বুধবার, ২১ এপ্রিল ২০২১, ১১:০৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
জনপ্রতি সর্বনিম্ন ফিতরা ৭০ টাকা নোয়াখালী সুবর্ণচরে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু শান্তর সেঞ্চুরি, প্রথম দিনটি শুধুই বাংলাদেশের বাংলাদেশ নিয়ে আবারও আল-জাজিরার অপপ্রচার গোবিন্দগঞ্জে ভ‚মিদস্যু ও চাঁদাবাজদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন গাইবান্ধায় ব্যবসায়ি হাসান আলীর মৃত্যুর ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার। বাংলাদেশ একাউন্টিং এসোসিয়েশনের নতুন কমিটি সভাপতি অধ্যাপক হারুন, সম্পাদক সাইয়েদুজ্জামান নাটোরের বাগাতিপাড়ায় সরকারিভাবে গম সংগ্রহ অভিযান শুরু মামুনুল হকের মুক্তির জন্য কঠোর বার্তা- তালামীযের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের পতœীতলায় ছিন্নমূল মানুষের সাথে এক কাতারে বসে ইফতার করলেন পুলিশ সদস্যরা দুমকিতে বায়োফ্লকে বিষ দিয়ে মাছ নিধন। দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক লাখ এম.এল স্যালাইন দিলেন মেজর অব. ডা.ওহাব মিনার বকশীগঞ্জে ইফতার নিয়ে পথচারীদের পাশে ওসি গাইবান্ধায় করোনা সংক্রমণ বাড়ছে,নতুন আক্রান্ত ৭ সুনামগঞ্জে তাহিরপুরে এক গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যু লাশ উদ্ধার

কলা যেনো গলার কাটা!

করোনার প্রভাবে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলা গড়ে কোটি-কোটি টাকার উৎপাদিত কলা নিয়ে লোকসানে কৃষকরা। কলা নিয়ে বিপাকে পড়েছে এ অঞ্চলের চাষিরা।

এতে হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন এ অঞ্চলের সহস্রাধিক কলা চাষি। কলার আড়ৎ ও মোকাম বন্ধ থাকায় বেচা-কেনা বন্ধ হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়েও এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।

স্থানীয় কলাচাষি, ব্যাপারি ও আড়ৎদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কলার রাজধানী লালমাটির মধুপুর গড়াঞ্চল। লাল মাটি কলা চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী বিধায় এ এলাকার উৎপাদিত কলা ঢাকা, রাজশাহী, কক্সবাজার, টেকনাফ, সিলেট, নাটোর, ভৈরবসহ দেশের বিভিন্ন জেলা গুলোতে যায়। এ অঞ্চলের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি হলো কৃষি। আনারস ও কলা মূলত এ অঞ্চলের মানুষের অর্থনীতি সচল রাখে।

প্রতি বছর কোটি-কোটি টাকা লেনদেন হয়ে থাকে এই ফলে। সারা বছর কলা উৎপাদিত হয়। এখানে কলাকে কেন্দ্র করে চাষি, শ্রমিক, কুলি, পরিবহন ও পরিবহন শ্রমিকসহ নানা মানুষের রুটি-রুজি হয়। কলা চাষে অন্যান্য ফসলের চেয়ে খরচ বেশি হয়। প্রতিটি কলা গাছে কলা বিক্রি পর্যন্ত গাছ প্রতি খরচ হয় এক থেকে দুই’শত টাকা। এক বিঘা জমিতে ৩শ থেকে সাড়ে ৩শ কলা গাছ লাগানো যায়। এতে পরিচর্যা করতে প্রতিবিঘা খরচ হয় ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা।

এ জন্য এ এলাকার কৃষকরা ব্যয়বহুল কলা চাষের অর্থের যোগানের জন্য বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক, এনজিও এবং গ্রাম্য মহাজনদের কাছ থেকে বড় সুদে ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করে থাকে।

এ বছর সারাবিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও করোনার প্রভাব পড়ায় কলা কেনা-বেচা থমকে গেছে। এ জন্য কলার ক্রেতা অনেকটাই কমে গেছে। ফলে কলা চাষিদের ব্যয়বহুল অর্থে উৎপাদিত কলা নিয়ে মহাবিপাকে পড়েছে চাষিরা। কি দিয়ে তাদের ধার-দেনা, ঋণ পরিশোধ করবে এ নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে তারা। বাগানে কলা গাছেই কলা পাকতে শুরু করায় কৃষদের চিন্তা আরও কয়েকগুন বেড়ে গেছে।

