শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০, ১০:৩০ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
বেনাপোল স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিকদের মধ্যে পরিচয়পত্র বিতরন পতœীতলায় সওজ কর্মকর্তার উপর হামলা, থানায় মামলা দায়ের সাঁথিয়ায় মৎস্যজীবীদের সাংবাদিক সম্মেলন গাইবান্ধায় ধর্ষণ মামলার আসামী গ্রেফতার ছাতকে কমিউনিটি পুলিশিং ডে উপলক্ষে থানা পুলিশের আলোচনা সভা বরিশালে কমিউনিটি পুলিশিং ডে পালন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে নিয়ে ব্যঙ্গ চিত্র প্রদর্শনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মির্জা ফখরুল, মঈন খান, মাহমুদুর রহমান মান্নার অংশগ্রহণ দুর্বৃত্ত রাষ্ট্র নয় জনগণের রাষ্ট্র চাই .…….আ স ম রব খানসামায় নতুন উপজেলা স্বাস্থ্য ও প: প: কর্মকর্তার সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত খানসামায় সংবাদ সম্মেলন: বিএনপি’র আহ্ধসঢ়;বায়কের স্বাক্ষর জাল করে কমিটি গঠনের অভিযোগ উলিপুরে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মহিলাকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ অভিযুক্তকে দিয়ে হাত-পা ধরিয়ে মিমাংসা করে দিলেন মাতব্বরা আত্রাইয়ে নির্যাতন সইতে না পেরে গৃহবধুর আতœহত্যা: আটক ১ ফ্রান্সে মহানবী (সা.) এর ব্যাঙ্গ কার্টুন প্রদর্শনের প্রতিবাদে ডোমারে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত বনপাড়া হাইওয়ে থানার উদ্যোগে কমিউনিটি পুলিশিং ডে অনুষ্ঠিত বরিশাল বেতারে ‘ভূমি ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়নঃ বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা’ শীর্ষক সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত  

কুষ্টিয়া জেলার ফের মোহিনী মিল বিক্রির উদ্যোগ, চলছে মূল্যায়ন

 

