বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০, ১০:৪৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
এক ধাক্কায় ২৫ মিলিয়ন গায়েব। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুরসহ ‌৮৬ জনের বিচার শুরু যে ছবির ‘অশ্লীল’ মুহূর্ত মনে রাখতে চান না মাধুরী বিমানবন্দরে মহিলাদের ‘নগ্ন’ করে তল্লাশি, তীব্র নিন্দার মুখে কাতার বরিশালে ক্লিনিকে সহকারী প্রকৌশলীকে মারধরের অভিযোগ আকবরকে পালাতে সহযোগিতাকারীরাও মামলায় অন্তভূক্ত হবে: এসএমপির নবাগত কমিশনার ইরফান ও সহযোগী জাহিদের বিরুদ্ধে আরো ৪ মামলা হাজী সেলিম ও ইরফানের সম্পদের তথ্য সংগ্রহ করছে দুদক ডোমারে যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত এলডি ট্যাক্স সফটওয়ারের পাইলটিং কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ…ডিএলআরসি নয়টি ধাপে পরীক্ষা নিয়েই বিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে চান প্রধান শিক্ষকরা এমপিপুত্র-মন্ত্রীপুত্র দেখেন না প্রধানমন্ত্রী: হানিফ বিদেশ ফেরত প্রবাসীদের পুনর্বাসনে ৭০০ কোটি টাকার তহবিল ফরাসি দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচিতে মানুষের ঢল পুত্রের কাণ্ডে এমপি হাজী সেলিম পলাতক!

বাংলাদেশের বন্যা পরবর্তী কৃষক ভাইদের করণীয় ,সাভারে কৃষি জমিতে ধান ভিত্তিক ফসল পরিত্রুমায় তিল চাষে কোন অসুবিধা হয় না 

ঢাকা সাভার চীফ রিপোর্টার কে,এম,তোফাজ্জেল হোসেন জুয়েল সাভার উপজেলা থেকে ## ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে প্রতিবছরই দেশের কোথাও না  কোথাও বন্যা দেখা দেয়। প্রতিরোধ-প্রতিকার করা সম্ভব না হলেও কিছু বিশেষ প্রযুক্তি পদ্ধতি অনুসরণ করলে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি অনেকটা পুষিয়ে নেয়া যায়। কৃষি মন্ত্রণালয় ও এর অধীন বিভিন্ন সংস্থা বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার জন্য কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এখানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের করণীয় কৌশল তুলে ধরা হলোথ বন্যার পানিতে ভেসে আসা কচুরিপানা, পলি, বালি এবং আবর্জনা যত দ্রুত সম্ভব পরিষ্কার করতে হবে। বন্যার পানি সরে যাওয়ার পর ৫ থেকে ৭ দিন কাদাযুক্ত ধানগাছ পরিষ্কার পানি দিয়ে প্রয়োজনে ¯েপ্র মেশিন দিয়ে ধুয়ে দিতে হবে; পানি নেমে যাওয়ার পর পরই সার প্রয়োগ করা ঠিক না এতে ধানগাছ পচে যেতে পারে। পানি নেমে যাওয়ার ১০ দিন পর ধানের চারায় নতুন পাতা গজানো শুরু হলে বিঘাপ্রতি ৮ কেজি ইউরিয়া ও ৮ কেজি পটাশ সার উপরিপ্রয়োগ করতে হবে। উঁচু জমিতে যেখানে বন্যার পানি ওঠেনি সেখানে রোপণকৃত বাড়ন্ত আমন ধানের গাছ (রোপণের ৩০ থেকে ৪০ দিন পর) থেকে ২ থেকে ৩টি কুশি রেখে বাকি কুশি সযতেœ শিকড়সহ তুলে নিয়ে অনতিবিলম্বে অন্য ক্ষেতে রোপণ করা যেতে