মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২০, ০৯:০৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
হঠাৎ স্বর্ণ-রুপার দাম কমতে শুরু করেছে অবৈধ স্থাপনা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দখলমুক্ত করার নির্দেশ সিনহা হত্যাকাণ্ডের পর ‘ডাকাত’ বলে প্রচার করেছিল এরা এএসআইকে চড় মারার ঘটনায় সেই ওসি প্রত্যাহার আগস্টেই ২ আসনের নির্বাচন তফসিল ঘোষণা পাঠাওয়ের ফাহিমের খুনি হাসপিলের সঙ্গে ‘রহস্যময়’ তরুণী (ভিডিও) মেজর সিনহা হত্যায় আরও ৩ জন গ্রেফতার টানা ৭ ঘণ্টা বৃষ্টিতে ভিজে মানুষের জীবন বাঁচালেন এক নারী লেবানন সরকারের পদত্যাগ পত্র গ্রহন করেছেন প্রেসিডেন্ট আউন পুলিশের চাকরি ছিল ওসি প্রদীপের কাছে ‘আলাদিনের চেরাগ’ বেকিং নিউজ…পরিচয় মিলেছে প্রদীপের সেই আইনি পরামর্শদাতার ভারতে একদিনে আক্রান্ত ৫৩ হাজারের বেশি করোনাভাইরাস দেশে একদিনে ৩৩ মৃত্যু, আক্রান্ত ২৯৯৬ ‘প্লিজ, প্রে ফর আস’ মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার, সংকটাপন্ন অবস্থায় প্রণব মুখার্জি

চার মাস বেতন নেই, দিশাহারা ১০ লাখ বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে গত ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ থাকা দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ধ থাকতে পারে। এমতাবস্থায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন দেশের ১০ লাখ বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী। তারা বেতন পাচ্ছেন না গত চার মাস ধরে। করোনার কারণে বন্ধ রয়েছে প্রাইভেট-টিউশনিও।

বিভিন্ন স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের টিউশন ফির ব্যাপারে খুব বেশি সাড়া দিচ্ছেন না অভিভাবকরা। ফলে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই গত মার্চ মাস থেকে বেতন দিতে পারছে না শিক্ষক-কর্মচারীদের। অনার্স-মাস্টার্স কলেজের এমপিওহীন শিক্ষকরাও বেতন পাচ্ছেন না নিজের কলেজ থেকে। অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ও শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন দিচ্ছে না। আবার কেউ কেউ দিচ্ছে অর্ধেক বেতন।

সম্প্রতি সরকারি প্রণোদনায় বেসরকারি শিক্ষকদের এককালীন মাত্র ৫ হাজার টাকা আর কর্মচারীদের আড়াই হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

শিক্ষকরা জানান, প্রতিষ্ঠান থেকে মাসিক বেতনের বাইরে তাদের আয়ের অন্যতম উৎস ছিল টিউশনি। কিন্তু করোনার কারণে এখন সেই রাস্তাও বন্ধ। রাজধানীতে দু-চারজন যারা অনলাইনে পাঠদান করছেন তারা মূলত এমপিওভুক্ত বা ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষক। ফলে বেতন না পেয়ে ও টিউশনি হারিয়ে তারা গত চার মাসে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। অবস্থা এমনই যে অনেকে বাসা ভাড়াটাও দিতে পারছেন না। ইতোমধ্যে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে তাদের প্রণোদনা দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত এসেছে। তবে যৎসামান্য এ প্রণোদনায় তাদের কিছুই হবে না।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, প্রণোদনা দেওয়ার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী একটি থোক বরাদ্দের অনুমোদন দিয়েছেন। আমরা বেসরকারি শিক্ষকদের একটি ডাটাবেজ করছি। সেই অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে এ অর্থ প্রদান করা হবে।

এ বিষয়ে ননএমপিও একজন শিক্ষক নেতা বলেন, একজন শিক্ষককে মাত্র ৫ হাজার টাকা আর কর্মচারীকে মাত্র আড়াই হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ টাকার জন্য আবার ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। অ্যাকাউন্ট খোলা আর নতুন ছবি তোলাসহ একজন শিক্ষক-কর্মচারীর দুইশ থেকে তিনশ টাকা ব্যয় হবে। এর সঙ্গে যোগ হবে যাতায়াত খরচ। তা হলে আর কত টাকা তিনি প্রণোদনা পেলন? এ টাকা দিয়ে একজন শিক্ষকের পরিবার কতদিন চলতে পারবে?

