রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪:০৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
বাংলাদেশ ডিজিটাল পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানিকারক দেশে রূপান্তর : মোস্তাফা জব্বার ‘মোদি সরকারের আমলে ভারত-পাকিস্তান সিরিজ সম্ভব নয়’ দেশের ১৭ অঞ্চলে ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস বাংলাদেশ থেকে সিঙ্গাপুর যেতে করোনা পরীক্ষার দরকার নেই এমসি কলেজে গণধর্ষণ: সাইফুরের পর এবার অর্জুন লস্কর গ্রেফতার শহরের মেয়েদের কম বয়সে স্তন বড় হয় কেন? (ভিডিও) বিরামপুরে প্রাণঘাতী কোভিট-১৯,করোনা ভাইরাস সংক্রমণের প্রার্দূভাব হ্রাস পেয়ে জনগণের মধ্যে স্বস্তি কৃত্রিম সংকটে বিমান টিকিটের দ্বিগুণ দাম গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের সংকট নিরসনে দ্রত পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান।  রাজশাহীর সিভিল সার্জন অফিসের গাফেলতিতেই ক্লিনিকে বাড়ছে অনিয়ম সোনালী স্বপ্নের প্রত্যয় নিয়ে আমিনের প্রচারণা রৌমারীর জনদরদী ও সফল ইউপি  চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম সালু!  ঝিনাইদহে করোনা ভাইরাসে বৃটিশ টোব্যাকো কোম্পানির ম্যানেজারের মৃত্যু ১২ দিন ধরে নিখোঁজ ঝিনাইদহের ব্যবসায়ী আশিকুর রহমান, হতাশ পরিবারে চলছে বোবা কান্না! শৈলকুপায় কলেজছাত্র সুজনের মরদেহ উদ্ধার: বেরিয়ে আাসছে চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক তথ্য ঝিনাইদহে এলজিইডির অর্থয়নে নির্মিত শত শত রাস্তা ভেঙ্গে রাস্তা ভেঙ্গে পুকুরে বিলীন, দেখার কেও নেই

তিন গুণী তারকার মৃত্যু, শোবিজে শোকের ছায়া

বিশ্বজুড়ে চলছে করোনাভাইরাসের প্রতাপ। যার প্রভাব পড়েছে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে।

থেমে আছে শুটিং, বন্ধ হয়ে গেছে থিয়েটার, প্রাণহীন হয়ে গেছে শোবিজ অঙ্গন। শুধু এতেই থেমে থাকেনি ভাইরাসটি। করোনায় সংক্রমিত হচ্ছেন বহু তারকা। প্রাণ যাচ্ছে একের পর এক শিল্পী, অভিনেতা-অভিনেত্রী কিংবা নির্মাতাসহ শোবিজ অঙ্গনে জড়িত খ্যাতিমানদের।

শুধু করোনাতেই নয়, অন্যান্য রোগে ভুগেও এ বছর মারা গেছেন বহু গুণী ব্যক্তিত্ব। হারিয়েছি আমরা অনেককেই। বাংলাদেশেও হচ্ছে না ব্যতিক্রম। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে আমরা হারিয়েছে তিন গুণী অভিনেতাকে।

এরমধ্যে গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ছোট ও বড়পর্দার গুণী অভিনেতা কে এস ফিরোজ।

তার শোকের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার এক দিনেই মারা গেলেন দুই অভিনেতা। একজন চলচ্চিত্রের ডাকসাইটে অভিনেতা সাদেক বাচ্চু এবং অন্যজন মহিউদ্দিন বাহার। এর মধ্যে সাদেক বাচ্চু করোনায় আক্রান্ত ছিলেন।

শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ৭ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১১টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয় সাদেক বাচ্চুকে। পরদিন তার করোনা পরীক্ষা করা হলে ফলাফল পজিটিভ আসে। ঢামেকে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটলে গেল শনিবার দুপুরে তাকে মহাখালীর ইউনিভার্সাল হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সোমবার দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে রাজধানীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন সাদেক বাচ্চু। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। তিনি দুই কন্যা ও এক পুত্রসন্তান রেখে গেছেন।

এদিকে সোমবার ভোর পাঁচটার দিকে মহিউদ্দিন বাহার মারা গেছেন। তিনি অনেক দিন ধরে হার্ট, কিডনিসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। সোমবার ভোরের দিকে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে দয়াগঞ্জের বাসা থেকে দ্রুত ইবরাহিম ডায়াবেটিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে এমন প্রবীণ তিন গুণী অভিনেতাকে হারিয়ে শোকার্ত অভিনয়জগৎ। ছোট ও বড় পর্দার তারকারাও তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগতভাবে শোক প্রকাশ করছেন।

