সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ০৭:৫১ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
‘হিন্দুরা মূর্তি পূজা করে’—অনেক বড় হয়েও এ কথা শুনেছি, অন্য ধর্মাবলম্বীদের কাছে উপহাসের পাত্র হয়েছি সোনাইমুড়িতে মেহেদীর রং না শুকাতেই অদৃশ্য কারণে যুবকের আত্মহত্যা ফিল্মি স্টাইলে ৪৫ লাখ টাকা ছিনতাই করে কক্সবাজার ভ্রমণ ভালো ঘুমের অভাবে দেখা দিতে পারে যেসব অসুখ স্বামী-স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ এক হলে কি হয় জানেন? গাবতলীতে বিভিন্ন দূর্গাপূজা মন্ডপে আর্থিক অনুদান দিলেন বিএনপি নেতা নতুন সাভার আশুলিয়ায় মিনি ক্যাসিনোর সন্ধান সামনে ক‍্যারাম বোর্ড পেছনে ক‍্যাসিনোর আটক -২১ জন কুমিল্লায় পাঁচশ’ বছরের পুরনো পূজা মন্ডপে জীবন্ত সাপ ঘিরে চাঞ্চল্য গৃহবধূকে আটকে রেখে চেয়ারম্যান-মেম্বার মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের চূড়ান্ত অনুমোদন বেগমগঞ্জে পাঁচ ছিনতাইকারী আটক কক্সবাজারে বিভিন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শনে ডিআইজি মোঃ আনোয়ার হোসেন চোখে আঘাত পেলে করণীয় সনাতনী ধর্মানুভূতিতে আঘাত : অভিনেত্রী তিশাসহ চার জনকে আইনি নোটিশ উইগুর নারীদের জরায়ুতে বিশেষ ডিভাইস বসিয়েছে চীন

ধর্ষণ বন্ধে পুরুষকেই জাগতে হবে নারীকে ও বুঝতে হবে অর্ধপোষাকের আকর্ষন আহবান উলঙ্গ শরীরের চেয়েও ভয়াবহ

ধর্ষণ ইস্যুটি নতুন নয় বহু পুরাতন।তবে এখন বেশী আলোচিত কারন মিডিয়ার সহজলোভ্যতা আর নারীকে সাহসী আর বিপ্লবী করে তোলা। লজ্জা ভয় ছেড়ে নারী নিজেকে করছে জয় তাই বিভৎসের গোপনীয়তা প্রকাশ করছে মাত্র। কিছু ক্ষেত্রে ভয়াবহতার মাত্রা বাডিতে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে আধুনিকায়ন কখনো ডিজিটালাইজেশন। কিছু ক্ষেত্রে নারীর আধুনিক সাজসজ্জা পোশাক আবার কিছু ক্ষেত্রে মিডিয়া সরঞ্জাম ও যৌনবর্ধক ওষুধ প্রসাধনী। যাকে হাতে হাতে মুঠোফোনে যৌনতার চিত্র ও ভিডিও চিত্র এবং পৌরুষ শক্তি বৃদ্ধিকারক বিভিন্ন বটিকা। ধর্ষণের উত্তেজনা কতটা তৃপ্তিদায়ক?  কী সেই প্রাপ্তি, কতটা আকাঙ্ক্ষিত সেই শারীরিক আনন্দ যা একা বা দলবেঁধে উপভোগ করার মতো ঘটনায় পরিণত হয়? এমনকি কাউকে কাউকে  নিজের সন্তানকেও ধর্ষণ করতে ধাবিত করে? 

কিন্তু এই ধর্ষণকে ঘিরে আমাদের সমাজের যে বিকৃতি, তার ব্যাখ্য কে দেবে? ইতিমধ্যে কিছু মানুষ দাঁড়িয়ে গেছে ধর্ষক পিতার পক্ষে। চরিত্রহনন করতে বসেছে শিশুটির মায়ের। যেমন তারা করতে বসে যেকোনও ধর্ষণের ঘটনার পর ধর্ষণের শিকার নারীটির। তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নেই, শিশুটির মা চরিত্রহীন (!), তাহলেও নিজের কন্যাকে বা যেকোনও শিশুকে বা নারীকে ধর্ষণ করা যে জায়েজ হয়ে যায় না, এই সহজ কথাটা বুঝতে পুরুষ সমাজের অনেকেই অপারগ।অনেক নারী প্রেমের জালে বন্দি করে নিজে ধর্ষণ করে। স্বার্থ হাসিল না হলে উপয়ন্ত না ভেবে নিজেই অভিযোগ করে প্রেমিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের। 

