বুধবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২১, ০৬:২২ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
যেকোনো সময় এইচএসসি-সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করোনায় আক্রান্ত ১০ কোটি ছাড়াল, সুস্থ্য ৭ কোটি অকালে চলে গেলেন এএসপি তন্বী বাংলাদেশের প্রথম নৌবাহিনীর প্রধান আর নেই নামাজে মোবাইল বেজে উঠলে করণীয় মেসিবিহীন বার্সার জয় আবারও দেশে কমলো করোনায় মৃত্যু অর্থনীতিতে আশাজাগানিয়া ভ্যাকসিন বিএনপির এমপি বানানোর আশ্বাস দিয়ে পপিকে বিয়ের প্রস্তাব বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন বরুণ-নাতাশা চট্টগ্রামের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে তামিমের মাইলফলক টাইগারদের বোলিং তোপে ধুকছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সাইফউদ্দিন-মিরাজের জোড়া আঘাতে বিপর্যস্ত উইন্ডিজ ১১ বছর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বাংলাওয়াশ বাংলাওয়াশের দিনে টাইগারভক্তদের জন্য বড় দুঃসংবাদ

প্রতারকের সঙ্গে ডাক্তার নারীর তিন রাত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সুইমিং পুল। সাঁতার কাটছেন দু’জন। স্বল্পবসনা তরুণী। স্লিম, লম্বা, শ্যাম বর্ণের মেয়েটির আনন্দের শেষ নেই। প্রেমিকের সঙ্গে বেড়াতে এসেছেন। ঢাকা থেকে সিলেটে। শাহজালাল উপ-শহর এলাকার একটি তারকা হোটেলে ওঠেছেন দু’জন। প্রেমিক ছেলেটির নাম জুয়েল মাহবুব। দেখতে লম্বা না হলেও বেশ সুদর্শন। অনেকটা বোম্বের হিরোদের মতো। তরুণী মেয়েটির নাম তাহমিনা তাবাসসুম। একটি প্রাইভেট মেডিকেলের ডাক্তার। জুয়েল বারবার পুল থেকে ওঠে ছবি, ভিডিও ধারণ করছে। কখনও সেলফি। ক্যামেরা তাক করে বুকের সঙ্গে জড়িয়ে ধরছে ডাক্তার তাহমিনাকে। ভেজা কাপড়ে তখন চরম আবেদনময়ী তিনি।

এখানেই শেষ না। চা বাগানে, ইকোপার্কেও ধারণ করা হয়েছে অসংখ্য ছবি। তাহমিনা অবাক হয়ে প্রশ্ন করেছেন কয়েকবার, তুমি এতো ছবি, ভিডিও পাগল কেন? জুয়েলের সহজ উত্তর, তোমার সঙ্গে ছবি, ভিডিও তুলতে ভালো লাগে। যখন পাশে থাকবে না তখন এগুলো দেখবো।

ওই হোটেলে থাকাকালে যে ভিডিও ধারণ করা হয় তা পর্নোমুভির চেয়েও কম না। শেষ পর্যন্ত ওই ডাক্তার মেয়েটির অভিযোগের প্রেক্ষিতে মিরপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় জুয়েল মাহবুবকে। উদ্ধার করা হয় হাজার হাজার ছবি ও কয়েকটি ভিডিও ক্লিপ। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে পুরো বর্ণনা দিয়েছে জুয়েল।

