বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ০৭:৫৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
শিবগঞ্জে ১৪ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার ছাতকে সরকারী ভুমি থেকে অবৈধ দখলদার  উচ্ছেদে এলাকাবাসীর স্মারকলিপি।। নোয়াখালীতে বিএনপির উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ ভান্ডারিয়ায় ধাওয়া ইউপি সদস্য সমর্থক দল বিপুল ভোটে বিজয় মুন্ডুমালা পৌর সভায় এগিয়ে রয়েছে আমিন  বিরামপুরে মোটর সাইকেলের ধাক্কায় পথচারী মহিলা নিহত মান্না -তৈমুর ও পাটকল শ্রমিকদের উপর হামলার নিন্দা………আ স ম রব ৩৮তম বিসিএস নন-ক্যাডারের ফল প্রকাশ শার্শার উলাশী ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি মিজানুর রহমান আওয়ামীলীগে যোগ দিলেন কী না ? এই নিয়ে নানান গুঞ্জন বিদেশ যাবে বাংলাদেশি কুমির, আয় হবে ৪০০ কোটি শার্শায় সাবেক মহিলা ইউপি সদস্যের বাড়িতে ডাকাতি সোনার চেইন ও নগদ আড়াই লক্ষ টাকা লুট আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় লোক সমাগম ঠেকাতে  অপতৎপরতা  ! সাঁথিয়ায় আট বছরের শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগ বিরামপুরে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ,থানায় মামলা! সাঁথিয়ায় সরকারি পুকুরে জোরপূর্বক মাছ চাষ করায় হুমকির মুখে বিদ্যালয়ের ভবন

বিয়ে- তুমি তৈরি তো?

মারজিয়া প্রভা :
এই বছরেই চীনের একটি ভিডিও সারা বিশ্বে খুব ভাইরাল হয়। জনপ্রিয় ইনডিপেনডেন্ট পত্রিকায় ঠাঁই পায় সেই ভিডিওটি। ভিডিওটি ছিল SK-II-এর একটি বিজ্ঞাপন। চীনে ৩০ বছরের ওপরে যাদের বয়স অথচ বিয়ে হয়নি, তাদের Shing nu বলা হয়। ও দেশের All women federation এই নামকরণ করেছে। বাংলায় যাকে ‘আইবুড়ো’ বলে। সেই মেয়েদের দুঃখগাথা নিয়েই ছিল বিজ্ঞাপনটি।
সমাজের আশপাশের মুরব্বিরা তো বলেই! স্বয়ং পিতা-মাতা হতাশ হয়ে যায় মেয়ে বিয়ে করে না বলে। একদিন সমস্ত আইবুড়ো মেয়ে প্রতিবাদ করে বাবা-মাকে জানায়, ‘আমি স্বাধীন জীবনযাপন করছি। এটা আমার দুর্বলতা নয়। আমার শক্তিমত্তা। একদিন যখন সময় আসবে, মনে হবে আমি বিয়ের জন্য উপযুক্ত, আমি আমার সঙ্গীকে খুঁজে নেব।’
চীন! বুঝেছ! এখন বিশ্বের প্রযুক্তিসেরা দেশ! আমাদের হাতের স্মার্টফোন থেকে শুরু করে বাড়ির ওভেনটা পর্যন্ত চাইনিজ। যেখানে ৯৬.৭% মানুষ শিক্ষিত। ২০০৫ সালেই যেখান থেকে প্রায় ১১ মিলিয়ন পোস্ট গ্র্যাড বের হয়েছে, সেই দেশে এখনো ৩০ বছর বয়সী মেয়েকে আইবুড়ো বলে। এখনো বাবা-মা জোর করে ‘বিয়ে’ কনসেপ্ট চাপিয়ে দিতে চায়! তাহলে বাংলাদেশের কাছে তুমি কী আশা করছ! কথা হচ্ছে সমাজ চাপিয়ে দিল, বাবা-মা চাপিয়ে দিল। কিন্তু জীবনটা কার? তোমার? সংসার কে করবে? তুমি? তাহলে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত কার? অবশ্যই তোমার!
বিয়ের জন্য কি কোনো পারফেক্ট বয়স আছে?
২০১৫ সালের জুলাই মাসে একটা নতুন গবেষণাপত্র বের হয়। গবেষণাটি করেছিলেন Nick Wolfinger নামের একজন সমাজবিজ্ঞানী। তার সোজাসাপ্টা রায়, একটা মানুষের উচিত ২৮ থেকে ৩২-এর মধ্যে ‘বিয়ে’ ব্যাপারটা সেরে ফেলা। তার মতে, এর আগে বিয়ে করলে সম্পর্কগুলো টেকে কম। তিনি প্রায় ২০০৬ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ফ্যামিলি গ্রোথের বিভিন্ন ডাটা বিশ্লেষণ করে এই রায় দেন।

