দেশের সংবাদ l Deshersangbad.com » বিশ্বব্যাপী ধর্মীয় সন্ত্রাসীদের নির্মূলে প্রয়োজন সকল জাতী-ধর্ম-বর্ণের ঐক্যবদ্ধতা! – – – সাফাত বিন ছানাউল্লাহ



বিশ্বব্যাপী ধর্মীয় সন্ত্রাসীদের নির্মূলে প্রয়োজন সকল জাতী-ধর্ম-বর্ণের ঐক্যবদ্ধতা! – – – সাফাত বিন ছানাউল্লাহ

৪:২৩ অপরাহ্ণ, এপ্রি ১৪, ২০১৯ |জহির হাওলাদার

60 Views

নিউজিল্যান্ডে খ্রিষ্টান জঙ্গিদের হামলার পর অনেকে দেখছি সোশাল মিডিয়ায় অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ভাবে ধর্মের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। ধর্ম যার যার অধিকার সবার। ধর্ম কোনদিন সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের শিক্ষা দেয়নি। হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), যীশু খ্রিষ্ট, গৌতম বুদ্ধ বা সনাতন হিন্দু ধর্ম প্রচারকরা তো মানবতার জয়গান গেয়েই বিশ্বব্যাপী শান্তির বাণী ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। ওদের সেই দেখানো পথে অগণিত মানুষ শুদ্ধ পথের দিশা পেয়েছেন, পাচ্ছেন।

একজন ব্যক্তি জঙ্গি, সন্ত্রাস হয়ে ধর্মের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারে। রোহিঙ্গা মুসলমানদের যারা নির্বিচারে গণহত্যা করেছে ওরা বৌদ্ধ সন্ত্রাস, ভারতের বিভিন্ন জায়গায় গরুর মাংস খাওয়া বা বিক্রির অপরাধে পিটিয়ে নির্দয় ভাবে হত্যা করছে ওরা হিন্দু সন্ত্রাস, নিউজিল্যান্ডের মত বিশ্বশান্তির অন্যতম একটি দেশে পবিত্র মসজিদের মত একটি স্থানে এলোপাতারি বন্দুক যুদ্ধ করে অসহায় মজলুম মুসলমানের পাখির মত গণহত্যা করতে পারে ওরা খ্রিষ্টান সন্ত্রাস। জঙ্গি সন্ত্রাসীদের কোন জাত-ধর্ম-বর্ণ হতে পারেনা!  ওরা যুগ যুগ ধরে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। আমেরিকার ইতিহাসের সবচেয়ে জগন্য প্রেসিডেন্ট বিকৃত মস্তিষ্কের ডোলান্ড ট্রাম্পের মুসলিম বিদ্বেষী মনোভাবের কারণে অনেকে উৎসাহিত হচ্ছে পরিকল্পিত মুসলিম নিধনে। আবার অনেক উগ্রপন্থি খ্রিষ্টান বা অনন্য ধর্মাবলম্বীরা বিগত কয়েক দশক ধরে বিশ্বে মুসলমানদের সংখ্যা তুলনামূলক ভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ইসলাম ধর্মকে টার্গেট করছে হীন উদ্দেশ্যে।

আমাদের এই দেশেও বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র উপাসনালয়েও হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ করে জঙ্গিরা সম্প্রীতির যে দীর্ঘকালীন মেলবন্ধন সেটার উপর আঘাত করছে বারবার। পৃথিবীতে ওরা সম্পূর্ণ ভিন্ন এক মতাদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। কিন্তু, তা ধর্ম হতে পারেনা! আমরা যারা বাঙালীআনা আটআনা পরিমাণও ধারণ করি দেশটাকে জঙ্গি, সন্ত্রাসী, মওলবাদীদের অভয়ারণ্য হতে দিতে পারিনা কিছুতেই। আমরা ভুলে যাই, দেশটাকে সৃষ্টি করতে সবাই মিলেমিশে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম, তখন তো জাত-ধর্ম-বর্ণের সীমাবদ্ধতা ছিলনা কস্মিনকালেও। সারা দুনিয়ার বুকে গর্ব করার মত একটা দেশ, ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য লালন করে কেন বিভেদ হবে শুধুমাত্র পবিত্র ধর্মকে পুঁজি করে? আমরা কী ধর্মনিরপেক্ষ হতে পারিনা? অনেকে তো আবার এটার মানে ধর্মহীনতা বা ধর্মবিরোধিতা ব্যাখ্যা দিয়ে চর্বিতচর্বণ করে।

