শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ০৪:১৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
খানসামা থানার পরিত্যক্ত জমিতে সবজি চাষে ওসি শেখ কামাল হোসেনের সাফল্য মোরেলগঞ্জে জিনের আছর ভর করেছিল, বাগেরহাটে আমন ফসলে কারেন্ট পোকার আক্রমন ফসলহানীর আংষ্কায় আতঙ্কে ৬৫ হাজার কৃষক জামালপুরের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাইভেটকার খাদে নিহত শিশু  বিরামপুরে গভীর রাতে ইউএনও দেওয়া কম্বল পেল সাবলম্বিগণ পুলিশের সোর্সদের নিয়ন্ত্রনে অপ্রতিরোধ্য মাদক ব্যবসা, গ্রেপ্তার এড়াতে পাল্টেছেন কৌশল শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে গরম কাপড়ের কদর  বেড়েছে বরিশালে।  শাহসুফি সৈয়দ ক্বারী অাব্দুল মান্নান শাহ( রাঃ) এর বার্ষিক ওরশ ও ঈদে মিলাদুন্নবী( সাঃ) সম্পন্ন। শিবগঞ্জে মামলার প্রতিবাদ ও ধর্ষণের চেষ্টা মামলার সুষ্ঠ তদন্ত চেয়ে সংবাদ সম্মেলন শিবগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মা ও ছেলেকে লাঞ্চিতের অভিযোগ ডা. মিলনের রক্তের সাথে বেঈমানি করবেন না : মোমিন মেহেদী ঝালকাঠি সদর থানার ওসি খলিল মানবিক সেবায় অনন্য।মাদক সেবীদের আতঙ্ক ।  বেনাপোল ইমিগ্রেশনে আটকা পড়েছে করোনা সনদ না থাকায় পাসপোর্ট যাত্রীরা তারেক রহমানের ৫৬তম জন্মদিন উপলক্ষে গাবতলীতে যুবদলের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল ব্যারিস্টার এসএম সাইফুল্লাহ রহমান কেন্দ্রীয়  যুবলীগের সদস্য মনোনীত হওয়ায় ঘোষেরপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের শুভেচ্ছা

পুরুষের বন্ধ্যাত্ব সমস্যা বাড়ছে, যেসব বিষয় জানা জরুরি

অনেক নারীই বন্ধ্যাত্বের সমস্যায় ভুগে থাকেন। তবে জানেন কি? শুধু নারীরাই নয়, পুরুষরাও এই সমস্যায় ভুগে থাকেন। বরং নারীর চেয়েও দেড় শতাংশ বেশি হারে পুরুষরা বন্ধ্যাত্বে ভুগেন।

গবেষণায় জানা গেছে, প্রতি ৬ জোড়া দম্পতির এক জোড়া সন্তানহীনতার শিকার। শহরাঞ্চলে বন্ধ্যাত্বের হার বেশি। আইএসএআর এর হিসেবে ২০১৯ সালে এ দেশে সন্তানহীন দম্পতির সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৭৫ লক্ষ।

সমীক্ষায় জানা গেছে, নারীর তুলনায় দেড় শতাংশ বেশি বন্ধ্যাত্বের সমস্যা দেখা যাচ্ছে পুরুষদের মধ্যে। ভারতীয় স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ অভিনিবেশ চট্টোপাধ্যায় জানান, নারীদের পলিসিস্টিক ওভারিয়ান ডিজিজ, এন্ডোমেট্রিওসিস, পেলভিক ইনফ্ল্যামেটরি ডিজিজ ও জেনিটাল টিবির জন্য বন্ধ্যাত্ব দেখা যায়। সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসার সাহায্যে সমস্যা সারিয়ে তোলা যায়।

তবে পুরুষদের সমস্যা হলে মেল ইগোর কারণে একদিকে চিকিৎসা করাতে গাফিলতি করেন, অন্যদিকে অবসাদ তৈরি হয়। চিকিৎসক জানান, সন্তান উৎপাদনে অক্ষম হলে কিছু কিছু মানুষ নিজের পৌরুষ সম্পর্কে নিজেই সন্দিহান হয়ে অবসাদে ভোগেন।

ইনফার্টিলিটি ফিজিশিয়ান রোহিত গুটগুটিয়ার মতে, বাবা না হতে পারা আর পুরুষত্বহীনতা এক নয়। সন্তান  উৎপাদনের জন্যে নির্দিষ্ট পরিমাণে সুস্থ স্বাভাবিক ও গতিশীল শুক্রাণুর প্রয়োজন। শুক্রাণুর অভাবেই সন্তান হতে অসুবিধা হয় বললেন রোহিত।

পুরুষত্বহীনতা হলো স্বামী-স্ত্রীর যৌন সম্পর্ক স্থাপনে অক্ষমতা। এর ডাক্তারি নাম সেক্সুয়াল ডিজফাংশন। বাচ্চা ছেলেরা যখন যৌবনে পৌঁছায় তখন থেকেই টেস্টিস বা শুক্রথলি থেকে অবিরত শুক্রাণু তৈরি হতে শুরু করে।

