মঙ্গলবার, ০২ মার্চ ২০২১, ১১:১০ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
বরিশাল পুলিশ লাইন্সএ নিহত পুলিশ সদস্যদের স্মৃতিম্ভতে পুস্পার্ঘ্য অর্পন শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্ব বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত করেছে: মিজানুর রহমান মিজু রাণীশংকৈলে জাতীয় বীমা দিবসে র‍্যালি ও অলোচনা  গণতন্ত্রের আসল অর্জনই হলো বিরোধিতা করার অধিকার – সুমন  জাতীয় প্রেস ক্লাবে মোমিন মেহেদীকে লাঞ্ছিতর ঘটনায় উদ্বেগ বেরোবি ভিসিকে নিয়ে মন্তব্য করায় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ পটুয়াখালী এই প্রথম জোড়া লাগানোর শিশুর জন্ম! তানোরে ইউনিয়ন পরিষদের ভবন উদ্বোধন ফেসবুক ইউটিউব টুইটারকে যেসব শর্ত মানতে হবে ভারতে ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকার যানজট মুক্তির স্বপ্নপূরণে যত উদ্যোগ আজ অগ্নিঝরা মার্চের প্রথম দিন রাশিয়া প্রথম হয়েছিল বাংলাদেশের দুই টাকার নোট। অজুহাত দেখিয়ে মে’য়েরা বিয়ের প্রস্তাবে ল’জ্জায় গো’পনে ১০টি কাজ করে তামিমা স’ম্পর্কে এবার চা’ঞ্চল্যকর ত’থ্য দিল তার মেয়ে তুবা নিজেই ছে’লে: “বাবা তুমি তো বলেছিলে পিতৃ ঋণ কোনদিন শোধ হয় না

পায়রা-লোহালিয়ায় নদীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে ইলিশ শিকারের উৎসব

মো. সুুমন মৃধা দুমকি(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকিতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পায়রা ও লোহালিয়া নদীতে চলছে মা ইলিশ শিকারের উৎসব। তবে ‘রক্ষক যখন ভক্ষক’ সেখানে অভিযান কেমন হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়!-বলা হচ্ছে জেলা মৎস্য বিভাগের দ্রুতবেগের নৌ-যান ‘স্পীড বোটের চালক জুয়েল হোসেনের সাম্প্রতিক কর্মকান্ডের কথা। দুমকিতে একটি ইঞ্জিনবাহী ট্রলারের পাশাপাশি একটি স্পীড বোট রাখা হয়েছে অবরোধকালীন অভিযানের স্বার্থে। যাতে করে নদীতে কোন জেলে জাল দিলে দ্রুত সেখানে পৌঁছানো যায়। পাঙ্গাশিয়ার হাজির হাট খেয়া ঘাটে রাখা হয়েছে স্পীড বোটটি। তবে জানা যায়, স্পীড বোট চালক মোঃ জুয়েল তিনি নিজেই পাহারা দিয়ে নদীতে জেলেদের জাল দিতে সহায়তা করছেন।
গত রবিবার সকাল সাড়ে ৬ টা থেকে সাড়ে ৮ টা পর্যন্ত খেয়া ঘাটে অবস্থান করলে এমন অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। দেখা যায়, স্পীড বোটের মধ্যে মশারি লাগিয়ে শুয়ে আছেন জুয়েল। পাশ দিয়ে নৌ-পুলিসের ট্রলার চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি শুয়ে শুয়ে মোবাইল ফোনে জেলেদের সতর্ক করে দিচ্ছেন। এবং তীরে নিরাপদ আশ্রয়ে আসতে সতর্ক সংকেত দিচ্ছেন। ১০ মিনিট পরেই দেখা গেলো ঘাটে জনৈক মহিলা আসছেন এবং জুয়েল কে বলছেন যে তাদের কোন খোঁজ পেলেন? তার প্রশ্নের উত্তরে জুয়েল বললো সমস্যা নেই কথা হয়েছে তাঁরা নিরাপদে আছেন। তখন প্রশ্ন জাগে কে এই মহিলা। খোঁজ নিয়ে দেখা যায় এ হলেন হাজির হাট বাজারের মৎস্য আড়ৎদার ও জেলে মোঃ রেজাউল মৃধার স্ত্রী। এবং তার ঘরেই জুয়েল খাওয়া-দাওয়া করেন। রেজাউল এর