Home / এক্সক্লুসিভ ডেস্ক / কেয়ামতের ময়দানেও চিকিৎসক খুন চুরিচামারি দুর্নীতি ধর্ষণ
খুজিস্তা নূর-ই–নাহারিন (মুন্নি)

কেয়ামতের ময়দানেও চিকিৎসক খুন চুরিচামারি দুর্নীতি ধর্ষণ

করোনার ধ্বংসলীলায় লন্ডভন্ড পৃথিবীতে এখন আমরা নিজেরাই এতোটা আক্রান্ত যে, যেনো অসহায়ের মতোন কেয়ামতের ময়দানে দাঁড়িয়ে আছি। আমরা কেউ প্রিয়জন হারাচ্ছি, কেউ আক্রান্ত হচ্ছি। কেউ সুস্থ হচ্ছি। আমরা কঠিন দুঃসময়ের মুখোমুখি জীবন ও জীবিকার লড়াইও করছি। কিন্তু ভয় আতংক গ্রাস করেছে গোটা দেশ। তবু আমরা যেমন সচেতন হচ্ছি না, তেমনি অনেকের বেপরোয়া আচরণ চলাফেরাও বন্ধ হচ্ছে না। আরেক দিকে মানুষ তার ন্যায্য চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না। আমাদের লড়াই অজানা অচেনা করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রায় নিরস্ত্র অবস্থায় চলছে। আমাদের হাতে আবিষ্কার হয়ে আসেনি কোনো ভ্যাকসিন, ওষুধ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিবৃতি হতাশা ছাড়া আলোর রেখা দেখাতে পারেনি।

আমাদের দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা এক হাজার ৩শর বেশি। আক্রান্ত এক লাখ ছাড়িয়েছে। উপসর্গের মৃত্যুও কম নয়। রাজনীতিবিদ, মন্ত্রী, নেতা, আমলা, সামরিক বেসামরিক কর্মকর্তা এক কথায়, সকল পেশার মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। অগণিত সাধারণ মানুষ আক্রান্ত। টেস্টও হচ্ছেনা। অনেকই আজ মারা যাচ্ছেন। মৃত্যুর তালিকায় চিকিৎসকদের সংখ্যাও কম নয়।

এমন মহাদূর্যোগের মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অর্থনীতি বাঁচানোর উদ্যোগই নেননি মানুষ বাঁচানোর সর্বাত্নক পদক্ষেপ নিয়েছেন। লড়ছেন তিনি নির্ঘুম। প্রণোদনা, খাবার, অনুদান কম দেয়া হয়নি। কিন্তু করোনাভাইরাসের চেহরা দিন যতো যাচ্ছে ভয়াবহরুপ নিচ্ছে। আমাদের জীবন জীবিকার পরিণতি, অর্থনৈতিক বিপর্যয় কোথায় গিয়ে ঠেকবে ভাবলেই শিউরে ওঠে সবার গা। ব্যাংক কর্মীদের বেতন কমিয়ে দিচ্ছে। অথচ তারাই ছুটিবিহীন কাজ করে গেলো। গার্মেন্ট মালিকরা শ্রমিক ছাঁটাইয়ের কথা বলতেই প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। শ্রমিকের রক্তেই আজ তাদের এতো সম্পদ বিলাসী জীবন! শ্রমবাজারেও এসেছে মন্দা। পৃথিবীজুড়ে কর্মহীন হচ্ছে মানুষ। অর্থনীতকে গ্রাস করেছে অন্ধকার। শেষ কই কেউ জানে না। পুলসিরাতের উপর দিয়ে হাঁটছে দেশ। হাঁটছে পৃথিবী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাস্থ্য খাতের কর্তাদের উপর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। করারই কথা। একাই তাকে লড়তে হচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতের দেউলিয়াত্ব নিয়ে সমালোচনা গণমাধ্যমেই নয়, পথেঘাটে হামেশাই হচ্ছে, সবখানে। দুর্নীতিতে যে চমক দেখিয়েছে তার চেয়ে কম দেখায়নি করোনা মোকাবেলার প্রতিরোধ থেকে প্রতিকারের ব্যর্থতায়। সরকারি বেসরকারি খাতের সমন্বয় এখনো হয়নি। মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা যায়নি। দেশজুড়ে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। উপসর্গহীন অনেকের করোনা পজেটিভ। ভয়ংকর অবস্থা। আইসিইউ সংকট, টেস্ট ল্যাব পর্যাপ্ত নয়। অক্সিজেন আইসিইউর জন্য যেনো কারবালার মাতম।

