Home / টপ স্টোরিজ / ডলার বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকায়

ডলার বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকায়

বৈদেশিক মুদ্রা মার্কিন ডলারের বাজারে এখন আগুন। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি ডলারের কেনা-বেচার মূল্য ৮৪ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করেছে। তবে খোলাবাজারে এখন প্রতিটি ডলার ৮৮ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবুও মিলছে না ডলার।

বেপরোয়া চোরাচালান, কালোবাজারি, রপ্তানি ও রেমিটেন্স বিপর্যয়ের কারণে ডলারের দাম আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, আমদানি খরচ বাড়ার নেতিবাচক প্রভাব সামনে নিত্যপণ্যে পড়বে।

জানা গেছে, দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রধান মুদ্রা মার্কিন ডলারের দাম বাড়ায় চরম অসহায় হয়ে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।

খোলাবাজারে ডলার ৮৭ টাকা ৫০ থেকে ৮৮ টাকায় কিনে আবার ৯০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে প্রবাসী ও কিছু রপ্তানিকারক খুশি হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বেশিরভাগ ব্যবসায়ী। ফলে বাড়ছে পণ্যের দাম। জীবনযাত্রার খরচও বাড়ছে।

গত কয়েক মাস ধরে চলা ডলার সংকট আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে প্রতিদিনই দাম বাড়ছে ডলারের। বিভিন্ন ব্যাংকের ডলার বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৮৮ টাকা পর্যন্ত। যা গত এক মাস আগেও ছিল ৮৬ টাকায়।

আমদানি দায় পরিশোধে বাড়তি মূল্যে কিনতে হচ্ছে ডলার। কিছু কিছু ব্যাংকের প্রচ- সংকটের কারণে খুচরা বাজার থেকে কিনছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারের চাহিদা মেটাতে ডলার বিক্রি করছে ব্যাংকগুলোতে। তাতেও সংকট কমছে না। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারকে উদ্যোগ নিতে বলেছেন ব্যবসায়ীরা।

এ প্রসঙ্গে ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন-এফসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, করোনায় সব কিছু এলোমেলো হয়ে গেছে। বর্তমান বাস্তবতায় ডলারের দাম ধরে রাখা কষ্টকর। আগামীতে ডলারের দাম আরও বাড়বে। আমদানিতে খরচ বাড়বে। ফলে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ারও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে সংকট কাটিয়ে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ালে ডলারের দাম কমবে বলেও মত দেন এই শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা।

এফবিসিসিআই সহসভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, পুরো বিশ্বে সংকট চলছে। বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান খাত রেমিটেন্স ও রপ্তনি দুটোই কমেছে। মহামারী করোনাভাইরাসের প্রভাবে ডলারের দাম সামনে আরও বাড়তে পারে। এখন সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, কীভাবে ডলারের মূল্য ব্যবস্থাপনা করা যায়, সেই উদ্যোগ এখনি নিতে হবে।

বাংলাদেশ মানি চেঞ্জার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মোস্তফা খান বলেন, কয়েক দিন আগেও যে ডলারের দাম ৮৬ টাকা ৫০ পয়সা ছিল, সেটা এখন ৮৯ থেকে ৯০ টাকায় কেনা-বেচা হচ্ছে। তারপরও বাজারে ডলার পাওয়া যাচ্ছে না। প্রচুর সংকট চলছে। ঘরে ঘরে এখন ডলার কালোবাজারি ও চোরাকারবারি তৈরি হয়েছে। ফলে ৮৮ থেকে ৯০ টাকা ডলার বিক্রি হচ্ছে অঘোষিতভাবেই। সোনা চোরচালানও ডলারের দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

এই ব্যবসায়ী বলেন, সামনে ডলারের দাম আরও অনেক বাড়বে। জানি না, সেটা কোথায় গিয়ে ঠেকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে পাওয়া তথ্যমতে, আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বেড়েই চলেছে। এক বছরের ব্যবধানে প্রতি ডলারের দাম বেড়েছে ১ টাকা। গতকাল ৩ জুন প্রতি ডলারের দাম নির্ধারিত ছিল ৮৪ টাকা ৯৫ পয়সা।

