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ ডিপার্টমেন্টে ভর্তি হতো। উভয় শিক্ষার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য ছিল নিউ স্কীম মাদরাসার সিলেবাসে সাধারণ শিক্ষার কিছু বিষয় পড়ানো হতো যেমন বাংলা, অংক, ইংরেজী, সাধারন বিঞ্জান ইত্যাদি। যা ওল্ড স্কীম মাদরাসায় পড়ানো হতো না। ১৯৫৮ সনে নিউ স্কীম মাদরাসাকে সাধারণ শিক্ষার সাথে একীভূত করে দিয়ে এ শিক্ষাকে বিলুপ্ত ঘোষনা করা হয় এবং ওল্ড স্কীম মাদরাসাকে সরকারিভাবে পৃষ্টপোষকতার দায়িত্ব নেয়া হয়। তারই ধারাবাহিকতায় আশংকা হচ্ছে ক্কওমী মাদরাসার একটি অংশকে সরকারী স্বিকৃতি দিয়ে বর্তমান আলিয়া মাদরাসাকে সাধারন শিক্ষার সাথে একীভূত করে দেয়া হলে আশ্চর্যের কিছু থাকবে না। তাদের বলিষ্ঠ যুক্তি হবে- একদিকে আলিয়া মাদরাসা শিক্ষার সিলেবাস-কারিকুলামের ৮০ ভাগ সাধারন শিক্ষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ন অপরদিকে কুরআন-হাদীস শিখার জন্য ক্কওমী মাদরাসা রয়েছে এবং মান দেয়া হয়েছে। খ) জাতীয় অর্থের অপচয় ঃ সাধারণ শিক্ষা ও মাদরাসা শিক্ষার মধ্যে প্রতিষ্ঠানগত মান এক হলেও শিক্ষার্থীদের সংখ্যাগত তুলনায় উভয়ের মধ্যে আকাশ পাতাল পার্থক্য। যেমন একটি কামিল মাদরাসা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমমান, একটি ফাজিল মাদরাসা একটি ডিগ্রী কলেজের সমমান, একটি আলিম মাদরাসা একটি কলেজের সমমান এবং একটি দাখিল মাদরাসা একটি হাইস্কুলের সমমান বহন করে। কিন্তু শিক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনা করলে এ শিক্ষা খাতে সরকারী ব্যয় যে অপচয় তা যে কোন মানুষকে ভাবিয়ে তুলবে এবং এ শিক্ষাকে সাধারণ শিক্ষার সাথে একীভূত করার সরকারী একতরফা প্রচারনাকে স্বাগত জানাবে। আমি আবারও বলছি সরকারের এহনো প্রচারনার বিপক্ষে কথা বলার যেমন লোক থাকবে না তেমনি সুযোগও পাবে না। গ) নতুন করে আলিয়া মাদরাসা খোলার অনুমতি দেয়া হবে না।
আলিয়া মাদরাসা শিক্ষার এহেন ক্রান্তিকালে এ শিক্ষার ২৪০ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে সংশ্লিষ্ঠ পরিচালনা পরিষদ, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী, অবিভাবক, শুভাকাংখী সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। বিশেষ করে এ শিক্ষার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও সূচনার প্রেক্ষাপট, এ শিক্ষার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র ও ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবিলার পদ্বতি ও উত্তরনে গৃহীত ঐতিহাসিক পদক্ষেপসমূহ নির্ধারণে এগিয়ে আসতে হবে। আজ থেকে আড়াইশত বছর পূর্বে আলিয়া মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ছিল মুসলিমদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে কুরআন-হাদীসের শিক্ষা দেয়া, ওহীর শিক্ষা ও দুনিয়ার শিক্ষার মধ্যে সমন্বয় করে শিক্ষিত করে তোলা, দুনিয়াবী সকল কাজে সক্ষম করে তোলা ইত্যাদি। আজকের