বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ১০:৪০ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
বোদা উপজেলা ফুটবল একাডেমীর ৫ জন প্রমিলা ফুটবলারের প্রিমিয়ার লীগে খেলার সুযোগ শিবগঞ্জে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন বিভাগীয় প্রধান ছাড়াই চলছে বেরোবির একাউন্টিং বিভাগ: ভোগান্তি চরমে চলতি বছর বাজারে আসা ছয় ফ্ল্যাগশিপ ফোন করোনাকালে বাংলাদেশের বাজারে ছয় ফ্ল্যাগশিপ ফোন মেলান্দহে উপজেলা চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে বসতবাড়ি জবর দখল কয়েকশ বৃক্ষ নিধন ও মাছ লুট ছাতকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নকরন অভিযান ১২টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন মোড়েলগঞ্জ- শরণখোলায় আমন ফসলে কারেন্ট পোকার আক্রমন কৃষক দিশেহারা আসন্ন পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে উলিপুরে আওয়ামীলীগের আলোচনা সভা  বাগেরহাটে মোরেলগঞ্জে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উদ্বোধন বোরোসহ শীতকালিন ফসল চাষ আত্রাইয়ে ২৮ হাজার ৩শত ৬৫ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ত্রিশালে অনলাইন প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে গাছের চারা ও মাস্ক বিতরণ বাগেরহাটে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড ১০ লক্ষ টাকার ক্ষতি ১০ বছর শিকল বন্দী হাফিজুলের চিকিৎসার জন্য মানবিক সাহায্যের আবেদন বড়াইগ্রামে পুলিশ পরিদর্শক তৌহিদুলের পদোন্নতি ও বিদায় সংবর্ধনা বিভাগীয় প্রধান ছাড়াই চলছে বেরোবির একাউন্টিং বিভাগ: ভোগান্তি চরমে

খাওলা নাতাকার ইসলাম গ্রহণ ………

………………………………………..
খাওলা নাকাতা একজন জাপানি নাগরিক। ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তার নাম ছিলো ‘কাওয়ারায়ি নাকাতা’। ধর্ম সম্পর্কে উদাসিন মেধাবি এই তরুণী শিক্ষাজীবনে ফরাসি সাহিত্যে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের জন্য ফ্রান্সে গমন করেন। ফ্রান্সের মুসলমানদের সাথে মিশে তাদের ধর্মীয় আচরণে মূগ্ধ হয়ে ১৯৯১ সালের জানুয়ারী মাসে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি যেন খুজে পেয়েছিলেন এক মুক্তির দিশা। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে তিনি ইসলামের সুমহান আদর্শ নিয়ে বক্তৃতা দিয়েছেন। ইংরেজি, জার্মানি, ফরাসি আরবীসহ ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় তিনি ইসলামের সুমহান আদর্শ এবং তার ইসলাম গ্রহণের কারণ বর্ননা করেছেন।
