দেশের সংবাদ l Deshersangbad.com » কর্মমুখী জনপ্রতিনিধি আতিউর রহমান আতিক



কর্মমুখী জনপ্রতিনিধি আতিউর রহমান আতিক

৭:৩৯ পূর্বাহ্ণ, জুলা ১৩, ২০১৮ |জহির হাওলাদার

140 Views

ইউসুফ আলী মন্ডল,নকলা, শেরপুর: শেরপুরের রাজনীতির মহা নায়ক স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবর রহমানের আদর্শে অনুপ্রানিত একজন বীরমুক্তিযোদ্ধা আতিউর রহমান আতিক। তিনি দেশের সবচেয়ে কম বয়সী সফল একজন মুক্তিযোদ্ধা। বর্তমানে শেরপুর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ ১৫ বছর বয়সে মহান ৭১ এর মুক্তিযোদ্ধে অংশ নেয়। এমন ইতিহাস বাংলাদেশে বিরল। যার ¯েøাগান মুক্তিযুদ্ধের অবিচল শক্তি। তার উদার চিন্তা চেতনা সংবেদনশীল মনোভাবের কারণে দলমত নির্বিশেষে সকল শ্রেণির মানুষের কাছে রয়েছে তার অসামান্য গ্রহণ যোগ্যতা। ১৯৭৮ সাল থেকে তার উপর অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে যাচ্ছেন। তিনি শেরপুর সরকারী কলেজের ১৯৭৮ সালে ভিপি, ১৯৯১,১৯৯৬,২০০১,২০০৮ সালে চার বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য, একবার উপজেলা চেয়ারম্যান, দুই বার জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি, ২০১৪ সালে জাতীয় সংসদের হুইপ নির্বাচিত হন। জোট জামাতের শাসনামলে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখেন তিনি। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে তিনি সকল আন্দোলনে মানুষের অধিকার নিয়ে রাজ পথে বলিষ্ট্য নেতৃত্ব দিয়েছেন। অতুলনীয় সাংগঠনিক দক্ষতা ঈর্ষনীয় জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছে। ১৯৯১ সালে জাতীয়পার্টির রৌওশন এরশাদকে পরাজিত করে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পর পর চার বার সংসদ সদস্য হয়ে পরবর্তী সময়ে জাতীয় সংসদের হুইপের দায়িত্ব পান। ১৯৭৮ সাল থেকে এখনও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে সৎ ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। ১৯৯০ এ স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন মোঃ আতিউর রহমান আতিক।
মানুষের কল্যানে নিবেদিত প্রাণ ও বঙ্গবন্ধু প্রেমী কনিষ্ট মুক্তিযোদ্ধার নাম আতিউর রহমান আতিক। সাধারণ কৃষকের সন্তান হয়েও এলাকায় সৎ মানুষ হিসেবে সু-পরিচিত। তিনি শেরপুরের বারঘড়িয়া গ্রামের এক কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা- নছিমউদ্দিন, মাতা- মালেছা বেগম, জন্মতারিখ- পহেলা ডিসেম্বর ১৯৫৭। এলাকায় মানুষের কাছে বঙ্গবন্ধুপ্রেমী আতিউর রহমান আতিক পার্শ্ববর্তী সূর্যদি হাইস্কুলে নবম শ্রেণি পড়া অবস্থায় দেশে যুদ্ধ শুরু হয়। নবম শ্রেণি পাশ করার পর ভালো ছাত্র হিসেবে জীবনে শিক্ষা বিস্তার করার জন্য জেলা শহর জামালপুর কলেজিয়েট এন্ড হাই স্কুলে ভর্তি হন। বঙ্গবন্ধুর প্রতি অগাধ প্রেম ও ভালোবাসার কারণে আতিউর রহমান আতিক এলাকার কয়েকজন বন্ধুদের নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে সুবেদার জিয়াউদ্দিন ও আলমের নেতৃত্বে পুরা কাশিয়া ভারত কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। কোম্পানি কমান্ডার গিয়াস উদ্দিনের নেতৃত্বে ১শ ২০ জন বীরমুক্তিযোদ্ধা এসময় তার সংঙ্গে অংশ নেন মহান মুক্তিযুদ্ধে। ১১নং সেক্টরের অধিন সেক্টর কমান্ডার মেজর আবু তাহের ছিলেন প্রধান। আতিউর রহমান আতিক ছিলেন শেরপুর জেলার সবচেয়ে কনিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা। তখনকার দিনে তার বয়স হয়েছিল মাত্র ১৫ বছর বলে জানালেন কোম্পানি কমান্ডার গিয়াস উদ্দিন। তিনি কৃষকের সন্তান হলেও মানুষের সেবা করা সামাজিক কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করা দেশ মাতৃকার টানে মায়ের টানে, মাটির টানে, ছুটে চলেছেন সব সময়। বঙ্গবন্ধু প্রেমী এই মুক্তিযোদ্ধা বন্ধুবান্ধব সহপাঠীদের নিয়ে ছাত্রলীগের কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে আপ্রায়ন মিটিং মিছিল খরচ করেছেন নিজের পকেটের টাকায়। প্রমান আছে যে, মিলে মিলে গিয়ে চাল সংগ্রহ করে অভাবী ক্ষুদা মিটানোর জন্য দারিদ্য মানুষের খাদ্য আহার মিটিয়েছেন। সামাজিক সেবার ধাপ পেয়ে অতি অল্প সময়ে মাত্র ১৫ বছরে তিনি জীবণ যৌবন উৎসর্গ দিয়ে মৃত্যুর ভয় না করে চলে যান মুক্তিযোদ্ধে। অভিরাম যুদ্ধ আর বঙ্গবন্ধু প্রেম তাকে কোন ভাবেই দাবিয়ে রাখতে পারেনি। ১২০জন সহযোদ্ধাকে সঙ্গে নিয়ে দীর্ঘ দিন যুদ্ধ শেষে ৬ ডিসেম্বর শেরপুর জেলার মুক্ত দিবসে অংশ নেন এবং স্বাধীন পতাকা উড়ান। জুলাই মাসে যুদ্ধে যাওয়ার সময় তার পিতা নছিম উদ্দিন বলছেন, মায়ের জন্য, মানুষের জন্য, মাটির জন্য জীবণ কোরবানী দিলাম বাবা, যদি ফিরে এস বীরত্ব নিয়ে হাতে পতাকা নিয়ে ফিরে আসবে। মহান মুক্তিযোদ্ধে বিজয়ী ফেরার পর তিনি কলেজ জীবন শেষ করেন অর্জন করেন ¯œাতকোত্তর ডিগ্রি। আশির দশকে শেরপুর সরকারি কলেজ থেকে ভিপি নির্বাচিত হন। নব্বই এর দিকে শেরপুর উপজেলা পরিষদের উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ব্যপক ভোটের ব্যবধানে। চার বার এমপি, এক বার মাননীয় সংসদের হুইপ, দুইবার জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি চল্লিশ বছর যাবৎ সাদাসিদে জীবন যপন করে শেরপুরের মানুষের নানা মুখী উন্নয়ন কাজ করে চলেছেন। তিনি চল্লিশ বছরে শেরপুর জেলায় ৫০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ২শত মসজিদ, ৩০টি মাদরাসা, ৫টি হাসপাতাল, ৪০ টি বেসরকারী সংগঠন, ২০ টি সমবায় সমিতি, ৫৪ টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যপক উন্নতি করেন। তার নিজের গড়া দুটি কলেজ, একটি ভীমগঞ্জ অন্যটি বাড়ির আঙ্গিনায় সূর্যদি মডেল কলেজ ২শ ৫০ জন ছাত্রের মাঝে বাইসাইকেল বিতরণ করেছেন নিজ অর্থ ব্যয়ে। শিক্ষার্থীদের মাঝে দান করেন শিক্ষা উপকরণ। এছাড়া কন্যাদায় গ্রস্থ পিতা দরিদ্য রোগি ভূমিহীন বেকার এদের মাঝে কোটি কোটি টাকার অনুদান দিয়েছেন নিজের বেতন এর টাকা থেকে। চার ভাই এক বোনের মধ্যে তিনিই বেছে নিয়েছেন সমাজসেবা মূলক কাজ। জনসমর্থন থাকলে যে হারে না আতিউর রহমান আতিক তা জ্বলন্ত প্রমাণ। তিনি যখন ছোট বেলাই উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন তখন থেকেই তার সাহায্যের হাত বেড়ে যায় গরীব দুখির জন্য। আতিউর রহমান আতিক দীর্ঘ ৪০ বছর শেরপুরের জনপ্রতিনিধি হিসাবে উন্নয়ন কাজ ও বঙ্গবন্ধুর প্রেম