সোমবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২১, ০২:১৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
জিয়া খন্দোকার’র মৃত্যুতে ফেনী প্রেসক্লাব’র শোক চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখার অভিযানে ২০০ পিস ইয়াবা ও ১০০ গ্রাম হেরোইন সহ ৩ জন গ্রেপ্তার। চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিশ্বরোড হজরত এন্ড রুবেল ফল ভান্ডার এর দোকানে ১২ মাসি ফলের হিড়িক। ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে সরকার বিনা মূল্যে করোনার টিকা দিতে চাচ্ছে ইনশাআল্লাহ : স্বাস্থ্যসেবা সচিব গাজা গাছ সহ আটক খতিউল্লাহ্ ওরফে খতিব পূঞ্জিভূত ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে জিলবাংলা চিনিকল ধংসের দ্বারপ্রান্তে হোটেল থেকে পাঁচ যুবতীসহ ১৪ জন ধরা গোসলের ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ পাওয়া গাড়ি কেনার টাকা দিয়ে মসজিদ বানালেন মেয়র! দিহান জানায়, সম্মতিতেই শারীরিক সম্পর্ক হয় মেডিকেলের ছাত্রীকে একরাতের জন্য ডেকেছিলেন অভিনেতা অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় নিজের সৎ ছেলেকেই বিয়ে করলেন এই মহিলা! আরেকজন মুসলিমকে মন্ত্রী করে সম্মানিত করলেন জাস্টিন ট্রুডো ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে সন্তানদের সামনে মাকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন ফুলবাড়ীতে জমিজমা নিয়ে সংঘর্ষে ১ যুবকের মৃত্যু 

ফ্লাইওভারে ম’রণফাঁদে মুহুর্তেই ঘটে যাচ্ছে ভয়াবহ দূর্ঘটনা

রাজধানীর ফ্লাইওভারগুলোতে মোটরসাইকেল চালকদের জন্য ‘ম’রণফাঁদ’ তৈরি করছে সংঘবদ্ধ চক্র। ফ্লাইওভারের নির্জন জায়গা দেখে দুই পাশের রেলিংয়ে বেঁধে রাখা হয় নাইলনের সুতা—যা দ্রুত ছুটে চলা চালকদের চোখে পড়ে না। এসব সুতার ফাঁদে আটকে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন অনেকে।

মোটরসাইকেলসহ উল্টে পড়া মাত্র আশপাশ থেকে ছুটে আসে ওঁত পেতে থাকা চক্রের সদস্যরা। এরপর তারা দুর্ঘটনার শিকার হওয়া ব্যক্তির টাকা পয়সা ও মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেয়। হাতিরঝিল, মগবাজার, খিলগাঁও ও কুড়িল ফ্লাইওভারে এই ফাঁদ পাতা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কয়েকজন চালক।

এসব ফ্লাইওভারে বেঁধে রাখা নাইলনের মজবুত সুতার টানে হাত ও গলায় জখম হয়ে মারাত্মকভাবে আ’হ’ত হয়েছেন কয়েকজন চালক। এই চক্রের সদস্যদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা না হলে ফাঁদে পড়ে প্রাণহানির মতো ঘটনাও ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এসব ফ্লাইওভার দিয়ে চলাচলকারী মোটরসাইকেল চালকরা।

গত ১০ জুলাই সুতার ফাঁদে পড়ে মোবাইল ও মানিব্যাগ খুইয়েছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানভির জোবায়ের। মধ্যরাতে বন্ধুকে রামপুরায় নামিয়ে দিয়ে হাতিরঝিল হয়ে ধানমন্ডি ফেরার পথে মধুবাগ ফ্লাইওভারে সুতার ফাঁদে পড়েন তিনি।

তানভির বলেন, ‘হাতিরঝিলের মধুবাগ ফ্লাইওভার থেকে নামার পথে কিছু একটা হাতে আটকে যায়। ব্যথা পেয়ে মোটরসাইকেল থামিয়ে দেখি— সুতা আটকে হাত কেটে গেছে। সঙ্গে সঙ্গে দেখলাম কয়েকজন এসে আমাকে ঘিয়ে ধরলো। চাকু দেখিয়ে মোবাইল ও মানিব্যাগ নিয়ে গেলো। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা পালিয়ে যায়।’

