দেশের সংবাদ l Deshersangbad.com » একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় ভাবনা



একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় ভাবনা

৭:২৩ অপরাহ্ণ, অক্টো ০৬, ২০১৮ |জহির হাওলাদার

38 Views
রাজনীতি হতে হবে দেশের মানুষের জন্য,পেটনীতির জন্য নয়–
জাকির সিকদার, আহবায়ক (বাংলাদেশ গনতান্ত্রিক মুক্তি আন্দোলন),রাজাপুর উপজেলা,ঝালকাঠি।
সদস্য ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন,জাতীয় প্রেস ক্লাব,ঢাকা।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্তকরণের বিষয়ে ত্রিমুখী জটিলতায় পড়েছে আওয়ামী লীগ। প্রথমত, আসনভিত্তিক দুই বা ততোধিক প্রার্থী থাকায় একক প্রার্থী ঘোষণায় আগাম বিদ্রোহের আশঙ্কা; দ্বিতীয়ত, নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ চূড়ান্ত না হওয়ায় নিজেদের জোট-মহাজোটের রূপরেখা নির্ধারণে বিলম্ব; তৃতীয়ত, বর্তমান (১৪ দল) জোটের শরিকদের প্রত্যাশামাফিক আসনে ছাড় দিলে আসন হারানোর আশঙ্কা। এদিকে কেন্দ্র থেকে চূড়ান্ত ঘোষণার আগেই বিভিন্ন আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা কর্মী-সমর্থকদের মাধ্যমে নিজের মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার আগাম প্রচার চালিয়ে ‘জল ঘোলা’ করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে আগামী (নভেম্বর) মাসের প্রথম সপ্তাহে তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসি সচিব হেলালুদ্দিন আহমদ বলেছেন, ইতোমধ্যে নির্বাচনের ৮০ ভাগ প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর বাকি কাজ শেষ করা হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তফসিলের আগে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করা গেলে স্থানীয় পর্যায়ে প্রার্থীর জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের পাশাপাশি বিদ্রোহীদের অবস্থান শনাক্তকরণ সহজ হয়। এক্ষেত্রে দলীয় কোন্দল মীমাংসার পথ সুগম হয়। প্রয়োজনে প্রার্থী পরিবর্তনেরও সুযোগ থাকে।

সুজন (সুশাসনের জন্য নাগরিক) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার সংবাদকে বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে একটু আগেভাগে প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করার সুবিধা আছে। যখন একটি রাজনৈতিক দল দলীয় প্রার্থী মনোনিত করে ঘোষণা দেয়, তখন সেখানে মনোনয়ন বঞ্চিতদের প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা যায়। তফসিলের আগেই বিদ্রোহীদের শনাক্ত করা গেলে, দ্রুত মীমাংসার উদ্যোগ নেয়া যায়। প্রার্থী পরিবর্তনেরও একটা সুযোগ থাকে। তবে অসুবিধাও আছে। ড. মজুমদার বলেন, অনেক আগে থেকে প্রার্থী ঘোষণা করা হলে বিদ্রোহী প্রার্থী নিজেকে শক্তিশালী করার সুযোগ পায় তফসিলের পর শেষ সময়ে প্রার্থী ঘোষণা করলে তেমন সুযোগ থাকে না। তবে সুবিধা-অসুবিধা নির্ভর করে নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় সক্ষমতার ওপর।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সূত্রমতে, সরকারি-বেসরকরি বিভিন্ন জরিপে প্রায় প্রতিটি সংসদীয় আসনে দুই বা ততধিক শক্তিশালী প্রার্থীর তথ্য উঠে এসেছে। যারা একে অন্যের প্রতিদ্বন্দ্বী হলে নৌকার বিজয় কঠিন হয়ে পড়বে। নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে এসে ‘স্থানীয় কোন্দল নিরসন’ এর বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশনায় দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে দেশব্যাপী সাংগঠনিক সফর করছেন। লক্ষ্য অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব মিটিয়ে ঐক্যবদ্ধ একটি নির্বাচন করা।

বিগত জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, বেশ কিছু আসনে আওয়ামী লীগের ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থীকে পরাজিত করার নজির রয়েছে নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থীর। এবার তাই আগেভাগেই কঠোর হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দেশব্যাপী নৌকার মনোনয়নপ্রত্যাশীদের উদ্দেশে বলেছেন, এবার বিদ্রোহ করলে খবর আছে; সঙ্গে সঙ্গে বহিষ্কার। কাজেই অপকর্ম করবেন না। কারও ব্যাপারে ‘গিবত’ করবেন না। আওয়ামী লীগ যদি আওয়ামী লীগের শত্রু হয়, বাইরের শত্রু প্রয়োজন হবে না। নির্বাচন সামনে রেখে শুক্রবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল এলাকায় আওয়ামী লীগের গণসংযোগকালে এসব কথা বলেন তিনি।

এদিকে একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ করা, না করার ওপর আটকে আছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নির্বাচনী জোট-মহাজোটের রূপরেখা ঘোষণা কার্যক্রম। বিএনপি দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করায় কেন্দ্রীয় ১৪ দলের শরিকদের নিয়ে নির্বাচন করে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি (জাপা) একক নির্বাচন করে বিরোধীদলের মর্যাদা পায়। ওই নির্বাচনে জাপার আসনে প্রার্থী দেয়নি আওয়ামী লীগ। তবে নবম সংসদে বিএনপির বিপক্ষে জাপাকে সঙ্গে নিয়ে মহাজোট করে ভোটে অংশ নিয়ে বিশাল জয় পেয়েছিল আওয়ামী লীগ। নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে এসেও নির্বাচনী জোটের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না ক্ষমতাসীনরা। জাপাকে নিয়ে মহাজোট হলে এবার প্রায় ৮০ আসনে শরিকদের ছেড়ে দেয়া হতে পারে। তাই আসনভিত্তিক প্রার্থী মনোনয়নেও জটিলতা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনে এলে জাতীয় পার্টিকে নিয়ে মহাজোট করবে আওয়ামী লীগ। বিএনপি না এলে, জাতীয় পার্টি আলাদা নির্বাচন করবে। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি ৭০টি আসন চেয়েছে। আওয়ামী লীগ সব শরিকদের মিলে সত্তরটি আসন ছেড়ে দেবে।