চিকিৎসক স্বামীর দেহ শ্মশানে চিতায় তুলে বিচারক স্ত্রী। কত মর্মান্তিক মৃত্যুও বিদায়। তবু স্বাস্থ্য খাতে চলে দুর্নীতি। মাস্ক কেলেংকারি করেও রেহাই পায় অসৎ সিন্ডিকেট। কেয়ামতের ময়দানেও থামেনা বর্বরতা। চুরি চামারি, মানুষ খুন ও ধর্ষণ। খুলনায় গরিবের ডাক্তারকে কি নৃশংসভাবে হত্যা করে অকৃতজ্ঞ অমানুষ! সব মিলিয়ে আমরা ক্রমশ এক অন্ধকার অনিশ্চিত বিপদের মুখে। জীবন মৃত্যুর মাঝখানে! স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. আবুল কালাম আজাদও বলেছেন, সংক্রমণের মাত্রা কমে আসলেও করোনাভাইরাস দুই থেকে তিন বছর পর্যন্ত বিশ্বে থাকবে। বৃহস্পতিবার করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এ ভাইরাস আগামী দুই থেকে তিন বছর পর্যন্ত থাকবে। তবে সংক্রমণের মাত্রা কমে আসবে।

আবুল কালাম আজাদ নিজেও করেনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে ফিরে এসে এটাই প্রমাণ করলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা শক্তিশালী নয়। মুগদা ও কুয়েত মৈত্রীর অবস্থা তাহলে কি? সারাদেশে তো করুণ! চিকিৎসা বলেই কিছু নেই। তবু কেনো মৃত্যুর বিভীষিকাময় পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়েও আমাদের দুর্নীতি অনিয়ম রোধ করা যাচ্ছে না। এখনো কেনো দুর্নীতিবাজদের এতো দম্ভ। জীবন কত তুচ্ছ চোখের সামনেইতো দেখছি। তবু কেনো ব্যর্থ মন্ত্রী থেকে মহাপরিচালকদের সরিয়ে দক্ষ সৎ নেতৃত্ব আসে না স্বাস্থ্যখাতে! বুঝি না। আর কত বিতর্কের ঝড় হবে তাদের নিয়ে? কতটা ব্যর্থ হলে ব্যর্থ বলা যায়?

করোনার সাথে অবশ্যই আমাদের ভ্যাকসিন ও ওষুধ না আসা পর্যন্ত লড়ে, মানিয়ে চলতে হবে। কিন্তু চিকিৎসা ব্যবস্থাকে তো শক্তিশালী সমন্বিত করতে হবে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন তিন হাজার ৮০৩ জন। মৃত্যু হয়েছে আরও ৩৮ জনের। ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাসে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে এক লাখ দুই হাজার ২৯২ জনে দাঁড়ালো। এখন পর্যন্ত মারা গেছেন এক হাজার ৩৪৩ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৪০ হাজার ১৬৪ জন। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত পাঁচ লাখ ৬৭ হাজার ৫০৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এই তথ্যেই বোঝা যায়, যতো টেস্ট বাড়বে ততো আক্রান্তের মিছিল দীর্ঘ হবে।

আমরা লকডাউনে কঠোর হইনি। মানুষও সচেতন হয়নি। ছুটিকে উৎসব করেছে। স্রোত নেমেছে কখনো বাড়িমুখী কখনো ঢাকা ও গার্মেন্টমুখী। দেশের মানুষ কারফিউ বোঝে। লাঠিপেটা বোঝে।

আমরা করোনার আক্রমণের মুখে ঘনবসতির দেশে জীবন ও জীবিকার লড়াইয়ে দাঁড়িয়েছি। নিজেরা কতটা স্বাস্থ্যবিধি মানছি? কর্মক্ষেত্র কতটা অনুসরণ করছে? পরিবহন কতটা? সরকারি বেসরকারি সবখানে জীবাণুমুক্ত পরিবেশ কি নিশ্চিত? না হলে করতে হবে। সামনে কঠিন সময়। এখনও বেশিরভাগ বাসায় চিকিৎসাধীন। কিন্তু সংক্রমণ আক্রান্ত ভয়াবহ রুপ নিলে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীরা কতটা নিরাপদ সুসংহত? কতটা হাসপাতাল সারাদেশে প্রস্তুত? এসব প্রশ্নের সমাধান দ্রুত করতে হবে। জীবন ও জীবিকার যুদ্ধে জীবনতো বাঁচাতেই হবে। অধ্যাপক এবিএম আব্দুল্লাহর মতোন কাউকে নিয়মিত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হিসেবে দেশবাসীকে পরামর্শ দিতে হবে। স্বাস্থ্য বিধি অনুসরণে প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে।

লেখক: সম্পাদক, পূর্বপশ্চিম

নিউজটি লাইক দিন ও আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

About jahir

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

করোনায় আক্রান্ত নারী চিকিৎসকের আক্ষেপ

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে নিজেই করোনায় আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে চিকিৎসাধীন ...