প্রেক্ষাপটে আলিয়া মাদরাসা শিক্ষকদেরকে নির্ধারণ করতে হবে- ১. এ শিক্ষার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য হবে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বিশুদ্ধভাবে কুরআন তেলাওয়াত শিখাতে হবে, কুরআনের গুরুত্বপূর্ণ আয়াতসমূহ ও মাসনুন দোয়াসমূহ মুখস্ত করাতে হবে, বাংলা-ইংরেজী-আরবী ব্যকরণ ভালোভাবে শিখাতে এবং ব্যকরণের আলোকে রিডিং পড়াতে হবে। কারণ গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, মাদরাসায় পড়–য়া অধিকাংশ শিক্ষার্থী কুরআন বিশুদ্ধভাবে তেলাওয়াত করতে পারেন না, আরবী লেখা বই-পুস্তক রিডিং পর্যন্ত পড়তে অক্ষম। ২. সামাজিক দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসতে হবে। একটি মাদরাসা একটি সমাজের মাঝে দাড়িয়ে আছে সুতরাং তাকে কিছু সামাজিক দায়িত্ব নিতে হবে। যেমন ক) মাদরাসার চতুর্পার্শ্বের সকল আহালকে (অধিবাসী) কুরআন শিখানোর দায়িত্ব নিতে হবে। খ) ভাঙ্গা রাস্তা-ঘাট, সাঁকো মেরামত, রাস্তা-ঘাট পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন এবং বিভিন্ন মানুষের উপকারমূলক কাজ করতে হবে। গ) যে ব্যক্তি বা সংস্থা ভালো কাজের উদ্দোগ নিবে তাকে সহযোগিতার জন্য এগিয়ে যাবে এবং কোন খারাব কাজে সাহায্য বা সমর্থন করবে না। গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করা যাচ্ছে সমাজের সামাজিক কাজে মাদরাসা শিক্ষিতদের অংশগ্রহন প্রায় শূন্যের কোঠায়। এই দূরাবস্থা দূর করতে হবে। ৩. বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আন্তঃপ্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন নিশ্চিত করে শ্রেষ্টত্ব প্রমাণ করতে হবে। যেমন শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, খেলাধুলায়, সাধারণ ঞ্জান, বক্তৃতা, দেয়ালিকা, মাদরাসার পরিবেশ ইত্যাদি।
আপনারা যারা আলিয়া মাদরসার শিক্ষক তারা কি বর্তমান অবস্থায় সন্তষ্ট না কি কিংকর্তব্য বিমূঢ় ! আপনারা কি মনে করেন আলিয়া মাদারাসা প্রতিষ্টার উদ্দেশ্য অর্জিত হয়ে গেছে ! মাদরাসার বর্তমান সিলেবাস-কারকুলাম, মাদরাসার পাঠ্য বই কি মাদরাসা শিক্ষার লক্ষ্য-উদ্যেশ্যের সাথে সামঞ্জস্যশীল ! বিশেষ করে মাদরাসা সিলেবাসের সাধারন বিষয়গুলো কারা লিখেন, কি লিখেন এ ব্যপারে আপনাদের কি কোন বক্তব্য নেই ! মাদরাসা শিক্ষার সাথে পাঠ্য-পুস্তকের অসামঞ্জস্যশীলতা, সহ-শিক্ষার বিষবাস্প আর কতদূর ছড়াঁবে। মাদরাসায় ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা বৃদ্বি না পেয়ে বরং হৃাস পাওয়ার পরিনতি কি হতে পারে ভেবেছেন ? মাদরাসা বিশেষঞ্জদেরকে কোথাও যথাস্থান দেয়া হচ্ছেনা, এমনকি সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রেও মূল্যায়ন হচ্ছে না ! আপনারা কি ভাবছেন না আলিয়া মাদরাসা শিক্ষার বর্তমান ধারা ও গতি এভাবে এগিয়ে চললে আগামি প্রজন্মের জন্য তা কি কুশমাস্তীর্ন হবে না কি কন্টকাকীর্ন হবে, সরকারী অর্থের অপব্যয় হচ্ছে মর্মে (ছাত্র-ছাত্রী