সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ০৯:৩২ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
বেঁচে থাকলে পহেলা বৈশাখ-ঈদ অনেক পাবেন: ওমর সানী লক্ষ্মীপুরে বেড়িবাঁধ সড়ক সংস্কার কাজে অনিয়মের অভিযোগ লক্ষ্মীপুরে ব্যবসায়িদের মাঝে মাস্ক বিতরণ করলেন এডভোকেট নয়ন সাকিবকে কলকাতার একাদশে রাখেননি বিশপ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ চলবে সপ্তাহে তিনদিন সৌদি আরবে মঙ্গলবার থেকে রোজা শুরু বাংলাদেশি শিক্ষকদের আমেরিকান ফেলোশিপের আবেদন চলছে ঘরের কোন জিনিস কতদিন পরপর পরিষ্কার করা জরুরি কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্মম নির্যাতন, পায়ুপথে মাছ ঢুকানোর চেষ্টা পদ্মায় ভেসে উঠল শিশুর মরদেহ ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল বোনের ৭ দিনের সাধারণ ছুটির ঘোষণা আসতে পারে টার্গেট রমজান মাস তৎপর হয়ে উঠেছে ‘ভিক্ষুক চক্র’ মামুনুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে মিলেছে ৩ ডায়েরি এই ফলগুলো খেয়েই দেখুন!

এক,টি সত্য ঘটনা, সবাইকে পড়ার অনু,রোধ রইল!!!

এ,কটি সত্য ঘটনা- মেয়ে,টাকে এক রাতের জন্য ভাড়া করে নিয়ে এসেছিলাম। বাড়িতে স,প্তাহ খানেক কেউ থাকবেনা। বাবা-মা জ,রুরী কাজে বাড়ির বাহিরে গিয়েছিলেন। ছোট বোনটা মহিলা কলেজের হো,ষ্টেলেই থাকে । বাড়ি একদম ফাঁ,কা.। কেন এনেছিলাম জানেন? আমি একটা প্রে,মে ছ্যা,কা খেয়ে ক্রম,শ ড্রা,গ এ্যাডা,ক্টেড হয়ে পড়েছি। মেয়েটা,কে ভালবাসতাম, কি,ন্তু সে আমাকে ছেড়ে বিয়ে করে বরের সাথে লন্ড,ন চলে গেছে।

কারো ধার ধারতাম না আমি -লেখাপড়া ব,ন্ধ করে সারাদিন নেশায় পরেছিলাম। তখন প্রা,য় পড়ালেখা শেষ,,,,,,বাবা মা কেঁদে,কেঁদে বারবার এই পথ থেকে ফিরে আসার জন্য বলত। ছোট বোন,টা প্রা,য়ই ফোন দিয়ে কাঁদে,বলে ভাই,য়া ফিরে আ,য় তুই।কি,ন্তু আমার ফেরার কোন রা,স্তাই ছিলনা,কষ্টে বাঁ,চার কোন ই,চ্ছেই ছিলনা মনের মাঝে।

সে রাতে হিরো,ইন কিনে বাড়ি ফিরছি,লাম। হ,ঠাৎ অন্ধ,কার রা,স্তার কোন এক পাশ থেকে অচেনা একটা মেয়ে এসে বলছিলো,ভাইয়া পছ,ন্দ হয় আমায়? অবা,ক দৃ,ষ্টিতে তাকালাম তারপর বলেছিলাম,দুরে থাক আমার থেকে,আমি ওরকম না। মেয়ে,টা আ,রো কাছে এসে বলে,প্লিজ ভাইয়া,দেখুন না তাকিয়ে আমার দিকে,কোন কমতি নেই আমার মাঝে।

খেকিয়ে বলেছিলাম,তোকে বলছি না এখনি চলে যেতে মেয়ে,টা বোধহয় একটু ভয় পেয়েছিল। ভয়ে ভয়ে বলেছিলো,টাকার খুব দরকার ছিলো, যা দিবেন তাই দিয়েই,,,, ভাবতে লাগলাম আমি। কাছে যা টাকাছিলো তা দিয়ে আ,রো ছয় দিন চলতে হবে। কোন,ভাবেই ন,ষ্ট করা যাবেনা, কা,রণ নেশাখো,রদের কেউ টাকা ধার দেয় না। বাড়ি,তে বাবা মা-ও নেই। ভাবছিলাম,মনেমনে কয়েক সেকে,ন্ড একটা হিসেব করছিলাম।