তার সে আপবিতি (নিজ কাহিনী) বর্ননা করার এক পর্যায়ে তিনি নিজের পর্দা ব্যবহারের বিষয়ে বলতে গিয়ে বলেছেন, “ইসলামি পোশাক ও পর্দা ব্যবহারের আগ্রহ ইসলামি পুনর্জাগরণের একটি অংশ। এর মাধ্যমে আরব ও মুসলিম জনগোষ্ঠীসহ তাদের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে সচেষ্ট, অর্থনৈতিক ও ঔপনিবেশিক আধিপত্যের মাধ্যমে সে গৌরব বিনষ্ট ও পদদলিত করার প্রতিনিয়ত চেষ্টা করা হচ্ছে”।
আজকে এ প্রতিবেদনে ইসলাম গ্রহণ সম্পর্কে খাওলা নাকাতার মন্তব্য এবং ইসলাম নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গির বিস্তারিত উল্লেখ করা হলো।
খাওলা নাকাতা তার ইসলাম গ্রহণ সম্পর্কে বলেন, ফ্রান্সে অবস্থানকালে আমি ইসলাম গ্রহণ করি। ইসলাম গ্রহণের পূর্বে অধিকাংশ জাপানীর ন্যায় আমিও কোন ধর্মের অনুসারী ছিলাম না। ফ্রান্সে আমি ফরাসী সাহিত্যের উপরে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর লেখাপড়ার জন্য এসেছিলাম। আমার প্রিয় লেখক ও চিন্তাবিদ ছিলেন সাঁর্তে, নিৎশে ও কামাস। এদের সকলের চিন্তাধারা ছিল নাস্তিকতাভিত্তিক।
ধর্মহীন ও নাস্তিকতায় প্রভাবিত হওয়া সত্ত্বেও ধর্মের প্রতি আমার প্রবল আগ্রহ ছিল। আমার আভ্যন্তরীণ কোন প্রয়োজনে নয়, শুধুমাত্র জানার আগ্রহই আমাকে ধর্ম সম্পর্কে উৎসাহী করে তোলে। মৃত্যুর পরে আমার কি হবে তা নিয়ে আমার কোন মাথা ব্যথা ছিল না; বরং কিভাবে জীবন কাটাব এটাই ছিল আমার আগ্রহের মূল কেন্দ্রবিন্দু।
এরপর ইসলাম ছাড়া অন্যান্য ধর্ম সম্পর্কে আমি পড়াশুনা করতে থাকি। ইসলাম ধর্মকে আমি গুরুত্ব দেইনি তেমন। আমি কখনো চিন্তা করিনি যে, এটা পড়াশোনার যোগ্য কোন ধর্ম। আমার বদ্ধমূল ধারণা ছিল যে, ইসলাম ধর্ম হ’ল মূর্খ ও সাধারণ মানুষদের একধরণের মূর্তিপূজার ধর্ম। কত অজ্ঞই না আমি আমি!
প্রথমে আমি কিছু খৃষ্টানের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করি। তাদের সাথে আমি বাইবেল অধ্যয়ন করতাম। বেশ কিছুদিন গত হবার পর আমি স্রষ্টার অস্তিত্বের বাস্তবতা বুঝতে পারলাম। কিন্তু আমি এক নতুন সমস্যার মধ্যে পড়লাম। আমি কিছুতেই আমার অন্তরে স্রষ্টার অস্তিত্ব অনুভব করতে পারছিলাম না, যদিও আমি নিশ্চিত ছিলাম যে, স্রষ্টার অস্তিত্ব রয়েছে। আমি গির্জায় গিয়ে প্রার্থনা করার চেষ্টা করলাম, কিন্তু চেষ্টা বৃথা হ’ল। তখন আমি স্রষ্টার অনুপস্থিতি খুব প্রবলভাবে অনুভব করতে লাগলাম।
