মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১, ১২:১৫ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
কী কারণে মমতার নির্বাচনী প্রচারণায় নিষেধাজ্ঞা জারি লকডাউনের আওতায় থাকবে না যারা পাবজি গেম প্রেমীদের জন্য দেশের বাজারে এলো অপো এফ১৯ প্রো, পাবজি মোবাইল স্পেশাল বক্স ঝালকাঠিতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গুলি, আহত-১, বন্দুক ও গুলি উদ্ধার, অাভিযুক্তের আত্মসমর্পন ঝালকাঠির নলছিটিতে সিটিজেন ফাউন্ডেশনের ইফতার সামগ্রী বিতরণ যখন টাইটানিক ডুবছিল তখন কাছাকাছি তিনটে জাহাজ ছিল। সেদিন আমি স্নানও করিনি, যদি ওই অবস্থায় দেখে ফেলে! সাকিবকে সাতে খেলানো ভালো লাগেনি হার্শার নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার সীমানা প্রাচীর হোসিয়ারী ব্যবসায়ীর দখলে আলীনগরে বৃদ্ধাকে বেদম পিটিয়েছে উচ্ছশৃঙ্খল মা-মেয়ে ও পুত্র ‘খালেদা জিয়ার মতো নেতাকে জেলে নিয়ে পুরলে তোমার মতো নুরুকে খাইতে ১০ সেকেন্ড সময়ও লাগবে না’ চুপি চুপি বিয়ে করে ফেললেন নাজিরা মৌ লকডাউনে বন্ধ থাকতে পারে শেয়ারবাজার কোরআনের ২৬ আয়াত বাতিলের আবেদন খারিজ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন, ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ওপর হামলা

নড়াইলের সবার প্রিয় মানুষ বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক

উজ্জ্বল রায় নিজস্ব প্রতিনিধিঃ নড়াইলের সূর্যসন্তান, দক্ষিন বঙ্গের এটা কারো অজানা নয় যে নড়াইল সহ তথা দক্ষিন বঙ্গের অবহেলিত জনপদের পাঞ্জেরী,নড়াইলের স্বপ্নদ্রষ্টা, কিংবদন্তি, নড়াইলের সূর্যসন্তান,মহাত্মা,দক্ষিন বঙ্গের কালো মানিক, রত্নখচিত উজ্জ্বল নক্ষত্র, মানবতাবাদী ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার সাধক পুরুষ,বহুগূণে গুণান্বিত পুরোধা পুরুষোত্তম মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক সাবেক সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম এখলাছ উদ্দিন আহমেদের সহধর্মিণী ও আধুনিক নড়াইলের স্বপ্নদ্রষ্টা,জীবন্ত কিংবদন্তি,বীর সেনাপতি, সিংহ পূরুষ, নড়াইলের সূর্যসন্তান, মহাত্মা,দক্ষিন বঙ্গের কালো মানিক,রত্নখচিত নড়াইলে সমুজ্জ্বল নক্ষত্র, মানবতাবাদী ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার সাধক পুরুষ,বহুগূণে গুণান্বিত পুরোধা পুরুষোত্তম,আমাদের ভালো বাসার  Kabirul Haque Mukti MP  ও Enamul Haque এর মাতা এই মহিয়সী রমনী। উজ্জ্বল রায় নিজস্ব প্রতিনিধি জানান, উল্লেখ্য চিত্রা,মধুমতি, আঠারোবাঁকি, নবগঙ্গা, কাজলা বিধৌত একটি অতি ঐতিহ্যবাহি জেলা নড়াইল। দু’শোর অধিক বিশিষ্ট ব্যক্তির গৌরবগাঁথায় রত্নখচিত সমুজ্জ্বল নড়াইল।
এ জেলারই রত্নখচিত একটি নাম মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক সাবেক সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম   এখলাছ উদ্দিন আহমেদ । তিনি ছিলেন একাধারে সুবক্তা, আলোচকও রাজনীতিবিদ।
মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক সাবেক সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম এখলাছ উদ্দিন আহমেদের ছিলেন সত্যিকার অর্থে সমাজের প্রাজ্ঞজন। নড়াইল জেলার সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক সাবেক সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম এখলাছ উদ্দিন আহমেদের একজন উদারমনা, অসাম্প্রদায়িক, ধর্মপরায়ন, সমাজের সকল পঙ্কিলতার বিরুদ্ধে আজীবন সংগ্রামী একজন মানুষ।
 এখলাছ উদ্দিন আহমেদের সম্পর্কে স্বল্প পরিসরে সম্পূর্নরুপে তাকে প্রকাশ করতে পারা অনেক দূরুহ ব্যাপার তবু আন্তরিক এই প্রয়াসটুকু প্রজন্মকে নড়াইল জেলার একজন গুনীজন সম্পর্কে জানতে সাহায্য করবে আশা করি।
মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক সাবেক সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম  জনাব এখলাছ উদ্দিন আহমেদে সহ সকল বীর যোদ্ধাদেরও শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাই।
লোক মুখে শুনেছি বাংলাদেশের মহান স্থপতি,হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা,বাঙালির অবিসংবাদিত ক্ষনজন্মা  মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের স্নেহধন্য মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক সাবেক সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম  জনাব এখলাছ উদ্দিন আহমেদকে ভালোবেসে  “কালোমানিক”বলে জনসভায় সম্বোধন করতেন।
উল্লেখ্য মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক সাবেক সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম এখলাছ উদ্দিন আহমেদ অনেক উপরের স্তরের মানুষ ছিলেন ।
আমাদের প্রিয় মানুষ বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক সাবেক সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম এখলাছ উদ্দিন আহমেদ। ক্ষণজন্মা পুরুষ,বিদায়ী একজন নেতা,একজন অভিভাবক যার অভাব কোনদিন পূরণ হবার নয়। তিনি চিরঅম্লান হয়ে আছেন ও থাকবেন নড়াইল বাসী তথা বাঙালীর হৃদয়ে। আল্লাহ তায়ালা তাঁর আত্মাকে শান্তিতে রাখুন,ভালো রাখুন অনন্তকাল,অনাদিকাল।
আমাদের শ্রদ্ধেয় ২ জনের  জন্যে দোয়া ও ভালোবাসা সব সময়। সত্য কথা বলতে আমাদের ভাবি ও ভাই সারাটি জীবন মানুষের কল্যাণই চেয়েছেন। সল্প কথা ও অল্প পরিসরে,ভাবির ও ভাই এর গুণের কথা লিখে শেষ করা যাবেনা। তবে এটুকু বলবো ভাবি ও ভাই এর মত মানুষেরা বার বার আসেনা।
একজন মুক্তিযুদ্ধার সন্তান হিসেবে জাতিকে অল্প কথায় এতঠুকু জানাতে না পারলে নিজেকে বড় অপরাধী মনে হবে, মহান মুক্তিযুদ্ধে (৭১ পূর্ববর্তী ও পরবর্তী) দেশের জন্য এই পারিবারের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
উল্লেখ্য ভাষা সৈনিক,বীর মুক্তিযোদ্ধা,সংসদ সদস্য,কালিয়া পৌরসভার প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রথম নির্বাচিত পৌর চেয়ারম্যান  এখলাস উদ্দীন আহমেদ ১৯৩২ সালের ১০ অক্টোবর  কালিয়া উপজেলার বেন্দারচর গ্রামে মধ্যবিত্ত এক কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। বাবা  হাজী মোমরেজ উদ্দীন বিশ্বাস ও মাতা রোকেয়া বেগমের দ্বিতীয় সন্তান তিনি।
 শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ কালিয়া হাইস্কুল থেকে মেট্রিক পাস করে পরবর্তীতে কৃতিত্বের সাথে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করেন। ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে চাকরি করেছিলেন মাত্র একমাস। তার ঠিক পরেই রাজনীতিতে যোগ দেন অনেকটা সুখের জীবন বিসর্জন দিয়ে।
ছাত্রজীবন থেকেই ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক আপোসহীন ও প্রতিবাদী কন্ঠস্বর। ব্রিটিশ ভারত তথা পূর্ববাংলায় ক্যাপ্টেন রশীদের মুক্তির দাবীতে রশিদ আলী দিবস আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহনের মধ্য দিয়ে রাজনীতির মুলমঞ্চে আরোহন করেন।
এরপর ১৯৪৮ সালে সদ্য কৈশর পেরোনো এখলাছ উদ্দীন আহমেদ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে কম্পোলসারি মিলিটারি ট্রেনিং ফর দ্য স্টুডেন্টস  আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
১৯৫২ সালে মায়ের ভাষা রক্ষার লড়াই এ ছিলেন সরবে।
ফলে পুলিশের আক্রমনে হয়ে কারাবরন করেন।
১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনের প্রাক্কালে চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।
১৯৬৬ সালের ছয়দফা,১৯৬৯  এর ১১ দফা এ গনভ্যুত্থানসহ সকল দাবী আদায়ের আন্দোলন সংগ্রামে তাঁর ছিলো গভীর সম্পৃক্ততা। এখলাছ উদ্দীন আহমেদ তৎকালীন নড়াইল মহাকুমা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। শুরু হয় তার সংগ্রামী রাজনৈতিক জীবন। বলা যায় তিনি সুখের জীবন বিসর্জন দিয়ে যুক্ত হন সংগ্রামী রাজনৈতিক জীবনে। পরবর্তীতে তিনি বৃহত্তর যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে তিনি যশোর সংগ্রাম পরিষদের পাঁচ সদস্যের একজন হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ পরবর্তী সময়ে তিনি ২রা এপ্রিল পর্যন্ত যশোর প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। যশোর থেকে পিছু হটে চলে আসেন নড়াইলের জনপদে। শুরু করেন  মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করতে। মুক্তিযুদ্ধকে আরো অর্থবহ ও সুসংগঠিত করার জন্য তিনি ভারত গমন করেন।
এখলাছ উদ্দিন আহমেদ নিজে লিখছেন “সীমানা স্তম্ভের উপর দাড়িয়ে ফিরে তাকালাম আমার প্রাণপ্রিয় জন্মভূমির দিকে। শেষ বিদায় গ্রহণ কালে নিজের অজান্তেই গড়িয়ে পড়লো কয়েক ফোটা অশ্রুবিন্দু। জন্মভূমিকে বললাম “মাগো ” আজন্মকাল তোকে প্রানদিয়ে ভালবেসেও জালেমের আইনে আজ আমরা দেশদ্রোহী। তোর পায়ের শৃঙ্খল মোচন করতে আজ তোকে ছেড়ে যাচ্ছি। যদি কোনও দিন তোর পরাধীনতার নিগড় ভাঙতে পারি তবেই আবার ফিরে আসবো তোর কোলে, অন্যথায় ভারতের মাটিতেই হবে আমার শেষ শয্যা। মাতৃভূমির কাছে এই প্রতিজ্ঞা করে ” জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু ” বলে বঙ্গ জননীর নিকট হতে শেষ বিদায় গ্রহন করে ভারতের মাটিতে পদার্পণ করলাম “
