বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০১:৫৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
সাদা ফুলের বর্ণিল সাজে সেজেছে আত্রাইয়ের সজিনা গাছগুলো ভারতীয় রিএসএফ এ দেশের ভেতর ঢুকে সীমান্তে বাংলাদেশী হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমনের প্রতিবাদ স্ত্রী প্রসঙ্গে নাসির, ‘আমার ভয় লাগছে ওকে নিয়ে’ বনানীতে পিলখানার শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা বাগেরহাটে মোরেলগঞ্জে  ঘেরের ভেড়িতে করলা চাষে লাভবান কৃষকের মুখে মিষ্টি হাসি জামালপুরে পৌর নির্বাচন নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সংবাদ সম্মেলন পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের জন্য সুখবর ৭ কলেজের পরীক্ষা চলবে, আন্দোলন প্রত্যাহার আজ পিলখানা হত্যাকাণ্ডের এক যুগ ফেনীতে খাবার ফ্যাক্টরিতে ভয়াবহ আগুন মেয়েদের শরীরের ৭টি স্থান বড়ই ‘টার্ন অন’ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত সেতুর অভাবে দুর্ভোগে মানুষ তানোরের বাধাইড় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার বেতাগী উপজেলার ভূমি অফিস পরিদর্শনে বরিশালের ডিএলআরসি: কর্মকর্তা-

ট্রেনের টিকিটের ব্যাপক দুর্নীতি ও কালোবাজারি

 

অনলাইনে ট্রেনের টিকিট প্রায় সময় পাওয়া যায় এবং এটা বাংলাদেশ রেলওয়ে ও আমদের জন্য ভালো একটা দিক । অন্যদিকে কাউন্টার গুলোতে প্রায় সময় টিকিট পাওয়া যায় না । বেশির ভাগ টিকিট চলে যায় কালোবাজারিদের হাতে এবং এটা এখন সবচেয়ে বেশি হচ্ছে ঢাকার বাইরের কাউন্টার গুলোতে।
অফিসের কাজে গত দুই মাসে আমি পাবনার চাট্মোহর , সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া , জামাল্পুর বাজার , জামালপুর মেলান্দহ , ভৈরব বাজার স্টেশন দিয়ে ভ্রমণ করেছি। ঢাকা থেকে যাওয়ার সময় টিকিট সব সময় অনলাইনেই পেয়েছি, কিন্তু রিটার্ন টিকিট না অনলাইনে ছিল , না কাউন্টার গুলোতে।
আবার মজার ব্যাপার হচ্ছে কাউন্টারের ঠিক দুই হাত দুরেই দালালেরা টিকিট লাগবে নাকি বলে হাতছানি দিচ্ছে । শুধু তাই নয় তাদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণ টিকিট আছে , তারা বুক ফুলিয়ে কাউন্টারের সামনেই টিকিট বিক্রি করছে , কাউন্টারের লোকদের সাথে রয়েছে তাদের চুক্তিভিত্তিক সম্পর্ক।
টিকিটের কমিশনের টাকা যদি তারা ভাগ নাই পায় তাহলে এত টিকিট দালালেরা পায় কিভাবে ? আর ওপেনে টিকিট বিক্রি করার সাহস পায় কোথায়? দেখার মত কেউ নেই । এই জিনিসটা সবচেয়ে বেশি দেখেছি জামাল্পুর বাজার , মেলান্দহ ও ভৈরব বাজারে। ভৈরব বাজার থেকে ঢাকা
শোভন চেয়ারের ভাড়া ১০৫ টাকা একটা ট্রেনে , সেখান থেকে দালালেরা রাখে ২৫০ টাকা । ১ টাকাও কম হবে না সাফ জানিয়ে দিল ,একটা ছোট হিসাব দেই , প্রতিদিন গড়ে কমপক্ষে যদি ২০০ টিকিট বিক্রি করে আর ১৫০ টাকা করে বেশি নেয় তাহলে প্রতিদিন তাদের ইনকাম ৩০ হাজার টাকা
মাসে সংখ্যাটা দাড়ায় ৯ লক্ষ্য টাকা!!! একটু খেয়াল করেছেন কত টাকা ? আর এর ভাগ পায় কে কে ? কাউন্টারের আশে পাশে অসংখ্য সঙ্গবদ্ধ দালাল চক্র প্রচুর টিকিট নিয়ে ঘোরাঘোড়ি করছে । আপনি ষ্টেশনে ঊঠার আগেই কয়েকদফা তাদের কাছ থেকে অফার পাবেন
“টিকিট লাগবে নাকি ” বলে। একই দৃশ্য আমি বেশ কয়েক জায়গায় দেখেছি , সরেজমিনে দেখতে পারেন , জামালপুর , ভৈরব সহ অন্যান্য ষ্টেশনে যারা যাতায়াত করেন তারা সবাই এ ধরনের অভিজ্ঞতার সাক্ষী দেবে। ভৈরব বাজার ষ্টেশনে আমি লক্ষ করেছি বড় ধরনের সিসি ক্যামেরা আছে , কিন্তু
এর প্রয়োগ কতটুকূ বা কেন আছে আমি জানিনা। একজন সাধারণ সচেতন নাগরিক হয়ে আমি ফোন করেছিলাম দুদকের হেল্পলাইন নাম্বার ১০৬ এ । বেশ কয়েকবার ফোন করার পর রিসিভ হয় , ভাবলাম একটা সমাধান হবে, অপরপ্রান্তের ভদ্রলোক সাফ জানিয়ে দিলেন লিখিত অভিযোগ দিতে।
লিখিত অভিযোগ করার প্রয়োজন হলে , হেল্পলাইন টোল ফ্রি নাম্বার রেখে লাভ কি ?? একটি স্বাধীন দেশে প্রকাশ্যে এমন দুর্নীতির চিত্র আমরা নতুন প্রজন্ম মেনে নিতে পারি না। এ সকল দালালদের ও তাদের সহযোগিদের কালো হাত বন্ধ করে দিলে , টিকিটের সঙ্কট আর থাকে না , যে কেউই যে কোন সময় টিকিট পাবে বলে আমি মনে করি । একদিকে বাড়বে রেলওয়ের অর্থনীতি
অন্যদিকে মানুষও পাবে শান্তি। এই কুচক্রি মহলের বিরুদ্ধ্যে শুধ্যি অভিযান খুবই জরুরি ,এটা এখন সময়ের দাবি । আশা করি সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ হবে । বাড়বে রেলের সেবা । না হলে অনলাইনে টিকিট করে , ডিজিটাল বাংলাদেশ করে আমরা কি করব , যদি একটি মহলের কাছেই থাকে
সব টিকিট ?নতুন রেলওয়ে মন্ত্রী মহোদয় আসার পরে অনেক উল্লেখ্যযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে , আশা করি এই সমস্যার ও সমাধান হবে। আর আমাদেরকেও সচেতন হতে হবে, দালাল থেকে দূরে থাকতে হবে । তাহলেই মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে রেল ভ্রমণ করতে পারবে । সবার জন্য শুভ কামনা

মোঃ আব্দুস সাত্তার
লেখক , গবেষক ও আইটি বিশেষজ্ঞ

Please Share This Post in Your Social Media

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

38321832
Users Today : 2382
Users Yesterday : 3479
Views Today : 6507
Who's Online : 37
© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/