এদিকে আসন বণ্টনের দাবিতে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের শরিকরা গত এক বছরে আওয়ামী লীগের সঙ্গে অনেকবার বৈঠকে বসেছে। তবে জোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে কাকে কয়টি আসন দেয়া হবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে পারেনি আওয়ামী লীগ। দশম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয় অনেক নেতাকে বসিয়ে রেখে জোটের শরিকদের প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের ত্যাগী নেতাদের সবাই এবার নিজ নিজ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। ওই নির্বাচনে জোটের প্রার্থীর বিপক্ষে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর জয়ের ঘটনাও ঘটেছে। একাদশ সংসদ নির্বাচনে ১৪ দলের শরিকরা প্রায় একশ আসন চাইছে। তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী আসন ছেড়ে দেয়া হলে বেশিরভাগ আসন হারানোর আশঙ্কা করছে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী মহল। ১৪ দলের শরিকদের মোট ত্রিশটি আসন দেয় হতে পারে বলে জানা গেছে। আগেভাগে ঘোষণা দিলে জোটে অসন্তোষ সৃষ্টি হবে মনে করে বিলম্বই শ্রেয় মনে করছে ক্ষমতাসীনরা, যা এখনই মনোনয়ন চূড়ান্তকরণের ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি করেছে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ সংবাদকে বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমাদের দলীয় প্রার্থীদের তালিকা প্রায় চূড়ান্ত। দলের সভানেত্রী বিভিন্ন ‘উইংস’ থেকে প্রতিটি নির্বাচনী আসনের তৃণমূলের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন। সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেয়া হবে। এই তালিকাও মোটামুটি প্রস্তুত আছে। তবে তফসিল ঘোষণার পরই মনোনয়ন কারা পাচ্ছেন, তা চূড়ান্তভাবে বলা যাবে।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সূত্র মতে, এ পর্যন্ত দেড়শতাধিক আসনে দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা, সাবেক ও বর্তমান মন্ত্রী এবং সংসদ সদস্যদের মধ্যে জনপ্রিয় ও পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিদের প্রায় সবাই এবারও মনোনয়ন পাচ্ছেন। বিতর্কিতদের বাদ দেয়ার চিন্তা-ভাবনা চলছে। মনোনয়নে নতুনদের মধ্যে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের নেতা, ক্রীড়াঙ্গন ও চলচ্চিত্রের খ্যাতিমান তারকাও রয়েছেন। এদিকে কেন্দ্রীয়ভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, এমন অনেক আসনেই আওয়ামী লীগের কোন কোন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা কর্মী-সমর্থকদের মাধ্যমে নিজের মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার আগাম প্রচার চালিয়ে ‘জল ঘোলা’ করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। অনেক আসনে একাধিক প্রার্থী নিজের মনোনয়নের সবুজ সংকেতের কথা স্থানীয় নেতাকর্মীদের জানাচ্ছেন। একই আসনে দুইজনের মনোনয়নের কথা শুনে নৌকার কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, কারও মনোনয়ন চূড়ান্ত হয়নি। চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। যখন সিদ্ধান্ত হবে, ঘোষণা আসবে, সবাই জানতে পারবেন।

লেখক,গবেষক,সাংবাদিক-মোঃজাকির সিকদার, আহবায়ক (বাংলাদেশ গনতান্ত্রিক মুক্তি আন্দোলন),রাজাপুর উপজেলা,ঝালকাঠি।
সহ সভাপতি,dekmসদস্য ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন,(ডিইউজে),জাতীয় প্রেস ক্লাব,ঢাকা।
Spread the love

৯:২৩ অপরাহ্ণ, অক্টো ১৫, ২০১৮

টকশোতে মিথ্যা বললে জেল-জরিমানা...

36 Views

১২:৩৩ অপরাহ্ণ, অক্টো ১৫, ২০১৮

সাংবাদিক কাজল কায়েসের বাবার ইন্তেকাল...

36 Views
71 Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




উপদেষ্টা পরিষদ:

১। ২।
৩। জনাব এডভোকেট প্রহলাদ সাহা (রবি)
এডভোকেট
জজ কোর্ট, লক্ষ্মীপুর।

৪। মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
ডাইরেক্টর
ষ্ট্যান্ডার্ড ডেভেলপার গ্রুপ

প্রধান সম্পাদক:

সম্পাদক ও প্রকাশক:

জহির উদ্দিন হাওলাদার

নির্বাহী সম্পাদক
উপ-সম্পাদক :
ইঞ্জিনিয়ার নজরুল ইসলাম সবুজ চৌধুরী
বার্তা সম্পাদক :
সহ বার্তা সম্পাদক :
আলমগীর হোসেন

সম্পাদকীয় কার্যালয় :

১১৫/২৩, মতিঝিল, আরামবাগ, ঢাকা - ১০০০ | ই-মেইলঃ dsangbad24@gmail.com | যোগাযোগ- 01813822042 , 01923651422

Copyright © 2017 All rights reserved www.deshersangbad.com

Design & Developed by Md Abdur Rashid, Mobile: 01720541362, Email:arashid882003@gmail.com

Translate »