শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ০৪:২৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
খানসামা থানার পরিত্যক্ত জমিতে সবজি চাষে ওসি শেখ কামাল হোসেনের সাফল্য মোরেলগঞ্জে জিনের আছর ভর করেছিল, বাগেরহাটে আমন ফসলে কারেন্ট পোকার আক্রমন ফসলহানীর আংষ্কায় আতঙ্কে ৬৫ হাজার কৃষক জামালপুরের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাইভেটকার খাদে নিহত শিশু  বিরামপুরে গভীর রাতে ইউএনও দেওয়া কম্বল পেল সাবলম্বিগণ পুলিশের সোর্সদের নিয়ন্ত্রনে অপ্রতিরোধ্য মাদক ব্যবসা, গ্রেপ্তার এড়াতে পাল্টেছেন কৌশল শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে গরম কাপড়ের কদর  বেড়েছে বরিশালে।  শাহসুফি সৈয়দ ক্বারী অাব্দুল মান্নান শাহ( রাঃ) এর বার্ষিক ওরশ ও ঈদে মিলাদুন্নবী( সাঃ) সম্পন্ন। শিবগঞ্জে মামলার প্রতিবাদ ও ধর্ষণের চেষ্টা মামলার সুষ্ঠ তদন্ত চেয়ে সংবাদ সম্মেলন শিবগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মা ও ছেলেকে লাঞ্চিতের অভিযোগ ডা. মিলনের রক্তের সাথে বেঈমানি করবেন না : মোমিন মেহেদী ঝালকাঠি সদর থানার ওসি খলিল মানবিক সেবায় অনন্য।মাদক সেবীদের আতঙ্ক ।  বেনাপোল ইমিগ্রেশনে আটকা পড়েছে করোনা সনদ না থাকায় পাসপোর্ট যাত্রীরা তারেক রহমানের ৫৬তম জন্মদিন উপলক্ষে গাবতলীতে যুবদলের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল ব্যারিস্টার এসএম সাইফুল্লাহ রহমান কেন্দ্রীয়  যুবলীগের সদস্য মনোনীত হওয়ায় ঘোষেরপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের শুভেচ্ছা

কাশ্মিরজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ-সংঘর্ষ

শুক্রবারে জুমার নামাজের পর কাশ্মিরের আঞ্চার সৌরা এলাকায় শুক্রবার ভারতীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল শান্তিপূর্ণভাবেই। ভারত শাসিত কাশ্মিরের রাজধানী শ্রীনগরের সৌরা এলাকায় একটি বিক্ষোভ চলাকালীন হঠাৎই তা হিংসাত্মক হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের তরফ থেকে পাথর ছোঁড়া শুরু হলে নিরাপত্তা বাহিনী জবাবে ছররা গুলি আর কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটিয়েছে।

শ্রীনগর থেকে বিবিসির সংবাদদাতা আমীর পীরজাদা বলেন, আমি অন্তত দুজনকে আহত হতে দেখেছি। কিন্তু প্রশাসনের তরফ থেকে আহতের সংখ্যা এখন পর্যন্ত জানানো হয় নি।

৩৫এ আর ৩৭০ ধারা বিলোপের পরে এই সৌরা এলাকাতেই প্রথম বড়সড় বিক্ষোভ হয়েছিল দু’সপ্তাহ আগে শুক্রবারের নামাজের পরেই। গত শুক্রবারও নামাজের পরে একটা শান্তিপূর্ণ মিছিল হয়েছিল। কোনো গন্ডগোল হয়নি।

বিবিসির সংবাদদাতা বলেন, তাই আজকের নামাজ শুরু হওয়ার কিছুটা আগেই, বেলা একটার দিকে সেখানে পৌঁছই আমি। সঙ্গে ছিলেন সহকর্মী ক্যামেরাপার্সন নেহা শর্মা। তখন মাজারে মানুষ জড়ো হওয়া শুরু হয়েছিল। নারী আর পুরুষ – নামাজ পড়তে আসেন এখানে।

প্রথম নামাজের পরে স্বাধীনতাপন্থী কিছু স্লোগান ওঠে। তারপরে একটা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ শুরু হয়। সেখানে তখন বেশ কয়েক হাজার মানুষ হাজির ছিলেন।

গতসপ্তাহের মতোই আজকের বিক্ষোভ মিছিলটাও নানা অলি গলি ঘুরে শেষ হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎই একটা জায়গায় গলির ভেতরে নিরাপত্তা বাহিনী ঢুকতে চেষ্টা করে। তখনই অশান্তি শুরু হয়।

৯ অগাস্ট কাশ্মীরে হওয়া বিক্ষোভের ঘটনাটি ভারত সরকার প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে স্বীকার করে। এখানেই জানিয়ে দিই, নিরাপত্তাবাহিনী যাতে ভেতরে ঢুকতে না পারে, সেজন্য বড়রাস্তা থেকে যত গলি ভেতরে ঢুকেছে, সেই সব গলিগুলো খুঁড়ে রেখে দিয়েছেন, কোথাও বড় বড় ব্যারিকেড রেখে দিয়েছেন ওখানকার বাসিন্দারা।

পুলিশের গাড়ি ভেতরে ঢুকতে পারে না ওখানে। ভেতরে ঢুকতে গেলে পুলিশকে হেঁটেই ঢুকতে হবে। এরকমই একটা গলি দিয়ে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে একদল নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য।

