রবিবার, ১১ এপ্রিল ২০২১, ০৭:৫১ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
রাজধানীর দুই এলাকায় করোনার সর্বাধিক সংক্রমণ গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার প্রাথমিক আবেদন শেষ হচ্ছে ১৫ এপ্রিল রামগতিতে ট্রাক্টরচাপায় শিশুর মৃত্যু সন্ধ্যা ৬টার পর ফার্মেসি-কাঁচাবাজার ছাড়া সব দোকান বন্ধ বিয়েবাড়িতে মেয়েদের নাচানাচির ছবি তোলা নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৩০ পাঁচ উপায়ে দূর করুন বিরক্তিকর ব্রণ ডালিমের ১০ আশ্চর্য গুণ যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবছরে একশত বিলিয়ন মার্কিন ডলারের জলবায়ু তহবিল করবে বাসাভাড়া নিতে বাড়িওয়ালাকে নকল স্বামী দেখালেন প্রভা! প্রথম দিনেই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে ‘মহব্বত’ সংকটে করোনা রোগীরা হাসপাতালগুলোতে ঘুরেও মিলছে না শয্যা অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা ব্রিটেনের রানি ও প্রধানমন্ত্রীকে শেখ হাসিনার চিঠি টিকা প্রতিরোধী ভয়ঙ্কর ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল হবে বাংলাদেশ! লকডাউনে পোশাক কারখানা বন্ধ কিনা, জানা যাবে কাল

‘একদিনের রোজায় জাহান্নাম থেকে ৭০ বছরের দূরত্ব তৈরি হয়’

রোজার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে মিলে প্রতিদানের অফুরন্ত সওয়াব। নেকি-পুন্যে ভারি হয় আমলের থলি। প্রতিটি রোজা পালনের মাঝ দিয়ে আল্লাহর আনুগত্যের পরিচয় দেয় বান্দা। এর বিনিময়ে দয়া, অনুগ্রহ, রহমত, বরকতে পরিপূর্ণ করে দেয়া হয় আনুগত্যশীল বান্দাকে।

রোজা শুধু আল্লাহর জন্য এবং তিনিই এ রোজার আমলের প্রতিদান দান করবেন মর্মে এক হাদিসে কুদসিতে ইরশাদ করেছেন, মানুষের প্রতিটি কাজ তার নিজের জন্য, কিন্তু রোজা এর ব্যতিক্রম তা শুধু আমার জন্য, আমিই তার প্রতিদান দেব। (মুসলিম -২৭৬০)।

এ হাদিস দ্বারা আমরা অনুধাবন করতে পারি, যাবতীয় নেক আমলের মাঝে রোজা রাখার গুরুত্ব আল্লাহর কাছে এতো বেশি যে, তিনি নিজেই রোজার প্রতিদান প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর এ জন্যই বিখ্যাত সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) যখন বলেছিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে অতি উত্তম কোনো নেক আমলের নির্দেশ দিন। রাসূল (সা.) বলেছিলেন, তুমি রোজা রাখো। কারণ এর সমমর্যাদার আর কোনো আমল নেই। (নাসায়ি-২৫৩৪)।

এছাড়া রাসূল (সা.) বলেছেন, মানব সন্তানের প্রতিটি নেক আমলের প্রতিদান ১০ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, কিন্তু রোজার বিষয়টি ভিন্ন। কেননা, রোজা শুধু আমার জন্য, আমিই তার প্রতিদান দেব। (মুসলিম-১৫৫১)।

রোজা জাহান্নাম থেকে বাঁচার ঢাল স্বরুপ :

হাদিসে এসেছে, রোজা হলো ঢাল ও জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার মজবুত দুর্গ।(মুসনাদে আহমদ-৯২১৪)। আরো বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য এক দিন রোজা রাখবে, আল্লাহ তার থেকে জাহান্নামকে এক খরিফ (৭০ বছরের) দূরত্বে সরিয়ে দেবেন। (মুসলিম-২৭৬৯)।

জান্নাত লাভের মাধ্যম হলো রোজা :

রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, জান্নাতের একটি দরজা রয়েছে। যার নাম রাইয়ান। কিয়ামতের দিন রোজাদাররাই শুধু সে দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে। তাদের ছাড়া অন্য কেউ সে দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। সেদিন ঘোষণা করা হবে, রোজাদাররা কোথায়? তখন তারা দাঁড়িয়ে যাবে এবং সে দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে। যখন তাদের প্রবেশ শেষ হবে, তখন দরজা বন্ধ করে দেয়া হবে। ফলে তারা ছাড়া অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। (বুখারি-১৭৯৭)।

রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মেশকের চেয়েও উত্তম :

নবী করিম (সা.) বলেন, যার হাতে মুহাম্মাদ (সা.) এর জীবন, সে সত্তার শপথ, রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহ তায়ালার কাছে মেশকের ঘ্রাণ থেকেও প্রিয়। (বুখারি-১৭৯০)।

কিয়ামতের দিন রোজা সুপারিশ করবে :

আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, রোজা ও কোরআন কিয়ামতের দিন মানুষের জন্য এভাবে সুপারিশ করবে যে রোজা বলবে, হে প্রতিপালক! আমি দিনের বেলা তাকে পানাহার ও সহবাস থেকে বিরত রেখেছি। তাই তার ব্যাপারে তুমি আমার সুপারিশ কবুল করো। কোরআন বলবে, হে প্রতিপালক! আমি তাকে রাতে নিদ্রা থেকে বিরত রেখেছি, তাই তার ব্যাপারে তুমি আমার সুপারিশ কবুল করো। তিনি বলেন, ‘এরপর উভয়ের সুপারিশই কবুল করা হবে।(মুসনাদে আহমদ-৬৬২৬)।

রোজার মাধ্যমে গুনাহ মাফ হয় :

মানুষ যখন পরিবার-পরিজন, প্রতিবেশী ও ধন-সম্পদের কারণে গুনাহ করে ফেলে, তখন নামাজ, রোজা, সদকা সে গুনাহগুলোকে মিটিয়ে দেয়। (বুখারি-১৭৯৫)। অন্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যে রমজান মাসে ঈমান ও ইহতিসাবের সঙ্গে রোজা রাখবে, তার অতীতের গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। (বুখারি-২০১৪)।

কিয়ামতের দিন রোজাদারদের আল্লাহ তায়ালা পানি পান করাবেন :

হজরত আবু মুসা (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহ তায়ালা নিজের ওপর অবধারিত করে দিয়েছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য গ্রীষ্মকালে (রোজা রাখার কারণে) পিপাসার্ত থেকেছে, তিনি তাকে তৃষ্ণার দিন (কিয়ামতের দিন) পানি পান করাবেন।

রোজাদারের দোয়া কবুল হয় :

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) হতে বর্ণিত, নবী (সা.) ইরশাদ করেন, ইফতারের সময় রোজাদার যখন দোয়া করেন তখন তার দোয়া ফিরিয়ে দেয়া হয় না। অর্থাৎ দোয়া কবুল কর হয়। (সুনানে ইবনে মাজাই, ১৭৫৩)।

এমাসে শয়তানকে শিকলবন্দী করা হয় :

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘যখন রমজান মাসের আগন ঘটলো, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন, তোমাদের নিকট বরকতময় মাস রমজান এসেছে। আল্লাহ তায়ালা তোমাদের জন্য এ মাসের রোজা ফরজ করেছেন। এ মাসে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। আর শয়তানদেরকে শিকলে বন্দী করা হয়। এ মাসে এমন একটি রাত আছে, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। যে এর কল্যান থেকে বিরত হলো, সে তো প্রকৃতপক্ষেই বিরত। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস-৭১৪৮ সুনানে নাসায়ী-হাদিস-২৪১৬)।

রমজানের চেয়ে উত্তম কোনো মাস নেই :

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তায়ালার কসম! মুসলমানদের জন্য রমজানের চেয়ে উত্তম কোনো মাস আসেনি এবং মুনাফিকদের জন্য রমজান মাসের চেয়ে অধিক ক্ষতির মাসও আর আসেনি। কেননা, মুমিনগণ এ মাসে (গোটা বছরের জন্য) ইবাদতের শক্তি ও পাথেয় সংগ্রহ করে। আর মুনাফিকরা তাতে মানুষের উদাসীনতা ও দোষত্রুটি অন্বেষণ করে। এ মাস মুমিনের জন্য গনীমত আর মুনাফিকের জন্য ক্ষতির কারণ। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস ৮৩৬৮)।

মুহাদ্দিসীনে কেরাম বলেন, মুমিন বান্দারা যাতে রমজান মাসের অতি মূল্যবান ও বরকতপূর্ণ সময় নেক কাজে ব্যয় করতে পারে এবং মুনাফিকদের মতো খায়ের ও বরকত থেকে বিরত না থাকে, তাই আল্লাহ তায়ালা এ মাসের শুরু থেকেই সৃষ্টিজগতে এমন আবহ সৃষ্টি করেন, যা পুরো পরিবেশকেই রহমত-বরকত দ্বারা আচ্ছাদিত করে দেয় এবং মুমিনদের ইবাদত-বন্দেগি ও নেক আমলের উৎসাহ-উদ্দীপনা জোগাবে। তাদের পূণ্য ও প্রতিদানের সুসংবাদ দিতে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয় এবং পাপাচার ও খারাপ কাজ হতে বিরত রাখতে জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয়। সব ধরনের ফিতনা-ফাসাদ ও অনিষ্ট হতে রক্ষা করতে কুমন্ত্রণাদাতা দুষ্টু জিন ও শয়তানদেরকে শিকল লাগিয়ে আবদ্ধ করা হয়। তারপর কল্যাণের পথে অগ্রগামী হওয়ার ও অন্যায় থেকে নিবৃত্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়।

আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনায় একদিন রোজা রাখা :

হজরত হুযায়ফা (রা.) বলেন, আমি আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমার বুকের সঙ্গে মিলিয়ে নিলাম, তারপর তিনি বললেন, যে ব্যক্তি লাইলাহা ইল্লাল্লাহু’ বলে মৃত্যুবরণ করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনায় একদিন রোজা রাখবে, মৃত্যু পরে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো দান-সদকা করে; মৃত্যু পর সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ২৩৩২৪)।

Please Share This Post in Your Social Media

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

38441074
Users Today : 550
Users Yesterday : 1570
Views Today : 4748
Who's Online : 30
© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/
Design And Developed By Freelancer Zone