IMG_281812
বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী বিয়ের জন্য মেয়েদের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর এবং ছেলেদের জন্য ২১ বছর। Nick Wolfinger-এর স্টাডি অনুযায়ী আমাদের বাংলাদেশের সম্পর্কগুলো কম টেকার কথা! কিন্তু কম কি টেকে? হয়তো ডিভোর্স রেট বর্তমান সময়ে বেড়েছে। তবু সেটা আহামরি পর্যায়ের কিছু না। আর এই কথা তো ছেড়েই দিলাম শহুরে পুত্র-কন্যাদের জন্য। নিজ অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, দেশের অনেক গ্রামে ঘোরা হয়েছে সোশ্যাল ওয়ার্কের খাতিরে। সেখানে দেখেছি ১৪ বছরের বধূ, ১৬ বছরের মা, ২৮ বছরের নানিকে। Nick Wolfinger-এর স্টাডি অনুযায়ী, বাংলাদেশের গ্রামে গ্রামে সংসার ভেঙে যাওয়া উচিত! তাহলে ভাঙে না কেন? এর সবচেয়ে বড় এবং প্রধান কারণ হলো আমাদের নারীরা অর্থনৈতিকভাবে ভীষণ দুর্বল। গ্রামের বেশির ভাগ নারী নিজের নাম পর্যন্ত লিখতে পারে না। বাবা-মা বিয়ে দিয়ে দেন। স্বামীর ঘর ছাড়া তাদের কোনো সহায় থাকে না। তাই ধুঁকে ধুঁকে মেনে নেয় সবকিছু। কম বয়সে বাচ্চা জন্ম দিয়ে শরীরের বারোটা-তেরোটা বাজিয়ে ফেলে। তবু নিজের মেয়ে ১০ না পেরোতেই বিয়ের জন্য শুরু করে তোড়জোড়। এভাবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বাল্যবিবাহের ভয়াল থাবা গ্রাস করেছে গ্রামকে গ্রাম। গ্রামের অবস্থা এখনো সুবিধার না হলেও শহরের দিকে বাল্যবিবাহ একদম কমে গেছে। তাই এখানে ১৮ পার হওয়ার পরেই এক মেয়েকে বিয়ে দেওয়া হয়! আইন অনুযায়ী ঠিক! মেডিকেল সায়েন্স অনুযায়ীও ১৮-তে মা হওয়া যায়। কিন্তু লজিক্যালি কি ঠিক? ১৮ বছর বয়সে একটি মেয়ে কি অর্থনৈতিকভাবে কখনো স্বাবলম্বী হতে পারে? যদি স্বামীর পরিবার মেনে নেয়, কেবল তখনই মেয়েটা পড়াশোনা শেষ করে জবে যেতে পারবে! কিন্তু স্বামী না মেনে নিলে? লেখাপড়া ওখানেই ফুলস্টপ! আবার সেই অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরশীলতা। সে তো ওই ১৪ বছর বয়সে বিয়ে করার মেয়েরই দশা!