তখন আমি বৌদ্ধ ধর্ম অধ্যয়ন করতে শুরু করলাম। আশা করছিলাম এ ধর্মের অনুশাসন পালনের এবং যোগাভাসের মাধ্যমে আমি ঈশ্বরকে অনুভব করতে পারব। খৃষ্টান ধর্মের ন্যায় বৌদ্ধধর্মেও আমি অনেক কিছু পেলাম, যা সত্য ও সঠিক বলে মনে হ’ল। কিন্তু অনেক বিষয় আমি বুঝতে বা গ্রহণ করতে পারলাম না। আমার ধারণা ছিল, ঈশ্বর বা স্রষ্টা যদি থাকেন তাহ’লে তিনি হবেন সকল মানুষের জন্য এবং সত্য ধর্ম অবশ্যই সবার জন্য সহজ ও বোধগম্য হবে। আমি বুঝতে পারলাম না, ঈশ্বরকে পেতে হ’লে কেন মানুষকে স্বাভাবিক জীবন পরিত্যাগ করতে হবে।
আমি এক অসহায় অবস্থায় নিপতিত হলাম। ঈশ্বরের সন্ধানে আমার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা কোন সমাধানে আসতে পারল না। এমতাবস্থায় আমি একজন আলজেরীয় মুসলিম মহিলার সাথে পরিচিত হ’লাম। তিনি ফ্রান্সেই জন্মেছেন, সেখানেই বড় হয়েছেন। তিনি নামাজ আদায় করতে জানতেন না। তার জীবনযাত্রা ছিল একজন সত্যিকার মুসলিমের জীবনযাত্রা থেকে অনেক দূরে। কিন্তু আল্লাহর প্রতি তার বিশ্বাস ছিল খুবই দৃঢ়। তার জ্ঞানহীন বিশ্বাস আমাকে বিরক্ত ও উত্তেজিত করে তোলে। তাই আমি ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে অধ্যয়ন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি।
শুরুতেই আমি পবিত্র কুরআনের এক কপি ফরাসী অনুবাদ কিনে আনি। কিন্তু আমি ২ পৃষ্ঠাও পড়তে পারলাম না, কারণ আমার কাছে তা খুবই অদ্ভুত মনে হচ্ছিল।
আমি একা একা ইসলাম বোঝার চেষ্টা ছেড়ে দিলাম এবং প্যারিস মসজিদে গেলাম। আশা করছিলাম সেখানে কাউকে পাব, যিনি আমাকে সাহায্য করবেন।
সেদিন ছিল রবিবার এবং মসজিদে মহিলাদের একটি আলোচনা চলছিল। উপস্থিত বোনেরা আমাকে আন্তরিকতার সাথে স্বাগত জানালেন। আমার জীবনে এই প্রথম আমি ধর্মপালনকারী একজন মুসলিমদের সাথে পরিচিত হলাম। আমি অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম যে, নিজেকে তাঁদের মধ্যে অনেক সহজ ও আপন বলে অনুভব করতে লাগলাম; অথচ খৃষ্টান বান্ধবীদের মধ্যে সর্বদাই নিজেকে আগন্তুক ও দূরাগত অতিথি বলে অনুভব করতাম।
প্রত্যেক রবিবারে আমি আলোচনায় উপস্থিত হ’তে লাগলাম। সাথে সাথে মুসলিম বোনদের দেওয়া বইপত্র পড়তে লাগলাম। এসকল আলোচনার প্রতিটি মুহূর্ত এবং বইয়ের প্রতি পৃষ্ঠা আমার কাছে ঈশ্বরের প্রত্যাদেশের মত মনে হ’তে লাগল। আমার মনে হচ্ছিল, আমি সত্যের সন্ধান পেয়েছি। সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার হ’ল, সেজদারত অবস্থায় আমি স্রষ্টাকে আমার অত্যন্ত কাছে অনুভব করতাম। সেখান থেকেই আমি প্রথম অনুভব করলাম ইসলামই সেই ধর্ম যে ধর্মের মাধ্যমে আমি ফিরে পাবো আমার শান্তির ঠিকানা। আত্মিক প্রশান্তি।
