Home / Uncategorized / প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে রাজাকারের নাতি সরিষাবাড়ী পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে অভিযোগ

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে রাজাকারের নাতি সরিষাবাড়ী পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে অভিযোগ

সরিষাবাড়ী(জামালপুর) প্রতিনিধি- বাংলাদেশ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়ে রাজাকারের নাতি সরিষাবাড়ী পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সরিষাবাড়ী শহর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ,মুভি বাংলা টিভির রিপোর্টার,বাংলাদেশ সাংবাদিক ঐক্য ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক মাসুদুর রহমান । তিনি পৌর এলাকার ধানাটা গ্রামের মোজাম্মেল হকের পুত্র । গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁও পুরাতন সংসদ ভবন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।
অভিযোগে জানা গেছে, জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলার বিএনপি থেকে ২০১৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারী আওয়ামী লীগে যোগদান করেন পৌর এলাকার সাতপোয়া (উত্তর পাড়া) রুকনুজ্জামান রুকন । তার বাবা মৃত ওবায়দুল্লাহ । বড় ভাই সাবেক যুবদল নেতা সাইফুল ইসলাম টুকন। তাকে ‘রাজাকারের নাতি’ বলে অভিহিত করা হয়। এলাকায় প্রচার রয়েছে তার দাদা ৭১’র মুক্তিযুদ্ধকালীন পিস কমিটির নেতা ছিলেন। পৌর আওয়ামী লীগে ঢুকে পড়া জামায়াত-বিএনপি ও রাজাকার পরিবারের নব্য আওয়ামী লীগ নেতারা ক্রমেই দলের ভিতরে আধিপত্য বিসÍার করতে শুরু করেছে। অথচ তাকেও স্থান দেওয়া হয়েছে সরিষাবাড়ী পৌরসভা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পদে। যোগদানের ৭ মাস পর পৌর নির্বাচনে করে সরিষাবাড়ী পৌরসভায় নৌকা প্রতীকে ১৮ হাজার ২৪৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তিনি কি এমন আলাউদ্দীনের চেরাগ হাতে পেলেন যার দ্বারা তিনি সময়ের অল্প পরিসরে অবৈধ বিত্ত বৈভবের মালিক-যেমন কাচা ঘর থেকে পৌর বিধি লঙ্গন করে রাস্তার পাশে ৫ তলা অট্টালিকা নির্মাণ করেছেন রুকন। অন্যটি ৭ তলা অট্টালিকা রাস্তার পাশে বিধি বর্হিভুত ভাবে নির্মাণাধীন । হোল্ডিং টেক্স,পৌরসভা তহবিল হতে নামে বেনামে নানা খাতে ব্যয় দেখিয়ে আত্মসাৎ হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। পৌর মেয়রের উপর পৌরসভা তহবিল, সরকারি বরাদ্দের টাকা, দরপত্র বিক্রির টাকা এবং ক্ষমতা পেয়ে সরকারি অর্থ উত্তলনের পর ঐগুলির উপযুক্ত পাওনাদারকে পরিশোধ না করেও ক্যাশ বহিতে বিতরণ দেখিয়ে আত্মসাত করে আসছেন। ইতিপূর্বে দূর্নীতি দমন কমিশনে একাধিকবার তার বিরুদ্ধে অবৈধ দূর্নীতির চিত্র সহ প্রতিবাদ লিপি দিলেও ফলাফল শূন্য । অসহায় পৌরবাসীর পাশে দাড়ানোর কি প্রসাসন যন্ত্রের কেও বা সংস্থা নেই!!! এমটাই প্রশ্ন পৌর এলাকায়। অল্প সময়ের ব্যবধানে তার অপরিমেয় জমি-জমা তথা বাড়ি গাড়ির মালিক হওয়ার বিশয়টিও তদন্ত করার জোর দাবী জানাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। পৌর মেয়র হওয়ার সুবাদে বাড়তে থাকে তার অন্যায়, অত্যাচার, অসদাচরণ, বিকৃত রুচি,, গালাগালি, পৌর অর্থ লুট, শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনা। পৌর মেয়র হলেও সেই দায়িত্বপূর্ণ পদ তার মধ্যে পরিবর্তন আনতে পারেনি। লোপ পায়নি চারিত্রিক নোংরামিও। সরকারী অর্থের অবাধ লুটপাট, তার নানা অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ করা হলে মেয়র রুকন গুলি করে খুলি উড়ানোর হুমকি দিয়ে থাকে । গত ২০১৮ সালের মে মাসের ২০ তারিখে পেশাগত দায়িত্ব পালনে তথ্য নিতে গেলে মেয়র রুকন গুলি করে আমাকে হত্যার উদ্দ্যেশে উদ্যোত হয়। যার সরিষাবাড়ী থানার জিডি নং- ৭৯১-তারিখ০২১-০৫-২০১৮ । শুধু গত ২৬ ফেব্রæয়ারী ২০২০ সকালে সরিষাবাড়ীতে কর্মরত আরো ২ সাংবাদিককে গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে সরিষাবাড়ী থানায় রয়েছে প্রায় ২০ টি সাধারন ডায়েরী ।
রাজাকারের নাতি, সরিষাবাড়ি পৌর মেয়র রুকনের বৈধ অস্ত্রের অবৈধ হস্তান্তর, কখনও মাতালের হাতে! কখনোও মক্ষীরানীর হাতে,কখনও বনানীর হোটেল নরড়িকস এর রুমের বেডে মক্ষীরানীর হাতে খেলনা’র মতো! প্রকাশ্যে তিনি অস্ত্র হাতে এলাকায় মহড়া দিয়ে থাকে । এতে স্থানীয় সরিষাবাড়ী পৌর নাগরিক তথা শিক্ষার্থীরা আতংকে দিন কাটাচ্ছে । অস্ত্র আইনের কি নির্দেশনাবলীতে এ সব কি আইনসিদ্ধ কি-না!!! প্রশাসনের কাছে সদয় জিজ্ঞাস্য????
এবং কি এলাকাবাসী ভীত- সন্ত্রস্থ, কেউ মুখ খোলার সাহস পায় না। আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে পৌরসভা মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তিনি পাল্টে গেছেন। তিনি ওঠাবসা করেন স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের সঙ্গে। তার নেতৃত্বে সংখ্যলঘু হিন্দুদের বসতভিটা দখলের অভিযোগ রয়েছে। পৌরসভায় জামায়াত-বিএনপির দাপটে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কোন কাজেকর্মে মেয়রের ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারেন না। মেয়রের কথার বাইরে কেউ কোন প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে উল্টো হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। মেয়রের ভাই যুবদল নেতা টুকন। তিনিই মেয়রের পক্ষে সবকিছু দেখভাল করে থাকেন। তার পরিবারের সবাই এখনো বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
এলাকায় প্রচার রয়েছে ,তার দাদা ১৯৭১ সালের পাকিস্তান পন্থি বিশিষ্ট রাজাকার মৃত গফুর মাষ্টার । তার নেতৃত্বে উপজেলার পারপাড়া গ্রামটি ভস্মিভুত এবং হিন্দু-মুসলমান নারীদের ধর্ষনকারী ,লুটতরাজকারী এবং তৎসঙ্গে গুলি করিয়া অসংখ্য লোকজন হত্যা করে রাজাকার মৃত গফুর মাষ্টার। তার নাতী বর্তমান পৌর মেয়র। রাজাকার মৃত গফুর মাষ্টার ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পর থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত রাজাকার দালাল আইনে জেল হাজতে বন্ধী ছিলেন । পরবর্তীতে জেনারেল জিয়াউর রহমান ক্ষমতা গ্রহণ করার পর জেল হাজত থেকে মুক্তি লাভ করে। পরে মেয়র রুকনের দাদা রাজাকার মৃত গফুর মাষ্টার ধুকে ধুকে তিলে তিলে মৃত্যু বরন করেন।
এ বিষয়ে পৌর মেয়রের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি কোন কথা বলতে রাজি হননি।

নিউজটি লাইক দিন ও আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

About jahir

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

৪ মাসেও এমপি পাপুলের নির্বাচনি হলফনামা দুদককে দেয়নি ইসি

লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস‌্য (এমপি)  কাজী শহীদ ইসলাম পাপুলের নির্বাচনি হলফনামা দীর্ঘ ...