সোমবার, ০৮ মার্চ ২০২১, ০৯:২১ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
নোয়াখালী সুবর্ণচরের বিএনপি নেতা এনায়েত উল্লাহ বি কম এর ইন্তেকাল নওগাঁর মহাদেবপুরে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের গণকবর প্রাচীর দিয়ে সংরক্ষণের দাবি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের শিক্ষা জাতীয় করন নিয়ে মনের কষ্ট ফেসবুকের মাধ্যমে ব্যক্ত করলেন অধ্যক্ষ এস এম তাইজুল ইসলাম কুলিয়ারচরে দিনব্যাপী ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উদযাপন ২৫ ও ২৬ মার্চ হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল জিয়া মমতাকে ছেড়ে আসা মিঠুন এখন মোদির দলে সন্তান কোলে নিয়েই দায়িত্ব সামলাচ্ছেন নারী ট্রাফিক পুলিশ স্ত্রীসহ করোনায় আক্রান্ত সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আসাদ মিয়ানমারে রাস্তায় হাজারো হাজার লোকের বিক্ষোভ স্কুল শিক্ষককে বিয়ে করলেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী নারী প্রতারণার মামলায় ডা. সাবরিনার জামিন আবেদন নামঞ্জুর চট্টগ্রামে প্রবাসী হত্যায় ৯ জনের মৃত্যুদণ্ড সামাজিক মাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ লেখা সতর্ক করলেন প্রধান বিচারপতি নিবন্ধনধারীদের এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের নির্দেশ ১৫ দিনের মধ্যে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধনধারীদের নিয়োগ

প্রেমিককে নিয়ে প্রেমিকা উধাও; থানায় অপহৃরণের অভিযোগ

 

মোঃ নাসির উদ্দিন, ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে এক কলেজ পড়–য়া ছাত্রী সালমা আক্তার (১৭) তার প্রেমিক ডিগ্রিতে পড়–য়া নাজমুল হাসান নামের এক ছাত্রকে নিয়ে উধাও হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সালমা উপজেলার কুরুয়া গ্রামের অটো-ভ্যান চালক মো. সাইম উদ্দিনের মেয়ে। সে লুৎফর রহমান মতিন মহিলা কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। নাজমুল ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের কয়েড়া গ্রামের দিন-মজুর মিনহাজ উদ্দিনের ছেলে। সে নিকরাইল শমশের ফকির ডিগ্রি কলেজের ডিগ্রি ২য় বর্ষের ছাত্র।

সম্প্রতি গত মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) সকালে সালমা তার প্রেমিক নাজমুলকে মোবাইল ফোন করে তাদের বাড়িতে আসার কথা বলে ভয়ভীতি দেখিয়ে নাজমুল কে নিকরাইল বাজারে ডেকে নিয়ে উধাও হয়ে যায়। এ ঘটনার পরপরই সন্ধ্যায় মেয়ের মা-বাবা ও স্থানীয় মেম্বারসহ মাতাব্বরদের নিয়ে নাজমুলদের বাড়িতে আতঙ্ক ও হয়রানি করে। পরে সন্ধ্যা রাতেই ছেলে পক্ষ থেকে স্থানীয় মেম্বার ও এলাকার মাতাব্বররা এসে মিমাংসার চেষ্টা করে ছেলে-মেয়েকে ৭ দিনের মধ্যে বের করার প্রস্তাব উঠে আসে। সালিশ বৈঠকে ৩ দিনের সময় বেঁধে ছেলের বাবাকে। অনেক খোঁজাখুজি করে ছেলে পক্ষের লোকজন গত শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) রাতে উভয়ইকেই খুঁজে বের করে নিয়ে আসা হয়।