এ ব্যাপারে মধুপুর উপজেলার কুড়াগাছা ইউনিয়নের পীরগাছা, ভবানটিকি ও মমিনপুর গ্রামে কৃষকরা জানান, এ তিন গ্রামের কৃষকদের প্রধান ফসল হলো কলা। কলা চাষকে কেন্দ্র করে আবর্তিত তাদের আবাদ ফসল। এ এলাকার প্রান্তিক কৃষকদের ৫ বিঘা থেকে ২ থেকে ৩ শত’ বিঘা পর্যন্ত রয়েছে কলার বাগান। কলা চাষে বিনিযোগ করতে ২ লাখ থেকে ৩০/৪০ লাখ টাকা পযন্ত রয়েছে ঋণ। এর মধ্যে গ্রাম্য মহাজনের ঋণ নিয়ে তাদের দুশ্চিন্তা সবেচেয়ে বেশি। প্রতিমাসে দিতে হচ্ছে এ ঋণের মাসিক কিস্তি। এখন কলা বিক্রির উপযুক্ত সময়। আর এ মৌসুমে কলা বিক্রি থমকে যাওয়ায় বসে পড়েছে তারা।

এ বিষয়ে মধুপুর উপজেলার পীরগাছা গ্রামের কলাচাষী রুকনুজ্জামান খান সময়ের কন্ঠস্বর’কে বলেন, তিনি ২৬ বিঘা জমি লিজ নিয়ে ৮ লাখ টাকা ঋণ করে কলা চাষ করেছেন। এ ছাড়াও শামছুল আলম ২শ বিঘা জমি লিজ নিয়ে কলা চাষ করেছেন। তার ঋণ ২০ লাখ টাকা। এভাবে জমি লিজ নিয়ে সাজু ২শত বিঘা, সাখওয়াত ৭৫ বিঘা, দেলোয়ার ১৩ বিঘা, ফজলু শেখ ১৫ বিঘা, শেখ আলহাজ ৩০ বিঘা, বাদশা ২৫ বিঘা, আনোয়ার ১২০ বিঘা, ফরহাদ, ১২০, বিঘাসহ গড়াঞ্চলের শতশত কৃষক জমি লিজ ও ঋণ নিয়ে কলার বাগান করেছে।

এদিকে কলা চাষিরা জানান, ছোট কৃষকদের ২ লাখ টাকা থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে ৩০/৪০ লাখ টাকা ঋণ রয়েছে। এবার কলার বাজার ও বিক্রি থমকে থাকায় প্রতি কৃষকেরই ব্যাপকভাবে লোকসান গুনতে হবে। সার, বিষ, মেডিসিন, ভিটামিনসহ নানা কৃষি পণ্যের দোকানে বাকি, শ্রমিকের মজুরি, বড় সুদের ঋণের বোঝা রয়েছে মাথার ওপর। এ নিয়ে কৃষকের ঘুম হারাম হয়ে গেছে।

কলার ব্যাপারি আ. জলিল জানান, এ এলাকা থেকে কলা কিনে চট্টগ্রাম, ঢাকা, সাতকানিয়া, কক্সবাজার, সিলেট, টেকনাফ, ভৈরবসহ নানা জেলায় কলা কিনে পাঠাতাম। এখন সব মোকাম বন্ধ। এ বছর কৃষক, পাইকার, চাষি প্রত্যেকেরই লোকসান গুনতে হচ্ছে।

অপরদিকে কলা চাষি সাজু মিয়া ও শামছুল আলম জানান, প্রতি বছর তিনি প্রায় কোটি টাকার কলা বিক্রি করেন। এ বছর কলা চাষের খরচ তোলাই কঠিন হয়ে পড়েছে। করোনার প্রভাবে কলার আড়ৎ বন্ধ থাকায় পাইকাররা কলা কেনা বন্ধ করেছেন। দুই একজন কিনলেও অর্ধেক দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তাতে আবাদের খরচও উঠবে না। তাদের লক্ষ লক্ষ টাকা ঋণ কি করে পরিশোধ করবে? এ চিন্তায় তারা হতাশা হয়ে পড়েছেন। তাদের দাবি কৃষি প্রণোদনা বা ভর্তুকির ব্যবস্থা করে এলাকার কৃষকদের ক্ষতি পোষানো।

এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহমুদুল হাসান বলেন, মধুপুর উপজেলার কৃষকদের প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে কলা চাষিদেরও প্রণোদনার আওতায় আনা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media


বঙ্গবন্ধু কাতরকণ্ঠে বলেন, মারাত্মক বিপর্যয়

বঙ্গবন্ধু কাতরকণ্ঠে বলেন, মারাত্মক বিপর্যয়

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

38455403
Users Today : 1489
Users Yesterday : 1749
Views Today : 11561
Who's Online : 29
© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/
Design And Developed By Freelancer Zone