শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৭:৫১ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
রাজধনীতে চলছে ৫থেকে ৭ হাজার টাকায় ঝমঝমাট স্বামী বাণিজ্য! লিঙ্গান্তর ঘটিয়ে পুরুষ থেকে নারীতে রূপান্তরিত হলেন দুই জমজ ভাই আমা’র মে’য়ে কোন ভুল করেনি, এত বাড়াবাড়ি করছেন কেন: তামিমা’র মা তামিমার মুখোশ খুলে লাভ আমার একার না, সমগ্র পুরুষ জাতির : রাকিব নারীর ৮টি গো*পন অঙ্গভঙ্গি যা একজন পুরুষকে পাগল করে স্বামীর ম’রদেহের সঙ্গে রাত কাটিয়ে সকালে অফিসে! দেশের প্রথম ‘ছেলে সতীন’ হিসেবে গিনিস বুকে নাম লেখাতে চান নাসির হোসাইন! এবার প্রবাসীদের ব্যাগেজ রুলে আসছে পরিবর্তন, শুল্কছাড়ে যত ভরি স্বর্ণ আনতে পারবে প্রবাসীরা যে চার ধরনের শা’রীরিক মিলন ইসলামে নি’ষিদ্ধ !!বিজ্ঞানী বু-আলী ইবনে সীনা নারীদের যে ৮টি কথা বললে তারা আপনাকে মাথায় তুলে রাখবে… নওগাঁর মহাদেবপুরে বিএনপি’র উদ্যোগে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বিভাগীয় সমাবেশ সফল করার লক্ষে প্রস্তুতি সভা মাদ্রাসার এক ছাত্রকে (১২) বলৎকার মাওলানা আটক নরপশুটা আমাকে কোলে তুলে মোনাজাত করতো! গাইবান্ধায় মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার গাইবান্ধায় অধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০

নতুনত্বের খোঁজে বিশ্বময় ঘুরে বেড়ানো ” বিস্ময় কন্যা ” এলিজা বিনতে এলাহি – – – – সাফাত বিন ছানাউল্লাহ্

জাতীয় কবির ভাষায় – ” বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর, অর্ধেক তাঁর করিয়াছে নারী অর্ধেক তাঁর নর ” ” সাম্যের গান গাই, আমার চক্ষে পুরুষ রমণী কোন ভেদাভেদ নাই “।  নারীর অপর নাম ঈশ্বরী। আমাদের সমাজ জাতিটাকে নির্দিষ্ট একটি রক্ষণশীল গণ্ডির মাঝে বেঁধে রাখতে চেয়েছে যুগের পর যুগ। ধর্মীয় সংস্কৃতির দোহাই দিয়ে শিকলে বন্দি করে ওদের কাছ থেকে কেড়ে নেয়া হচ্ছে নিজস্ব অধিকার। ধর্ম কিছুতেই এসব সমর্থন করেনা তবুও বিকৃত ধর্মচর্চা করে কিছু জ্ঞানপাপী সমাজটাকে অধঃপতনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। হাজার হাজার বছর ধরে নারীরাই ধর্ম প্রচার ও সংরক্ষণে যে ভূমিকা রেখেছে ইতিহাস তা প্রমাণ দেয়। আজ বিশ্বময় নারীদের অবদান ব্যাপক ও বিস্মৃত। সাহিত্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি, ধর্ম নানা কর্মে আমাদের মা, বোন, মেয়েরা এগিয়ে। বাংলাদেশেও বর্তমানে রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডে নারীদের সাহসী ভূমিকা, সফলতার গল্প পৃথিবীময় সমাদৃত।