এর মধ্যে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, নির্মাতা নাসির উদ্দীন ইউসুফ লেখেন, ‘এ কেমন সময়! অভিনেতা সাদেক বাচ্চু এবং মহিউদ্দিন বাহার চিরবিদায় নিলেন। করোনার করাল গ্রাসে একে একে প্রিয় মানুষের মৃত্যুতে বিপর্যস্ত আমরা। শোক ছাড়া কীই-বা করার আছে আমাদের।’

ছোটপর্দার জনপ্রিয় মুখ অভিনেত্রী শাহনাজ খুশী লিখেছেন, ‘এক সপ্তাহে তিনজন গুণী অভিনেতার প্রস্থান! এমনিতেই আমাদের অভিনয়জগতে এমন প্রবীণ, অভিজ্ঞ অভিনয়শিল্পী তেমন নাই বললেই চলে! তার মধ্যে ভয়াবহ এই মৃত্যুর ছোবল, মাত্র সাত দিনের মধ্যে ছিনিয়ে নিল এমন বিজ্ঞজনদের! জানি না, সামনে আর কী কী অপেক্ষা করছে। আপনাদের এই প্রস্থান এক বিরাট শূন্যতা তৈরি করল! গভীর শোক এবং সম্মান জানাই, আত্মার শান্তি কামনা করি।’

চিত্রনায়িকা পূর্ণিমাও বেদনাহত। চোখে ভাসছে সাদেক বাচ্চুর সঙ্গে ফেলে আসা নানা রঙের দিনগুলি। পূর্ণিমা এই অভিনেতাকে নিয়ে স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে বলেন, ‘সম্ভবত ১৯৯৯ সালে ওনার সঙ্গে প্রথম ছবি করেছি। বা ২০০০ সাল হবে। প্রথম ছবিতেই আমার নানা ছিলেন তিনি। এরপর বাবা-মেয়ে হিসেবে কাজ করেছি আমরা। অনেক ছবিতে ভিলেন ছিলেন। তার সঙ্গে কাজের দিনগুলো অসাধারণ স্মৃতি হয়ে আছে। অভিনয়ের বাইরেও চমৎকার সম্পর্ক ছিল আমাদের। পরিবারের দায়িত্ব বইতে বইতে নিজে বিয়ে করেছেন দেরিতে। তিনি আমাকে সাহস দিতেন। গুণী অভিনেতা কে এস ফিরোজ ভাইয়ের কাছ থেকে অভিনয় সম্পর্কে অনেক কিছুই জানা যায়।’

চিত্রনায়িকা পপিও শোকাহত। সাদেক বাচ্চু ছিলেন তার মাথার ওপর অভিভাবকের ছায়া হয়ে। বোন বলে ডাকতেন। কিন্তু স্নেহ করতেন মেয়ে হিসেবে। সেই ‘লাল বাদশা’ ছবি দিয়ে সাদেক বাচ্চুর সঙ্গে কাজ করছেন তিনি। এরপর বহু সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করা হয়েছে।

একটু ভালো কাজ করলে প্রেরণা জোগাতেন প্রশংসা করে। এমন প্রিয়জনের মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না এই নায়িকা।

পপি বলেন, ‘একে একে আমরা অভিভাবকদের হারিয়ে ফেলছি। অভিভাবকহীন হয়ে পড়ছে ইন্ডাস্ট্রি। যাদের দেখে শিখেছি অভিনয় তারা চলে যাচ্ছেন। খুব কষ্ট হয়। বাচ্চু ভাইয়ের এভাবে চলে যাওয়াটা মানতেই পারছি না। কী দারুণ একজন ভালো মানুষ ছিলেন। ফিরোজ ভাইকে মনে থাকবে চিরকাল।’

নায়ক রিয়াজ বলেন, ‘সম্ভবত সিনেমার মানুষ হিসেবে আমার সঙ্গেই সর্বশেষ বাচ্চু ভাই নিয়মিত কথা বলেছেন। ওনার কাছে আমরা অভিনয় শিখেছি। আমার খুব ভালো লাগত এই বয়সেও বাচ্চু ভাই নিজের প্রতি, নিজের ক্যারিয়ার ও অভিনয়ের প্রতি সিরিয়াস ছিলেন। তার আত্মবিশ্বাসটাও ছিল দারুণ। উনি গুণী অভিনেতা।’

Please Share This Post in Your Social Media

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

37506740
Users Today : 4647
Users Yesterday : 10073
Views Today : 11604
Who's Online : 49
© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/
Design & Developed BY Freelancer Zone