সাথে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে নদীতে জাল দেয়ায় সাহায্য করেন জুয়েল । তবে এ বিষয়ে জুয়েলের কাছে জানতে চাইলে কোন সদুত্তর দিতে পারেনি তিনি । খাওয়া-দাওয়ার কথাটা প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে বলেন মাঝে মধ্যে খাই। তিনি বলেন আমাকে নিয়ে না ঘেটে বড় নেতাদের খোঁজ নেন তাদের শেল্টারেই জেলেরা নদীতে জাল দেয়। নেতাদের নাম জানতে চাইলে তিনি নাম বলতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন নাম বললে আমার সমস্যা হবে আমি নাম বলতে পারবোনা।
সকাল ৭ টায় ঘাটে স্পীড বোড লাগানো অবস্থায় একটু দূরে ১০ থেকে ১৫ টি জাল ফেলেছেন নদীতে। সবাই চেয়ে চেয়ে দেখছেন তখন চালক জুয়েলকে বলা হলে তিনি বলেন এমি একা কি নদীতে যেতে পারি না আর এখানে ফারুক চৌকিদার ( গ্রাম পুলিশ) কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জাল দেখা মাত্রই যেন আমাকে নিয়ে নদীতে নামেন কিন্তু সে এখন বাসায় ঘুমাচ্ছে আমি একা কি করবো। সকাল ৭ টা ২০ মিনিটের সময় চৌকিদার ধীরে ধীরে হাটতে হাটতে ঘাটে আসেন। তাকে জাল দেয়ার বিষয়টি বালা হলে তিনি বলেন, মুই( আমি) কি করমু গাঙ্গে( নদীতে) জেলেগো কেনু (মাইর) খামু। সাইবেরা( কর্মকর্তা) যা কইবে হেইয়াই( তা) কি পালন করতে হইবে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার শঙ্কর কুমার বিশ্বাসকে অবহিত করা হলে তিনি মৎস্য কর্মকর্তাকে ফোন দিয়ে জানালে তাত্ক্ষণিকভাবে ট্রলার চালিয়ে হাজির হাট খেয়া ঘাটে আসেন এবং ধাওয়া করলে জেলেরা নৌকা ফেলে পালিয়ে গেলেও দুটি নৌকা থেকে বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জাল উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই কতিপয় রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় মা ইলিশ শিকার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের আলগী এলাকার কয়েক ব্যক্তি জানান, প্রশাসনের লোকজন পায়রা নদীর যেসব পয়েন্টে টহল দেন, মূলত সেসব পয়েন্টে জেলেরা মাছ শিকার করেন না। আবার যেসব পয়েন্টে জেলেরা জাল ফেলে মা ইলিশ শিকার করেন, সেখানে প্রশাসনের লোকজন টহল দেন না। তাই ধারণা করা হচ্ছে, তাদের ম্যানেজ করেই জেলেরা নদীতে মা-ইলিশ শিকার করছেন। শনিবার উত্তর মুরাদিয়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নদীর তীরের এক বাড়ির ভিতর ১০-১৫ জন লোক দাঁড়িয়ে আছে। কাছে যেতেই দৌড়ে পালিয়ে যায়। নদীতে জাল দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে ধারনা স্থানীয়দের। কিছুক্ষণ পরে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। দেখা যায় যে ছোট খালের ভিতরে ৫ টি নৌকায় কারেন্ট জাল সাজানো যা কিছুক্ষণ পরেই নদীতে ফেলা হতো। স্থানীয় লোকদের সাথে কথা বললে তারা বলেন, এখানে যাদের জাল দেখছেন তারা আসলে জেলে নন। এই সময়টা আসলেই তাঁরা প্রশাসনের সাথে কন্টাক্ট করে লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করেন।
