রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২০, ০৩:২৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
ওসি প্রদীপ মিথ্যা মামলা করার আইনি পরামর্শও নিয়েছিলেন প্রত্যাহার আর বদলিতে সীমাবদ্ধ “লাগামহীন ওসি”দের শাস্তি ! ঘুম থেকে তুলে ক্রসফায়ার দেন ওসি প্রদীপ, টাকাও নেন ১৮ লাখ (ভিডিও) সিনহাকে ‘হত্যা’র পর ‘বাঁচার জন্য’ আইনজীবীকে ফোন ওসি প্রদীপের (অডিও)ভাইরাল পুলিশ নিজেদের এখন ‘ওয়েস্টার্ন হিরো’ ভাবছে: সোহেল চেকপোস্টে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তদারকি আরো বাড়াতে হবে: ডিএমপি কমিশনার থানায় বোমা বিস্ফোরণের পর মিরপুর পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বদলি মাহিন্দা রাজাপাকসেকে অভিনন্দন জানালেন শেখ হাসিনা বৈরুতে আহত বাংলাদেশিদের দূতাবাসে যোগাযোগের আহ্বান জোয়ারে প্লাবিত লক্ষ্মীপুর : ক্ষতির শিকার ১১ হাজার হেক্টর ফসলী জমি লক্ষ্মীপুর জেলা উন্নয়ন বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক কমিটি গঠন অটোরিকশার ৭ যাত্রীকে পিষে দিলো বাস গণমাধ্যমে প্রচার হওয়া ,ফোনালাপ যাচাই করা হবে: র‌্যাব প্রেম করে বিয়ে করছেন? তাহলে দেখে নিন কী কী ভুল হতে পারে আপনার! যে কারণে ছেলেদের দেখলে মেয়েরা বার বার ওড়না ঠিক করে

তবে কি নদীর পানি শুকিয়ে গেল!

বাংলাদেশে টাকা দিয়ে সব পাওয়া যায় তিনি প্রমাণ করলেন। পেয়েছেনও বটে। টাকার নৌকা সংসদ বনে যায় ও মিরা ভাই।

বলছিলাম সম্প্রতি আমাদের দেশের একজন নতুন ধনকুবেরের কথা। যার আগমন ২০১৭ সময়কালীন। সাংসদ (লক্ষ্মীপুর ২ আসন) কাজী শহিদ ইসলাম (পাপুল) কুয়েতে (গত ৬ই জুন, ২০২০) অর্থপাচার ও মানবপাচারের অভিযোগে আটক হন। পরবর্তীতে তাহার বিরুদ্ধে জালিয়াতি করে কর্মী নিয়োগ, রেসিডেন্সি আইনের লঙ্ঘন ও ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। বর্তমানে তিনি কুয়েতে জেলহাজতে আছেন এবং তাহার মামলা চলমান যাহার পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য করা হয় আগামী ৬ই জুলাই, ২০২০।

গত ৬ই জুন আটকের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদে তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে তিনি এই মর্মে স্বীকারোক্তি দেন যে, কাজ করার জন্য প্রথম কুয়েতে যান ১৯৮৪ সালে। এরপর থেকে সব সময় কুয়েতের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে কাজ করছেন। এই দীর্ঘ সময়ে কাজ করতে গিয়ে কুয়েতের বিভিন্ন স্তরের অনেকের সঙ্গে তাঁর বন্ধুতা হয়েছে। কিন্তু কারো সঙ্গেই সন্দেহভাজন কোন কাজে জড়াননি।
বিভিন্ন জনকে ঘুষ দেওয়া ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কাজী শহিদ।

এবার আসা যাক তিনি আমাদের বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ২৭৫ নাম্বার আসনের এমপি তথা লক্ষীপুর-২ আসনের এমপি। যদিও তিনি ফ্লোর ক্রসিং করে (পলিটিক্যাল ডিফেকশন) বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাহার বর্তমান পরিস্থিতিতে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের জনগণ ধোঁয়াশার মধ্যে আছেন। জনমনে প্রশ্ন উদয় হচ্ছে। তিনি কি আবার ফিরে আসতে পারবেন জাতীয় সংসদে? লক্ষ্মীপুর ২ আসনে কি উপনির্বাচন দিতে হবে?

আমরা দেখে আসি এই সম্পর্কে বাংলাদেশের সাংবিধানিক বা মৌলিক আইন এবং সাধারন আইন কি বলে।

আমরা এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে হলে প্রথমেই জানতে হবে, বাংলাদেশের একজন সাংসদের কি কি কাজ করলে সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের ২ উপ অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্যদের অযোগ্যতার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ কি কি কারণে একজন সাংসদের সংসদ সদস্য পদ শূন্য হবে।

যদি কোন উপযুক্ত আদালত তাকে অপ্রকৃতিস্থ ঘোষণা করে; অথবা যদি তিনি দেউলিয়া ঘোষিত হওয়ার পর দায় থেকে অব্যাহতি লাভ না করে থাকেন; অথবা যদি তিনি কোন বিদেশী রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করেন কিংবা কোন বিদেশী রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা বা স্বীকার করেন; অথবা যদি তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোন ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ন্যূনতম দুই বছরের দণ্ডিত হন কিংবা তার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বছর অতিবাহিত না হয়ে থাকে; অথবা তিনি ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ যোগসাজশকারি (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশের অধীন কোন অপরাধের জন্য দণ্ডিত হয়ে থাকে; অথবা যদি তিনি প্রজাতন্ত্রের কর্মে লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকেন; অথবা অন্য কোন আইনের দ্বারা তিনি যদি সংসদ সদস্য নির্বাচনের অযোগ্য বলে গণ্য হন। উপরোক্ত কারণগুলোর যেকোনো একটি কারণ থাকলেই বাংলাদেশের একজন সাংসদের সংসদ সদস্য পদ বাতিল হতে পারে।

ইতিমধ্যেই গণমাধ্যমের দ্বারা আমরা জেনেছি, কাজি শহীদ ইসলাম পাপুল বিভিন্ন জনকে ঘুষ দেওয়া ছাড়া তার বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাহলে বোঝা যাচ্ছে তিনি ঘুষের কথা স্বীকার করছেন। যদি তিনি জালিয়াতি করে কর্মী নিয়োগ করে থাকেন অথবা কুয়েতের রেসিডেন্সি আইন ভঙ্গ করেন। সেজন্য তিনি যদি নুন্যতম ২ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হন তাহলে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে অযোগ্য ঘোষিত হইবেন।
যদি বলা হয় অপরাধ করেছেন কুয়েতে তবুও কি বাংলাদেশে তাকে শাস্তি ভোগ করতে হবে?
হ্যাঁ হবে। কারণ বাংলাদেশ দন্ডবিধি ১৮৬০ এর ৪ ধারায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশী নাগরিক বিদেশে অপরাধ করলে এবং উক্ত অপরাধটি দণ্ডবিধি অনুযায়ী অপরাধ হলে অপরাধের বিচার বাংলাদেশ করা যাবে।

গণমাধ্যমে আমরা আরো জানতে পারি যে, বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশন এমপি কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল এর স্ত্রী,কন্যা এবং শালিকার বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করে বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টে চিঠি দিয়েছেন।

অবশেষে বলা যায়, যদি দুদকের আইনেও তাহার বিচার হয় এবং তিনি সাজাপ্রাপ্ত হন উপরে বর্ণিত নিয়ম অনুসারেই তাঁহার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হবে।

লেখক, এম এইচ শিমুল
আইনজীবী।
ঢাকা।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 deshersangbad.com/
Design & Developed BY Freelancer Zone