প্রতিদিনই প্রায় ১২ কোটির বেশি শুক্রাণু তৈরি হয়। কোষের নিউক্লিয়াসের মধ্যে আছে ২৩টি ক্রোমোজোম। যার মধ্যে একটি হল সেক্স ক্রোমোজোম। এটিই স্থির করে দেয় সে ছেলে হবে নাকি মেয়ে হবে।

শুক্রাণুর মধ্যাঞ্চলে শরীরের মধ্যে আছে মাইটোকনড্রিয়া। এটি হলো সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্যে প্রয়োজনীয় শক্তির উৎস।

আর এর লেজ শুক্রাণুকে সাঁতার কেটে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। শুক্রাণুর সমস্যা হলে চিকিৎসা শুরুর পর তা কার্যকর হতে প্রায় তিন মাস সময় লাগে।

পুরুষের বন্ধ্যাত্বে অ্যাজোস্পার্মিয়া, অলিগোস্পার্মিয়া, অ্যাস্থেনোস্পার্মিয়া, টেরাটোস্পার্মিয়া বা স্পার্মের ইনফেকশন এই সবই চিকিৎসার সাহায্যে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হয়।

এছাড়া ইরেকটাইল ডিজফাংশন বা ইজাকুলেশনের সমস্যা থাকলে তার চিকিৎসাও ইনফার্টিলিটি ফিজিশিয়ানরা করেন। প্রথমেই রোগের কারণ জানার জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করে তারপরই চিকিৎসা শুরু করা হয়।

শুক্রাণুর সংক্রমণ হলে তার নড়াচড়ার ক্ষমতা লোপ পায়। ফলে বন্ধ্যাত্ব অবধারিত। ওষুধের সাহায্যে শুক্রাণুর সংক্রমণ সারানো যায়। কিছু ক্ষেত্রে শুক্রাণুর কাউন্টও বাড়ানো সম্ভব হয়।

তবে শুক্রথলি বা টেস্টিসের কার্যকারিতা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেলে তার চিকিৎসা করা মুশকিল। ন্যূনতম ২ কোটি শুক্রাণু না থাকলে সন্তান উৎপাদনে সমস্যা হতে পারে।

অত্যাধুনিক চিকিৎসার সাহায্যে ইকসি বা ইন্ট্রা-সাইটোপ্লাজমিক স্পার্ম ইঞ্জেকশন করে অতি স্বল্প সংখ্যক শুক্রাণুর সাহায্যেও সন্তান পাওয়া সম্ভব বলে ভরসা দিলেন রোহিত।

যেসব কারণে পুরুষেল বন্ধ্যাত্বে ঝুঁকি বাড়ে 

অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অবসাদ, অ্যাংজাইটি, আঁটোসাঁটো অন্তর্বাস, অতিরিক্ত গরম ইত্যাদি কারণে শুক্রাণুর কাউন্ট কমে যায়।

অতিরিক্ত ওজন ও ভুঁড়ি থাকলেও শুক্রাণুর কাউন্ট কমে যেতে পারে। ধূমপান, মদ্যপানসহ অন্যান্য নেশা সন্তান উৎপাদনে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

এছাড়া চোট আঘাত ও কিছু ওষুধ ব্যবহারেও শুক্রাণুর কাউন্ট কমে যেতে পারে। বেশি গরমে শুক্রাণুর কাউন্ট কমে যায়। কোলে ল্যাপটপ নিয়ে দীর্ঘক্ষণ কাজ করলেও শুক্রাণুর কাউন্ট কমে যেতে পারে।

আইটি সেক্টরে কর্মরত পুরুষদের বন্ধ্যাত্বের সমস্যা বাড়ছে। রাতে ঘুম না হলে একদিকে মনের চাপ বাড়ে, অন্য দিকে ওজনও বেড়ে যায়। এর ফলে শুক্রাণু উৎপাদন কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

শুক্রাণু উৎপাদন সংক্রান্ত সমস্যা হলে প্রথমেই এর কারণ খুজে বের করতে হবে। শুক্রাণুর সমস্যার চিকিৎসার পাশাপাশি জীবনযাপনে বদল করা জরুরি।

> ধূমপান ও মদ্যপানের নেশা ছাড়তে হবে। নিয়মিত শরীরচর্চা করে ওজন স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত।

> কাজের চাপে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে স্বাভাবিক যৌন সম্পর্ক তৈরি না হলে সমস্যা বাড়তে থাকে।

> আঁটোসাঁটো অন্তর্বাস পরলে ও টানা বসে কাজ করলেও শুক্রাণু তৈরিতে অসুবিধা হতে পারে। কাজের ফাঁকে কয়েকবার উঠে হেঁটে নিতে হবে।

> পর্যাপ্ত জল পান ও ঠিক সময়ে শৌচাগার যাওয়া দরকার। প্রস্রাব চেপে রাখলে সংক্রমণ ও তার থেকে শুক্রাণুর সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

> মনে রাখবেন, জ্বর-সর্দি বা কোভিড সংক্রমণের মতোই বন্ধ্যাত্ব একটা অসুখ, তাই মন খারাপ না করে সঠিক চিকিৎসা প্রয়োজন।

Please Share This Post in Your Social Media

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

37869889
Users Today : 5088
Users Yesterday : 2663
Views Today : 16638
Who's Online : 62
© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/
Design & Developed BY Freelancer Zone