ভালোবাসা মুক্তিযোদ্ধের চেতনায় জনগণকে সোচ্চার হওয়ার আহবান জানিয়েছেন। শেরপুর জেলার সদর উপজেলার বিশাল এলাকায় ১৪টি ইউনিয়ন ১টি পৌরসভা নিয়ে তিনি কাজ করেছেন। ৪০ বছরে হাজার হাজার টাকার উন্নয়নের কাজ হয়েছে সবই তিনি মেধা যোগ্যতায় ও অত্যান্ত পরিশ্রম করে বাস্তবায়ন করেছেন। বঙ্গবন্ধু প্রেমী আতিউর রহমান আতিককে ঘিরে শেরপুরের লাখ লাখ জনগণ তার পিছনে হাটছেন তাকে সমর্থন করার জন্য কাজ করছেন। উন্নয়নের কাজ করার মনোমানুষিকতা আর সোনামের অংশিদার হয়ে কাজ করায় শেরপুর জাতীয় স্পিকার, রাষ্ট্রপতি,প্রধান মন্ত্রী, শিক্ষা মন্ত্রী, সরাষ্ট্রমন্ত্রী, যোগাযোগ মন্ত্রী তার এলাকায় দেখতে এসেছেন। তার ভালো কাজের স্বীকৃতি সরুপ মহামান্য রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ, প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা, এপর্যন্ত আটবার তাকে বিদেশে ভ্রমণের সুযোগ দেন এবং উচ্চতর প্রশিক্ষণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন। মানুষকে বিপদে ফেলেনা, কারো সাথে কোনো খারাপ আচরণ করেনা, মনে রাখতে হবে সত্য সত্যই। আর মিথ্যা মিথ্যাই। সত্য কখনো মিথ্যা হয় না আর মিথ্যা কখনো সত্য হয় না।
এলাকা বাসীর তথ্য মতে, আতিউর রহমান আতিক শুত্রæ মিত্র সকলের বিবেচনায়ই একজন ভালো মানুষ এবং তার স্ত্রী সন্তানেরাও তার মতো আদর্শবান হয়েছেন। বর্তমানে তার তিন মেয়ে দেশের বিভিন্ন নামীদামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশুনা করছে। জেলার সবচেয়ে কমবয়সী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আজ তিনি জেলা বাসীর গর্ব। তার উন্নয়ন কাজ চোখে পড়ার মতো। তাই শেরপুর জেলার মধ্যে সমসাময়িক ব্যক্তিত্ব এবং মুক্তিযোদ্ধের ইতিহাসে এক মাইল ফলক, আসুন তাকে নিয়ে আমরা গর্ববোধ করি। তিনিই একসময় অভাব অনটনে দুঃখ দৈন্যশায় অন্যের সাহায্য গ্রহণ করতেন। এখন তিনিই সমাজের দশ জনের উপকার করেন। ইতি পূর্বে শেরপুরের ভীমগঞ্জে তার নিজের হাতে গড়া কলেজে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মাঝে ২শ ৫০টি বাইসাইকেল বিতরণ করেছেন নিজের অর্থে। ১২শ লোককে আর্থিক সাহায্য দিয়েছেন ৩০ হাজার, ১০ হাজার, ২০ হাজার করে প্রায় ১ কোটি টাকা। তার নিকটস্থ্য বন্ধুবান্ধবদের কর্মমুখী করতে গ্রহণ করেছেন নানা উদ্যোগ।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




উপদেষ্টা পরিষদ:

১। ২।
৩। জনাব এডভোকেট প্রহলাদ সাহা (রবি)
এডভোকেট
জজ কোর্ট, লক্ষ্মীপুর।

৪। মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
ডাইরেক্টর
ষ্ট্যান্ডার্ড ডেভেলপার গ্রুপ

প্রধান সম্পাদক:

সম্পাদক ও প্রকাশক:

জহির উদ্দিন হাওলাদার

নির্বাহী সম্পাদক
উপ-সম্পাদক :
ইঞ্জিনিয়ার নজরুল ইসলাম সবুজ চৌধুরী
বার্তা সম্পাদক :
সহ বার্তা সম্পাদক :
আলমগীর হোসেন

সম্পাদকীয় কার্যালয় :

১১৫/২৩, মতিঝিল, আরামবাগ, ঢাকা - ১০০০ | ই-মেইলঃ dsangbad24@gmail.com | যোগাযোগ- 01813822042 , 01923651422

Copyright © 2017 All rights reserved www.deshersangbad.com

Design & Developed by Md Abdur Rashid, Mobile: 01720541362, Email:arashid882003@gmail.com

Translate »