এরপর এই নওমুসলিম মিসেস নাকাতা মিশরে যান আরবি ভাষা ও ইসলামী শিক্ষা আরো ভালোভাবে রপ্ত করার জন্য। আরবি ভাষা ভালোভাবে বোঝার পর নাকাতা কুরআনের বাণীর অর্থগুলো আরো ভালোভাবে উপলব্ধি করতে থাকেন: তিনি এ প্রসঙ্গে বলেছেন, আরবী ভাষা মোটামুটি বোঝার পর কুরআনের সৌন্দর্য আমাকে বিমুগ্ধ করছে। কুরআনের বিষয়বস্তুগুলো ছাড়াও এর সুরও অশেষ সৌন্দর্যে ভরপুর। কুরআন বার বার পড়লেও ক্লান্ত হওয়া তো দূরের কথা বরং আমার অন্তর যেন সৌভাগ্যের সাগরে অবগাহন করতে থাকে। মহান আল্লাহ আমাকে এই সৌভাগ্য নসিব করেছেন বলে আমি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ এবং আমি ইসলামকে আমার দেশের জনগণের কাছে তুলে ধরছি। যে সৌভাগ্য কেবল এক আল্লাহকে চেনা ও জানার মাধ্যমে পাওয়া যায় সে সৌভাগ্য তারাও অর্জন করুক- এই আমার প্রার্থনা। আমি সুনিশ্চিত যে আল্লাহর ওপর ভরসার সুবাদে সব কিছুই ঠিক হয়ে যাবে।
এ সময় মসজিদের বারান্দায় বই-পুস্তকের একটি ছোট্ট দোকান দেখলাম। কাছে গিয়ে বিক্রেতাকে বললাম: ‘আমি এমন একজনকে খুঁজছি যে ইসলামকে আমার কাছে পরিচিত করবে। সে আমাকে মসজিদের লাইব্রেরিতে নিয়ে গেল। সেখানে পৌঁছে দেখলাম যে একদল মুসলিম মহিলার জন্য ধর্ম বিষয়ক ক্লাস চলছিল এবং তা মাত্র কিছুক্ষণ আগে শেষ হল। সেই প্রথম আমি হিজাব পরিহিতা কোনো মুসলিম নারীকে দেখেছিলাম। তারা আমার প্রস্তাব শুনে খুব খুশি হয়ে আমাকে স্বাগত জানালেন। তারা ছিলেন সবাই সক্রিয়, প্রাণোচ্ছ্বল ও প্রফুল্ল।
তাদের দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী প্যারিসে যে কয়েকটি বৈঠক হতো তাতে উপস্থিত হতাম। মুসলমানদের এইসব বৈঠকে আমার উপস্থিতি ধীরে ধীরে আমার মানসিকতাকে বদলে দেয় এবং বেশ কিছু বই পড়ার পর ইসলাম সম্পর্কে আমার ধারণা বদলে যায়। আমি বুঝতে পারলাম যে ইসলামে কোনো কিছুই জোর করে চাপিয়ে দেয়া হয় না। ইসলাম জীবন যাপনের যৌক্তিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পথ দেখায়। কোনো কোনো ধর্ম বা মতবাদ সব ধরনের বস্তুগত, জৈবিক বা পার্থিব চাহিদাকে উপেক্ষা করে কেবল পারলৌকিক বিষয়কে গুরুত্ব দেয়। কিন্তু ইসলাম আত্মা ও শরীরের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে বলে। অর্থাৎ ইসলাম আত্মিক ও শারীরিক উভয় চাহিদাকেই গুরুত্ব দেয়।’
নিজের পর্দা মেনে চলার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে নাকাতা বলেন, আমার ইসলাম গ্রহণের দু’বছর আগে (১৯৯১ সালের জানুয়ারী মাসে), যখন ফ্রান্সে আমি ইসলাম গ্রহণ করি, তখন মুসলিম স্কুলছাত্রীদের ওড়না বা স্কার্ফ দিয়ে মাথা ঢাকা নিয়ে ফরাসীদের বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। অধিকাংশ ফরাসী নাগরিকের ধারণা ছিল, ছাত্রীদের মাথা ঢাকার অনুমতি দান