১৯৭১পঁচিশে আগস্ট সেক্টর লিয়াযো অফিসার  রওশন আলী ও সেক্টর কমান্ডার মেজর ওসমানের অনুরোধে এখলাছ উদ্দিন আহমেদ যোগদান করেন বয়রা যুদ্ধ শিবিরে। এখানে তিঁনি পালন করেন এক অন্যন্য দায়িত্ব, যে দায়িত্ব পালনে তৎকালীন এম.পি.এ. সদস্যরা অস্বীকার করেন। এগিয়ে এসেছিলেন এখলাছ উদ্দিন আহমেদ । অবস্থান করেন বয়রা যুদ্ধ ক্যাম্পে।
বয়রা যুদ্ধ ক্যাম্পে তিনি রাজনৈতিক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র হাতে শপথবাক্য পাঠ করিয়ে তাদেরকে দেশের অভ্যন্তরে গেরিলা যুদ্ধের জন্য পাঠাতেন।
এখলাছ উদ্দীন লিখেছেন বয়রা যুদ্ধ শিবিরের নিরাপত্তা যখন তখন বিঘ্নিত হতো,পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যুদ্ধ শিবির লক্ষ করে আচমকা বেপরোয়াভাবে কামানের শেল নিক্ষেপ করতো। প্রাণ হাতে করেই এই যুদ্ধ শিবিরে দায়িত্ব পালন করতে হতো। একারণে কোন বেসামরিক লোক এই যুদ্ধংদেহি পরিস্থিতির মধ্যে এসে জীবনের ঝুকি নিতে চাইতেন না। আমাকে যে পদে নিয়োগ করা হয়েছিল সে পদটি ছিলো এম.পি.এ.সাহেবদের জন্য সংরক্ষিত। কিন্তু চার জন তৎকালীন  এম.পি.এ দের ঐ পদে নিয়োগ পত্র  দিয়ে বারবার তাগিদ দেয়া সত্ত্বেও  তাদের কেউ  স্ব -কাজে যোগদান করেননি। অবশেষে আহ্বান এলো আমার কাছে। দেশমাতৃকার শৃঙ্খল মোচনের সংকল্প নিয়ে যেদিন জন্মভূমির নিকট থেকে বিদায় নিয়েছিলাম, সেই দিনই আমার এ জীবনকে মনে মনে উৎসর্গ করেছিলাম স্বাধীনতার বেদীমূলে। আমি সে দায়িত্ব পালনে রাজি হয়ে গেলাম। বয়রা যুদ্ধ শিবিরে রাজনৈতিক প্রশিক্ষকের দায়িত্ব আমি হাসি মুখে গ্রহণ করলাম, মাতৃভূমিকে স্মরণ করে মনে মনে বললাম, মাগো, তোর পায়ের শৃঙ্খল মোচন করতে আমার সামন্য ক্ষমতার আওতায় এমন কোনও ত্যাগ নেই যা আমি স্বীকার করতে রাজি নই -প্রাণতো সেখানে তুচ্ছ.। যুদ্ধ শিবিরে আমার দায়িত্ব ছিলো প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের Politically motivated করা। মুক্তিযোদ্ধাদের Induction করা, দশ জন করে গ্রুপ তৈরী করে তাদের ভিতর থেকে কমান্ডার, ডেপুটি কমান্ডার ও প্লাটুন কমান্ডার নির্বাচিত করা এবং তাদের সঠিক পথের নির্দেশ দেওয়া ও নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান দেওয়া। যুদ্ধ শিবিরে এই কাজের জন্য চার জন এম.পি.এ দের রাজনৈতিক উপদেষ্টা নিয়োগ করা হয়েছিল। বয়রা যুদ্ধ শিবিরের অধীন দুইটি শিবির ছিলো। যশোরের মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য যে শিবির তার নাম ছিল জি -4 আলফা কোং এবং ফরিদপুরের মুক্তিযোদ্ধাদের শিবিরের নাম ছিল জি -4 ব্রেভো কোং। জি -4 আলফা কোম্পানিতে অর্থাৎ যশোরের মুক্তিযোদ্ধাদের শিবিরে নিয়োজিত হয়েছিলেন যশোরের জনাব তবিবুর রহমান সরদার এম.পি.এ এবং জনাব শহীদ আলী খান এম.পি.এ.। জি -4 ব্রাভো কোম্পানিতে অর্থাৎ ফরিদপুর মুক্তিযোদ্ধাদের শিবিরে  নিয়োজিত হয়েছিলেন ফরিদপুরের জনাব সৈয়দ হায়দার হোসেন এম.পি.এ এবং জনাব মোশারফ হোসেন এম.পি.