বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
চাটখিলে যুব উন্নয়নের জনসচেতনতা মূলক প্রশিক্ষন তানোরে বঙ্গবন্ধুর মুরালের স্থান পরিদর্শন ছাতকে সকল শ্রেনী-পেশার মানুষের মাঝে স্বাস্থ্যসম্মত মাস্ক বিতরণ করেন মেয়র কালাম চৌধুরী।।  দুমকিতে মাস্ক ব্যবহার না করায় ২০জনকে জরিমানা। সাপাহারে বাল্য বিবাহের জরিপ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত ছাতকে সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা  সাভারে প্রযোজক ও পরিচালক ডিপজলের খামারে লাখ টাকা দামের কবুতর, আছে হাজারও পশু পাখি দেখতে হাজার মানুষের ঢল সাভার উপজেলায় সাড়ে ৮ হাজার কেজি চোরাই তারসহ র‍্যাব-৪ এর হাতে আটক- ৩ জন গাবতলীতে দুবৃত্তদের হামলায় আহত সজিব’কে দেখতে ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ ওরা স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আঘাত করেছে সাঁথিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার হুমকির প্রতিবাদ সভায় —এ্যাড. টুকু এমপি পাবনায় মালিগাছা ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের কর্মীসভা ও আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন চরতারাপুরে ব্রীজ ভাঙা নিয়ে প্রকাশিত মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদে ইউপি সদস্য বাবু’র সংবাদ সম্মেলন লাইন প্রেসক্লাবের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন পাবনার চরতারাপুরে অবাধে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে মানববন্ধন নলছিটি পৌরসভা নির্বাচন মেয়র প্রার্থী এসকেন্দার আলী খানের গণসংযোগ

গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের চলমান প্রক্রিয়ার আরো একটি গভীর শংকাজনক উদাহরণ: টিআইবি