জামালপুরের মেয়ে বাংলাদেশের বিস্ময়, ভ্রমণ কন্যা খ্যাত এলিজা বিনতে এলাহি আমাদের অহংকার, স্বাধীন দেশের অলংকার। একজন প্রবাসী হলেও মাতৃভূমির প্রতি অগাধ ভক্তি আর ভালবাসায় প্রতিনিয়ত ছুটে বেড়ান বাংলার এ প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। ইতিহাস, ঐহিহ্য, পুরাকীর্তি, সংস্কৃতি, কৃষ্টি সংগ্রহ করে লিখিত তথ্য, লোককথা, স্থিরচিত্র ও ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমে বিশ্ব পরিমণ্ডলে নতুন করে চেনাতে অসাধ্য সাধন করছেন তিনি। ইতিমধ্যে বিশ্বের ৪৭ টি দেশ ও বাংলাদেশের ৬৪ টি জেলা ভ্রমণ করে সংগ্রহ করেছেন – দুষ্প্রাপ কত কিছু! পেশায় একজন শিক্ষক হলেও একান্ত ব্যক্তিগত উদ্দ্যোগ আর দেশপ্রেম এলিজাকে কাছে টানে মমতার অবিচ্ছেদ্য বাঁধনে। শহিদ বীরোত্তম আনোয়ারা গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরে ইডেন মহিলা কলেজ থেকে ইংরেজি সাহিত্যে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন এআইইউবি থেকে হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগ থেকে এমবিএ করেছেন তিনি। পেশায় শিক্ষক বাংলাদেশের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়ার অধ্যাপিকা এ মেধাবী হেরিটেজ গবেষক নেদারল্যান্ডসের হেগ ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সে অধ্যাপনা রত। সারাজীবনের উপর্জিত অর্থ তিনি ব্যয় করছেন মহৎ এই কাজে। কোন সরকারী বেসরকারি সাহায্য ছাড়া ভ্রমণসঙ্গী স্বামী ও এক ভাই ফজলে এলাহিকে সাথে নিয়ে ২০১৬ সালের ১৭ই মে রাজধানীর বলধা গার্ডেন দিয়ে শুরু করেন এই মিশন। ১৯৯৯ সালে নেপালে প্রথম বিদেশ ভ্রমণে যান এলিজা।

ইতোমধ্যে ৪৭টি দেশে বেড়িয়েছেন তিনি। এশিয়া ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে ২০১৬ ও ২০১৭ সালে বেরিয়েছে তার দুটি তথ্যবহুল প্রকাশনা “এলিজা’স ট্রাভেল ডায়েরি” ও “এলিজা’স ট্রাভেল ডায়েরি-২”। প্রতিটি জেলার প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা নিয়ে আলাদাভাবে বই লেখার পরিকল্পনা আছে তার। এলিজা বলেন “১৮ বছরের বিশ্ব ভ্রমনের যাত্রায় আমার নিজেকে সত্যিকার ট্রাভেলার মনে হয়েছে যখন আমি বাংলাদেশের কোনায় কোনায় গিয়েছি । আমার দেশের সংস্কৃতি ,ইতিহাস , ঐতিয্য , মানুষ আমাকে যা আনন্দ দিয়েছে পৃথিবীর বড় বড় দেশ তা দিতে পারে নি । আমি দেখেছি গর্ব করার মত বিশ্ব মানের স্থাপনা আমাদেরও রয়েছে । প্রয়োজন শুধু সংরক্ষণ, রক্ষনা-বেক্ষন ও প্রচার প্রসারনা “