এ.। কিন্তু রাজনৈতিক উপদেষ্টাদের কেউই স্বকাজে যোগদান না করায় আমাকে দুই কোম্পানির এই দুরূহ কাজের দায়িত্ব বহন করতে হয়। বিহারের চাকুলিয়া ও বীরভূম কেন্দ্র থেকে আমাদের মুক্তি ফৌজের ছেলেরা প্রশিক্ষণ সমাপ্ত করে(আট) 8 নং সেক্টরের প্রধান কার্যালয় কল্যাণী ফিরে আসার পর যশোর ও ফরিদপুরের জোয়ানদের বয়রা যুদ্ধ শিবিরে আসতে হতো। আর এই যুদ্ধ শিবিরে আসার পর তাদেরকে রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ আমাকে দিতে হতো। পাক হানাদার বাহিনীকে দেশ থেকে উৎখাত করে মা – বোনদের ইজ্জত রক্ষা করবার জন্য স্বেচ্ছায় জীবন দান করবার সংকল্প গ্রহণ করতে দিনের পর দিন আমি তাদের উদ্বুদ্ধ করে তুলতাম। আমি তাদের বোঝাতে চেষ্টা করতাম এটা অন্য কোনও দেশ জয় করার যুদ্ধ নয়, এটা আমাদের অর্থনৈতিক. -রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের রাজনৈতিক যুদ্ধ। যতদিন পর্যন্ত না আমাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল না হবে আমাদের এ সংগ্রাম, আমাদের এ যুদ্ধ চলবে। আমি তাদের মধ্যে এই বিশ্বাস জাগিয়ে তুলতাম যে, সারা দুনিয়ার গেরিলারা একটি মহৎ প্রতিষ্ঠানের সদস্য হিসাবে পরিগণিত এবং বাংলার সাড়ে সাত কোটি মানুষ তোমাদের দিকে তাকিয়ে আছে, তোমাদের আশা ও ভরসায়, তোমাদের সম্পর্কে উচ্চ ধারণা পোষণ করে আজও তারা বেচে আছে ।  এই বলে আমি তাদের উৎসাহিত করতাম। মেজর হুদা কর্তৃক অস্ত্র হাতে দিয়ে আমি সপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সমাপ্তির পর “জয় বাংলা” বলে তাদেরকে বিদায় জানাতাম।
ইতিমধ্যে ভারত সরকার বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকে স্বীকৃতি দিয়েছে। বয়রা যুদ্ধ শিবিরে যুদ্ধের ডামাডোল বেজে উঠেছে। এখলাছ উদ্দীন তার নৌটে লিখেছেন ” ১৩ নভেম্বর জেনারেল অরোরার নেতৃত্বে এক ডিভিশন ভারতীয় সৈন্য বয়রা যুদ্ধ শিবিরে পদার্পণ করে। পাঁচ শত মুক্তিফৌজের সাহায্য নিয়ে ঐ দিন রাত্রেই ভারতীয় সেনাবাহিনী মহেশপুর থানার পাকবাহিনীর যুদ্ধ শিবির মাসালিয়ার সন্নিকটে আম বাগানে ছাউনি গাড়ে। ভোর হবার সঙ্গে সঙ্গেই উভয় পক্ষে তুমুল যুদ্ধ শুরু হয়। পাক বিমান বাহিনী পর পর তিন দিন বয়রার উপর হামলা চালায়। ঐ তিন দিন আমি শিবিরস্হ বান্কারের মধ্যে কাটাই। অবশেষে পাক বাহিনীর তিনখানা জঙ্গি বিমান বয়রার অনতিদূরে চৌগাছার নিকট ভূপাতিত হয়। দুই জন বৈমানিক বেল আউট হবার পর মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে ধৃত হয়। কয়েক দিন ট্যান্কযুদ্ধ চলার পর মাসালিয়া ও চৌগাছার পতন ঘটে।
এদিকে হঠাৎ যুদ্ধ বন্দের নির্দেশ পেয়ে জেনারেল অরোরা মেজর হুদা ও আমাকে বাংলাদেশের প্রবাসী সরকারের নিকট যেতে বলেন। আমি জনাব সোহরাব হোসেন ও জনাব রওশন আলীকে সঙ্গে নিয়ে প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী জনাব তাজউদ্দীন আহমেদ ও রাষ্ট্রপতি জনাব সৈয়দ নজরুল ইসলামের সাথে সাক্ষাৎ করি এবং জেনারেল অরোরার কথা বিস্তারিতভাবে জানাই। দুই নেতার উত্তর শুনে আমি আবারো বয়রা যুদ্ধ শিবিরে ফিরে আসি। পুনরায় যুদ্ধ শুরু হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই চৌগাছার পতন ঘটে। এরপর হালসার মাঠ,বেড়োলির মাঠ, শুলুয়ার বাজার প্রভৃতি স্হানে তুমুল যুদ্ধ চলতে থাকে। যুদ্ধ চলাকালে