দেশের সংবাদ l Deshersangbad.com » বায়ুদূষণ কমাতে হবে এটিএম মোসলেহ উদ্দিন (জাবেদ) কলাম লেখক



বায়ুদূষণ কমাতে হবে এটিএম মোসলেহ উদ্দিন (জাবেদ) কলাম লেখক

৮:৩৯ অপরাহ্ণ, জানু ১০, ২০১৯ |জহির হাওলাদার

25 Views

 

পরিবেশের অন্যতম ও প্রধান উপাদান হলো বায়ু বা বাতাস। যা ছাড়া প্রাণীজগত এক মুহূর্তও বাঁচতে পারে না। সে বাতাস আজ শুধু দূষিত নয়, জীবনহানির মতো ভয়াবহ কারণ। যেটি জীবন বাঁচায়, সেইটি আজ জীবনহানির অন্যতম কারণে পরিণত হয়েছে। সেটা হয়েছে আর হচ্ছে আমদের কারণেই। আমরাই এর জন্য শতভাগ দায়ী। বায়ুদূষনের অন্যতম কারন হল নিউক্লীয় আবর্জনা, কয়লা পুড়িয়ে ধোঁয়া ও গন্ধ বাতাসে মিশে বাতাস দূষিত হচ্ছে। দূষণের ফলে মানুষের শ^াসকষ্ট, ক্যান্সারের মতো দুরারোগ্য ব্যাধির শিকার হতে হচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণ বলছে, বাতাসে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর বস্তুকণা, ক্ষুদ্র বস্তুকণা ও ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বস্তুকণা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে, নভেম্বর থেকে ফ্রেব্রুয়ারী পর্যন্ত শহরের বাতাসে ক্ষতিকর ওই তিন উপাদানের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে তিন থেকে চার গুণ বেশি থাকে।

বাংলাদেশে পরিবেশ সমীক্ষা-শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, অপরিকল্পিত নগরায়ন ও শিল্পায়নের ফলে বাংলাদেশের পরিবেশ মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছে। এক জরিপে দেখা গেছে, ঢাকার চারপাশে প্রায় হাজার খানেক ইটভাটা প্রতিবছরের নভেম্বর থেকে চালু হয়। সেগুলো এই বায়ু দূষণের জন্য ৫৮ শতাংশ দায়ী। এর বাইরে রোড ও সয়েল ডাষ্টের জন্য ১৮ শতাংশ, যানবাহন ১০ শতাংশ, জৈববস্তু পোড়ানো ৮ শতাংশ ও অন্যান্য ৬ শতাংশ রয়েছে। ঢাকা শহরে শুধু গাড়ীর ধোঁয়া থেকে বছরে প্রায় তিন হাজার ৭০০ টন সূক্ষ্ম বন্তুকণা প্রতিনিয়ত বাতাসে ছড়াচ্ছে। বায়ু দূষণের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে দরিদ্র জনগোষ্ঠী, নারী ও শিশুরা। চিকিৎসকরা বলছেন, সূক্ষকণার মাত্রা ২.৫ হলে তা ফুসফুস পর্যন্ত প্রবেশ করে আর মাত্রা ১০ হলে সেটি শ^াসনালিতে আক্রমণ করে। বাতাসে এ সূক্ষকণার মাত্রা বাড়ার ফলে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের সর্দি, কাশি, হাঁপানি, এলার্জি এবং শ^াসকষ্ট বেড়ে যায়। কার্বন ডাই অক্সাইড ও কার্বন মনোঅক্সাইড বেড়ে যাওয়াতে ফুসফুসে ক্যান্সারও হতে পারে। বাতাসে ভাসতে থাকা সীসা শিশুদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং শিশুদের বুদ্ধিমত্তা বৃদ্ধিতে বাধা দেয়।

অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও শিল্পায়ন সহ নানা কারণে ঢাকার বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে বিষ। বিষ ছড়ানো দূষিত বাতাসের কারণে অ্যাজমা, হাঁপানি, শ^াসকষ্ট, ফুসফুসের ক্যান্সারসহ জটিল ক্রনিক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। বিশ^ব্যাংকের রেফারেন্স দিয়ে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ বিবিসি বাংলার এক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, পরিবেশ দূষণের কারণে বাংলাদেশ এক বছরে মারা গেছে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা হেলথ ইফেক্টস ইনষ্টিটিউট এবং ইনষ্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিকস আ্যান্ড ইভালুয়েশনের বৈশি^ক বায়ু পরিস্থিতি শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বায়ুদূষণের কারণে শিশুমৃত্যুর হারের দিক থেকে পাকিস্তানের পরই বাংলাদেশের অবস্থান। জাতীয় হৃদরোগ ইনষ্টিটিউটের গবেষণায় জানা গেছে, বায়ুদূষণের কারণে সাত লক্ষাধিক মানুষ শ^াসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছে। কালো ধোঁয়ায় থাকা বস্তুকণা ও সালফার ডাই অক্সাইডের প্রভাবে ফুসফুস, ব্রংকাইটিস, কিডনির জটিলতা ও হৃদরোগের ঝুঁকি রয়েছে। নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইডও সিসার কারণে শ^াসযন্ত্রের প্রদাহ, নিউমোনিয়া, ব্রংকাইটিস হতে পারে।

ঢাকা হাসপাতালের এক জরিপে উঠে এসেছে, যেসব শিশুরা বস্তিতে কিংবা রাস্তার পাশে বেড়ে উঠে তারা মাত্রাতিরিক্ত ভাবে সীসা দূষণের শিকার হয়। আর এই সীসা দূষণের কারনে শিশুরা রক্তশূণ্যতায় ভোগে। এতে তাদের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্থ হয়। তাদের মেধা বিকশিত হয় না ঠিকমতো, যার কারনে তারা জাতি গঠনেও ঠিকমতো ভূমিকা রাখতে পারে না। বায়ু দূষণের সবচেয়ে বড় প্রভাব গিয়ে পড়ে একজন গর্ভবতী মায়ের প্রতি। দূষিত বায়ুর প্রভাবে তার গর্ভে থাকা শিশুটি আক্রান্ত হয়। বাতাসে যদি মাত্রাতিরিক্ত সীসার অবস্থান থাকে সেটা একজন গর্ভবর্তী মা এবং তার গর্ভের সন্তানকে মারাত্মকভাবে সারাজীবনের জন্য আক্রান্ত করে। কোনো গর্ভবতী নারী যদি দীর্ঘমেয়াদি বায়ু দূষণের শিকার হন, তাহলে ক্রমাগত তারা অক্সিজেনের ঘাটতিতে থাকবেন, তারা সিওপিডি (ক্রনিক অবসট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ) তে আক্রান্ত রোগী হবেন। আর এর ফলে তার গর্ভে থাকা সন্তানটি অপরিণত নবজাতক হিসেবে জন্ম নেবে।

ডায়াবেটিস বিশে^র সবচেয়ে দ্রুত বাড়তে থাকে থাকা রোগগুলির একটি। বিশে^ প্রায় ৪২ কোটি মানুষ ডায়াবেটিসে ভুগছে। যুক্তরাষ্ট্রের এক নতুন গবেষণায় বলা হচ্ছে, বায়ু দূষণের সঙ্গে ডায়াবেটিস ঝুঁকি বাড়ার বেশ গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আছে। ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির স্কুল অব মেডিসিনের বিজ্ঞানীরা বলছেন ২০১৬ সালে বিশে^ প্রতি সাতটি নতুন ডায়াবেটিস কেসের একটির পেছনে আছে ঘরের বাইরের বায়ু দূষণ। সে বছর বিশে^ শুধুমাত্র বায়ু দূষণের কারণে প্রায় ৩২ লাখ মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়েছেন। এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত একজন বিজ্ঞানী জিয়াদ আল আলি বলছেন, ডায়াবেটিসের সঙ্গে বায়ু দূষণের খুবই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক দেখতে পারছেন তারা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বায়ু দূষণের কারনে শরীরের ইনসুলিন কমে যায়। এর ফলে ব্লাড গ্লুকোজকে শক্তিতে রূপান্তরিত করতে পারে না আমাদের শরীর। চীনের পিকিং ইউনিভার্সিটি এবং আমেরিকার ইয়েল ইউনিভার্সিটির গবেষকরা যৌথ গবেষণার মাধ্যমে জানিয়েছেন, তীব্র বায়ু দূষণের সাথে মানুষের বুদ্ধি কমে যাবার সম্পর্ক আছে।