বাংলাদেশ নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার বলেন, ‘আমাদের দাবি ছিল সরকারের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সব ননএমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার। কিন্ত বাছাই করে আড়াই হাজারের কিছু বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে স্তর পরিবর্তনই বেশি হয়েছে। এখনো ননএমপিও ৫ হাজারের বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৮০ হাজারের মতো শিক্ষক-কর্মচারী আছেন। যারা এখন বেতনহীন।’

এদিকে দেশে প্রায় ৫০ হাজার কিন্ডারগার্টেন স্কুলে ছয় লাখ শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। এসব প্রতিষ্ঠান চলে ভাড়া বাড়িতে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পাওয়া টিউশন ফির টাকাতেই এসব স্কুল কর্তৃপক্ষ বাড়িভাড়া, নানা ধরনের বিল ও শিক্ষকদের বেতন-ভাতা মেটায়। বর্তমানে স্কুল বন্ধ থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানের আয় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বকেয়া পড়েছে বাড়িভাড়া, বিলসহ শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন। এরই মধ্যে কিন্ডারগার্র্টেনের দুটি সংগঠন পৃথকভাবে সংবাদ সম্মেলন করে সরকারের কাছে প্রণোদনাও চেয়েছে।

বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মনোয়ারা ভূঞা বলেন, ‘অভিভাবকরা টিউশন ফি দিচ্ছেন না, তাই আমরা শিক্ষকদের বেতন, বাড়িভাড়া দিতে পারছি না। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৫০০ কোটি টাকার প্রণোদনা চেয়েছি। সরকার আমাদের সহায়তা না করলে অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া বিকল্প কোনো উপায় থাকবে না।’

বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে দেশে মোট চার হাজার ৩১২টি ইবতেদায়ি মাদ্রাসায় ২১ হাজার শিক্ষক থাকলেও বাস্তবে প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা অনেক বেশি। এর মধ্যে মাত্র এক হাজার ৫১৯টি মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকদের ২৫০০ টাকা ও সহকারী শিক্ষকদের ২৩০০ টাকা করে ভাতা দেয় সরকার। তবে চলতি অর্থবছরে এসব প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তিতে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি ও বরাদ্দ থাকলেও কাজ শেষ করতে পারেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদের সভাপতি এসএম জয়নাল আবেদিন জিহাদী বলেন, ‘চলতি অর্থবছরে আমাদের মাদ্রাসা এমপিওভুক্তির কথা থাকলেও তা আটকে আছে। করোনার মধ্যে আমাদের শিক্ষকরা চরম কষ্টে জীবনযাপন করছেন। আর কত দিন বেতন ছাড়া চাকরি করব আমরা? চলতি অর্থবছরের মধ্যেই ইবতেদায়ি মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত করার দাবি জানাচ্ছি আমরা।’

টেকনিক্যাল এডুকেশন কনসোর্টিয়াম অব বাংলাদেশের (টেকবিডি) সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আবদুল আজিজ বলেন, ‘১০ হাজার ৪৫২টি কারিগরি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯ হাজার ৭৫৯টিই বেসরকারি। করোনার প্রাদুর্ভাবের মধ্যে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে এসব প্রতিষ্ঠান। প্রায় দুই লাখ শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন পরিশোধই এখন দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় আমরা সরকারি প্রণোদনা না পেলে অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে। তাই আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আর্থিক প্রণোদনার আবেদন করেছি।’

এদিকে দেশে এখন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১০৫টি। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার। তবে কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলিয়ে এ সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হবে। বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিয়মিত বেতন-ভাতা পরিশোধ করলেও সমস্যায় আছে ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলো। প্রায় ৭৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিয়মিত বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না।

ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জিএম নিজাম উদ্দিনও জানিয়েছেন, তারাও সরকারের কাছে আর্থিক প্রণোদনা চেয়েছেন।

বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির সভাপতি শেখ কবির হোসেন বলেন, ‘মাঝারি ও ছোট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বেশ সমস্যায় আছে। কারণ সেমিস্টার পরীক্ষার আগে সাধারণত শিক্ষার্থীরা ফি পরিশোধ করে। কিন্ত করোনার কারণে সেই ফি এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ই শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দিতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছে। কেউ হয়তো অর্ধেক বেতন দিয়েছে। আমরা এ জন্য সরকারের কাছে আর্থিক প্রণোদনা চেয়েছিলাম। কিন্ত সে ব্যাপারে এখনো সাড়া মেলেনি।’

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 deshersangbad.com/
Design & Developed BY Freelancer Zone