বঙ্গবন্ধু স্পষ্ট অথচ সহজ ভাষায় কত সুন্দর করে বলেছিলেন – ” আমার বাংলাদেশে, আমার মানুষরা তাঁর তাঁর ধর্ম নির্বিঘ্নে, নিঃসংকোচিত্তে আনন্দের সাথে পালন করবে ” ওনার মত একজন বিশ্বের অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বর সেই বাণী কত গভীরতা আর বিশ্লেষণের সেটা একটু মনোযোগী হয়ে অনুধাবন করলেই বুঝা যায়।
একজন বাঙ্গালী হিসেবে যখন দেখি এই দেশে আজো মুসলমানদের সবচাইতে বড় খুশির দিন পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের নামাজে বোমা হামলা হয়, জশনে জুলুস পালন হয় পুলিশি প্রহরায়, হিন্দুদের দুর্গা পুজায় অবশ্যই প্রতি বছর নিরাপত্তার চাদর লাগবে, বৌদ্ধদের কঠিনচিবর দান হয় পুলিশ দিয়ে, খ্রিষ্টানরা বড়দিনের উৎসব করে নিরাপত্তা পাহারায় আর বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব পালন করার ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ সতর্কতা। এটাই কী বাংলাদেশ? আমাদের দেশপ্রেম কতটুকু এ নিয়ে প্রশ্ন আছে- থাকবে। ধর্ম পালন করতে কী এসবের প্রয়োজন হয়? অদ্ভুত পৃথিবী! শুধুমাত্র গুটিকয়েক জঙ্গি, সন্ত্রাসীদের ভয়ে আমরা ভীত থাকার জাতী নই। আমরা পারি, পেরেছি, পারব। ১৯৫২ / ১৯৭১ সবচাইতে বড় উদাহরন।
একটা সময় ছিল আজকের এই আধুনিকতার লেশমাত্র ছিলনা। মোবাইল, আইপেড – ফেজবুক, হোয়াটস অ্যাপ, টুইটার, ভাইভার, ইমু, ইনস্টাগ্রাম এসব ছিল নিছক এক রূপকথার গল্প। কিন্তু, এসবের চাইতেই অন্য কিছু ছিল তখনকার দৃশ্যপট। ভালবাসা, স্নেহ, মমতা, সৌহার্দ, আন্তরিকতা, শ্রদ্ধা, ভ্রাতৃত্ব এসবের কিছুই কমতি ছিলনা। যুগটা আধুনিক হয়েছে ঠিক, আজ আর এসব নেই। কালের বিবর্তনে বিলুপ্ত হয়েছে। যুগের দোহাই দিয়েও অনেকে বঞ্চিত প্রকৃত পরিবেশ থেকে। দোষটা কিন্তু, যুগের নয় বিবেকের, মনুষ্যত্বের। আজও মেয়েদের নির্দিষ্ট একটি গণ্ডির মধ্যে রাখা হয় ধর্মের দোহাই দিয়ে। কিছু মানুষরূপী জঙ্গি অমানুষরা যখন ওয়াজের নামে মানুষের পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের ক্ষতি করে সরল জনগণকে বিভ্রান্ত করে – “মেয়েদের কাজ ঘরের চার দেয়ালের মধ্যে থাকা, পড়ালেখার কোন প্রয়োজন নাই” আরও কত কী। কত ঘৃণ্য তৎপরতা ওরা আমাদের সমাজে, দেশে ছড়িয়ে দিচ্ছে সেদিকে আমাদের মাথাব্যথাই নেই। ওরা নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে অত্যন্ত সুকৌশলে। আমরা যেন উনিশ শতকে এসেও মধ্যযুগের মানুষ। এসবের বিরুদ্ধে আমাদের এখন থেকেই রুখে দাড়াতে হবে।
পৃথিবীর সকল ধর্মানুরাগীদের একতাবদ্ধ হওয়া সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আসুন ধর্মের বিরুদ্ধে না গিয়ে ধর্মীয় সন্ত্রাসীদের নির্মূলে ঐক্যবদ্ধ হই  ।।

সাফাত বিন ছানাউল্লাহ
কবি, প্রাবন্ধিক ও ছড়াকার
সদস্য : চট্টগ্রাম ইতিহাস চর্চা কেন্দ্র (সিএইচআরসি)
স্থায়ী ঠিকানা : সাতবাড়ীয়া, খন্দকার পাড়া, চন্দনাইশ, চট্টগ্রাম।

Spread the love

৮:৫৫ পূর্বাহ্ণ, এপ্রি ২৫, ২০১৯

ভালো থেকো জায়ান – – – সাফাত বিন ছানাউল্লাহ...

54 Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




উপদেষ্টা পরিষদ:

১। ২।
৩। জনাব এডভোকেট প্রহলাদ সাহা (রবি)
এডভোকেট
জজ কোর্ট, লক্ষ্মীপুর।

৪। মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
ডাইরেক্টর
ষ্ট্যান্ডার্ড ডেভেলপার গ্রুপ

প্রধান সম্পাদক:

সম্পাদক ও প্রকাশক:

জহির উদ্দিন হাওলাদার

নির্বাহী সম্পাদক
উপ-সম্পাদক :
ইঞ্জিনিয়ার নজরুল ইসলাম সবুজ চৌধুরী
বার্তা সম্পাদক :
সহ বার্তা সম্পাদক :
আলমগীর হোসেন

সম্পাদকীয় কার্যালয় :

১১৫/২৩, মতিঝিল, আরামবাগ, ঢাকা - ১০০০ | ই-মেইলঃ dsangbad24@gmail.com | যোগাযোগ- 01813822042 , 01923651422

Copyright © 2017 All rights reserved www.deshersangbad.com

Design & Developed by Md Abdur Rashid, Mobile: 01720541362, Email:arashid882003@gmail.com

Translate »