IMG_3103c
তবে কি ১৮ বছর বয়সই লজিক্যালি বিয়ের জন্য পারফেক্ট এজ? 
২৮-৩২ বছর বয়সকে লজিক্যালি, প্র্যাকটিক্যালি, লিগ্যালি বিয়ের জন্য পারফেক্ট এজ বলা গেলেও, আমার মতে পারফেক্ট এজ হচ্ছে তখন, যখন তুমি বিয়ে করার প্রয়োজন অনুভব করবে। হ্যাঁ অবশ্যই সেটা লিগ্যালি স্বীকৃতি থাকতে হবে। ১৫ বছরে কেউ বিয়ে করার প্রয়োজন অনুভব করলেই হবে না। এখন যদি বলো, কোনো মেয়ে বা ছেলে লিগ্যাল বয়সপ্রাপ্ত হয়ে যদি সেভাবে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী না হয়েই বিয়ে করতে চায় তখন? তখন কী আর করা? কেউ যদি নিজে স্বাবলম্বী হতে না চায় তাকে তো স্বাবলম্বী বানানো যাবে না!

SM131548

কুড়িতেই বুড়ি এই কথার ভিত্তি নাই! 
আইবুড়ো, ধাড়ি মেয়ে, সোমত্ত মেয়ে! মেয়ে ১৮ পার হলেই সে কত কথা সমাজে। গা টেপাটেপি করে বলা শুরু হয়ে যায়, ‘ভাবি! মেয়েকে বিয়ে দিচ্ছেন কবে?’ ভালো পাত্র এলে, শিক্ষিত পাত্র এলে বলা শুরু করা, ‘আর পড়াশোনা করে কী হবে! মেয়েদের ভালো পড়াশোনা তো স্বামীর জন্যই।’ আর জব করার ইচ্ছা পোষণ করলে তো কথাই নেই, ‘মেয়ের ঘাড়ে বসে খাবেন নাকি! মেয়েদের ওসব চাকরি করে কী হবে। চাকরি করলে মেয়েরা বেপরোয়া হয়ে যায়।’ এই সমাজ এখনো কেন জানি মেয়েদের স্বাবলম্বী ভাবতেই পারে না। মেয়েরা শিক্ষিত হবে, স্বাবলম্বী হবে আর পুরুষতান্ত্রিক সিস্টেমকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে, এ বড় দিশেহারা করে তুলে এই সমাজকে! আদি অনাদিকাল ধরে বিলেতি পুতুল বানানোর চেষ্টা করতে থাকা যখন সেই পুতুলই মাথা ঝাঁকা দিয়ে ওঠে, তখন ভয়ের কারণ বোধ হয় অনুভব করা যায়!

আর করবেই না কেন বলো? খেয়াল করলেই দেখবে, তোমার আশেপাশে হাজার মেয়েই যেন পুরুষতান্ত্রিক এই চাপিয়ে দাওয়া সিস্টেমকে আলগোছে মেনে নেয়। নিজেদের চাওয়া-পাওয়াকে শিকেয় তুলে পুরুষের চাওয়া অনুযায়ী নিজে গড়ে তুলতে থাকে। নিজেদের ভালোমন্দের সবটা তুলে দেয় সমাজপতির হাতে। দুঃখের বিষয়, মেয়েরাও যুগে যুগে পুরুষতন্ত্র বহন করে আসে বলেই, এই সিস্টেম মেয়েদের বেঁধে রেখেছে। আর ‘বিয়ে’ এই সিস্টেমের বিশাল হাতিয়ার। তাই মেয়েরাই মেয়েদের Leftover বলে, আইবুড়ি বলে। বিয়ে না হলে, রূপ নিয়ে খোঁটা দেয়। বিয়ে না হওয়ার কারণ খুঁজতে নোংরামিতে মুখ ডোবায়।

:All rights reserverd by Evan Ahmed.Do not use for any kind of commercial work without written permission.

