শনিবার, ০৬ মার্চ ২০২১, ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
আইএলও কনভেনশন-১৯০ অনুসমর্থন কর কাজের দুনিয়ায় সহিংসতা ও হয়রানী বন্ধ কর বসত ভিটা হারিয়ে খোলা আকশের নিচে ছিন্নমূল পরিবার নিষেধাজ্ঞা পৌঁছানোর ৫২ মিনিট আগে বেনাপোল দিয়ে ভারতে পালান পি কে হালদার নারী চালকদের কাজের সুযোগ তৈরিতে বেটার ফিউচার ফর উইমেন-উবার চুক্তি মুশতাক হত্যার বিচার চাই, সরকার পতন নয়-মোমিন মেহেদী বিবাহিত জীবন আরও ফিট রাখতে বিশেষ যে ৭ খাবার! সন্তান নিতে কতবার স’হবাস করতে হয় জানালেন ‘ডা. কাজী ফয়েজা’ বী’র্যপাত বন্ধ রে’খে অধিক সময় যৌ’ন মি’লন ক’রার সেরা প’দ্ধতি আশ্চর্য যে ফল খেলে আপনাকে মি’লনের আগে আর উ’ত্তেজক ট্যাবলেট খেতে হবে না সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেড়েছে নরমাল ডেলিভারীর সংখ্যা প্রত্যেকদিন সকালে সহবাস করলেই অবিশ্বাস্য উপকারিতা আত্রাইয়ে ইরি-বোরো ধান পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষক দেখুন এই ৫ রাশির মেয়েরাই স্ত্রী হিসাবে সবচেয়ে সেরা, বিস্তারিত যে কারণে নিকটাত্মীয় ভাই-বোনদের বিয়ে ঠিক নয়, জেনে রাখা দরকার সুন্দরগঞ্জে জনবল সংকটে স্বাস্থ্য সেবা বিঘিœত

কেলেঙ্কারি এবং লজ্জা পেছনে ফেলে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে আজ যুবলীগের সপ্তম কংগ্রেস, নেই কোনও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী

ক্যাসিনো কেলেঙ্কারি ও দুর্নীতির অভিযোগে নেতাদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা জব্দ আর নানা মুখরোচক গল্পের ফাঁদে টালমাটাল স্বাধীনতার পরে জন্ম নেয়া বাংলাদেশের প্রথম রাজনৈতিক ভাতৃপ্রতিম সংগঠন আওয়ামী যুবলীগ।

সংগঠনটির অধিকাংশ নেতা পড়েছেন নানা কেলেঙ্কারিতে। এমন অনেকের শেষ হয়েছে রাজনৈতিক ক্যারিয়ার, হয়েছেন দলচ্যুত, বহিষ্কৃত। সংগঠনটির এমন ক্রান্তিলগ্নে আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে সাধারণ সম্মেলন বা কংগ্রেস। এটি সংগঠনটির ইতিহাসে সপ্তম কংগ্রেস।

প্রতিষ্ঠার পরে আর কখনও এতো বড় বিপদে পরেনি যুবলীগ। এমনকি প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনি নৃশংসভাবে হত্যাকান্ডের শিকার হবার পরেও যুবলীগ সামলে নিয়েছিলো। কিন্তু এবার কারুরই জানা নেই যুবলীগের চেয়ারম্যান কে হতে পারেন। কারণ সাধারন সম্পাদক পদপ্রার্থী এক ডজনের বেশি থাকলেও কোনও চেয়ারম্যান প্রার্থী নেই। তবে গুঞ্জন রয়েছে প্রতিষ্ঠাতা মনির সন্তান শেখ ফজলে নূর তাপস বা অধ্যাপক শেখ ফজলে শামস পরশ হতে পারেন পরবর্তী যুবলীগ চেয়ারম্যান। এমন কি এ ধরনের গুঞ্জন রয়েছে বাংলাদেশ ওয়ান ডে ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাকে ঘিরেও। তবে দল ঘনিষ্ট সূত্র গুলো জানাচ্ছে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রতিষ্ঠার পর আওায়ামী লীগের ভাতৃপ্রতীম সংগঠন যুবলীগ এতটা আওয়ামী ঘনিষ্ঠ অবস্থায় পরেনি বলেই মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
আওয়ামী যুবলীগের সপ্তম জাতীয় কংগ্রেসকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য সাজে সজ্জিত করা হয়েছে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে। পদ্মা সেতুর আদলে তৈরিকৃত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মঞ্চে আজ সকাল ১১টায় যুবলীগের জাতীয় কংগ্রেসের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি সংগঠনের আগামী দিনের পথচলার গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনার পাশাপাশি হৃতগৌরব ফিরিয়ে আনতে উচ্চারণ করবেন কঠোর হুঁশিয়ারিও বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে বিকেল ৩টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বসবে যুবলীগের জাতীয় কংগ্রেসের দ্বিতীয় অধিবেশন। সেখানে গঠনতন্ত্রের প্রয়োজনীয় সংশোধনী প্রস্তাব উপস্থাপন ও অনুমোদন ছাড়াও নতুন কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাচন ও ঘোষণা করা হবে। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটিসহ সারাদেশের ৭৭টি সাংগঠনিক জেলা ও ৮টি জেলার মর্যাদাসম্পন্ন বৈদেশিক শাখার ৩ হাজার কাউন্সিলর ও ২৫ হাজার ডেলিগেটস এবং ৮ হাজার অতিথিকে কংগ্রেসে যোগ দেয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