প্রতিটি উদ্ধারকৃত এলাকায় আমি জনসভা করে জনগনের মনোবল ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করি। কয়েকদিন যুদ্ধ চলার পর হানাদার পাকবাহিনীর যশোর ক্যান্টনমেন্ট হতে পলায়ন করে এবং মিত্রবাহিনীর সাথে আমরা ৭ই ডিসেম্বর তারিখে যশোর শহরে পদার্পন করি। আমি মুজিব নগরে গিয়ে এই আনন্দ বার্তা পৌছে দেই এবং প্রবাসী সরকারের মন্ত্রী জনাব ইউসুফ আলী, জনাব সোহরাব হোসেন ও সেক্টর লিয়াজো অফিসার জনাব রওশন আলীকে নিয়ে ৯ই ডিসেম্বর বাগদা, মাসালিয়া, চৌগাছা ও শুলুয়ার বাজার হয়ে পুনরায় যশোর শহরে পৌছাই। জনাব ইউসুফ সাহেব ও সোহরাব হোসেন ঐ দিনই মুজিব নগরে ফিরে যান এবং আমি, রওশন আলী ও জালাল উদ্দিন সাহেব যশোর শহরে থেকে যাই। এবং ১১ই ডিসেম্বর একটি জনসভার আয়োজন করি। স্বাধীন বাংলার মাটিতে এই প্রথম জনসভার প্রচার কার্য চালাই আমি এবং আওয়ামী লীগ নেতা জালাল উদ্দিন। বক্তৃতা করেন প্রবাসী সরকারের অস্হায়ী রাষ্ট্রপতি জনাব  সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রী জনাব  তাজউদ্দীন আহমেদ, আর সভাপতিত্বে করেন জনাব সোহরাব হোসেন। এই সভার মানপত্র প্রদান ও অন্যতম বক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখেন জনাব রওশন আলী। আবারো আমি ফিরে আসি বয়রা যুদ্ধ শিবিরে। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর ঢাকায় কাপুরুষ পাকিস্তানি সেনাদের আত্মসমর্পণের পর আমি বাংলদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করি। শত্রুমুক্ত স্বাধীন বাংলাদেশে যে কয়জন ভাগ্যবান প্রথম পদার্পণ করেন আমিও তাদের মধ্যে একজন”।
বুদ্ধিদীপ্ত এই মানুষটি ছিলেন সবসময় সদালাপী ও মানুষকে নিয়ন্ত্রন করার এক অদ্ভুত ক্ষমতা বলে তিনি সাধারনের সঙ্গে এক অবিভাজ্য মেল বন্ধন  তৈরী করেছিলেন। ১৯৭১এর এপ্রিল হতে জুলাই মাস পর্যন্ত নড়াইল,লোহাগড়া,কালিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করেন।
১৯৭১অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে ভারতে যান। বয়রা যুদ্ধশিবিরে রাজনৈতিক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেছিলেন। জীবনবাজি রেখেছিলেন দেশমাতৃকার স্বাধীনতা অর্জনের জন্য। তাঁর সমগ্রজীবন ছিলো সংগ্রাম মুখর। যুদ্ধপরবর্তী দেশের পুনর্গঠনে আত্মনিয়োগ করেছিলেন। অনুন্নত জনপদ কালিয়াকে উন্নয়নকল্পে প্রতিষ্ঠা করেন কালিয়া পৌরসভা। ১৯৭৩ সালের সাধারন নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন। তিনি যেমন মৃদুভাষী,সুকণ্ঠী ও সাহসী বক্তা ছিলেন তেমনি ছিলেন প্রচন্ড স্পষ্টবাদী মানুষ। অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠা তাঁর জন্মগত স্বভাব ছিলো।
তিনি সারাটাজীবন ব্যাপী জনমানুষের জন্য কাজ করেছেন।নড়াইলের রাজনীতিতে এক যোগ্যনেতৃত্বের অভাবের ক্রান্তিকালে তিনি হাল ধরেছিলেন স্বমহিমায়।
পরিশেষে কিন্তু ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু স্বপরিবারে শহীদ হওয়ার পর। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সাথে সাথে সময়ের সাহসী সন্তান এখলাছ উদ্দীনের জীবনেও ঘনায়মান হয়ে আসে এক পরাদুর্যোগ।