গত ১২ আগস্ট সন্ধ্যায় কুড়িল ফ্লাইওভারে এমন ফাঁদে পড়েন শেখ রায়হান কবির। তিনি জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে কুড়িল ফ্লাইওভারে সুতায় আটকে তার হাত কেটে যায়। তবে তিনি সেখানে না থামায় কোনও বিপদ ঘটেনি। ‍ভরদুপুরে সুতার ফাঁদে পড়েছিলেন সংবাদকর্মী মোহাম্মদ হোসাইন তারেক।

গত ১১ জুলাই দুপুরে তিনি দু’র্ঘটনার শিকার হন বলে জানান। তারেক বলেন, ‘মিন্টো রোড থেকে মগবাজার ফ্লাইওভারে উঠে বামে টার্ন নিয়ে কাওরান বাজারের দিকে যাচ্ছিলাম। ফ্লাইওভারের ওপর বামের লেনের রাস্তাটা বেশ নীরব ছিল। আর তখন বৃষ্টি হচ্ছিলো। মূল ফ্লাইওভার থেকে বামে টার্ন নিতেই সুতায় গলা ও হাত জড়িয়ে যায়।

আমার বাম হাতের একটু অংশ কেটে যায়। কিন্তু একটু এদিক-সেদিক হলেই আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারতো। মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের যাত্রাবাড়ী অংশে সুতার ফাঁদে পড়ে গলার চামড়া কেটে যায় মাহমুদ রেজা তফুর। তিনি বলেন, ‘আল্লাহর অশেষ রহমতে ওইদিন বেঁচে গেছি।

যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভারে আমি ৬০ কিলোমিটার স্পিডে বাইক চালাচ্ছিলাম। হঠাৎ একটা সুতা গলায় প্যাঁচিয়ে গেলো, আর প্রচণ্ড যন্ত্রণা অনুভব করলাম। আমি বাইকটাকে কোনও রকমে এক হাত দিয়ে কন্ট্রোল করলাম, আরেক হাত দিয়ে সুতাটা ধরলাম, যেন গলাটা বাঁচাতে পারি।

সুতার টান এত বেশি ছিল যে, আমার হাত আর আঙুল কেটে গেছে। হেলমেটটা গলার ওপর সুতার প্রেসার কমাইছে, নইলে আরেকটু জোরে প্রেসার পড়লে গলার রগটা কেটে যেতে পারতো। সর্বশেষ গত ১১ আগস্ট দিনের বেলা খিলগাঁও ফ্লাইওভারে সুতা দেখে গাড়ি থামিয়ে তা সরিয়ে রাখেন আসাদুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘আমি যাওয়ার সময় খেয়াল করলাম সুতা বাঁধা। পরে তা আমি খুলে নিয়েছি। অনেকখানি লম্বা সুতা ছিল। কোনও বাইকার যাতে ক্ষতির শিকার না হয়, সেজন্য খুলে সরিয়ে রাখি। রাজধানীর ফ্লাইওভারগুলোতে সুতায় পাতা ফাঁদের খবর পুলিশ সদস্যদের কানেও পৌঁছেছে।

হাতিরঝিলে এক পুলিশ সদস্যও এ ধরনের ফাঁদে পড়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তার সহকর্মী। নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাতিরঝিল থানার এক পুলিশ সদস্য জানান, এগুলো আশপাশের পোলাপান করে। সুযোগ পেলেই তারা ছিনতাই করে। মাঝে মাঝে অভিযান চালানো হয়, তখন কিছু দিন বন্ধ থাকে।

পরে আবারও শুরু হয়। এই থানার একাধিক পুলিশ সদস্য এ ধরনের ঘটনার কথা স্বীকার করলেও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল রশীদ তা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার এলাকার ফ্লাইওভারগুলোতে এমন কোনও ঘটনার খবর আমি পাইনি।

এ ধরনের অপরাধীদের অবশ্যই আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-কমিশনার মো. ওয়ালিদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘কী উদ্দেশ্যে এ ধরনের কাজ করা হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা হবে। যারা এ ধরনের কাজ করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

38142731
Users Today : 4571
Users Yesterday : 2500
Views Today : 13598
Who's Online : 57
© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/
Design & Developed BY Freelancer Zone