কুষ্টিয়ার প্রতিনিধি :- সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যম দিয়ে কুষ্টিয়ার মোহিনী মিলের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির মূল্যের অ্যাসেসমেন্ট (মূল্যায়ন) করা হচ্ছে। শেষ হলেই আবার বিক্রির উদ্যোগ নেয়া হবে- জানিয়েছেন, পাট মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. খুরশীদ ইকবাল রেজভী।
কলকাতার সুতা ব্যবসায়ী মোহিনী মোহন চক্রবর্তী ১৯০৮ সালে কুষ্টিয়া শহরে ৯৯ বিঘা জমির উপর মিলটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এর শাড়ি, ধূতি, মার্কিন ও অন্য কাপড়ের সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর পাকিস্তান সরকার মিলটিকে শত্রু সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করে ‘ইস্ট পাকিস্তান ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন- ইপিআইডিসিকে পরিচালনার দায়িত্ব দেয়। এর আগ পর্যন্ত মিলটি লাভজনক ছিলো। মধুর ছিলো মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক। জমজমাট ছিলো কুষ্টিয়ার এ এলাকাটি। প্রথমে মাত্র আটটি তাঁত এবং কয়েকজন শ্রমিক নিয়ে শুরু করলেও একসময় এখানে পাঁচ হাজার শ্রমিক কাজ করেছে। এদের বেতনছাড়াও লাভের ওপর বোনাস, চিকিৎসা খরচ দিতেন মালিক পক্ষ। নিরাপত্তায় বিশ^স্ততার জন্য নেপাল থেকে প্রহরী ও অন্য কর্মচারী এনেছিলেন। তাদের জন্য তৈরি করেন নেপালি কোয়ার্টার। এ মিলের কারণেই এলাকাটির নাম হয়ে যায় মিলপাড়া। তবে, জীবনযাত্রার উন্নয়ন এবং জমজমাট জনউপস্থিতির কারণে এ মিলের আশপাশের এলাকাকে ছোট্ট কলকাতা নামে ডাকতে শুরু করেন স্থানীয়রা।
পূর্বদিকের একটি তামাক কারখানার কারণে এখন দু-একজনের আনাগোনা থাকলেও সেই জমজমাট মোহিনী মিল এলাকাটি একেবারে শুনশান। এর সুউচ্চ মাস্তুল ভেঙ্গে ছোট হয়ে গেছে। খসে পড়ছে কিন্তু মার্জিত রূচি নিয়ে এখনো দাঁড়িয়ে আছে এর গেট এর চারিদিকের স্থাপনা। কয়েকজন আনসার সদস্য ক্যাম্প করে আছেন নিরাপত্তার দায়িত্বে। খসে পড়ছে সেই আমলে তৈরি করা ঝুল বারান্দা। দেয়ালে, ছাদের কার্ণিশে বড় বড় বট গাছ বেড়ে চলেছে। আর মিলের ভেতরটা একেবার ঘন জঙ্গলের রূপ নিয়েছে। এটি এখন এখন নানান জাতের সাপ, শেয়াল এবং বিলুপ্ত হতে চলা অনেক প্রাণির আবাস হয়ে উঠেছে। অনেক যন্ত্রপাতি চুরি হয়েছে। বাকীসব এমনভাবে মুখ থুবরে পড়ে আছে যেন মাটির গভীরে চলে যেতে চায়।
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে সরকার মোহিনী মিলকে জাতীয়করণ করে বঙ্গবন্ধু সরকার। স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার ইশারা, শ্রমিক ইউনিয়নের ষড়যন্ত্র ও আমলাদের দুর্নীতির কারণে এরপরপরই কারখানাটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। এর জন্য জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং বর্তমান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম এবং তার অন্য সহযোগীদের দায়ী করেন বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলী। শ্রমিকদের কল্যাণের কথা চিন্তা করে মিলটিকে আগের মতো সচল করার দাবি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন আনোয়ার আলী। তিনি বলেন, মিল প্রশাসনের সঙ্গে আঁতাত করে স্থানীয় চক্রটি এর অভ্যন্তরের পিতল, লোহা ও অন্যান্য ধাতব যন্ত্রপাতি বের করে বিক্রি করে দিয়েছেন। টেলিফোনে জানতে চাওয়া হলে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, মোহিনী মিল সরকার পরিচালন করতেন সেখানে আমার সম্পৃক্ত থাকার সুযোগ নেই। আনোয়ার আলী আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, তাই আমাকে রাজনৈতিকভাবে ড্যামেজ (ক্ষতি) করার জন্য এসব কথা বলে থাকতে পারেন। একটি জমি জালিয়াতি মামলায় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলামের নাম আসায় মোহিনী মিল ধ্বংসের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার বিষয়টি আবার সামনে চলে এসেছে। এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
লোকসানে চলতে শুরু করলে ১৯৮৪ সালে শিল্পপতি নজরুল ইসলামের কাছে মাত্র ২৫ কোটি ২৬ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেয়া হয় মিলটি। সেসময়ই এর জমির দামই ১০০ কোটিরও ওপরে ছিল। এই মালিক মোহিনী মিলের নামই বদলে দেন। এটি হয়ে যায় ‘শাহ মখদুম টেক্সটাইল মিল’। বড়বাজার অগ্রণী ব্যাংক থেকে আট কোটি টাকা ঋণ নিয়ে পরের বছরই মিলটি চালু করা হয়। নতুন মালিক সরকারের চুক্তি ভঙ্গ করায় এবং শ্রমিকদের ১০ মাসের বেতন বাকি পড়ায় ১৯৮৭ সালে লে-অফ ঘোষণা করা হলে পুরোপুরিই বন্ধ হয়ে যায় এ প্রাচীণ এতিয্য।
১৯৯০ সালে মিলটি দখলে নিয়ে বিক্রির উদ্যোগ নেয় সরকার। কিন্তু ব্যাংক ও আগের ক্রেতা নজরুল ইসলাম মামলা করলে আদালতের নিষেধাজ্ঞায় বিক্রি কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। মামলা এবং বকেয়া পাওনা নিয়ে জাটিলতা থাকায় মিলটি আরেকদফা হাতবদল হলেও চালু করা যায়নি। এরপর ২০০৯ সালে আবার মিলটি চালুর উদোগ নেয় সরকার। দি পিপলস ডেভেলপমেন্ট সার্ভিসেস কর্পোরেশন লিমিটেড সরকার, মিল মালিক ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সাথে মধ্যস্থতা শুরু করে। ধীরে ধীরে সরকার এবং ব্যাংকের কাছে থাকা বকেয়া পরিশোধের শর্তে আবার পূর্বের মালিক শাহ মখদুম গ্রুপের নিকট হস্তান্তর করা হয়। এরপর যন্ত্রপাতি বিএমআরই বা আধুনিকায়ন ও পুনঃস্থাপন করে মিলের একটি ভবনে সুতা তৈরির একটি ইউনিট চালু করা হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

37723961
Users Today : 11364
Users Yesterday : 8809
Views Today : 36578
Who's Online : 115
© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/
Design & Developed BY Freelancer Zone