এবারের যুবলীগের জাতীয় সংগ্রেসে ৫৫ বছর বয়সের বেশি কেউ কেন্দ্রীয় কমিটির কোন পদ পাবেন না। সংগঠনকে ঢেলে সাজাতে তরুণ ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব নিয়ে আসার পাশাপাশি এবার কোন দুষ্কর্মকারী ও বিতর্কিতদের ঠাঁই হবে না নতুন কমিটিতে। ইতোপূর্বে অনুষ্ঠিত কৃষক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও শ্রমিক লীগের সম্মেলনে নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে ওই ৩ সংগঠনের নেতৃত্ব দেয়া নেতাদেরই নতুন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হলেও যুবলীগের কংগ্রেসে চেয়ারম্যান পদে বাইরে থেকে কাউকে এনে চমক দিতে পারেন আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। তবে সাধারণ সম্পাদক পদে যুবলীগের বর্তমান কমিটি থেকেই কাউকে বেছে নেয়া হতে পারে, এটি প্রায় নিশ্চিত।

সর্বশেষ ২০১২ সালের ১৪ জুলাই যুবলীগের ষষ্ঠ জাতীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ৩ বছর পর পর কংগ্রেস হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ সাড়ে ৭ বছর পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে যুবলীগের সপ্তম কংগ্রেস। এ কারণে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ক্যাসিনো ও দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু হলে যুবলীগের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগরের বেশ কয়েক নেতা গ্রেফতার হন। ক্যাসিনোকাণ্ডে সম্পৃক্ততা এবং দুর্নীতি ও অপকর্মের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অভিযুক্ত অনেকেই আত্মগোপনে চলে যান। যাদের সবাই পরে সংগঠন থেকে বহিষ্কৃত হন। গত ২০ অক্টোবর গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুবলীগ নেতাদের বৈঠকে পদবাণিজ্য ও দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগে ওমর ফারুক চৌধুরীকে সংগঠনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। একই বৈঠকে সংগঠনের প্রেসিডিয়াম সদস্য চয়ন ইসলামকে আহবায়ক ও সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদকে সদস্য সচিব করে সপ্তম জাতীয় কংগ্রেস প্রস্তুতি কমিটি গঠন এবং যুবলীগের নেতৃত্ব নির্ধারণের বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৫৫ বছর নির্ধারণ করে দেয়া হয়।

নেতারা বলছেন, ক্যাসিনো ও দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে সংগঠনের শীর্ষপর্যায়ের অনেক নেতার বিরুদ্ধে অপকর্মের অভিযোগ ওঠায় যুবলীগ এই মুহূর্তে প্রচন্ড ভাবমূর্তি সঙ্কটে রয়েছে। সাংগঠনিক কার্যক্রমেও অনেকটা স্থবিরতা নেমে এসেছে। ফলে সংগঠনের হারানো ইমেজ ফিরিয়ে আনাসহ সংগঠনকে গতিশীল করাই এবারের কংগ্রেসের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই চ্যালেঞ্জ উত্তরণে কংগ্রেসের মাধ্যমে স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন ইমেজের ত্যাগী ও দক্ষ নেতাদের সংগঠনের নেতৃত্বে নিয়ে আসার প্রচেষ্টাও রয়েছে। এক্ষেত্রে সংগঠনের বাইরে থেকে কাউকে নেতৃত্বে নিয়ে আসার গুঞ্জনও রয়েছে। এসব কারণে শেষ পর্যন্ত কাদের হাতে সংগঠনের নেতৃত্বে আনা হয়, সেটা নিয়েও সব মহলে কৌতূহল দেখা দিয়েছে।

দেশের বর্তমান সময়ে সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত যুবলীগের হাল ধরছেন, এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা, গুঞ্জন। এই অবস্থায় সংগঠনের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে বেশ কয়েকজনের নাম আলোচনায় উঠে আসছে। আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনির দুই ছেলে অধ্যাপক শেখ ফজলে শামস পরশ ও ঢাকা ১০ আসনের এমপি শেখ ফজলে নূর তাপসের নাম। চেয়ারম্যান পদে বর্তমান কমিটির দুই প্রেসিডিয়াম সদস্য আতাউর রহমান আতা ও এ্যাডভোকেট বেলাল হোসাইনের কথাও আলোচনায় রয়েছে।
তবে সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশীর সংখ্যা এক ডজন ছাড়িয়ে গেছে। সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান যুগ্ম সম্পাদক মহিউদ্দিন

আহমেদ মহি, মঞ্জুর আলম শাহীন, সুব্রত পাল, সাংগঠনিক সম্পাদক বদিউল আলম, ফজলুল হক আতিক, ফারুক হাসান তুহিন, এমরান হোসেন খান, অর্থ সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র হাওলাদার, গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু মনির মোঃ শহিদুল হক চৌধুরী রাসেল, উপগ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ বাবলু, সহসম্পাদক তাজউদ্দীন আহমেদ প্রমুখ। এছাড়া সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের মধ্য থেকে চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক পদের আলোচনায় রয়েছেন বাহাদুর বেপারী, অজয় কর খোকন, লিয়াকত সিকদার, মাহমুদ হাসান রিপন, মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন, এইচএম বদিউজ্জামান সোহাগ, এনআই আহমেদ সৈকতসহ অনেকেই।

Please Share This Post in Your Social Media

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

38362179
Users Today : 3689
Users Yesterday : 5133
Views Today : 11907
Who's Online : 62
© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/