দুপুর সাড়ে ১২টা । নদীতে বেশ কয়েকজন জাল ফেলেছেন এসময় হঠাৎ কোস্টগার্ডের স্পীড বোটের শব্দ পেয়ে জেলেরা কিনারে ছোট ছোট খালে অবস্থান নেয়। স্পীড বোটে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। স্থানীয় লোকজন জানায়, সব নৌকাগুলো নদীতে জাল ফেলে এরা মুরাদিয়া ও আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের চরের ছোট ছোট খালে আশ্রয় নেয় এবং সময় হলে জাল উঠায়। তারা আরও জানান, এ জেলেদের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের কিছু অসাধু নেতাদের যোগসূত্র রয়েছে। ইলিশ প্রজননের এ নিষেধাজ্ঞার সময় সংঘবদ্ধ ওই রাজনৈতিক দলের চক্রটি লক্ষ লক্ষ টাকা অবৈধভাবে ইলিশ শিকার করে আয় করে নেয়। নেতাদের নাম জানতে চাইলে বলেন, ‘সবাই তাদের নাম জানে। আমরা নাম বলে এলাকা ছাড়া হবো। বোঝেন না? কোস্টগার্ড ও প্রশাসন কিছু বলে না কেন? ওই নেতারাই কোস্টগার্ড পুলিশকে ম্যানেজ করে জেলেদের নদীতে নামিয়ে দিয়েছে। অবৈধভাবে শিকার করা ওই ইলিশ ৩০০ থেকে সর্বোচ্চ এক ৫০০ টাকায় মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছে । তাই মৎস্য অভিযানের নামে চলছে অরাজকতা। রক্ষকগণ ভক্ষকের ভুমিকায়। পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের আওয়ামিলীগের সাধারণ সম্পাদক আ: লতিফ আকন অভিযোগ করে বলেন, দুমকি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ছাড়া সবাইকেই জেলেরা ম্যানেজ করেছেন। যার ফলে তাদের নদীতে জাল দিতে কোন সমস্যা হচ্ছে না। তবে এভাবে নিষেধাজ্ঞা থাকাকালীন জেলেরা নদীতে মা ইলিশ শিকার অব্যাহত থাকলে ইলিশের প্রজনন ব্যহত হবে। তাই আমি রাষ্ট্রীয় সম্পাদ রক্ষার্থে উর্ধতন কর্মকর্তাদের সুদৃষ্টি কামণা করছি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দুমকি মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ নাসির উদ্দিন বলেন, ম্যানেজ এর কথাটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। নদীতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং এ যাবত আমাদের অভিযানে ৭ জেলেকে আটক করা হয়েছে যাদের মধ্যে ৪ জনকে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা ও ৩ জন কে ১ বছর করে কারাদ- দেয়া হয়েছে এবং পাশাপাশি ১০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল উদ্ধার করে ধ্বংস করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার শঙ্কর কুমার বিশ্বাস বলেন, পায়রা ও লোহালিয়া নদী সার্বক্ষণিক আমাদের নজরদারিতে আছে। এবং নদীতে মৎস্য কর্মকর্তাসহ থানা স্টাফ টহলরত আবস্থায় আছেন। তবে এর মধ্যেও যদি কেউ নদীতে জাল দেন তাহলে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। তবে স্পীড বোট চালক জুয়েল হোসেনের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অভিযোগের প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এবং যদি কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে অর্থ গ্রহণের প্রমাণ পাওয়া যায় তবে কাউকে ছাড় দেয়া হবেনা।

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

38343285
Users Today : 1562
Users Yesterday : 5054
Views Today : 5965
Who's Online : 31
© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/