প্রথম দেখাতেই সিলেটে বেড়াতে গিয়েছিলেন জুয়েল-তাহমিনা। তিন রাত ছিলেন ওই তারকা হোটেলে। সেখানেই পর্নো স্টাইলে বিভিন্ন ভিডিও ধারণ করা হয়। ভিডিওগুলোর বেশিরভাগই গোপন ক্যামেরায় ধারণকৃত। অবশ্য দু’জনের দেখা হওয়ার আগেই পর্নো বিষয়ে জুয়েল বেশ শিখিয়েছে তাহমিনাকে। ভার্চুয়াল শিক্ষা। চ্যাট করতো রাতভর। কথা হতো অডিও, ভিডিও কলে। তারপর দুপুর পর্যন্ত ঘুম। হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জারে পর্নোভিডিও পাঠাতো জুয়েল। পাঠাতো এ ধরণের ছবি। শুরুতে তাহমিনা বকা দিতেন খুব। তবুও থামতো না জুয়েল। যদিও কৌতূহল ছিলো তাহমিনারও। এভাবেই প্রশিক্ষিত হয়ে ওঠেন এই ডাক্তার।

দেখা না হলেও ততদিনে তাদের সম্পর্ক বেশ গভীর। কথায় কথায় উত্তেজনা সৃষ্টি করতো জুয়েল। পরিচয়টা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। বেশ কয়েক বছর আগে। ফেসবুকের ছবি দেখইে একে-অন্যকে পছন্দ করেন। ঢাকার ইন্দিরা রোডের এক ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান জুয়েল। ব্যবসায়িক সুবিধার কারণে পরিবারের সঙ্গে থাকেন উত্তরা। সেখানে গাড়ির ব্যবসা রয়েছে তার। প্রায়ই ছুটে যান বিভিন্ন দেশে। এই ব্যস্ততার মধ্যেই যতœ করে সময় দেন তাহমিনাকে। এমনটিই জানতেন ডাক্তার তাহমিনা।

তাহমিনা তখন ধানমন্ডি এলাকার একটি প্রাইভেট মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত। পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব। তারপর প্রেম। চুটিয়ে প্রেম বা লং ড্রাইভ.. সবকিছুতেই দু’জনের প্রচন্ড আগ্রহ। কিন্তু শর্ত দিয়ে দেন জুয়েল। প্রথম দেখাতেই স্বামী-স্ত্রীর মতো সময় কাটাবেন। একদম হানিমুন বলা যায়। সেটা ঢাকার বাইরে কোথাও। তারপরও অন্যকিছু।

আমতা আমতা করছিলেন তাহমিনা। এটা কিভাবে সম্ভব। চতুর জুয়েল বুঝিয়ে সম্মতি আদায় করেন। ঘটনাটি ২০১৯ সালের শুরুর দিকে। কথানুসারেই দেখা হয় এক সকালে। দু’জনের সঙ্গে দুটি ব্যাগ। রেস্টুরেন্টে সকালের নাস্তা সেরে সোজা বিমানবন্দর। তারপর পৌঁছে যান সিলেটে। সেখানে হোটেল কক্ষে যাওয়ার পর ফ্রেশ হওয়ার আগেই শুরু হয় জুয়েলের ভালোবাসার অত্যাচার। অবশ্য তার আগেই মাথায় হাত রেখে জুয়েলের প্রতিশ্রুতি নেন তাহমিনা। শিগরিই বিয়ে করবেন তারা। কখনও একে-অন্যকে ছেড়ে যাবেন না ইত্যাদি। তাহমিনা যেনো স্বপ্নের রাজ্যে। উদার মনে নিজেকে উজাড় করে দেন। এভাবে একে একে তিন রাত। ফিরে যাবেন তারা। এরমধ্যেই ঘটে ঘটনাটি।

জুয়েল তখন ওয়াশ রুমে। সময় কম। দ্রুত বিমানবন্দর যেতে হবে। আজই ফিরতে হবে ঢাকায়। জুয়েলের ফোনটি বাজছিলো বেশ কয়েকবার। এর আগেও এরকম অনেকবার কল এসেছে কিন্তু তাহমিনা রিসিভ করেননি। এবার আনমনেই কলটি রিসিভ করেন। ওই প্রান্ত থেকে ভেসে আসছে একটি নারী কণ্ঠ। পরিচয় জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি জুয়েলের স্ত্রী বলছি। আপনি কে?