সরকারী স্কুলগুলোকে ধর্মনিরপেক্ষ রাখার নীতির বিরোধী। আমি তখনো ইসলাম গ্রহণ করিনি। তবে আমার বুঝতে খুব কষ্ট হ’ত, মুসলিম ছাত্রীদের মাথায় ওড়না বা স্কার্ফ রাখার মত সামান্য একটি বিষয় নিয়ে ফরাসীরা এত অস্থির কেন? দৃশ্যতঃ মনে হচ্ছিল যে, ফ্রান্সের জনগণ তাদের ক্রমবর্ধমান বেকার সমস্যা, বৃহৎ শহরগুলোতে নিরাপত্তাহীনতার পাশাপাশি আরব দেশগুলো থেকে আসা বহিরাগতদের ব্যাপারে উত্তেজিত ও স্নায়ুপীড়িত হযে পড়েছিলেন, ফলে তারা তাদের শহরগুলোতে ও স্কুলগুলোতে ইসলামী পোশাক দেখতে আগ্রহী ছিলেন না।
অপরদিকে আরব ও মুসলিম দেশগুলোতে মেয়েদের মধ্যে, বিশেষ করে যুবতিদের মধ্যে ইসলামি হিজাব বা পর্দার দিকে ফিরে আসার জোয়ার এসেছে। অনেক আরব বা মুসলিম এবং অধিকাংশ পাশ্চাত্য জনগণের কাছে এটা ছিল কল্পনাতীত; কারণ তাদের ধারণা ছিল যে, পাশ্চাত্য সভ্যতার প্রসারের সাথে সাথে পর্দা প্রথার বিলুপ্তি ঘটবে।
“ইসলামি পোশাক ও পর্দা ব্যবহারের আগ্রহ ইসলামী পুনর্জাগরণের একটি অংশ।” এর মাধ্যমে আরব ও মুসলিম জনগোষ্ঠীসহ তাদের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে সচেষ্ট, অর্থনৈতিক ও ঔপনিবেশিক আধিপত্যের মাধ্যমে সে গৌরব বিনষ্ট ও পদদলিত করার প্রতিনিয়ত চেষ্টা করা হচ্ছে।
জাপানি জনগণের দৃষ্টিতে মুসলিমদের পুরোপুরি ইসলাম পালন একধরণের পাশ্চাত্য বিরোধিতা ও প্রাচীনকে আঁকড়ে ধরে রাখার মানসিকতা, যা মেজি যুগে জাপানীদের মধ্যে বিদ্যমান ছিল। তখন তারা প্রথম পাশ্চাত্য সভ্যতার সংস্পর্শে আসে এবং পাশ্চাত্য জীবনযাত্রা ও পোশাক পরিচ্ছদের বিরোধিতা করে।
মানুষ সাধারণত ভালমন্দ বিবেচনা না করেই যেকোন নতুন বা অপরিচিত বিষয়ের বিরোধিতা করে থাকে। কেউ কেউ মনে করেন যে, হিজাব বা পর্দা হচ্ছে মেয়েদের নিপীড়নের একটি প্রতীক। তারা মনে করেন, যে সকল মহিলা পর্দা মেনে চলে বা চলতে আগ্রহী তারা মূলতঃ প্রচলিত প্রথার দাসত্ব করেন। তাদের বিশ্বাস, এ সকল মহিলাকে যদি তাদের ন্যক্কারজনক অবস্থা সম্পর্কে সচেতন করা যায় এবং তাদের মধ্যে নারীমুক্তি আন্দোলন ও স্বাধীন চিন্তার আহবান সঞ্চারিত করা যায়, তাহ’লে তারা পর্দাপ্রথা পরিত্যাগ করবে।
এধরণের উদ্ভট ও বাজে চিন্তা শুধু তারাই করেন, যাদের ইসলাম সম্পর্কে ধারণা খুবই সীমাবদ্ধ। ধর্মনিরপেক্ষ ও ধর্মবিরোধী চিন্তাধারা তাদের মনমগজ এমনভাবে অধিকার করে নিয়েছে যে, তারা ইসলামের সার্বজনীনতা বুঝতে একেবারেই অক্ষম। আমরা দেখতে পাচ্ছি, বিশ্বের সর্বত্র অগণিত অমুসলিম মহিলা ইসলাম গ্রহণ করছেন, যাদের মধ্যে আমিও একজন। এদ্বারা আমরা ইসলামের সার্বজনীনতা বুঝতে পারি।