 
ঢাকা, ০২ নভেম্বর ২০২০: অপহরণের পর চট্টগ্রামের সাংবাদিক গোলাম সারোয়ারকে অবর্ণনীয় নির্যাতনের ঘটনাকে স্বাধীন সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে আরো একটি হুমকি বলে মনে করছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। নিখোঁজ হওয়ার তিনদিন পর তাকে খুঁজে পাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করলেও, নির্যাতনে অর্ধমৃত ও অপ্রকৃতস্থ অবস্থায় তাকে ফিরে পাওয়াকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে মানতে নারাজ সংস্থাটি। অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে টিআইবি।
আজ গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “সাংবাদিক গোলাম সারোয়ারের নিখোঁজ হওয়া এবং নির্যাতনের পর আধমরা অবস্থায় তাকে খুঁজে পাওয়া মোটেও কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং মুক্ত সাংবাদিকতা তথা স্বাধীন গণমাধ্যমের কন্ঠরোধে চলমান হুমকি, ভয়ভীতি ও নির্যাতনের নিষ্ঠুর ধারাবাহিকতামাত্র। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী উদ্ধারকালে সাংবাদিক গোলাম সারোয়ারের আর্তনাদ ‘ভাই, আমাকে মাইরেন না, আমি আর নিউজ করবো না’– শুধুই নির্যাতনে অপ্রকৃতস্থ অসহায় ব্যক্তির স্বগোক্তি নয়, বরং সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকের ওপর নির্যাতন এবং সাহসী সাংবাদিকতার কন্ঠরোধের ভয়াবহ মধ্যযুগীয় বর্বরতার প্রমাণ। গণমাধ্যমের সার্বিক অবস্থার প্রতিচ্ছবিই যেন ফুটে উঠেছে গোলাম সারোয়ারের এই আর্তনাদের মধ্য দিয়ে!” ড. জামান বলেন, “নিয়মিত বিরতিতে সাংবাদিক নির্যাতন এবং গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে হামলা-মামলার ঘটনা ঘটলেও, কঠোর আইনী পদক্ষেপের মাধ্যমে যথোপযুক্ত শাস্তির দৃষ্টান্ত কার্যত অনুপস্থিত, যা নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছি। বরং একথা বলাও অত্যুক্তি হবে না যে, মুক্ত গণমাধ্যম ও স্বাধীন সাংবাদিকতা বিষয়ে সরকারের বারংবার উচ্চারিত কথামালা শুধুই ‘রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা’ মাত্র!”
‘স্থানীয় প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদের জেরে সারোয়ারকে অপহরণ ও নির্যাতন করা হয়ে থাকতে পারে’Ñ গণমাধ্যমে প্রকাশিত সারোয়ারের সহকর্মীদের এমন আশংকার সূত্র ধরে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে এধরনের আরো বেশ কিছু ঘটনার উদাহরণ আছে, যার কোন সুষ্ঠু তদন্ত কিংবা  বিচারের দৃষ্টান্ত আমরা দেখতে পাই না। তাহলে কি আমরা ধরে নিবো যে, সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকদের ওপর হামলা-মামলা ও নির্যাতন-নীপিড়ন এমনকি অপহরণ-গুমের মত ঘটনাও সরকার, তথা আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টরা গুরুত্বসহকারে দেখছেন না? আমরা আতঙ্কিত বোধ করছি, যখন দেখতে পাই সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা এবং সে কারণেই স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে! প্রভাবশালীদের অবৈধ স্বার্থ সুরক্ষা এবং তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশে বাধা সৃষ্টিতেই কি তাহলে এসব ঘটছে? অথচ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মুক্ত সাংবাদিকতা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা বিষয়ে একাধিকবার তার অঙ্গীকার ও স্বদিচ্ছার কথা বলেছেন! এসব ঘটনার পুনঃপৌনিকতা প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানের শুধু অবমাননাই করছে না, বরং মুক্ত সাংবাদিকতার সাংবিধানিক অঙ্গীকারকে ধারাবাহিকভাবে পদদলিত করছে।”
ইতোপূর্বে নিখোঁজ সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলের অন্তর্ধান রহস্যের সমাধান না করে উল্টো নিজ দেশে অবৈধ অনুপ্রবেশের দৃশ্যত বানোয়াট মামলায় তাকে গ্রেফতার এবং অমানবিকভাবে হয়রানির উদাহরণ টেনে ড. জামান আরো বলেন, “একজন মানুষ নিখোঁজ হলে যেখানে রাষ্ট্র তথা আইনশৃংখলাবাহিনী সে বিষয়ে তড়িৎ অনুসন্ধানের মাধ্যমে ঘটনার মূল উদঘাটন করার কথা, সেখানে একধরনের ঐচ্ছিক ব্যর্থতাই নিয়মিত উদহারণ হয়ে উঠেছে। এসব ঘটনায় মনে হয়, দেশে মৌখিকভাবে স্বাধীন সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং মুক্ত গণমাধ্যমের প্রচার থাকলেও বাস্তবে প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক উভয় পদ্ধতিতেই গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। বিশ^ মুক্ত সাংবাদিকতা তালিকায় ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের ১৫১তম অবস্থানও প্রমাণ করে যে, সাংবাদিকতা এদেশে ধারাবাহিকভাবেই কঠিন হয়ে উঠছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ অন্যান্য বিভিন্ন আইনের চাপে গণমাধ্যম নিজেও ‘সেল্ফ সেন্সরশিপে’ গুটিয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছে, যা স্বাধীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ধারণা ও বিশেষ করে স্বাধীন বাংলাদেশের চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক। তাই অবিলম্বে মুক্ত সাংবাদিকতার পথ উন্মুক্ত করতে আমরা সরকার ও সংশ্লিষ্ট সব মহলের কাছে জোর আহ্বান জানাই। পাশাপাশি গোলাম সারোয়ারসহ ইতোপূর্বে সাংবাদিকদের ওপর সংঘটিত প্রতিটি নির্যাতন ও হত্যাকা-ের ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তি প্রদানের দাবি জানাই।”

Please Share This Post in Your Social Media

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

37894415
Users Today : 1926
Users Yesterday : 14794
Views Today : 6408
Who's Online : 32
© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/
Design & Developed BY Freelancer Zone