ডাক্তার তাহমিনা হতভম্ব। যেনো মাথার ওপর আকাশটা ভেঙ্গে পড়ছে। আর সহ্য করা সম্ভব হয়নি। লাইন কেটে দেন চিকিৎসক তরুণী। যদিও তখন বিশ্বাস-অবিশ্বাসের মধ্যেই ছিলেন তিনি। মনে হচ্ছিলো কেউ হয়তো মজা করছে। জুয়েলের কোন বান্ধবী হতে পারে। তবুও বিমর্ষ চেহারা, দগ্ধ মন নিয়ে ঢাকায় ফেরেন। পথে, বিমানে বারবার জুয়েল জানতে চেয়েছে কি হলো? নিশ্চুপ তাহমিনা। বিমানে ওঠার আগে জুয়েলের ফোনটি বারবার বাজছিলো কিন্তু রিসিভ করেনি। এতে তাহমিনা নিশ্চিত হয়ে যান তিনি এক প্রতারকের খপ্পড়ে পড়েছেন।

বিষয়টি আরও যাচাই করতে ঢাকায় ফিরে জুয়েলের এক বন্ধুকে মেসেঞ্জারে কল দেন। যার সঙ্গে এর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই পরিচয়। সন্দেহের সত্যতা পান তরুণী। তার প্রেমিক বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জনক। মিথ্যা পরিচয়েই প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠেছিলো তাদের।

চিকিৎসক তরুণী বেশ কয়েকদিন ফোন বন্ধ করে বাসায় বন্দি জীবন কাটান। ফোনটি খোলার পর প্রেমিকের কল। তিনি সম্পর্ক রাখতে চান। বিয়ের দরকার নেই। তরুণী জানিয়ে দেন, কোনোভাবেই তার সঙ্গে সম্পর্ক রাখা সম্ভব না।

তারপর থেকেই হুমকি-ধমকি দিতে থাকে ছেলেটি। ফোনে, মেসেঞ্জারে একই হুমকি। সম্পর্ক না রাখলে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি, ভিডিওগুলো ফেসবুকে, ইউটিউবে ছড়িয়ে দেয়া হবে। ফোন, ফেসবুক বন্ধ রাখেন। ডাক্তার তাহমিনা ঢাকা ছেড়ে চট্টগ্রামে চলে যান। সেখানেও শান্তি নেই। স্বস্তি নেই। ঠিকানা সংগ্রহ করে হাজির হয় জুয়েল। যে কোনোভাবে এই তরুণীকে তার চাই।

শেষ পর্যন্ত সিটিটিসি’র সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সহযোগিতা নেন এই তরুণী। তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে ওই তরুণের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে। জব্দ করা হয় ছবি, ভিডিও। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, এই প্রতারক এরকম বেশ কয়েক তরুণীর সঙ্গে প্রতারণা করেছে। মিথ্যা পরিচয় দিয়ে সম্পর্কে জড়িয়ে জিম্মি করে ভোগ করতো। কারও কারও কাছ থেকে বিপুল অর্থ আদায় করতো।

সিটিটিসি’র সাইবার ক্রাইম ইউনিটের উপ-পুলিশ কমিশনার নাজমুল ইসলাম বলেন, এরকম অনেক ঘটনা রয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তার ও ভিকটিমকে সুরক্ষা দিয়ে তদন্ত করেছি। আমরা মামলা ছাড়াও অনেককে সহযোগিতা করি। অভিযোগকারীদের মধ্যে মামলা করতে চান খুবই কম। তাদের হার ৩০ ভাগের বেশি না বলে জানান তিনি। সূত্র: মানবজমিন।

Please Share This Post in Your Social Media

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

38197730
Users Today : 650
Users Yesterday : 3747
Views Today : 2219
Who's Online : 19
© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/
Design & Developed BY Freelancer Zone