এর আগে গত ১৭ ফেব্রুয়ারিও প্রতি ডলারের দাম নির্ধারিত ছিল ৮৪ টাকা ৯৫ পয়সা, যা এক বছর আগে ২০১৯ সালের একই দিনে ছিল ৮৪ টাকা ১৫ পয়সা, ২০১৮ সালে ৮২ টাকা ৯৬ পয়সা, ২০১৭ সালে ৭৯ টাকা ৩৭ পয়সা, ২০১৬ সালে ৭৮ টাকা ৪৫ পয়সা এবং ২০১৫ সালে প্রতি ডলারের দাম ছিল ৭৭ টাকা ৮০ পয়সা।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রা বিনিময় হারের তথ্যে ডলারের দামে এই চিত্র দেখা গেলেও খোলাবাজারে দামের সঙ্গে ফারাক ৫ টাকার বেশি। জানা গেছে, খোলাবাজারে কেউ ডলার কিনতে গেলে তাকে প্রতি ডলারের বিনিময়ে গুনতে হচ্ছে ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৯০ টকা পর্যন্ত। চলতি বছরের শুরুতে খোলাবাজারে ডলারের দাম ছিল ৮৫ থেকে ৮৬ টাকা।

অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, ডলারের দাম বাড়লে রপ্তানিকারক ও রেমিট্যান্স প্রেরণকারীরা লাভবান হন। অন্যদিকে আমদানিকারকরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। কারণ পণ্যের আমদানি ব্যয় বেড়ে যায়। ফলে স্থানীয় বাজারে পণ্যমূল্য বেড়ে যায়। এ কারণে মূল্যস্ফীতি দেখা দেয়। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যায়। তাই ডলারের দাম বাড়লে রপ্তানিকারকরা যদি তা কাজে লাগাতে না পারেন তাহলে এতে ভালো না হয়ে ক্ষতি হয় বেশি।

জানা গেছে, মহামারী করোনাভাইরাসের প্রভাবে রপ্তানি কমার সঙ্গে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রবাহে নেতিবাচক ধারা বইছে। ফলে প্রতিদিনই দাম বাড়ছে ডলারের। বিভিন্ন ব্যাংকের ডলার বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৮৮ টাকা পর্যন্ত, যা গত এক মাস আগেও ছিল ৮৬ টাকায়। আমদানি দায় পরিশোধে বাড়তি মূল্যে কিনতে হচ্ছে ডলার। কিছু কিছু ব্যাংকের প্রচ- সংকটের কারণে খুচরা বাজার থেকে ডলার কিনছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারের চাহিদা মেটাতে ডলার বিক্রি করছে ব্যাংকগুলোতে। তাতেও সংকট কমছে না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে রপ্তানি কম। আর বর্তমানে করোনাভাইরাসের কারণে এখন রপ্তানি নেই বললেই চলে। অন্যদিকে রেমিট্যান্স প্রবাহও কমে গেছে। কিন্তু পরিশোধ করতে হচ্ছে আমদানি ব্যয়। কারণ যেসব আমদানি এলসি আগে করা হয়েছিল সেগুলো এখন নিষ্পত্তি করতে হচ্ছে। ফলে বাজারে ডলারের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এতে অনেক ব্যাংক আমদানি ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, এখন আন্তঃব্যাংক দরে ডলারের দাম ৮৪ টাকা ৯৫ পয়সা। তবে ব্যাংকগুলোতে ডলার লেনদেনের চিত্র ভিন্ন। বেশকিছু ব্যাংক ডলার সংকটের কারণে পণ্য আমদানি দায় পরিশোধে ডলারের মূল্য নিচ্ছে ৮৭ টাকা পর্যন্ত। খুচরা পর্যায় দাম আরও বেশি। কোনো কোনো ব্যাংক খুচরা ডলার বিক্রি করছে ৮৮ থেকে ৮৮ দশমিক ৫০ পয়সা পর্যন্ত। যা এ যাবৎকালে সর্বোচ্চ। ডলারের এ সংকটকালে আমদানি কার্যক্রম অব্যাহত রাখা ও ডলারের সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রতিদিন ডলার বিক্রি করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলমান পরিস্থিতিতে বিভিন্ন জায়গায় লকডাউন ও সাধারণ ছুটির সময় বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছে প্রায় ৪০ কোটি ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

নিউজটি লাইক দিন ও আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

About jahir

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

পাটকলগুলোর আধুনিকায়নের কর্মপন্থা দ্রুত প্রস্তুতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী

পাটকলগুলোর ধারাবাহিক লোকসানের জন্য শ্রমিক ভাইয়েরা দায়ী না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ...