বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:১৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
যে পাঁচ কারণে সেক্স পাওয়ার কমে!! স্ত্রী_সহবাসের_সুন্নাত_নিয়ম? ,,,,,,,,, কক্সবাজারের এসপিকে ‘বর বেশে’ বিদায় ৫ টি চোরাই মোটরসাইকেল সহ দুই জনকে আটক করেছে নাটোর পুলিশ ডোমারে হামলার শিকার ইউপি সদস্য। আটক ৩  জাহাজঘাটা শেখ রাসেল স্মৃতি সংঘ ও মারকাজুল কুরান এতিমখানার পক্ষ থেকে এ্যাড জহুরুল হায়দারকে শুভেচ্ছা উলিপুরে অনৈতিক কর্মকান্ডের অভিযোগে আওয়ামীলীগ নেতাকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দিলো জনতা একটা সিজার মানে বাচ্চা জন্মের পর থেকে একটা মায়ের মৃত্যুর আগ পযর্ন্ত প্রতিবন্ধি হয়ে বেঁচে থাকা। ফেসবুকে এসে যা বললেন ধর্ষণে অভিযুক্ত মামুন রেস্টুরেন্টে বারের ব্যবসা, মদ-বিয়ার জব্দ বিএসইসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে বিএপিএলসি প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ দুই কোম্পানির ৬০০ কোটি টাকার বন্ড অনুমোদন হতাহতদের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী বিয়ের ‘গণজোয়ার’ ঠেকিয়ে রাখতে পারেনি করোনাভাইরাস মোবাশ্বের আলীর-সাহিত্য চেতনা

প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত “আবুল বারকাতের প্রতিবাদ ও প্রতিবেদকের বক্তব্য” সস্পর্কে আমার বক্তব্য প্রকাশ প্রসঙ্গে

মহোদয়,

গত ১০ আগস্ট ২০২০ তারিখে প্রথম আলো পত্রিকার ১২ নম্বর পৃষ্ঠার ৪ নম্বর
কলামে “আবুল বারকাতের প্রতিবাদ ও প্রতিবেদকের বক্তব্য” শিরোনামে প্রকাশিত
খবরের পরিপ্রেক্ষিতে আমার বক্তব্য আপনার গণমাধ্যমে প্রকাশের জন্য
অনুরোধসহ প্রেরণ করছি।
শ্রদ্ধান্তে,

আবুল বারকাত
…………………………………………………………………………………………………………………..
তারিখ: ১০ আগস্ট, ২০২০

বিষয়: অদ্য ১০ আগস্ট ২০২০ তারিখে প্রকাশিত “আবুল বারকাতের প্রতিবাদ ও
প্রতিবেদকের বক্তব্য” সম্পর্কে আমার বক্তব্য ।

মহোদয়,

আমি নিম্নস্বাক্ষরকারী গত ২৯ জুলাই ২০২০ তারিখে  আপনার “প্রথম আলো” দৈনিক
পত্রিকার দশম পৃষ্ঠায় “হঠাৎ করেই জনতার চেয়ারম্যান বদল:
রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংক” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের একাংশে আমাকে
জড়িয়ে লেখা হয় “জানা গেছে, অ্যাননটেক্স ও ক্রিসেন্ট গ্রুপের ঋণ জালিয়াতির
কারণে রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় জনতা
ব্যাংক। অধ্যাপক আবুল বারকাত চেয়ারম্যান থাকাকালীন দেওয়া ঋণে এই দুই
প্রতিষ্ঠানের কাছে আটকে গেছে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা”। এ সংবাদের
অসত্যতা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতার কারণে আমি ঐ দিনই (২৯ জুলাই ২০২০) আপনার
বরাবর ৬ পয়েন্টের প্রতিবাদলিপি প্রেরণ করি যেখানে স্পষ্টভাবে লিখি যে
আমার জানামতে জনতা ব্যাংকে চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে (সেপ্টেম্বর
২০০৯-সেপ্টেম্বর ২০১৪) আমার পরিচালনা পর্ষদ (বোর্ড অব ডাইরেক্টরস) থেকে
অ্যাননটেক্স বা ক্রিসেন্ট গ্রুপ নামক কোনো প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেয়া হয়নি ।
আমার উল্লেখিত প্রতিবাদলিপি পাঠানোর সাত (৭) দিন পরে ৬ আগস্ট ২০২০ তারিখে
আপনার পত্রিকায় আমার লিখিত প্রতিবাদলিপির অংশ বিশেষ “আবুল বারকাতের
প্রতিবাদ ও প্রতিবেদকের বক্তব্য” শিরোনামে ছাপা হয়েছে। প্রতিবেদকের
বক্তব্যে আপনারা লিখেছেন: “২০০৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৪ সালের
সেপ্টেম্বর পর্যন্ত  অধ্যাপক আবুল বারকাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পরিচালনা
পর্ষদের সভায় অ্যাননটেক্স গ্রুপের ২১টি প্রতিষ্ঠানের ঋণ অনুমোদন করা হয়।
এর মধ্যে শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নামের সঙ্গে অ্যাননটেক্স যুক্ত আছে,
বাকীগুলো অন্য নামে । তবে সব কটি অ্যাননটেক্স গ্রুপের ঋণ । এর  মধ্যে
কয়েকটি হলো গ্যালক্সি সোয়েটার, সিমি নিট টেক্স, সুপ্রভ কম্পোজিট, সুপ্রভ
স্পিনিং, সুপ্রভ মিলাঞ্জ, সিমরান কম্পোজিট, জারা নিউ টেক্স, গ্যাট নিট
টেক্স, জেওয়াইবি নিট টেক্স, জ্যাকার্ড নিট টেক্স । এ ছাড়া ক্রিসেন্ট
গ্রুপকে অর্থায়ন শুরু হয় তার মেয়াদেই । ব্যাংকটির পর্ষদ সভার নথিপত্র
পর্যালোচনা করেই এসব তথ্য পাওয়া গেছে”। “প্রতিবেদকের বক্তব্য পুরাটাই
মিথ্যা” উল্লেখ করে আমি ঐ দিনই ৬ই আগস্ট ২০২০ তারিখে আমার  ৬ পয়েন্ট
সম্বলিত প্রতিবাদলিপি আপনাদের কাছে ই-মেইলে প্রেরণ করি । আপনারা আমার
প্রতিবাদলিপির প্রেক্ষিতে অদ্য ১০ আগস্ট ২০২০ তারিখে আপনার পত্রিকায় ১২
পৃষ্ঠার ৪ নম্বর কলামে “আবুল বারকাতের প্রতিবাদ ও প্রতিবেদকের বক্তব্য”
শিরোনামে লিখেছেন ,“২০০৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর
পর্যন্ত অধ্যাপক আবুল বারকাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের
বিভিন্ন সভায় অ্যাননটেক্স গ্রুপের ২১টি প্রতিষ্ঠানের ঋণ অনুমোদন করা হয় ।
ক্রিসেন্ট গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন নামে । সাধারণত ঋণ গ্রুপ অব
কোম্পানিজের নামে নয়, আলাদা প্রতিষ্ঠানের নামেই দেওয়া হয় । পর্ষদের
অনুমোদনের সময় ব্যাংকেরই জানতে হয় ঋণের উপকারভোগী কে বা কারা । এ কারণেই
পরবর্তীকালে বাংলাদেশ ব্যাংক তদন্ত করে বলেছে যে, দেওয়া সব ঋণই
অ্যাননটেক্স ও ক্রিসেন্ট গ্রুপের । ব্যাংকও এখন তা মেনে নিয়ে আগের দেওয়া
সব ঋণকে অ্যাননটেক্স গ্রুপের বলে নথিভুক্ত করেছে” । প্রতিবেদকের বক্তব্য
থেকে আমার ধারণা হচ্ছে যে “সত্য নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি মিথ্যারই
নামান্তর”–আপনারা অনৈতিক এই পথ বেছে নিয়েছেন । কারণ:

১. আমি আমার ২৯ জুলাই ও ৬ই আগস্ট – উভয় প্রতিবাদলিপিতেই লিখেছি যে “আমি
জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে (সেপ্টেম্বর
২০০৯- সেপ্টেম্বর ২০১৪) আমার জানামতে আননটেক্স  বা ক্রিসেন্ট গ্রুপ নামক
কোনো প্রতিষ্ঠানে ঋণ দেয়া হয়নি” । আপনারা এ সত্যটি ছাপছেন না ।

২. প্রতিবেদক লিখেছেন “পরবর্তীকালে বাংলাদেশ ব্যাংক তদন্ত করে বলেছে যে
দেয়া সব ঋণই অ্যাননটেক্স ও ক্রিসেন্ট গ্রুপের । ব্যাংকও এখন তা মেনে নিয়ে
আগের দেয়া সব ঋণকে অ্যাননটেক্স গ্রুপের বলে নথিভুক্ত করেছে ”।
পরবর্তীকাল  মানে কোন সময় আর ব্যাংকও এখন মানেই বা কখন? এসব সময়ে তো আমি
পরিচালনা পর্যদের চেয়ারম্যান ছিলাম না । অথচ ৬ই আগস্ট প্রতিবেদক লিখলেন
“ব্যাংকের পর্ষদ সভার নথিপত্র পর্যালোচনা করেই এসব তথ্য পাওয়া গেছে” ।
অর্থাৎ ৬ আগস্ট লিখলেন এক কথা আর আজকে লিখলেন অন্য কথা । এসব ধুম্রজাল
সৃষ্টি অনাকাঙ্ক্ষিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ।

৩.আপনারা আমার প্রথম ও দ্বিতীয় প্রতিবাদলিপি (যথাক্রমে ২৯ জুলাই ২০২০ এবং
৬ আগস্ট ২০২০) আয়তনে ছোট হলেও কোনোটাই পূর্ণাঙ্গ ছাপলেন না। এসব করে
আপনারা স্বচ্ছ একটি বিষয়কে অস্বচ্ছ বানাচ্ছেন । হীন উদ্দেশ্য ছাড়া এসব
হবার কথা নয় ।

৪. আমি আমার প্রতিবাদলিপিতে সার্বিক ঘটনার সত্যতা উদ্ঘাটনে দায়িত্বশীল
ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের (প্রথম প্রতিবাদলিপিতে)
অনুরোধ এবং (দ্বিতীয় প্রতিবাদলিপিতে) পরবর্তীতে দাবি হিসেবে উত্থাপন
করেছিলাম । আজকেও তা দাবি হিসেবে উত্থাপন করলাম । আশা করি আমার তিনটি
প্রতিবাদলিপি (২৯ জুলাই ২০২০, ৬ আগস্ট ২০২০ এবং ১০ আগস্ট ২০২০) পূর্ণাঙ্গ
ছেপে দেশের আপামর জনগণ ও আপনার পাঠককুলকে সম্পূর্ণ বিষয়ের পূর্ণ সত্য
জানানোর ব্যবস্থা করবেন ।

শ্রদ্ধান্তে

আবুল বারকাত
অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ (ছুটিতে)
অধ্যাপক ও প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান
জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
এবং
সভাপতি, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি

Please Share This Post in Your Social Media

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

37485796
Users Today : 5979
Users Yesterday : 5832
Views Today : 15539
Who's Online : 43
© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/
Design & Developed BY Freelancer Zone