হ,ঠাৎ আমার ভাবনায় ছেদ করে মেয়ে,টা আ,বার বলেছিলো,আপনি যেখানে বলবেন সেখা,নেই যাব। বললাম,আমার বাড়িতে যাবি? মে,য়েটা মাথা নাড়ে। বেশি কি,ন্তু দিবোনা,তুই রাজি তো? মেয়ে,টা আমার পিছনে আমায় অনুস,রণ করে চলতে থাকে,,,,,,,,

কি,ভাবে কি করব কিছু,তেই বুঝতে পারছিলাম না সেদিন। ভাবলাম নে,শাটা আগে সেরেনেই। বাড়িতে গিয়ে দরজা খুলে মোমবাতি জ্বালি,য়ে নিয়ে সবে মাত্র এক,টা টান দিয়ে ছিলাম। মেয়ে,টা বলেছিলো, ভাইয়া আমার সামনে এগু,লো খাবেন না।আমার মাথা ঘোরে,বমি আসে। কথাটা শু,নে একটু অবাক হয়ে ছিলাম সে রাতে।

ভাবছিলাম মেয়েটার জীবনে কি আমিই প্রথম নেশাখোর? নাকি ওর বিছা,নায় শোয়া প্রত্যে,কেই ভালো ছিলো? সন্দে,হের বশে বলেছিলাম,কেন হিরোই,নের ধোয়ায় তোর বুঝি ক,ষ্ট হয়? ও উত্ত,রে বলেছিলো, হুম, খুব খারাপ লাগে, বিড়ি, সিগা,রেটের ধো,য়াও সহ্য হয়না আমার। ফেলে দিয়েছিলাম হিরোইন সে রাতে। মেয়েটাকে প্র,শ্ন করেছিলাম,তুই কি এই লাইনে নতুন? মাথা নেড়েছিলো,,,,,, ও. বললাম তবে কেন এসেছিস এই নোং,রা জগতে? এই জগত,টা তো ভালো নয়।

ও মাথা তুলে আমার মুখ,পানে কি,ছুক্ষন চেয়েছিলো। ওর চোখমুখে ছিলো বিস্ম,য়ের আবছায়া। হয়ত ও অবাক হয়েছিলো এই ভেবে যে, এমন প্র,শ্ন তো কেউ কোনদিন করেনা, এতগল্পের সময় তো কারো কাছে থাকেনা। ও বিছানা থেকে উঠে চলে যেতে চাইলে আমি বলেছিলাম, পুরো দুহাজার দিবো রাতটা থাকবি আমার সাথে? থমকে দাঁ,ড়ায় মেয়েটা। ফিরে এসে বিছানায় শু,য়ে বলে আগে টাকাটা দিন। টাকা বাহির করে দিলাম। তিন দিনের নেশার টাকা দিয়ে দিয়েছিলাম ওর হাতে।

ও হেসে বলেছিলো,ভাইয়া একটু ফোন করতে পারি? বললাম আমার ফোন নেই। ও একটু অবাক হয়ে প্র,শ্ন করেছিলো, ফোন নেই? আরে নিয়ে নেব না।আমি ওরকম মেয়ে নই। আমি বললাম,জানি তুই ওরকম না।কি,ন্তু স,ত্যিই আমার ফোন নেইরে,,ওটাকে বেঁ,চে সাতদিন আগে হিরো,ইন খেয়েছি। কি,ন্তু কেন বলত? ফোন কি করবি? অ,ন্য কাউকে বাতিল করবি নাকি? মেয়ে,টা কিছুই বলেনি, কোন উত্তর করেনি।

চুপচাপ আমার দিকে তাকিয়ে ছিলো,,,,, রাত আনুমানিক বারোটা, মেয়েটা ঘুমিয়ে গেছে। আমি কি করব বুঝতে পারছিলামনা। নেশা টাও এতক্ষনে চড়ে বসেছে। সিগারেটের চিকচিকে কাগজটায় হিরোইন নিয়ে আগুন জ্বালিয়ে নিলাম।হঠাৎ মেয়েটা কেশে উঠলো, বুঝতে পারলাম ধোয়ায় ওর কাশি উঠেছে।

