দেশের সংবাদ l Deshersangbad.com » ওসব লিখে লাভ হবে না, চিফ স্যার আমার নিকট জন’



ওসব লিখে লাভ হবে না, চিফ স্যার আমার নিকট জন’

৭:৪৮ অপরাহ্ণ, ডিসে ০৪, ২০১৮ |জহির হাওলাদার

25 Views

ডেট লাইন-টাকা ছাড়া ফাইল চলে না সাতক্ষীরা এলজিইডি অফিসে

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:

‘ওসব লিখে লাভ হয় না। এখানে পোষ্টিং নিতে আমাদের অনেক খড়-কুটো ব্যয় করতে হয়। আমারও হয়ছে। তাছাড়া চিফ স্যার আমার নিকট জন। সুতরাং এখানে আমি যেটা করবো সেটাই সঠিক। আমি না থাকলে যিনি আসবেন তিনিও তাই করবেন এবং সেটাই হবে। তাই আপনারা লিখে কি করবেন।’অহেতুক দুরত্ব বাড়বে।

বৃহস্পতিবার সকালে সাতক্ষীরা জেলা এলজিইডি-এর নির্বাহী প্রকৌশলী বিশ্বজিৎ কুমার কুন্ডু’র সাথে ঠিকাদারদের কথোপকথনে উঠে আসে এমন সরল স্বীকারোক্তিমূলক দম্ভোক্তি।

এসময় তার আরো দাবি, “তার যোগদানের পর এলজিইডি অফিসের কাজের নাকি অগ্রগতি হয়েছে।”মোদ্দা কথা,গতি বেড়েছে সকল কাজে। তবে সরেজমিনে ঘুরে উঠে আসে তার উল্টো চিত্র। কর্তার কথার সাথে বাস্তবতার বিস্তর ফারাক। জেলার অধিকাংশ ঠিকাদাররা তার ঘুষবাণিজ্য ও হয়রানীর মুখে রীতিমত কাজ বন্ধ রেখেছেন, বলছিলেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঠিকাদারদের একটি বড় অংশ।

সাতক্ষীরা জেলা স্থানীয় সরকার শাখা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী বিশ্বজিৎ কুমার কুন্ডুকে ঘিরে সম্প্রতি জেলার সর্বত্রই সমালোচনার ঝড় ও বিতর্ক চরমে পৌছেছে। তিনি ঘুষ বানিজ্যকে নাকি পিসিতে (পার্সনাল কমিশনে) রুপান্ততি করেছেন। এলজিইডির প্রায় প্রতিটি ঠিকাদারের কাছ থেকে তিনি কাজের বিপরীতে এক থেকে দুই শতাংশ কমিশন নিয়ে থাকেন। এনিয়ে প্রতিবাদ করলে নিম্ম মানের কাজের অজুহাতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

একই কার্যালয়ের নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা তালা নিউজকে জানান, নির্বাহী প্রকৌশলী স্যারতো ঘুষ নিচ্ছেন না, তিনি পিসি খাচ্ছেন। একজন ঠিকাদার কাজে অনিয়ম করে অনেক টাকার মালিক হবেন, এটিতো হতে পারেনা। স্যারকে কিছু ভাগ দেওয়াটা ঠিকাদারের নৈতিক দ্বায়িত্ব। তবে পিসির টাকা স্যার নিজ হাতে নেন। তার প্রমান মিলেছে ২৫ নভেম্বর । এদিন একটি বিল স্বাক্ষর করাতে গিয়ে নানা ধরণের হয়রাণি হতে হয় জনৈক ঠিকাদারকে।

এদিন সকালে ঐ ঠিকাদার (নাম প্রকাশে কাজের ক্ষতি) তার দপ্তরে যান। নিয়ম অনুযায়ী তার কাছে বিলের প্রাথমিক অনুমোদন নিয়ে ল্যাব, রোলার, বিল পরীক্ষা করিয়ে হিসাব রক্ষকের সহকারীর নিকট থেকে সব কাজ সম্পন্ন করে হিসাব রক্ষকের অপেক্ষায় থাকেন। হিসাব রক্ষক খুলনা থেকে প্রশিক্ষণ শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় অফিসে এসে তার স্বাক্ষর করেন। এরপর সহকারী প্রকৌশলী, সিনিয়র প্রকৌশলী কাছে থেকে স্বাক্ষর করান তিনি। পরে নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষে বিল গেলে পিওন দিয়ে ওই ঠিকাদারকে ডাকেন। ১৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার বিলে তিনি দাবী করেন ৪০ হাজার টাকা। পরে তার সাথে সমন্বয় করে ৩০ হাজার টাকায় রফা হয় কেসটির। এরপরেই ওই বিলে স্বাক্ষর হয় তার। এরপরে পিডির কথা বলে নেন ২০ হাজার টাকা। নিত্য-নতুন এমন সব অপকৌশলে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ঘুষ বাণিজ্য করছেন তিনি।

সূত্র জানায়, এলজিইডির বিভিন্ন প্রকল্পে নির্বাহী প্রকৌশলী বিশ্বজিৎ কুমার কুন্ডু’র নানা অনিয়ম,দূর্নীতি,লুটপাট ও কমিশন বানিজ্যর অভিযোগের অন্ত নেই, কিন্তু সংগত কারণে তার বিরুদ্ধে কোন প্রতিবাদ আর অজ্ঞাত কারণে এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেয়নি সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ। আর এতে করে স্বপদে বহাল থেকে এক প্রকার অবাধেই সিস্টেম চালু করেই চালিয়ে যাচ্ছেন তার কার্যক্রম।

সম্প্রতি তিনি সাতক্ষীরা জেলায় যোগদান করেন। যোগদানের পর শুরু থেকেই নিয়ম করে নেমেছেন ঘুষ বাণিজ্যে। প্রধান প্রকৌশলী নাকি তার কাছের লোক,প্রকল্প পরিচালকরা নিকট জন এমন দাবিতে রীতিমত ধরাকে সরাজ্ঞান করে চলেছেন তিনি। তবে সব অপকর্মের পেছনে নাকি উপরিমহলের নজর আছে! উর্দ্ধতন সকলকেই নাকি কমিশনের অংশ বিশেষ পৌছে দিতে হয়। তাই বাধ্য হয়েই তার (পিসি) বাণিজ্য। তবে তার ঢালাও অপকর্মে অফিস অভ্যন্তরেও সৃষ্টি হয়েছে মতবিরোধ। চাকুরীরর ভয়ে প্রকাশ্যে কেউ মুখ না খুললেও দীর্ঘ দিনের সুপ্ত ক্ষোভ ক্রমান্বয়ে দানা বাঁধতে শুরু করেছে।

এলজিইডির কয়েকজন ঠিকাদার বলেন, এলজিইডি অফিসে ঘুষ ছাড়া কোন কাজই হয়না। প্রত্যেক কাজের বিপরীতে ২ থেকে ৫ শতাংশ হারে নির্বাহী প্রকৌশলী বিশ্বজিৎ কুমারকে টাকা পরিশোধ করতে হয়। চাহিদামত টাকা না দিলে নিম্মমানের কাজের অযুহাত এনে নোটিশ করা হয়। পরে চাহিদা মিটিয়ে দিলে কাজের সব বিল পাওয়া যায়। তিনি ঠিকাদারী কাজের তদারকির সময় ২ শতাংশ হারে কমিশন আদায় করেন। অনেকের কাছ থেকে নিম্মমাণ কাজের অভিযোগ দেখিয়ে ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন আদায় করা হয়। আর কাজের মান ভাল হলেও তাকে দিতে হয় শতকরা ২ ভাগ টাকা।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার শাখা (এলজিইডি) অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী বিশ্বজিৎ কুমার কুন্ডু জানান, তিনি কোন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নয়। এলজিইডিতে কোন অনিয়মের সুযোগ নেই বলেও দাবী তার।

Spread the love
26 Views

১০:২৯ অপরাহ্ণ, ডিসে ১১, ২০১৮

যে ৫টি বিষয় মেয়েরা গোপন রাখেন!...

20 Views

১০:২৪ অপরাহ্ণ, ডিসে ১১, ২০১৮

যে ৫৭ আসনে ধানের শীষকে হারানো কঠিন...

10 Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




উপদেষ্টা পরিষদ:

১। ২।
৩। জনাব এডভোকেট প্রহলাদ সাহা (রবি)
এডভোকেট
জজ কোর্ট, লক্ষ্মীপুর।

৪। মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
ডাইরেক্টর
ষ্ট্যান্ডার্ড ডেভেলপার গ্রুপ

প্রধান সম্পাদক:

সম্পাদক ও প্রকাশক:

জহির উদ্দিন হাওলাদার

নির্বাহী সম্পাদক
উপ-সম্পাদক :
ইঞ্জিনিয়ার নজরুল ইসলাম সবুজ চৌধুরী
বার্তা সম্পাদক :
সহ বার্তা সম্পাদক :
আলমগীর হোসেন

সম্পাদকীয় কার্যালয় :

১১৫/২৩, মতিঝিল, আরামবাগ, ঢাকা - ১০০০ | ই-মেইলঃ dsangbad24@gmail.com | যোগাযোগ- 01813822042 , 01923651422

Copyright © 2017 All rights reserved www.deshersangbad.com

Design & Developed by Md Abdur Rashid, Mobile: 01720541362, Email:arashid882003@gmail.com

Translate »