এলিজা বিনতে এলাহি বলেন – সারা দেশ ঘুরে অনেক দুষ্প্রাপ্য ইতিহাস পেয়েছি যা লিপিবদ্ধ করলে ইতিহাসের ধারাটাই পাল্টে যাবে এবং বিশ্বের কাছে নতুন করে আমরা পরিচিত হব। বাংলাদেশি বিশ্ব পর্যটক এলিজা বলেন, দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক টুরিজমের রয়েছে অপার সম্ভবনা। ঐতিয্যের স্থাপনাগুলোকে সংরক্ষণ ও সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কাজে ৬৪ জেলার ভ্রমন করছি। তবে এগুলো সংগ্রহে তেমন উদ্যাগ নেই। তাই আমি নিজ উদ্যাগে বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য
রক্ষায় কাজ করতে চাই। আমি প্রাচীন ও ঐতিহাসিক জনপদ ঘুরে বিভিন্ন স্থানের তথ্য
তুলে এনেছি। এগুলো সঠিকভাবে তুলে ধরলে
গবেষণার পাশাপাশি দেশে পর্যটনশিল্প বিকাশে ব্যাপক ভুমিকা রাখবেন বলে তিনি মনে করেন।

দেশের ৬২ তম খাগড়াছড়ি ৬৩ তম রাঙ্গামাটি জেলা ভ্রমণ শেষে ২৮ তারিখ তিনি আসেন ঐতিহাস ঐতিহ্যের স্মারক বীর চট্টলায়। চট্টগ্রাম এসেই উটেন নতুন রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন ” হোটেল সৈকত ” এ। ঐ দিন সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম ইতিহাস চর্চা কেন্দ্র (সিএইচআরচি) র পক্ষ থেকে আমরা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যাই। প্রতিনিধি দলে আরও যারা ছিলেন – চট্টগ্রাম ইতিহাস চর্চা কেন্দ্রের সভাপতি, ইতিহাসবিদ, গ্রন্থ প্রণেতা সোহেল মোহাম্মদ ফখরুদ-দ্বীন, সাংবাদিক, প্রাবন্ধিক, পরিবেশবাদী সংগঠক একেএম আবু ইউসুফ, মরমী গবেষক, গ্রন্থ প্রণেতা, কলামিস্ট লায়ন বরুণ কুমার আর্চায্য বলাই। দীর্ঘ ২ ঘণ্টার আলাপচারিতায় উটে আসে চট্টগ্রামের হাজার বছরের ইতিহাস, বরেণ্য ব্যক্তিত্বদের জীবন-কর্ম, চট্টগ্রাম নিয়ে এলিজার পরিকল্পনা ও তাঁর এই ভ্রমণ কাব্য শুরুর কাহিনী সহ বিস্তারিত। ভ্রমণকন্যা প্রথমবার চট্টগ্রাম এসেছিলেন ১৯৯১ সালে, সেই সময়ের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এ তোলা ছবিও সংগ্রহে আছে। আফসোস করে তিনি বলেন – এখন আর কোন পুরাকীর্তি চোখে পরেনা। যেগুলো দেশের প্রকৃত সম্পদ সেই প্রাচীন প্রত্নতত্ত্ব গুলো আধুনিকতার ছোঁয়া আর ক্ষমতাধরদের কর্তৃত্বে ধংস হয়ে যাচ্ছে। সারাদেশ থেকে চট্টগ্রামের ইতিহাস যেখানে সুদীর্ঘ ও গৌরবের সেখানে সম্পদগুলো রক্ষায় কেউ নেই বললেই চলে! এবারের মাত্র দুদিনের চট্টগ্রামের সংক্ষিপ্ত সফরে এলিজা সাক্ষাৎ করেছেন – খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব, নতুন প্রজন্ম আর সাংবাদিকদের সাথে। ঘুরে বেড়িয়েছেন চট্টলার বেশ কয়েকটি ঐতিহাসিক জায়গায়, সংগ্রহ করেছেন ইতিহাস। আগামীর সুন্দর প্রজন্ম গঠনে তাঁর এই উদ্দ্যেগ নিশ্চয় বাংলাদেশের হারানো ঐতিহ্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

” ভ্রমণকন্যা ” র দীর্ঘায়ু ও আগামীর পথচলার সফলতা কামনা করছি ।।

Please Share This Post in Your Social Media

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

38324559
Users Today : 1156
Users Yesterday : 3953
Views Today : 3385
Who's Online : 43
© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/