বারবার কারারুদ্ধ হতে হয় অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করা এই সংগ্রামী মানুষটিকে। এমন পরিস্থিতিতে কারারুদ্ধ অবস্থায় তাঁর মাতৃবিয়োগ ঘটলেও সামরিক সরকার তাঁকে প্যারোলে মুক্তির অনুমতি দেয়নি। এমন নানা বিপর্যয় এ ঘাত প্রতিঘাতেও এখলাছ উদ্দিন আহমেদকে ক্ষমতাসীন সরকার ও স্বাধীনতাবিরোধী চক্র অপরাজনীতির হাতিয়ার বানাতে চেয়েছিলো। বারবার তাঁকে হীন ষড়যন্ত্রে সামিল হতে, তাঁর আজন্মের রাজনৈতিক মতাদর্শ থেকে সরে আসতে,বিভ্রান্ত করতে  নানাভাবে উৎপীড়িত করতে থাকে। কখনোই তিনি আপোষ করেননি। যে মানুষটি নিজের পরিবারের চেয়র বেশী ভাবতেন সাধারন মানুষের কথা। যিনি এলাকার মানুষের আশা আকাংঙ্খার মূর্ত প্রতীক ছিলেন তাঁকে শেষ পর্যন্ত বাঁচতে দিলো না  স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি।
দিনটি ছিলো ১৯৮৫ সালের ১১ জুন। ভোর সকালে জেষ্ঠ্যপুত্র টুনু কে সাথে নিয়ে মটরসাইকেল যোগে নড়াইল যাওয়ার পথে বারইপাড়া ফেরীঘাটের ঐপারে নির্মম ভাবে কুপিয়ে ও গুলি করে তাঁকে ও টুনুকে একযোগে হত্যা করে অপরাজনীতির ভয়াল দোসররা।সাথে সাথে পতন হয় নড়াইল রাজনীতিঅঙ্গনের মহীরূহ, কালিয়ার প্রাণ পুরুষ ও নড়াইলের গনমানুষের নেতা জনাব এখলাছ উদ্দীন আহম্মদের।
শহীদ জনাব এখলাছ উদ্দীন আহম্মদ এক আমৃত্যু সংগ্রামী মানুষ ছিলেন। মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসাবোধ  আর শোষনের বিরুদ্ধে চিরসোচ্চার এই মানুষটির অস্তিত্ব তাই নড়াইলের রাজনীতির ময়দানে আজো বড়ো অর্থবহ মনে হয়।
আল্লাহ্ আমাদের শ্রদ্ধাভাজন ভাই জনাব এখলাছ উদ্দিন আহমেদ ও তাঁর জেষ্ঠ্যপুত্র এহসানুল হক টুনুকে পরকালে নিরবিচ্ছিন্ন সুখ শান্তি দান করুন ও ভাবিকে ইহকাল ও পরকালে নিরবিচ্ছিন্ন সুখ শান্তি দান করবেন এই প্রত্যাশা অহনিশী। মোঃ মাহমুদুল হাসান ( মাহমুদ) গ্রামঃ ইসলামপুর। ডাকঃ মহাজন।
উপজেলাঃ কালিয়া। জেলাঃ নড়াইল। তিনি জানান,
আমরা এই মহান ত্যাগী,সংগ্রামী নেতাকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরন করছি। শহীদএখলাছ উদ্দীন আহম্মদ ও এহসানুল হক  টুনু’ ভাই এর স্মৃতির প্রতি জানাচ্ছি বিনম্র শ্রদ্ধা
মহান আল্লাহ এই পরিবারটিকে সর্বদা রহমতের হেফাজত সহ রহমতের চাদর দিয়ে ঢেকে রাখবে আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে এই প্রত্যাশা প্রতিক্ষণ ও প্রতি মুহূর্ত। একজন সুযোগ্য বাবা এবং একজন সফল ও রত্নগর্ভা মার জানা অজানা !!!
অসীম শ্রদ্ধা জানাই ইতিহাসের সাক্ষী রত্নগর্ভা  মহিয়সী মানবী ও মানবের প্রতি। অজস্র পরাণের গহীন ভিতর রাজসিক আসন তাঁদের। তাঁদেরকে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।

Please Share This Post in Your Social Media

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

38443110
Users Today : 65
Users Yesterday : 1256
Views Today : 144
Who's Online : 29
© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/
Design And Developed By Freelancer Zone