আর সৌরাতে একটা ব্যবস্থা আছে, যখনই পুলিশের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ বাঁধে, তখনই সব বাড়ি থেকে টিন বাজানো শুরু হয়ে যায়। আর সব মানুষ বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে সংঘর্ষে নেমে পড়ে। আজকেও সেরকমই ঘটনা হলো।

পুলিশ আর কেন্দ্রীয় বাহিনীর দলটা যেই ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করল, তখনই পাথর ছোঁড়া শুরু হলো একদিকে, আর অন্যদিকে সব বাড়ি থেকে টিন বাজানো হতে লাগল। সবাই বাড়ি থেকে বেরিয়ে ওই গলিটার দিকে দৌড়তে লাগল। একদিক থেকে পাথর ছোঁড়া হচ্ছে, অন্যদিক থেকে ছররা গুলি, কাঁদানে গ্যাস আর গোলমরিচের গোলা ছোঁড়া হচ্ছিল।

তিনি বলেন, আমি দুজনকে ছররা গুলিতে আহত হতে দেখেছি। একজনের চোখ থেকে রক্ত বেরচ্ছিল, আরেকজনের ঘাড়ে আঘাত লেগেছিল ছররা গুলির। আজকের সংঘর্ষটা প্রায় ঘন্টা দুয়েক চলেছিল, বেলা চারটা পর্যন্ত।

এখন পর্যন্ত প্রশাসন নির্দিষ্ট করে আহতদের সংখ্যা জানায় নি। অন্যদিন সন্ধ্যের সময়ে একটা করে সংবাদ বুলেটিন প্রকাশ করে জম্মু-কাশ্মির প্রশাসন।

দুদিন ধরেই একটা পোস্টার লাগানো হয়েছিল শহরের নানা জায়গায় যে শুক্রবারের নামাজের পরে বিক্ষোভ হবে। সবাইকে আহ্বান জানানো হয়েছিল শ্রীনগরে জাতিসঙ্ঘ কার্যালয়ের দিকে মিছিল করে যাওয়ার জন্য। হুরিয়ত কনফারেন্সের নামে ওই পোস্টার পড়েছিল।

কিন্তু জাতিসংঘের কার্যালয়ের দিকে যাওয়ার একটি বাদে সব রাস্তাই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল সকাল থেকেই। সেখানে ব্যাপক নিরাপত্তার কড়াকড়ি করা হয়েছিল। সেদিকে কোনো মিছিল যায় নি অবশ্য শেষ অবধি।

তবে ওই পোস্টার যদি নাও পড়ত, তাহলেও এই সৌরা এলাকায় বিক্ষোভ হতোই। এই অঞ্চলে শুক্রবারের নামাজের পরে বিক্ষোভ নিয়মিত ঘটনা।

বিবিসির সংবাদদাতা বলেন, শুক্রবার যখন গোলমরিচের গোলা ছোঁড়া হয় নিরাপত্তাবাহিনীকে লক্ষ্য করে, তখন সাংবাদিকরাও তার হাত থেকে রেহাই পাইনি। ওই গ্যাস যখন নাকে ঢোকে তখন ক্রমাগত কাশি হতে থাকে। সাধারণত আমরা নিরাপত্তাবাহিনীর পেছন দিক থেকে ছবি তুলি। সেটাকেই সাংবাদিকদের জন্য নিরাপদ এলাকা বলে ধরা হয়।

কিন্তু ৩৭০ ধারা বিলোপের পর থেকে ওইদিক থেকে আমাদের ছবি তুলতে দেয়া হচ্ছে না। তাই আমরা বাধ্য হচ্ছি বিক্ষোভকারীদের পিছন দিক থেকে ছবি তুলতে।

আমাদের নাকেও গোলমরিচের গ্যাস ঢোকে। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দারা লবণ আর জলের ব্যবস্থা করেছিলেন। তার ফলে কিছুটা স্বস্তি পাই আমরা। সৌরাতে অশান্তি হলেও শহরের অন্যান্য অঞ্চলে কোনো বিক্ষোভ বা সহিংসতার খবর নেই।

বিবিসির সহকর্মী রিয়াজ মাসরুর হজরতবাল দরগা সহ শহরের নানা বড় মসজিদ ঘুরে জানাচ্ছেন, আজ তৃতীয় সপ্তাহের মতো শুক্রবারের নামাজের জন্য বড় জমায়েতের অনুমতি দিচ্ছে না।

সোপিয়ান, কুলগাম, বারামুল্লা, কুপওয়াড়া বা অনন্তনাগ এলাকাতেও একই ধরণের বিধিনিষেধ চালু রয়েছে। মাইক বাজানোরও অনুমতি নেই কোনো মসজিদে।

বড় মসজিদগুরোতে শুক্রবারের নামাজের জমায়েতের অনুমতি না থাকলেও এলাকার ছোট ছোট মসজিদে নামাজ পড়তে কোনো বাধা নেই।

কদিন ধরেই নিরাপত্তার কড়াকড়ি কিছুটা শিথিল করা হচ্ছিল, কিন্তু শুক্রবারের নামাজের পরে বিক্ষোভের আহ্বান জানিয়ে যে পোস্টার পড়েছিল, তার প্রেক্ষাপটেই প্রশাসন শুক্রবার আবারো কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। কিন্তু প্রশাসন এটাও বলছে যে শনিবার থেকে আবারও কড়াকড়ি শিথিল হবে। সূত্র : বিবিসি

Please Share This Post in Your Social Media

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

37869938
Users Today : 5136
Users Yesterday : 2663
Views Today : 16812
Who's Online : 83
© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/
Design & Developed BY Freelancer Zone