হঠাৎ মেয়েটা বলে উঠে,বলেছিনা আমার সামনে খাবেন না।যান বাহিরে থেকে খেয়ে আসুন। আগুন নিভিয়ে বাহিরে যেতে চাইলাম। ও আবার বলে, কেন খান এগুলো? বললাম কষ্টে। ও বলে,কিসের জন্য আপনার এত কষ্ট যে জীবনটাকে এভাবে আঁধারে নিয়ে যাচ্ছেন? ওর প্রশ্ন শুনে আমি অবাক হয়েছিলাম সেদিন। মাথা থেকে পা পর্যন্ত ওর ভালো করে দেখছিলাম সেদিন। বয়স খুব একটা না,বছর সতের হবে হয়ত।

বলেছিলাম, তোর জীবন টা কোথায়? কোন আলোয় আছিস তুই? মেয়েটা আমার দিকে তাকিয়ে থাকে। একটুপরচোখের কোনবেয়ে জল গড়িয়ে আসে। আমি আরো অবাক হয়ে যাই। কিছুক্ষন পর চোখের জল মুছে ও বলেছিলো,কিছু করবেন না? আমি বলেছিলাম,কিছুই করার ফিলিংস নাই রে। তুই ঘুমা,,,,,,,,, ও আবার প্রশ্ন করে,কেন? এমনিতেই। তুই বলেছিলি না কেন আমি নেশাকরি? শুনবি?

মেয়েটা মাথা ঝোকায়।আমি বলি তাহলে শুন আমার পেছনের ফেলে আসা ইতিহাস।যেখানে শুধুই হাহাকার আর কষ্ট।মেয়েটা গল্প শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পরে। পরদিন সকালে ও যখন চলে যাচ্ছিল বলেছিলাম,তোর ঠিকানাটা দিবি? ও বলেছিলো না। বললাম আজ আবার এই ঠিকানায় চলে আসিস। মেয়েটা হেসে বলে আচ্ছা,আজ কতনিবে সে টাকার কথা না বলেই চলেগেল ও।,পরদিন ওর গল্প শুনতে লাগলাম, ও বলে,আমি কলেজে পড়ি।এবার বি.এ পড়তাম।যদিও বাবা, বেঁচে নেই।ছোট্ট একটা বোন,মা আর আমি। এই আমার পরিবার,এই আমার দুনিয়া,,,,।

দিনের বারোটা পর্যন্ত মানুষের বাড়িতে কাজ করি আমি। বিকেলে বাচ্চাদের পড়াই।মাঝে মাঝে কলেজে যেতাম! আর মা সারাদিন কাজ করতেন।রাতে বাতির আলোয় কলেজের বইপড়ি। বছর তিনেক আগে পাঁচ হাজার টা

কায় ঝি এর কাজ করতাম এক বাড়িতে।তারা সকালে নাস্তা আর দুপুরের খাবার দিতো আমায়। দিব্যি চলেযেত দিন।

আমি বললাম,তারপর? তারপর যখন এস,এস,সি পাশ করেছিলাম,কলেজে ভর্তি হলাম। লেখাপড়ার খরচ বাড়তে লাগলো। প্রাইভেট পড়ার সময় ছিলোনা,গাইডের প্রয়োজন দেখা দিত। প্রথম প্রথম বান্ধবীদের থেকে নিতাম। কিন্তু ঝি এর কাজের জন্য প্রতিদিন কলেজে যেতে পারতাম না।তাই তারাও আর নোট দিতনা।

অবশেষে বাড়ির মালিককে বলে দুপুরের খাবারের বদলে একহাজার টাকা বেতন বাড়িয়ে নিয়েছিলাম। সকালের নাস্তার দুটো বিস্কুট আর এক কাপ চা খেয়েই কাজ করতাম সারাদিন। এটুকু খেয়ে তুই থাকতে পারতি? তোর কষ্ট হতনা? প্রথম প্রথম খুব কষ্ট হয়েছিলো। পেটে মোচড় দিয়ে ব্যাথা হত।মাথা ঘুরে পরেও গিয়েছিলাম কয়েকদিন।

জানেন,মালিকে বাড়িতে দুটো গরু ছিলো।বহুগরুকে খাবার দিতে গিয়ে ঐ পঁচা পান্তা গুলো খেয়েছিলাম।কি করব,ক্ষুধার জ্বালায় যকরতে পারতাম না।আর কাজ না করলে মালিক তো বেতন দিবে না। রাতের খাবার মা অন্যের বাড়ি থেকে আনত।ছোট, বোনকে খাওয়ানোর পর যা থাকত,মা আর আমি ভাগ করে খেতাম।