এতে কোন সন্দেহ নেই যে, ইসলামী হিজাব বা পর্দা অমুসলিমদের জন্য একটি অদ্ভুত ও বিস্ময়কর ব্যাপার। পর্দা শুধু নারীর মাথার চুলই ঢেকে রাখে না, উপরন্তু আরো এমন কিছু আবৃত করে রাখে, যেখানে অন্যদের কোন প্রবেশাধিকার নেই। আর এজন্যই তারা খুব অস্বস্তি বোধ করেন। বস্ত্ততঃ পর্দার অভ্যন্তরে কি আছে বাইরে থেকে তারা তা মোটেও জানতে পারেন না।
প্যারিসে অবস্থানকালেই ইসলাম গ্রহণের পর থেকে আমি হিজাব বা পর্দা মেনে চলতাম। আমি একটা স্কার্ফ দিয়ে আমার মাথা ঢেকে নিতাম। পোশাকের সংগে মিলিয়ে একই রঙের স্কার্ফ ব্যবহার করতাম। হয়ত অনেকে এটাকে নতুন একটা ফ্যাশন ভাবত। সঊদী আরবে অবস্থানকালে আমি কাল বোরকায় আমার সমস্ত দেহ আবৃত করে রাখতাম, এমনকি আমার মুখমন্ডল এবং চোখও।
যখন ইসলাম গ্রহণ করি তখন পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত আদায় করতে পারব কি-না, অথবা পর্দা করতে পারব কি-না তা নিয়ে আমি গভীরভাবে ভেবে দেখিনি। আসলে আমি নিজেকে এ নিয়ে প্রশ্ন করতে চাইনি; কারণ আমার ভয় হত, হয়ত উত্তর হবে না সূচক এবং তাতে আমার ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্ত বিঘ্নিত হতে পারে। প্যারিসের মসজিদে যাওয়ার আগের মুহূর্ত পর্যন্ত আমি এমন এক জগতে বাস করেছি, যার সাথে ইসলামের সামান্যতম সম্পর্কও ছিল না। ছালাত, পর্দা কিছুই আমি চিনতাম না। আমার জন্য একথা কল্পনা করাও কষ্টকর ছিল যে, আমি ছালাত আদায় করছি বা পর্দা পালন করে চলছি। তবে ইসলাম গ্রহণের ইচ্ছা আমার এত গভীর ও প্রবল ছিল যে, ইসলাম গ্রহণের পরে আমার কি হবে তা নিয়ে আমি কখনো ভাবিনি। বস্ত্ততঃ আমার ইসলাম গ্রহণ ছিল আল্লাহর অলৌকিক দান ও রহমতের বহিঃপ্রকাশ মাত্র। আল্লাহ আকবার!
ইসলামী পোশাক বা হিজাবে আমি নিজেকে নতুনভাবে অনুভব করলাম। আমি অনুভব করলাম যে, আমি পবিত্র ও পরিশুদ্ধ হয়েছি, আমি সংরক্ষিত হয়েছি। আমি আরো অনুভব করতে লাগলাম যে, আল্লাহ আমার সঙ্গে রয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ।
খাওলা নাকাতা ইসলাম গ্রহণের পর ইসলাম বিষয়ে বিস্তর গবেষণা বিশেষত ইসলামে নারীর পর্দা বিষয়ে অনেক গভীর আলোচনা করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন নারীদের পর্দা পালন করা ইসলামের সবচেয়ে সুন্দরতম সৌন্দর্যের মধ্যে একটি।
-সংগৃহিত

Please Share This Post in Your Social Media

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

37861047
Users Today : 1087
Users Yesterday : 4301
Views Today : 6027
Who's Online : 32
© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/
Design & Developed BY Freelancer Zone