পারে। যেসব এলাকায় বন্যায় উঁচু জমি তলিয়ে যাওয়ার কারণে বীজতলা করা সম্ভব নয় সে  ক্ষেত্রে ভাসমান অথবা দাপোগ বীজতলা তৈরি করে চারা উৎপাদন করা যেতে পারে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর ব্রি উদ্ভাবিত আলোকসংবেদনশীল উফশী ধানের জাত  যেমন- বিআর-৫, বিআর-২২, বিআর-২৩, ব্রি ধান৩৪, ব্রি ধান৪৬, ব্রি ধান৫৪ এবং নাজিরশাইলসহ স্থানীয় জাতগুলো রোপণ করতে হবে। এ ছাড়া ব্রি উদ্ভাবিত স্বল্প জীবনকালীন জাত ব্রি ধান৫৭ ও ব্রি ধান৬২ রোপণ করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত বীজতলা করা যাবে। তবে উল্লিখিত জাতগুলো নাবিতে রোপণের  ক্ষেত্রে প্রতি গোছায় চারার সংখ্যা ৪ থেকে ৫টি এবং রোপণ দূরত্ব ২০ঢ১৫   সেন্টিমিটিার; বিলম্বে রোপণের ফলে দ্রুত কুশি উৎপাদনের জন্য সুপারিশকৃত টিএসপি, জিপসাম ও জিংকসহ ৩ ভাগের ২ ভাগ ইউরিয়া জমি তৈরির সময় প্রয়োগ করতে হবে। অবশিষ্ট ইউরিয়া রোপণের ২৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে প্রয়োগ করতে হবে। যেসব এলাকায় পুনরায় বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কম (উঁচু ও মধ্যম উঁচু) সেসব জমিতে অংকুরিত বীজ সরাসরি জমিতে ছিটিয়ে বপন করা যায়।  সে ক্ষেত্রে রোপণ পদ্ধতির চেয়ে  ৫ থেকে ৭ দিন আগে ফলন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বন্যার ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া ধানগাছের যাবতীয় পরিচর্যা যেমন- আগাছা দমন, পোকামাকড় ও রোগাক্রমণ থেকে ফসল রক্ষা, সুষম পরিমাণে সার প্রয়োগ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সম্পূরক সেচের ব্যবস্থা করতে হবে। বন্যা পরবর্তীতে চারাগাছ সম্পূূর্ণভাবে মাটিতে লেগে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাকটেরিয়াজনিত পাতা  পোড়া রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। সে  ক্ষেত্রে ৬০ গ্রাম থিওভিট ও ৬০ গ্রাম পটাশ সার ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৫ শতাংশ জমিতে ¯েপ্র করতে হবে। বন্যার পরবর্তী সময়ে ধানগাছে মাজরা, বাদামি ও সাদা পিঠ গাছ ফড়িং, পাতা  মোড়ানো এবং পামরি পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য পোকা বিশেষে হাত জাল, পার্চিং এবং প্রয়োজন হলে অনুমোদিত কীটনাশক ব্যবহার করা যায়; দেশের উত্তরাঞ্চলে আগাম শীত আসার কারণে ১৫ সেপ্টেম্বর এবং মধ্য ও দক্ষিণ অঞ্চলে ২০ সেপ্টেম্বরের পর আমন ধান রোপণ করা উচিত নয়। এ ক্ষেত্রে আগাম রবি ফসলের আবাদ করা যায়। আরও বিস্তারিত তথ্যের জন্য আপনার কাছের কৃষি অফিসে যোগাযোগ করুন। তাছাড়া কৃষিবিষয়ক তথ্য পেতে যে কোনো  মোবাইল অপারেটর থেকে কৃষি কল সেন্টারে ১৬১২৩ নাম্বারে ফোন করুন।
