সোমবার, ০৮ মার্চ ২০২১, ১২:৩৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
১৬ বছরেও পচেনি লাশ, কাফনের কাপড়ও অক্ষত দেশে প্রথম ট্রান্সজেন্ডার সংবাদ পাঠক তাসনুভা শিশির আহসানউল্লাহ মাস্টারসহ ১০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান পাচ্ছেন স্বাধীনতা পুরস্কার আটকের পরেই সু চির দলীয় নেতার মৃত্যু চট্টগ্রামে ছাত্রলীগের দুগ্রুপের সংঘর্ষে একজন নিহত আজ ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস বাংলাদেশীদের জন্য যুক্ত হচ্ছে নতুন শ্রমবাজার মাদাগাস্কার কোন বৌদিকে পটাতে হলে জিজ্ঞাস করুন এই কথাগুলি, সে আপনার ওপর দুর্বল হয়ে উঠবে নারী স্বামীর সম্পত্তি নয় যে অনিচ্ছা সত্ত্বেও একসঙ্গে থাকতে হবে,,সুপ্রিম কোর্ট এসআই, সার্জেন্ট ও কনস্টেবল পদে নিয়োগ পরীক্ষায় ব্যাপক পরিবর্তন মদ্যপ স্ত্রী মিলনে রাজি না হওয়ায় স্বামীর গোপনাঙ্গ কর্তন নানা আয়োজনে খানসামা উপজেলায় ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ জাতীয় দিবস পালন ভাষণ দিবস আছে, কিন্তু বাস্তবায়ন নেই : মোমিন মেহেদী বঙ্গবন্ধু প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন মধ্য দিয়ে ইসলামপুরে ৭মার্চ উদযাপন প্রাইমএশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ-২০২১ উদ্যাপন

বরিশালের খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধারা যাচাইয়ের মুখে

জামুকার ওয়েবসাইটে ১১০১ জনের তালিকা

মনির হোসেন,বরিশালব্যুরো।

বয়সের ভারে ন্যুজ হয়ে পড়েছেন । চলাফেরায় ভরসা এখন হাতের লাঠি। যে হাত দিয়ে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ করেছিল।তাদের মুখে এখন হতাশার ছাপ। কথা বলার সময় দু’চোখ দিয়ে গড়াচ্ছিল চোখের পানি। তীব্র ঘেন্না আর লজ্জায় লাল হয়ে আছে মুখাবয়ব। জীবনসায়াহ্নে এসে এই লজ্জা কোথায় রাখবেন-সেই আক্ষেপই যেন ঝরছিল কণ্ঠে। খান আলতাফ হোসেন ভুলু, ’৭১-এর স্বাধীনতাসংগ্রামের বীর সেনানী।

কেবল নিজেই যে যুদ্ধ করেছিলেন তা-ই নয়, মুক্তিযুদ্ধের সময় তার নিজের নামেই ছিল একটি বাহিনী। ভুলু বাহিনী নামের সেই মুক্তিপাগল সেনানীরা টানা নয় মাস যুদ্ধ করেছেন বরিশালের বাকেরগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায়।অথচ স্বাধীনতার ৫০ বছর পর জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় ঠাঁই পাননি আলতাফ হোসেন। তাকে রাখা হয়েছে যাচাই-বাছাইয়ের তালিকায়।

কেবল খান আলতাফ হোসেন ভুলুই নন, বরিশালে এভাবে মোট ১ হাজার ১০১ জনের নাম পুনঃযাচাইয়ের তালিকায় রেখেছে জামুকা। যাদের মধ্যে আছেন বীরউত্তম ও বীরপ্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত এবং যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা। এসব বীর মুক্তিযোদ্ধার ভাতাও বন্ধ করে দিয়েছে মন্ত্রণালয়। বিষয়টিকে চরম অপমানজনক বলে আখ্যা দিয়েছেন ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।

চলতি বছরের ২৬ মার্চ মুক্তিযোদ্ধাদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই ৬ জানুয়ারি জামুকার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয় সারা দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাথমিক তালিকা।

চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের পাশাপাশি ওয়েবসাইটে যাচাই-বাছাইয়ের আওতায় থাকা মুক্তিযোদ্ধাদের একটি তালিকাও প্রকাশ করে জামুকা। এই তালিকা নিয়েই বরিশালে চলছে তোলপাড়। ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রশ্নবিদ্ধ এই তালিকা নিয়ে বরিশালে শনিবার প্রথম সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ।যাচাই-বাছাইয়ের নামে প্রতিষ্ঠিত মুক্তিযোদ্ধাদের এভাবে অসম্মানিত করার তীব্র নিন্দা জানান তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জামুকার তালিকায় বরিশাল সদর উপজেলায় ২০৫ জন, গৌরনদীর ১৯১, বাবুগঞ্জের ১৭১, মুলাদীতে ১০৮, বাকেরগঞ্জে ১০৩, উজিরপুরে ৯৮, মেহেন্দীগঞ্জে ৯০, বানারীপাড়ায় ৬৫, আগৈলঝাড়ায় ৫৬ এবং হিজলা উপজেলার ১৪ জন রয়েছেন। কী কারণে কিংবা কোন তথ্যের ভিত্তিতে তাদের নাম পুনঃযাচাইয়ের তালিকায় রাখা হলো, এর কোনো ব্যাখ্যা অবশ্য জামুকার ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়নি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন মানিক বীরপ্রতীক বলেন, ‘৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের সময় ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস’-এর সুবেদার ছিলেন বাকেরগঞ্জের খলিলুর রহমান। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিদ্রোহ করে এসে যোগ দেন মুক্তিযুদ্ধে। হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধরত অবস্থায় মার্চের শেষের দিকে শহিদ হন তিনি। অথচ তার নাম রাখা হয়েছে যাচাই-বাছাইয়ের তালিকায়।

’৭১-এ নবম সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার মেজর জলিলের অ্যাডজুট্যান্ট ছিলেন ফ্লাইট সার্জেন্ট ফজলুল হক। তার নামও নেই তালিকায়। একইভাবে বীরপ্রতীক রফিকুল ইসলাম বাদশা, মুক্তিযোদ্ধা মিন্টু বসু, তরুন দেবসহ আরও অনেকের নাম রাখা হয়েছে সন্দেহভাজনের তালিকায়। বিষয়টি নিয়ে দারুণ ক্ষুব্ধ আমরা। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও কেন মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে এভাবে ছেলেখেলা হচ্ছে? আমাদেরকে আর কতবার এভাবে অপমানিত করা হবে?’ জামুকার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এই তালিকা নিয়ে কথা হয় বরিশাল জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার শেখ কুতুব উদ্দিন আহম্মেদের সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরাও বিব্রত। এর আগে একবার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নাম এসেছে রাজাকারের তালিকায়। পরে অবশ্য আন্দোলনের মুখে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। সরকারের নির্দেশনা ছিল যে মুক্তিবার্তায় যাদের নাম থাকবে, তারা সরাসরি চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা পাবেন।

এছাড়া ভারত সরকার এবং সেক্টর কমান্ডারদের তালিকাসহ আরও ৩৩টি তালিকার বিষয়ে চূড়ান্ত করে বলা হয়, এসব তালিকায় যাদের নাম থাকবে, তাদের আর যাচাই-বাছাইয়ের কোনো প্রয়োজন পড়বে না। তাছাড়া জেলা পর্যায় থেকে আমরা যে তালিকা পাঠিয়েছি, তা অনুসরণ করলেও জটিলতা থাকত না।

কিন্তু তারপরও বারবার একই ভুল হচ্ছে। যতদূর শুনেছি, জামুকায় কর্মরতদের ভুলের কারণে এটা হয়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে-যেখানে তালিকা এখনো চূড়ান্ত হয়নি, সেখানে ওয়েবসাইটে এসব দিয়ে জটিলতা সৃষ্টির কারণ কী? আমি কেবল এটুকু বলতে পারি, চূড়ান্তভাবে তালিকা সংশোধনের কাজ এখনো চলছে। যেসব নাম ভুলে এসেছে, সেগুলোর ব্যাপারে আমরা সংশোধনী পাঠাচ্ছি। আশা করি, চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের ক্ষেত্রে এই জটিলতা আর থাকবে না। সব প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার নামই সঠিকভাবে তালিকায় আসবে।’

’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে শহিদ সুধীর চক্রবর্তীর ছেলে মুক্তিযোদ্ধা তপন চক্রবর্তী বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছর পর আমাদেরকে নিয়ে এসব ন্যক্কারজনক ঘটনা যে কতটা লজ্জাজনক, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এর আগে একবার আমিসহ আরও অনেক মুক্তিযোদ্ধার নাম আসে রাজাকারের তালিকায়।

আন্দোলনের মুখে সেই তালিকা প্রত্যাহারের পর এখন আবার আমাদের যাচাই-বাছাইয়ের নামে রাখা হলো সন্দেহভাজনের তালিকায়। এসব যারা করছে, তাদেরকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’

মুক্তিযুদ্ধে শহিদ জীতেন্দ্রনাথ দত্তের ছেলে ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত তীমির লাল দত্তের ভাতিজা শুভব্রত দত্ত বলেন, ‘প্রথমে রাজাকারের তালিকায় নাম, এরপর আবার সন্দেহভাজনের লিস্টে, এর ওপর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ভাতা-এর চেয়ে বড় অপমান আর কী হতে পারে? মন্ত্রণালয় কেন আমাদের সঙ্গে এই নোংরা খেলা খেলছে

Please Share This Post in Your Social Media

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

38371366
Users Today : 2988
Users Yesterday : 2978
Views Today : 8288
Who's Online : 42
© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/