এইদেশে একটা দিনও বাদ যায়না যেদিন কোন ধর্ষণের ঘটনা পত্রিকার পাতায় প্রকাশ হয় না। আর অপ্রকাশিত শত ঘটনার কথা না হয় বাদই দিলাম। তবুও এর প্রতিবাদে মানুষের ঢল নামে না। বৃহত্তর আন্দোলন দানা বাঁধতে মানুষের লাভ ক্ষতির হিসাব আর আবেগের মিশেল লাগে। ধর্ষণের প্রতিবাদে এই দুটোরই অভাব আছে। 

ধর্ষণ এই সমাজের কাছে কেবলই ধর্ষণের শিকার নারী আর তার পরিবারের ব্যক্তিগত বিষয়। বৃহত্তর সমাজের, বিশেষ করে, পুরুষের ধর্ষণে কোনও ক্ষতি নেই।নারীরাও ধর্ষক হয়ে উঠছে সে খবর বাদ পড়ে যায়।  সমাজ (এবং প্রধানত পুরুষজাতি) নারীকে বরং সাত কাপড়ের মোড়কে ঢাকতে বেশি আগ্রহী। নারীর পোশাক নিয়ে তারা ফতোয়া জারি করে, ওয়াজ মাহফিলে মাইক ফাটায়। শত শত শ্রোতাকে ওয়াদা করিয়ে নেয় মেয়েকে স্কুলে না পাঠানোর। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নোংরা চিৎকার করে। মানব বন্ধন করে বাল্যবিয়ের দাবিতে। রাস্তাঘাটে হেনস্তা করে ন্যুনতম সুযোগে। শুধু নিজেদের বিকৃতির দিকে তাকায় না ভুলেও। একটি তিনমাসের কিংবা দশ বছরের শিশুকে (ছেলে শিশুসহ) ধর্ষিত হতে দেখেও তাদের হুঁশ ফেরে না। তাদের এতোসব দাবীর অসারতা বুঝতে তারা নিদারুণভাবে অক্ষম।আবার নরী পোষাকে নিজেকে পন্যের মত সজ্জিত করে আহবান করছে। 

পুরুষেরা কবে নাগাদ তবে নিজেদের বিকৃতিটা বুঝতে পারবে? কবে নাগাদ জুতা আবিস্কারের গল্পের মতো পৃথিবীকে নয়, নিজের পা’ কে ঢাকতে শিখবে? কবে নাগাদ পুরুষ শুধুমাত্র পুরুষ থেকে মানুষ হয়ে উঠবে? পুরুষের বোধোদয় এখন সময়ের দাবি। তারা নারীদের একটু রূপের মোহে সব ভুলে যায়। তার সব সুন্দর হয়ে ওঠে এটাই সমাজ নষ্ট করে চলছে। নারীকে অহংকারী আর খামখেয়ালি করে তুলছে।  ধর্ষণ বন্ধে পুরুষকেই জাগতে হবে সবার আগে। নারীকে ও বুঝতে হবে পোষাকের আকর্ষন আহবান উলঙ্গ শরীরের চেয়েও ভয়াবহ তাদের বুঝতে হবে এর ভয়াবহতা, নারীর পোশাক বা অন্য কিছু নয়, পুরুষের অনিয়ন্ত্রিত ও বিকৃত যৌন আকাঙ্ক্ষাই ধর্ষণের সবচেয়ে বড় কারণ এবং পুরুষের সবচেয়ে বড় অসুস্থতা। 

অনেক তো হলো, আর কত? এবার জাগুন পুরুষ বন্ধুরা। এতটুকু সৎ সাহস দেখান। লাগাম পড়ান নিজের বিকৃত যৌনাকাঙ্ক্ষায়। যতদিন পর্যন্ত না আপনারা নিজেরা নিজেদের বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন, ততদিন ধর্ষণের এই মহামারী বন্ধ হবে না। যতই আইন হোক, যতই কঠোর থেকে কঠোরতর শাস্তির বিধান রাখা হোক, যতই হারকিউলিসের আবির্ভাব ঘটুক, কিচ্ছু হবে না।  আমাদের শুভবুদ্ধির উদয় হোক নারী পুরুষকে সবাইকে শালিনতা বজায় রেখে চলার তৈফিক দিক সৃষ্টিকর্তা।

Please Share This Post in Your Social Media

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

37672723
Users Today : 3431
Users Yesterday : 8769
Views Today : 7597
Who's Online : 83
© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/
Design & Developed BY Freelancer Zone