আমি মা কে বলতাম মা,জীবনে একদিন সুখ, আসবেই।একদিন কষ্টগুলো সুখে রুপান্তরিত হবেই। তারপর? মেয়েটা আবার বলতে থাকে, আমি ইন্টার পাশ করলাম।কিন্তু আর কলেজে ভর্তি, হতে পারিনি। যে বস্তিটাতে থাকতাম কয়েকদিন আগে সেখানে আগুন লাগে। ঘরে যা টাকা ছিল সব আগুনে পুড়ে গেছে। খুব কষ্ট পেয়েছিলাম আমি।আবার কষ্টটাকে বুকে টেনে নিয়েছিলাম। এবার বিকেলে বস্তির বাচ্চাদের পড়াতে শুরু করেছিলাম। ভেবেছিলাম,এবছর না, হোক সামনে বছর আবার ভর্তি হব।কিন্তু হয়ত সে, কপাল আমার নেই।একরাতে বাড়ি ফেরার পথে মা এক্সিডেন্ট করে বসেন।

কষ্টটা যেন এবার নিয়তি হয়ে গিয়েছিলো।কি করব আমি, কোনদিকে যাব? ভাবতে লাগলাম গরিবের দুঃখই যে নিয়ামত…..!!! একদিকে ছোটবোন,আরেকদিকে হাসপাতালে মা। কোন পথ না পেয়ে দিনের কাজের পাশাপাশি রাতে এ পথে নেমে এলাম,,,, আমি তারপর কি হল রে,,,,,,, মেয়েটার কন্ঠ ভারি হয়ে আসে,ও কাঁদোকাঁদো স্বরে বলতে থাকে, ব্যবসা করতে লাগলাম নিজের দেহ দিয়ে,, আজ একটা মাস যাবত মার কাছে ছোট বোনকে রেখে রাতে পড়ার নামে বেড়িয়ে পরি আমি। ফেরী করে বেড়াই নিজের দেহকে নিয়ে।

দেহটার কত মূল্য হবে নিজেই ঠিক করে দেই,,,, কাঁদতে থাকে মেয়েটি,কাঁদতে থাকি আমি। মেয়েটা তারপর থেকে রোজ আসত। আমি বুঝতে পারি আমার হিরোইনের নেশাটা এখন বদলে গেছে।নেশাটা এখন ওর গল্প শোনায় রুপান্তরিত হয়েছে। আমিও তখন নেশা বাদ দিয়ে তার সাথে সময় কাটাতাম! হঠাৎ একদিন শুনলাম ওর মা মারা গেছে। খুবই দুঃখ পেলাম,,,,,,,,,,, কি করব বুঝতে পারছিলাম না। আমি বাবাকে বললাম তার জীবনের কাহিনী ও আমার খুজে পাওয়া,,,….. বলেছিলাম,বাবা আমার স্বপ্ন তো জোড়া লেগে ভেঙেছিলো,কিন্ত আমিএ মেয়েটা স্বপ্নের খোজটুকুও পায়নি।

বাবা বিজ্ঞান বিষয় খুব ভালো বুঝতেন।দুটো কালো মেঘের ঘষায় সৃষ্ট বিদ্যুৎ যে সবাইকে আলোকিত করতে পারে, এই হিসাবেই আমি আর মেয়েটাকে একত্র করে দিলেন। বিয়ে দিয়ে বাবা বলেছিলেন,দুজনের, আধারের জীবনটাকে এবার আলোকিত করো তোমরা। আর আমি হয়ে গেলাম বিবাহিত ও হ্যা, মেয়েটার নাম অঁতশী।

আজ আমাদের তৃতীয় বিবাহ বার্ষিকী। আমি, অতশী,বাবা-মা-বোন,আমাদের ছোট শিশু আনজু আর ওর ছোটবোন রেখা, ওর মার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে কবর জিয়ারত করছি। অতশী কেঁদে কেঁদে বলল,মা বলেছিলাম না, সুখ একদিন আসবেই। আজ দেখ আমি কত সুখে আছি,কিন্তু তোমার অনুপস্তিতিতে,তারপর সবাই কবর জিয়ারত করে গাড়ি করে বাড়ি ফিরতে লাগলাম!

Please Share This Post in Your Social Media

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

38442351
Users Today : 562
Users Yesterday : 1265
Views Today : 7193
Who's Online : 42
© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/
Design And Developed By Freelancer Zone