পরিকল্পনার অভাবে বাংলাদেশে বায়ু দূষণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে বায়ুদূষণ সহনীয় মাত্রায় আনা সম্ভব। বাতাসে ক্ষতিকর বস্তুকণা থাকবে, তবে তা সহনীয় মাত্রায় রাখার চেষ্টা নিতে হবে। নগরের আশপাশে গড়ে ওঠা অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করতে হবে। সেই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব ইটভাটা নির্মাণে জোর দিতে হবে। অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য কাজ চালিয়ে যেতে হবে। কিন্তু অপরিকল্পিতভাবে খুঁড়াখুঁড়ি বন্ধ করতে হবে। সেই সঙ্গে সকাল- দুপুর- বিকালে অন্তত তিন দফা নির্মাণাধীন রাস্তাঘাটে পানি ছিটাতে হবে। প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন রাস্তায় বালি, মাটিসহ নানা ধরনের সামগ্রী পরিবহনের সময় মালামাল ঢেকে স্থানান্তর করা প্রয়োজন। ব্যক্তি বা পারিবারিক পর্যায়ে বায়ু দূষণ প্রতিরোধে বাড়ি, কারখানা, গাড়ি থেকে ধোঁয়া নিঃসরণ কম করার চেষ্টা করতে হবে। আতসবাজি ব্যবহার করবেন না। আবর্জনা বা জঞ্জাল ডাষ্টবিনে ফেলতে হবে, পোড়ানো যাবে না। থুতু ফেলার জন্য আলাদা জায়গার ব্যবস্থা করতে হবে এবং থুতু নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলতে হবে। সবাইকে বায়ু দূর্ষণ সংক্রান্ত সমস্ত আইন মেনে চলতে হবে।

এই বায়ু দূষণ আমাদের জীবনে এমন ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে যে খুব দ্রত যদি সঠিকভাবে পরিকল্পনা না করা যায় তবে ভবিষ্যত প্রজন্ম একটি অসুস্থ প্রজন্ম হিসেবে বেড়ে উঠবে। এই কাজে সফল না হলে ২০৫০ সালে গোটা বিশে^ বায়ুদূষণের ফলে প্রায় ৬০ লক্ষেরও বেশি মানুষের অকালমৃত্যু ঘটবে। শুধু এশিয়ায় প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষের মৃত্যু ঘটতে পারে। বায়ুদূষণ যতই বাড়বে ততই আমাদের পক্ষে বিশুদ্ধ বাতাসে নিশ^াস নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে। বায়ুদূষণ ভবিষ্যত মৃত্যুর সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে দাঁড়াবে। মানুষই বায়ুদূষণের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী। তাই মানুষকেই এগিয়ে আসতে হবে বায়ুদূষণ কমিয়ে আগামী দিনের মানুষের জন্য পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে যাওয়া।

Spread the love

৯:১৯ অপরাহ্ণ, জানু ১৯, ২০১৯

মিলনে কমে মাইগ্রেনের যন্ত্রণা...

19 Views

৯:১৮ অপরাহ্ণ, জানু ১৯, ২০১৯

রাজধানীতে ভাড়ায় স্বামী বাণিজ্য!...

24 Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




উপদেষ্টা পরিষদ:

১। ২।
৩। জনাব এডভোকেট প্রহলাদ সাহা (রবি)
এডভোকেট
জজ কোর্ট, লক্ষ্মীপুর।

৪। মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
ডাইরেক্টর
ষ্ট্যান্ডার্ড ডেভেলপার গ্রুপ

প্রধান সম্পাদক:

সম্পাদক ও প্রকাশক:

জহির উদ্দিন হাওলাদার

নির্বাহী সম্পাদক
উপ-সম্পাদক :
ইঞ্জিনিয়ার নজরুল ইসলাম সবুজ চৌধুরী
বার্তা সম্পাদক :
সহ বার্তা সম্পাদক :
আলমগীর হোসেন

সম্পাদকীয় কার্যালয় :

১১৫/২৩, মতিঝিল, আরামবাগ, ঢাকা - ১০০০ | ই-মেইলঃ dsangbad24@gmail.com | যোগাযোগ- 01813822042 , 01923651422

Copyright © 2017 All rights reserved www.deshersangbad.com

Design & Developed by Md Abdur Rashid, Mobile: 01720541362, Email:arashid882003@gmail.com

Translate »