নেই অথচ বেতন দেয়া হচ্ছে) বিভিন্ন জরীপ বিশ্লেষনের তথ্য প্রকাশের মোকাবিলা কিভাবে করবেন ! সম্মানীত শিক্ষক নেতৃবৃন্দ আপনারা আছেন লক্ষ লক্ষ ভাই-বোন, সাথে আছে কোটি কোটি ইসলামপ্রিয় জনতা। সুতরাং আপনি আপনার (পেশার মধ্যে থেকে) কথা শুধুমাত্র মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলুন । অন্যসব শিক্ষক নেতৃবৃন্দ তাদের চাকুরীর জন্য কত ত্যাগ করছে আর আপনি ! কোরআন-হাদীসের শিক্ষা রক্ষার জন্য এতটুকু করবেন না! ইতিহাসের কাছে, ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে কি জবাব দিবেন ? কোরআন-হাদীসের শিক্ষাকে নিভিয়ে দেয়ার উদ্যোগের বিরুদ্ধে কি ত্যাগ ছিল আপনার ? আল্লাহর কাছে তার জবাবদিহিতা কি করবেন! জীবনে অনেক পেয়েছেন এবার কুরআন-হাদীস শিখার কেন্দ্র মারাসা শিক্ষা রক্ষায় আল্লাহর পথে সময়-সম্পদ ব্যয় করুন, ঝূঁকী নিন। মাদরাসার সমস্যাসমূহ চিহ্নিত করুন এবং লিফলেট, বুকলেট পোষ্টার, সময়িকী, বুলেটীন ইদ্যাদির মাধ্যমে জাতীর সামনে তুলে ধরুন। পত্রিকায় সম্পাদকীয়, উপ-সম্পাদকীয়, ফিচার, প্রবন্ধ, কলাম, চিঠি-পত্র লিখুন। সরকারের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ঠ অফিসে স্মারকলিপি প্রদান করুন। মাদরাসা শিক্ষাকে আপনারা যেভাবে দেখতে চান যেমন সিলেবাস, কারিকুলাম, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, মাদরাসা সংশ্লিষ্ঠ ছাত্র, শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সযোগ সুবিধা সর্বোপরি জাতীয় জীবনে মাদরাসা শিক্ষার ফলাফল কি হবে তা তুলে ধরুন। আন্তর্জাতিক শিক্ষক সংগঠনগুলোর সাথে যোগযোগ করুন। ছাত্র নেতৃবৃন্দকে নিয়মিত তত্ববধান করুন পরামর্শ দিন, সাহস দিন, দায়িত্ব দিন। শিক্ষক আন্দোলনকে পেশাভিত্তিক আন্দোলনে রূপ দিন।
আলিয়া মাদরাসার সুপ্রিয় ছাত্র বন্ধুরা তোমরা কি জান ! মাদরাসা শিক্ষার ইতিহাস তথা এ শিক্ষার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য কি ? সূচনা ও ক্রমবিকাশ কিভাবে হয়েছে ?, যুগে যুগে এ শিক্ষা নিয়ে বিভিন্ন মহল কি কি ষড়যন্ত্র করেছে ? ষড়যন্ত্রের মোকাবিলায় কি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, প্রত্যাশা পূরনে কি কি দাবী উত্থাপন করা হয়েছে ? এ বিষয়ে অগ্রজদের থেকে তধ্য নাও, তথ্য-উপাত্ত নিয়ে মাদরাসা শিক্ষার বর্তমান সমস্য ও সম্ভাবনা চিহ্নিত কর। সমস্যার সমাধান ও সম্ভাবনাকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন কর।
আলিয়া মাদরাসার প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ কর্মস্থলকে দ্বীনের ভিত্তিতে গড়ে তুলুন যেমন- নিজে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে আদায় করুন, সবাইকে নামজ পড়ার (হেকমতের সাথে) নসিহত করুন, নিজ দায়িত্ব পালনে শতভাগ সক্রিয় থাকুন, নিজেকে কর্মস্থলের সবার থেকে যোগ্য করে গড়ে তুলুন বিশেষ করে ইংরেজী বাংলা ও আরবী ভাষায় কথা বলা, লেখা ও পড়ার সক্ষমতা সৃষ্টি করুন , ভালো কাজে সবাইকে হাঁ বলুন , এবং