জানা গেছে, নাজমুলের বাবা উপজেলার কয়েড়া গ্রামে বসবাস করে আসছেন। নামজুল তার নানার বাড়িতে না থেকে ছোট বেলা থেকেই দাদার বাড়িতে পড়াশোনা করেছেন। ৭ম শ্রেণিতে পড়া সময়ে নাজমুল নানার বাড়িতে চলে এসে লেখা পড়া করে আসছেন। সম্প্রতি, ১০ শ্রেণিতে থেকে নাজমুল আত্মীয়’র সুবাধে সালমাদের বাড়িতে মাঝে মাঝে আসা যাওয়া করতেন। এর মধ্যেই দুজনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এ সম্পর্ক দু’পরিবারের কেউও মেনে নিতে রাজি হয়নি। এদিকে, সামলার পরিবার থেকে সালমা কে অন্যত্র বিয়ে দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। কিন্তু সালমা রাজি না হলে তার মা বকাঝকা করে মারধর করে সালমাকে। এ ক্ষোভে রাগ করে গত মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) সকালে সেচ্ছায় বাড়ি থেকে বের হয়ে নাজমুলের খোঁজে নিকরাইল বাজারে আসে। সালমা নাজমুলের বাড়ি না চিনলে তাকে ফোন করে এগিয়ে আসতে বলে। পরে নাজমুল নিকরাইল বাজারে গেলে প্রেমিকা সালমা তাকে নানা রকম ভয়ভীতি দেখিয়ে উভয়ই আত্মগোপনে থাকেন।

এ ঘটনায় বেঁধে দেয়া সময়ে ৪ দিনপর গত রবিবার (০২ নভেম্বর) দুপুরে গোবিন্দাসী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদার বাবলু, নারান্দিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শুকুর মাহমুদ, অলোয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. রহিজ উদ্দিন আকন্দ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ এলাকার মাতাব্বরদের উপস্থিতে উভয় পক্ষকে নিয়ে গ্রাম্য সালিশ হয়। সেখানে মেয়ে পক্ষ সালিশ কে প্রত্যাখান করে উঠে যায়। অপরদিকে, সালমা সেচ্ছায় নাজমুল কে মোবাইল ফোন করে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে আত্মগোপনে থাকেন এবং নামজুল কোনো উপায় না পেয়ে তার এক আত্মীয় বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিয়ে ৩ লাখ টাকার কাবিনে তারা বিয়ে করেন বলে জানায় নাজমুলের পরিবার।

সালিশ প্রত্যাখান করে গত রবিবার (০২ নভেম্বর) মেয়ের মা আসমানী বেগম বাদী হয়ে কালিহাতী থানায় অপহৃরণের অভিযোগ দায়ের করেন। হতদরিদ্র নাজমুলের বাবা মিনহাজ উদ্দিন বলেন, গত নভেম্বর মাসের ২৬ তারিখ মঙ্গলবার সকালে সালমা মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে পালিয়ে যায়। কিছুদিন আত্মগোপনে থাকেন। এসব কিছুর জন্য মেয়ের মা দায়ী। এমন ঘটনার পরে জনপ্রতিনিধিদের মতামতে গ্রাম্য সালিশকেও মানছেন না তারা। মেয়ে পক্ষের পরিবারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে কালিহাতী উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. শুকুর মাহমুদ মুঠো ফোনে বলেন, কয়েড়ার নাজমুল ও কুরুয়া গ্রামের সালমার বিষয়টি নিয়ে গত রবিবার (০২ ডিসেম্বর) সকালে গ্রাম্য হয়েছে। এ সালিশে মেয়ে ছেলের পক্ষে থাকায় কোনো সমাধান হয়নি। পরে সালিশ শেষে মেয়ের মা বাদী হয়ে থানায় নাজমুল কে অভিযুক্ত করে অপহৃরণের অভিযোগ দায়ের করেন। ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান এ ঘটনার বিষয়টি সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নাজমুল ও সালমার বিষয়টির ব্যাপারে আমি অবগত আছি। গত রবিবার সকালে আমিসহ অন্যান্য চেয়ারম্যান ও স্থানীয় মাতাব্বদের উপস্থিতিতে সুষ্ঠ সমাধানের জন্য গ্রাম্য সালিশ হয়েছে।

এ ঘটনায় কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ হাসান আল মামুন বলেন, অপহৃরণের অভিযোগ এনে মেয়ের মা আসমানী বেগম বাদী হয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছে। মেয়ের বয়স ১৮ না হওয়ায় বিয়ে আইন সম্মত নয়। সুষ্ঠ সমাধানের জন্য তাদের উভয়কে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

38372774
Users Today : 4396
Users Yesterday : 2978
Views Today : 13600
Who's Online : 41
© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/