শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ০৭:০৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের জন্য যাত্রীবাহী ট্রেন চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে রেলওয়ে বিচারপতি সিনহার অর্থ আত্মসাতের মামলার রায় আজ সাপাহারে ফাইনাল ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত বোচাগঞ্জে আব্দুর রৌফ চৌধুরীর ১৪তম মৃত্যু বার্ষিকী পালন তানোরের কলমা ইউপিতে উঠান বৈঠক সাম্প্রদায়িক হামলার বিচার দাবি রাবি প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের তানোরে ইউপি নির্বাচনে মেইন ফ্যাক্টর প্রতিক ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) ১৪৪৩ হিজরি উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত সার্বিয়াকে জনশক্তি নেওয়ার প্রস্তাব পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আজ থেকে সপ্তাহে ৫ দিন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ঢাকা-দিল্লি বিমানের ফ্লাইট নতুন নামে কোম্পানি করে ব্র্যান্ডিংয়ে যাচ্ছে ফেসবুক যেভাবে মূলপর্বে যেতে পারে বাংলাদেশ! কলেজছাত্রকে অপহরণের পর জোর করে বিয়ে করলেন তরুণী! বিপদসীমার ৬০ সেমি ওপরে তিস্তার পানি সহিংসতা এড়াতে ২৬ জেলার পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশ

বাংলার অপরূপ শোভা চিরায়ত কাঁশফুলের সৌন্দর্যে হাঁসছে বরিশাল!

মনির হোসেন,বরিশাল ব্যুরো:
বর্ষার বিদায় শেষে শরতের আগমনে প্রকৃতি রঙ ছড়াচ্ছে কাঁশফুলের নরম ছোঁয়ার সৌন্দর্যের।আবহমান বাংলার অপরূপ সৗন্দর্যে সেজেছে বরিশালের শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাদ(দপদপিয়া)সেঁতু সংলগ্ন রাস্তার দুপাশ।বর্ষারানী সিংহাসন ছাড়তে নারাজ হলেও ঋতুর সিংহাসনটা এখন শরতেরই। শুরুর দিকে শারদীয় মেঘ হটিয়ে বর্ষার রাজত্ব চলছে বটে, তবে ভাদ্র-আশ্বিন-কার্তিক এ তিনমাস নীল আকাশ, নদীর পাড় আর বাতাসের সুগন্ধে ছড়িয়ে যাবে শরৎ ঋতু।শরতের প্রকৃতি দেখে কবি মুগ্ধ হয়ে লেখেন-‘আজি শরৎ তপনে প্রভাত স্বপনে কী জানি পরান কী যে চায়, ওই শেফালির শাখে কী বলিয়া ডাকে বিহগ বিহগী কী যে গায় গোথ।
ছয় ঋতুর দেশ আমাদের এই বাংলাদেশ। বিশ্বের সব দেশে ছয়টি ঋতুর আগমন কখনই ঘটে না। বাংলাদেশে প্রতি ঋতুরই রয়েছে আলাদা পরিচায়ক। আর ঋতুর পার্থক্য ফুটে ওঠে ফুলে। শরতে সাদা কাশফুল আর শিউলির আধিপত্য ছাড়াও ফোটে আরও অনেক সহচরী ফুল। শরৎকালে ঝকঝকে নীল আকাশ। মৃদু বাতাস দোলা দিচ্ছে তাদের নরম পাপড়িতে। এই তো চিরচেনা শরৎ। কাশফুল শিশিরভেজা সবুজ ঘাসের বিছানায় রাশি রাশি শিউলি ফুল। যেন খসে পড়েছে রাতের ঝলমলে তারা। মাটিতে মিশে গেছে তার গন্ধ। ছোট ছেলেমেয়েরা দল বেঁধে নামে শিউলি ফুল কুড়োতে। আর পাল্লা দিয়ে চলে মালা গাঁথার প্রতিযোগিতা, কিন্তু এখনকার সময়ে সবই স্মৃতি এ কালের শিশুরা এই শিউলির আবেশে যেন মুগ্ধ নয়, ওরা প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে বেড়ে উঠছে- ফলে শরতের শিউলির কদর শহরের বাড়িগুলো থেকে উঠে গেলেও গ্রামের বাড়ির আঙিনায় আজও রয়েছে তার চিরায়ত রূপ মাধুর্য নিয়ে।
জাফরানি বোঁটার দুধশাদা ছয় পাপড়ির এ ফুল রাতে ফোটে ও সকালে ঝরে পড়ে। বেলি ফুলের গন্ধে ম-ম করে রাতের আকাশ। বেলি ফুলের ঘ্রাণ আর পাপড়ি সাজানো বেলি। বেলি ফুল বর্ষার ফুল হলেও ফোটে শরতে। বর্ষার ফুল দোলনচাঁপা শরতেও ছড়ায় তার সুবাস। শরতের সন্ধ্যায় দোলনচাঁপার শাদা পাপড়ি যেন আওড়ায় প্রিয় কোনো প্রেম কাব্য। এ ছাড়াও শরতে জবা আর পদ্মফুলও ফোটে। পদ্মফুলের লাল ও সাদার আভা দেখতে কতই না সুন্দর। শুধু দেখতে ইচ্ছে পাপড়ির ছড়া বহু গুচ্ছময় পদ্ম ফুলকে।
এই নিস্তব্ধতা যেন কাশ-শিউলির কোমল পাপড়িকে স্বাগত জানাতে। এভাবেই শারদীয় দিন আসে, আসে শরৎ শুভ্রতার প্রতীক হয়ে। শরতের আকাশ কখনো ধোয়ামোছা, পরিচ্ছন্ন হয় না। তার নীলচে বুকছেঁড়া মেঘের আবরণে ঢেকে রাখতে চায় নিজেকে। ধীরে ধীরে বর্ষার সেই উত্তাল ঢেউয়ের ভয়াবহ নদীটাও একসময় শান্ত হয়ে আসে। বর্ষার-বর্ষণমুখর অনুজ্জ্বল দিনের পর শরতের মেঘের মতো আমাদের মনও যেন হালকা হয়ে আসে। স্বপ্নের মতোই মনে হয় শরতের দিনগুলোকে। চারপাশে ছড়িয়ে থাকে অনেক স্বপ্ন। আমরা সেসব স্বপ্ন কুড়িয়ে নিয়ে ভাবতে বসি কত কিছু!