বাংলাদেশে তিল দ্বিতীয় প্রধান তৈল বীজ ফসল হিসেবে পরিগণিত। তিলের তেলের স্বাদ ও গন্ধ সুমিষ্ট এবং পচনরোধী উঁচুমানের ভোজ্য তেল। খাদ্য হিসেবেও তিল বীজ জনপ্রিয়। একক বা মিশ্র ফসল হিসেবেও স্ব-পরাগায়ণ প্রকৃতির উদ্ভিদ। তিল চাষ করে কৃষকের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন তথা পুষ্টি সমস্যা নিরসনে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ধান ভিত্তিক ফসল পরিক্রমায় তিল চাষে কোন অসুবিধা হয় না। বিদেশ হতে সংগৃহীত একটি জার্মপ্লাজমে গামারশ্মি প্রয়োগ করে উন্নত লাইন নির্বাচন এবং নির্বাচিত লাইনটিকে দেশের বিভিন্ন কৃষি পরিবেশে অঞ্চলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বিনা তিল-১ নামে নতুন এ জাতটি উদ্ভাবন করা হয়েছে। এ জাতটি স্থানীয় আবাদি জাত টি-৬ অপেক্ষা প্রায় দেড়গুণ বেশি ফলন দেয়। বিনা তিল-১ এর গাছ শাখাবিহীন এবং পাতার রঙ ঘন সবুজ। প্রতিটি গিরায় ৩-৬ বড় আকারের লম্বা ফল ধরে। বীজাবরণ পাতলা, নরম ও ক্রীম রঙের বিধায় খোসা না ছড়িয়ে তিলের চাহিদাও প্রচুর। বীজে তেলের পরিমাণ শতকরা ৫০-৫২ ভাগ। জীবনকাল ৮৫-৯০ দিন। গড় ফলন হেক্টর প্রতি ১৩০০ কেজি (একর প্রতি ৫৩০ কেজি বা বিঘা প্রতি ১৭৫ কেজি)। বাংলাদেশের উপকূলীয় বিশাল লবণাক্ত এলাকা বছরের প্রায় ছমাস (ডিসেম্বর থেকে জুন) পতিত থাকে। এ সময়ে অর্থাৎ খরিফ-১ মৌসুমে বিনা তিল-১ এর লবণাক্ততা সহিষ্ণুতার কারণে এর চাষ করে বাংলাদেশে তেলবীজের বিরাট ঘাটতি বহুলাংশে লাঘব করা যেতে পারে। দেশের বৃহত্তম জেলাসমূহ যেমন-ঢাকা সহ সাভার, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, খুলনা, যশোর, পাবনা, রাজশাহী, দিনাজপুর, জামালপুর ও পার্বত্য জেলাসমূহে বিনা তিল-১ চাষ করে অধিক ফলন পাওয়া যেতে পারে। আউস ধান, আখ ও গ্রীষ্মকালীন মুগের সাথে সাথী ফসল হিসেবেও বিনা তিল-১ চাষ করা যায়। বেলে দো-আঁশ বা দো-আঁশ মাটি বিনা তিল-১ চাষের জন্য উপযোগী। এই ফসল জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না। তবে জমি থেকে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকলে সকল প্রকার মাটিতেই জাতটি চাষ করা যেতে পারে। তিল কুয়াশা ও জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না কিন্তু যথেষ্ট খরা সহিঞ্চু। যদি তাপমাত্রা ২৫-৩৫ সেলসিয়াসের নীচে নামে তাহলে বীজ গজাতে দেরী হয় এবং চারাগাছ ঠিকমত বাড়তে পারে না। বাড়ন্ত অবস্থায় অনবরত বৃষ্টিপাত হলে তিল গাছ মরে যায়। খরিপ মৌসুমে বীজ বপনের ৩৫-৩০ দিনের মধ্যে তিল গাছে ফুলের কুঁড়ি আসে এবং ৪০-৪৫ দিনের মধ্যে ফুল ফোটা শুরু হয়। সাধারণত ৩-৪টি চাষ ও মই দিয়ে মাটি ভালভাবে ঝুরঝুরে এবং জমি সমান করে বিনা তিল-১ এর বীজ বপন করতে হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

37696074
Users Today : 4133
Users Yesterday : 13155
Views Today : 13724
Who's Online : 41
© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/
Design & Developed BY Freelancer Zone