রাফাল-চুক্তি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগকে তুঙ্গে নিয়ে গেলেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গাঁধী। সাড়ে চার বছর আগে মোদীর একটি মন্তব্যকে কটাক্ষ করে স্লোগান তুলে ফিরিয়ে আনলেন প্রায় তিন দশক আগের স্মৃতি।

রাফাল যুদ্ধবিমান নিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হ্যাল (হিন্দুস্তান এরোনটিক্স লিমিটেড)-এর সদ্য অবসরপ্রাপ্ত সিএমডি-র মন্তব্যকে হাতিয়ার করে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সুর চড়ান রাহুল। প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারামনকে সরাসরি ‘রাফাল মন্ত্রী’ আখ্যা দিয়ে তাঁর পদত্যাগ দাবি করেন তিনি। জবাবে রাহুলের সব অভিযোগকে ‘মিথ্যাচার’ আখ্যা দিয়ে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি কংগ্রেস সভাপতিকে ‘ক্লাউন প্রিন্স’ বা ‘জোকার যুবরাজ’ বলেন। এর পরেই আক্রমণের ধার বাড়ান রাহুল। এবং জেটলি-নির্মলাদের এক রকম উপেক্ষা করে সরাসরি মোদীকে নিশানা করে রাজস্থানের জনসভায় তিনি স্লোগান তোলেন, ‘গলি গলি মে শোর হ্যায়, হিন্দুস্তানকা চৌকিদার চোর হ্যায়!’

২০১৪-র লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে নিজেকে দেশের ‘চৌকিদার’ বলে দাবি করে মোদীর স্লোগান ছিল, ‘‘না খাউঙ্গা, না খানে দুঙ্গা।’’ সেই স্লোগানকেই কটাক্ষ করে রাহুল এ দিন ‘চৌকিদার’ মোদীকে নিশানা করলেন। তাঁর এই স্লোগান যে ২০১৯-এর লোকসভা ভোটে দলের নেতা-কর্মীদের মুখে মুখে ফিরবে, তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু একই সঙ্গে এটা মনে করিয়েছে, ১৯৮০-র দশকের শেষ ভাগে বফর্স-কাণ্ডের সময় রাহুলের বাবা রাজীব গাঁধীর বিরুদ্ধে বিশ্বনাথ প্রতাপ সিংহের নেতৃত্বে বিরোধীরা একই রকম স্লোগান তুলেছিলেন। সেই স্লোগানের ধাক্কায় রাজীবকে গদি হারাতে হয়। রাহুল সম্প্রতি একাধিক বার ঘনিষ্ঠ মহলে বলেছেন, দেশের রাজনীতিতে আর একটি বফর্স হয়ে উঠতে পারে রাফাল। ফারাক হল, বফর্স-এ দুর্নীতির অভিযোগ মিথ্যে প্রমাণিত হয়েছে। রাফাল-এ মোদী সরাসরি দুর্নীতিতে জড়িত।

 

রাজস্থানের দুঙ্গারপুরে এক সভায় আজ রাহুল বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী রাফাল যুদ্ধবিমান তৈরির বরাত দিয়েছেন অনিল অম্বানীকে, যিনি জীবনে কখনও যুদ্ধবিমান বানাননি!’’ রাষ্ট্রায়ত্ত হ্যাল-কে রাফালের বরাত না দেওয়া নিয়ে প্রথম থেকেই মোদীকে নিশানা করেছেন রাহুল। মোদীর হয়ে আসরে নেমে ক’দিন আগে নির্মলা দাবি করেন, ওই যুদ্ধবিমান তৈরির ক্ষমতা হ্যাল-এর ছিল না। সেই দাবি উড়িয়ে হ্যাল-এর সদ্য অবসরপ্রাপ্ত সিএমডি টি এস রাজু কাল বলেন, হ্যাল-ও রাফাল তৈরি করতে পারত। রাজুর এই বক্তব্যকে অস্ত্র করেই আজ প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন রাহুল। তিনি বলেন, ‘‘দুর্নীতি ঢাকার দায়িত্ব পেয়ে রাফাল-মন্ত্রী ফের মিথ্যে বলতে গিয়ে ধরা পড়েছেন! ওঁর এ বার পদত্যাগ করা উচিত।’’

নির্মলাকে আক্রমণের জবাব দিতে গিয়ে জেটলি রাহুলের সব অভিযোগ মিথ্যে বলে দাবি করে নিজের লেখেন, ‘‘একজন জোকার যুবরাজের মিথ্যাচারকে রাজনৈতিক বিতর্ককে দূষিত করার অনুমতি দেওয়া হবে কি না, বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রকে এ বার গুরুত্ব দিয়ে তা ভাবতে হবে।’’ এর পরেই রাজস্থানের সভা থেকে ‘চৌকিদার’কে চোর বলে স্লোগান তোলেন রাহুল।
রাহুল সরাসরি মোদীকে নিশানা করতেই আসরে নামেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি। তিনি বলেন, ‘‘রাহুল কোনও দিনই প্রধানমন্ত্রী পদকে সম্মান করেননি।’’ এই প্রসঙ্গে মনমোহন সিংহের জমানায় একটি অধ্যাদেশ প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলার কথা মনে করিয়ে দেন স্মৃতি।

 

দেশ ছাড়ার আগে জেটলির সঙ্গে দেখা করেছিলেন বলে পলাতক শিল্পপতি বিজয় মাল্য দাবি করার পরেই রাহুল টানা জেটলিকে নিশানা করছেন। তারই পাল্টা দিতে আজ জেটলি রাহুলকে উদ্দেশ করে লেখেন, ‘‘আপনি রাফাল চুক্তি নিয়ে মিথ্যে বলছেন।’’ পাল্টা শ্লেষে জেটলিকে ‘জেট-লাই’-জি বলেন কংগ্রেস মুখপাত্র রণদীপ সুরজেওয়ালা।