শরতের আকাশ, শরতের নদী, শরতের ফুল এই সবকিছুই কেমন যেন শান্ত-মায়াময়। শরতের এই শুভ্র রূপ পবিত্রতার প্রতীক। বিলের শাপলা, নদীতীরের কাশফুল, আঙিনার শিউলি-সবই কোমল এবং পবিত্র। যখন শিশিরের শব্দের মতো টুপটাপ শিউলি ঝরে তখন আসে অনুভবের শরৎ। কাশবনে দল বেঁধে আসে চড়ুই পাখিরা। শান্ত নদীতে দু-কূল ছাপানো ঢেউয়ের বদলে দৃশ্যমান হয় কাশবনের ছোট ছোট রুপালি ঢেউ। শরতের ¯িœগ্ধতাকে আরও মোহময় করে এ মৌসুমের বিচিত্র ফুলেরা। নদী কিংবা জলার ধারে ফোটে কাশ-কুশ, ঘরের আঙিনায় ফোটে শিউলি বা শেফালি, খাল-বিল-পুকুর-ডোবায় থাকে অসংখ্য জলজ ফুল। শরৎ মানেই শিউলির মধুগন্ধ ভেসে বেড়ানোর দিন। শিউলির আরেক নাম শেফালি। শিউলি বা শেফালি যাই বলি না কেন চমৎকার এ ফুল নিয়ে দুটি গ্রিক ও ভারতীয় উপকথা আছে। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আরণ্যক উপন্যাসে শিউলির বিশাল বন ও তার তীব্র ঘ্রাণের কথা বলা হয়েছে।
রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জীবনানন্দ তাঁরা সবাই বারবার শিউলির প্রশংসা করেছেন। ফুলকলিরা মুখ তোলে সন্ধ্যায়। সূর্যের সঙ্গে এদের আড়ি, নিশিভোরেই ঝরে পড়ে মাটিতে। বোঁটার হলুদ রং টিকে থাকে বহুদিন। কাশ শরতের অনন্য ফুল। আবহমান বাংলার চিরায়ত ফুল। শরতে কাশবনের ¯িœগ্ধ শোভা প্রকৃতিকে প্রাণবন্ত রাখে। কাশবনের অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে যেতে হবে কোনো নদী কিংবা জলার ধারে। সেখানে বেশ নিশ্চিন্তেই ফোটে শুভ্র কাশ। তবে এখন আর আগের মতো কাশবন দেখা যায় না।
প্রয়োজনের তাগিদে মানুষ তাদের হটিয়ে শুধু নিজেদের বেঁচে থাকার কথাই ভাবছে। সাদা মেঘের ভেলার সঙ্গে কাশফুলের সাদা ঢেউ শরতের প্রধান বৈশিষ্ট্য। প্রাচীনকাল থেকেই বাংলার আনাচকানাচে কাশফুলের অপরূপ শোভা চোখে পড়ে। শ্রাবণ শেষে সাদা সাদা তুলোর মতো মেঘে ছেয়ে যায় আকাশ, মাঝেমধ্যে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়ে সেই মেঘ আরও হালকা হয়, আরও সাদা হয়। সে মেঘের ছায়া পড়ে নদীর ধারে, কাশবনে। মেঘ, আকাশ আর কাশফুলের ছায়া পড়ে নদীর নীলজলে। এমন মনোলোভা চিত্র কি আর সব সময় দেখা যায়

Please Share This Post in Your Social Media

https://twitter.com/WDeshersangbad

https://www.facebook.com/Dsangbad

https://www.facebook.com/Dsangbad

All rights reserved © deshersangbad.com 2011-2021
Design And Developed By Freelancer Zone