শুক্রবার, ০৫ মার্চ ২০২১, ০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
প্রথম ধাপে ৩৭১ ইউনিয়ন পরিষদে ভোট ১১ এপ্রিল পাপুলের আসনে ভোট ১১ এপ্রিল এইচ টি ইমামের বর্ণাঢ্য জীবন শাস্তি পেলেন জামালপুরের সেই বিতর্কিত ডিসি চলে গেলেন এইচ টি ইমাম মূলধন সংকটে পড়েছে ১০ ব্যাংক বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবউল্লাহ জাহিদ (মিঞা) স্বরণে – – – – সাফাত বিন ছানাউল্লাহ্ তানোরে মেয়রের  গণসংবর্ধনায় গণরোষ  !  রাজারহাটে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সংবাদ সম্মেলন চসিক মেয়রের সাথে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনারের সাক্ষাৎ রাজশাহী মতিহার থানার প্রাকাশ্য চাঁদাবাজীর নেপথ্যের কারিগর কে এএসআই ফিরোজ ৭ই মার্চের ভাষন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভাষন —আফতাব উদ্দিন সরকার এমপি রৌমারীতে সাংবাদিক পরিবারের জমি দখলের অভিযোগ “ভারত ভাগে বাংলার বিয়োগান্তক ইতিহাস” বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত সাঁথিয়ায় মশার কয়েল থেকে আগুনের সূত্রপাত পুড়ে গেছে ২ টি ঘর,২টি ষাঁড়,১৩টি ছাগল

দুধের দোকানে কোনওমতে মাথা গুঁজে রাতটা কাটাত

উজ্জ্বল রায়■ দুধের দোকানে কোনওমতে মাথা গুঁজে রাতটা কাটাত। সেখান থেকে একদিন ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়। তার পর থেকে ঠাঁই হয়েছিল মুসলিম ইউনাইটেড ক্লাবের কর্মীদের তাঁবুতে। গত তিন বছর ধরে মাঠ রক্ষণাবেক্ষণকর্মীদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে সেই প্লাস্টিকের তাঁবুতে রাত কাটাত। কোনও কোনও রাতে আধপেটা খেত। কখনও শুধু জল খেয়েই কেটে যেত রাতটা। পেট চালাতে কখনও আবার বিক্রি করত ফুচকা। ১৭ বছরের সেই যশস্বী জয়সওয়াল এখন অনূর্ধ্ব উনিশ ভারতীয় ক্রিকেট দলের সদস্য। শ্রীলঙ্কা সফরের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। অনূর্ধ্ব উনিশ মুম্বই দলের কোচ সতীশ সামন্ত জানালেন, ‘জয়সওয়ালের খেলার বোধ দারুণ। আর ফোকাস ধরে রাখার ক্ষমতাও অসাধারণ। সব থেকে বড় কথা বোলারের পরবর্তী পদক্ষেপ অসম্ভব ভালভাবে বুঝে যায় ও’। যশস্বীর কথায়, এই ক্রিকেট–বোধ উন্নতি করতে তাকে সাহায্য করেছে তার জীবন–বোধ। উত্তরপ্রদেশের ভাদোহির ছেলে। বাবার ছোট্ট দোকান। অভাবের সংসার। ১১ বছর বয়সে ক্রিকেট খেলার জন্য ভাদোহি ছেড়ে মুম্বই পাড়ি দেয়। রোজগার হবে ভেবে বাবাও আপত্তি করেননি। মুম্বইয়ের ওরলিতে কাকা সন্তোষ থাকেন। তাঁর ছোট্ট ভাড়া বাড়িতে আর একটা লোক থাকার জায়গা নেই। তাই কলবাদেবীতে এক দুধের দোকানে রাতটা কাটিয়ে দিত যশস্বী। একদিন সেখান থেকেই যশস্বীর মালপত্র ছুড়ে ফেলে দেয় কর্মীরা। যে সারাদিন কোনও কাজে লাগে না, তাকে তারা রাতে থাকতে দেবে না। অগত্যা মালপত্র নিয়ে পথে এসে দাঁড়ায় সে। তখন কাকাই ব্যবস্থা করে দেয় মুসলিম ইউনাইটেড ক্লাবে থাকার। কাকা সন্তোষ সেখানেই কাজ করেন। গত তিন বছর ধরে ওই তাঁবুই ঘর যশস্বীর। গরমের দিনে প্লাস্টিকের তাঁবুতে রাত কাটানো ভয়ঙ্কর কষ্ট। রাতে কয়েক দিন তাঁবুর বাইরে কাটাত। একদিন চোখের নীচে পোকা কামড়ায়। তা থেকে সংক্রমণ হয়ে বহুদিন ভুগেছিল। তার পর যতই কষ্ট হোক, রাতটা তাঁবুতেই কাটায় যশস্বী। তাঁবুতে তার ওপর রুটি তৈরি করার ভার ছিল। দিনে হাড়ভাঙা প্র‌্যাক্টিসের পর রাতে রুটি করতে বসে চোখে ঘুম চলে আসত। তবু করে যেতে হত ডজন ডজন রুটি। তরকারি রান্নার ভার থাকত অন্য কর্মীদের ওপর। ঝগড়াঝাটি করে প্রায়ই রান্না করত না তারা। তখন শুধু রুটি জল খেয়েও ঘুমোতে হতো এই উঠতি ক্রিকেটারকে। তাঁবুতে কোনও শৌচালয় নেই। রাতবিরেতে শৌচকর্মের জন্য যেতে হতো দূরের এক সুলভ শৌচালয়ে। তাতে ঘুম উঠত কপালে। আবার সকালে উঠে প্র‌্যাক্টিস। রোজ প্রাতরাশ না খেয়েই মাঠে যেত যশস্বী। কারণ খাবার কেনার টাকা থাকত না। বাবা মাঝেমধ্যে টাকা পাঠাতেন। কিন্তু তা দিয়ে মুম্বইতে দু’বেলা খাবার জোটে না। টুকটাক দোকানে কাজ করত। একটু বাড়তি রোজগারে আশায় রামলীলার সময় আজাদ ময়দানে ফুচকাও বিক্রি করত। নিজের পেট ভরত না। সহখেলোয়াড়রা একসঙ্গে হয়তো রেস্তোরাঁয় খেতে গেছে। যশস্বীর পকেটে একটাও টাকা নেই। আগেই জানিয়ে দিত। তাতে উপহাস জুটত। সে অবশ্য মাথা ঘামাত না। কারণ জানত, এসবে কান দিয়ে লাভ নেই। বরং নিজের খেলাটা চালিয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। ঠিক এই কারণেই হয়তো আজ নিজের ফোকাসটা এতটা ঠিক রাখতে পারে ভাদোহির ছেলেটা। বোলার যতই স্লেজিং করুক, মাথা ঠান্ডা রেখে তাই ছক্কা হাঁকাতে পারে যশস্বী।

Please Share This Post in Your Social Media

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

38354077
Users Today : 720
Users Yesterday : 6146
Views Today : 2172
Who's Online : 19

© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/