খারাব কাজে সবাইকে না বলুন, সবার উপকারে নিজেকে নিয়োজিত রাখুন, আচার-ব্যবহারে ভদ্র ও মর্জিত হোন অবশেষে সকল কাজে প্রকাশ করুন আপনি আলিয়া মাদরাসায় শিক্ষিত একজন মানুষ। সমাজে অনেক সময় দেখা যায় যোগ্যতার অভাবে, দায়িত্বহীনতার কারনে, ইংরেজী না জানার কারনে, সাধারন ঞ্জান না থাকার কারনে, কর্মস্থলের বিধি-বিধান বিষয়ে অঞ্জ থাকার কারনে কথায় কথায় খোটা দেয়া হয়,ব্যঙ্গ করা হয়, তুচ্ছ-তাচ্ছিল করা হয় মাদরাসার ছাত্র বলে ! অতএব আপনি আপনার কর্মক্ষেত্রে আপনার প্রিয় শিক্ষা মাদরাসা শিক্ষাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহন করুন। তাহলে আলিয়া মাদরাসা আরো একধাঁপ এগিয়ে যাবে ইনশায়া’ল্লাহ। আপনি নিশ্চয় কোন মসজিদের ইমাম অথবা কমিটির সদস্য অথবা কোন মসজিদের মুসল্লী। আপনার মসজিদকে আদর্শ মসজিদে রূপ দিন। আপনার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য হবে- আপনার মসজিদকে মসজিদে নবুবীর আলোকে একটি দাওয়াতী মারকাজ হিসেবে তৈরী করা। মসজিদের সকল আহালকে (অধিবাসীকে) কোরআন পড়তে শিখান (সিলেবাসের আলোকে)। সবাইকে জামায়াতের সাথে নামাজ আদায়ে উদ্বুদ্ধ করুন, ইসলামের মৌলিক বিধান (অযু, গোসল, তায়াম্মুম, নামায, রোযার নিয়ম-কানুন) শিক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করুন। অনুরূপ ইসলামের প্রাথমিক ঞ্জান তথা তাওহীদ, রেসালাত ও আখেরাত বিষয়ে ঞ্জান শিক্ষা দিন।
মাদরাসা শিক্ষার ২৩৭ তম দিবসের ডাক ঃ
১. সরকারী বা বেসরকারী উদ্যোগে প্রত্যেকটি মসজিদকে প্রি- প্রাক মাদরাসা হিসেবে গড়ে তুলুন। ২. প্রত্যেক গ্রামে একটি করে ইবতেদায়ী মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করুন। ৩. দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল স্তরের মাদরাসায় সাধারন শিক্ষা ধারার ছাত্রদের ভর্তি নিশ্চিত করতে এক বছরের একটি আরবী ভাষা কোর্স চালু করুন। ৪. মাদরাসা ছাত্রদেরকে সাধারণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিষয়ের ভর্তি পরীক্ষায় মেধা যাছাইয়ের সুযোগ এবং ভর্তি হওয়ার সুযোগ রাখুন। ৫. প্রত্যেক জিলা উপজেলায় কমপক্ষে একটি করে সরকারী মাদরাসা এবং অনার্স লেবেলের মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করুন। ৬. মাদরাসা ছাত্রদের বৃত্তি সংখ্যা এবং টাকার পরিমান বৃদ্বি করুন। ৭. মাদরাসা শিক্ষার স্বকীয়তা রক্ষায় এবং মাদরাসা শিক্ষার লক্ষ্য-উদ্যেশ্য অর্জনে উপযোক্ত বই প্রনয়ণ করুন। এ ক্ষেত্রে পৃথক মাদরাসা টেক্সস্ট বুক বোর্ড গঠন করুন। মাদরাসা শিক্ষার বই প্রনয়নে একমাত্র মাদরাসা শিক্ষিতদেরকেই সংশ্লিষ্ট করুন। ৮. মাদরাসা সংশ্লিষ্ট সকল অফিসে মাদরাসা শিক্ষিতদেরকে চাকুরী প্রদান করুন এবং ডিপুটেশন (পদায়ন) এর ক্ষেত্রেও মাদরাসা অরিয়েন্টেড ব্যক্তিদেরকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে যেমন মাদরাসা বোর্ডের বিভিন্ন স্টাফ, কমিটি, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর, শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের মাদরাসা শাখা, আরবী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পদায়ন করুন। ৯. মাদরাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্যবাহী পোষাক পাজামা-পাঞ্জাবী এবং আল্লাহর রাসুলের (স:) সুন্নত টুপি ও দাঁড়ীর খোলস ব্যবহার করে নাটক সিনেমার খলনায়কের চরিত্রে অভিনয়ের মত এ ধরনের সকল কার্যক্রম বন্ধ করুন।
প্রতিবছরই মাদরাসা শিক্ষা দিবস ১ অক্টোবরের আগমন ও প্রস্তান ঘটে। কেয়ামত পর্যন্ত এভাবেই চলবে। এ দিনকে নিয়ে কতজনে কত কথা বলবে, কত কথা লিখবে এবং কতইনা অনুভূতি প্রকাশ করবে। কিন্তু বাস্তবে কি হবে ! কথায় বলে ইব ঢ়ৎধপঃরপধষ বাস্তবমূখী হও। তারই সূত্র ধরে এবারের মাদরাসা শিক্ষা দিবসে আমার উপরোক্ত আহবান। তাই আসুন আমার মাদরাসাকে অর্থাৎ আমি যে মাদরাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কমিটির সদস্য উক্ত মাদরাসাটিকে শুধুমাত্র অন্য কোন মাদরাসার জন্য অনুকরনীয়-অনুসরনীয় নয় সকল ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য অনুকরনীয় অনসরনীয় হিসেবে গড়ে তুলি। আমি একজন ছাত্র হিসেবে মাদরাসায় লেখাপড়াকে চাকুরী বা দুনিয়ায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য শিক্ষা হিসেবে গ্রহন না করে দ্বীনের খেদমত হিসেবে গ্রহন করি। আমরা সমাজ কর্মীরা মাদরাসার ব্যানারে কুরআন-হাদীসের শিক্ষাকে সমাজের সর্বত্র ছড়িয়ে দেই। মাদরাসার সাথে সংশ্লিষ্ঠ সবাই রোবার স্কাউট হয়ে নিয়মিত সামাজিক কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখি। সত্যকে সত্য বলি এবং মিথ্যাকে মিথ্যা বলি। ভালো কাজে এগিয়ে যাই-খারোব কাজ থেকে বিরত থাকি। আর্থিকভাবে নিজেকে পরিস্কার রাখি। ষড়যন্ত্রের মোকাবিলায় ধৈর্য ধারন করি কৌশলী হই এবং ইতিবাঁচক কাজ করতে থাকি। দলমত নির্বিশেষে সবাইকে মাদরাসার সাথে সম্পৃক্ত করে মাদরাসাকে দ্বীনের কাজে নিয়োজিত রাখি। আমরা যারা আলিয়া মাদরাসার ছাত্র নেতা ও শিক্ষক নেতা তারা জবাবদিহীতার অনূভূতি নিয়ে দায়িত্ব পালন করি। এটা নেতাগিরী নয় বা নিসক নেতৃত্ব নয় এটা দায়িত্ব বা আমানত। পরামর্শের ভিত্ততে চলুন। নেতৃৃত্বের দায়িত্ব হচ্ছে কাজ সম্পন্ন করা সুতরাং যাকে দিয়ে পারেন কাজ সম্পন্ন করুন। মনে রাখবেন একজন ভীতু, ও অযোগ্য কর্মী শুধু নিজেকে শেষ কওে দেয় কিন্তু একজন প্রঞ্জাহীন, সূদূরপ্রসারী ভাবনাহীন নেতা শুধু নিজেকে শেষ করেন না একটি জাতীকে শেষ করেন, একটি ইতিহাসকে দাপন করেন। আল্লাহ তায়লা আমাদের সহায় হোন।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়,ঢাকা।
সাবেক আহবায়ক, বাংলাদেশ মাদরাসা ছাত্র আন্দোলন পরিষদ।

Please Share This Post in Your Social Media


বঙ্গবন্ধু কাতরকণ্ঠে বলেন, মারাত্মক বিপর্যয়

বঙ্গবন্ধু কাতরকণ্ঠে বলেন, মারাত্মক বিপর্যয়

https://twitter.com/WDeshersangbad

© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/
Design And Developed By Freelancer Zone