দিন কি আজও বদলেছে?
হ্যাঁ, হয়তো সত্যিই কুড়িতে বুড়ি এই কথার প্রচলন কমেছে। কিন্তু এখনো কি ৩০-এর বেশি মেয়েদের বিয়ে হওয়াকে নিয়ে সমাজ কটাক্ষ করে না? একজন অবিবাহিত মেয়ে একলা বিদেশে পড়তে গেলে একবার হলেও শোনে, ‘বিয়ে না করেই পাঠাচ্ছেন’। স্বাধীনচেতা মেয়ে যদি ঘুরতে বের হয়, একবার হলেও পাশের বাড়ি আন্টি পথরোধ করে বলে, ‘এসব ঘোরাঘুরি আর কত দিন? একটু থিতু হও।’ কুড়িতেই মেয়েরা কখনো বুড়ি হয় না। বরং যত বয়স বাড়ে তত ছেলে-মেয়ে উভয়ই অভিজ্ঞ হয়। সংসার করতে গেলে একে অপরকে বোঝাটা খুব বেশি জরুরি। আর এই ম্যাচিউরিটিটা মূলত আসে ২৮-৩২-এর মধ্যেই। এই সময়ের মধ্যে একজন ছেলে বা মেয়ের ক্যারিয়ার মোটামুটিভাবে সেট হয়ে যায়। তাই একে অপরের প্রতি নির্ভরশীলতা কমে আসে। এই বেলা তুমি হয়তো বলবে, সঙ্গীর প্রতি নির্ভরশীলতা প্রকারান্তরে ভালোবাসাই বোঝায়। কিন্তু এটাও জেনে রেখো, অত্যধিক নির্ভরশীলতা তোমাকে মেরুদ-হীন বানাবে। তাই কুড়িতেই ক্যারিয়ার ধ্বংস করে বিয়ের পিঁড়িতে বসার চেয়ে একটু সময় নিয়ে, ম্যাচিউরড বয়সে বিয়ে করা তোমার আর সঙ্গীর জন্য কিন্তু ভালো। কিন্তু তুমি যদি মনে করো, Early ৩০-তে বিয়ে তোমার ক্যারিয়ারে প্রভাব ফেলবে না, সঙ্গী পাশে থাকবে তো তুমি এগোতেই পারো। কিন্তু কোনো সময় লোকের ওই ‘কুড়ি বুড়ি’ ব্যাপার যেন তোমাকে প্রভাবিত না করে। বরং নিজের সিদ্ধান্ত আর ভালোলাগাকে অগ্রাধিকার দাও। লেট ম্যারেজ মানেই মেয়েদের লেট মাদার! কতটুকু ক্ষতিকর!

মেডিকেলের ভাষায় ৩৫-এর বেশি বয়সে কোনো মেয়ে প্রথমবারের মতো কনসিভ করলে তাকে elderly primigravida বলা হয়। এই সময়ে রিস্কের কিছু বিষয় থাকে। তেমনি বলা হয় যে, WHO স্বীকৃত কিছু নির্দিষ্ট রুটিন চেকআপ এই সময়ে একটি সুস্থ প্রেগন্যান্সির নিশ্চয়তা দেয়। প্রযুক্তি এমনই এগিয়ে গেছে মেনোপজের কিছু আগেও মেয়ে প্রেগন্যান্ট হতে পারে এখন!
তবে লেট ৩০ আর আর্লি ৩০-তে প্রথম মা হওয়ার মধ্যে বিশেষ অনেক তারতম্য আছে। ভালো এবং খারাপ দুটোই। বেবিসেন্টার ডটকম এবং ফিট প্রেগনেন্সি ডটকম অনুযায়ী বিস্তারিত ভালোমন্দ দিক তুলে ধরা হলো।

NOOR4712
৩০৩৫এর মধ্যে মা হওয়ার ভালো দিক 

  • এই সময়ে নতুন মায়েদের স্ট্যামিনা খুবই বেশি এবং পাওয়ারফুল থাকে।
  • ক্যারিয়ার একদম ফিট হয়ে যায়। ফিন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি আসে প্রচুর। তাই প্রচুর এনার্জি নিয়েই বাচ্চা লালন-পালন করা যায়। জীবনে থাকে ভরপুর রিল্যাক্স।
  • ৩০ অবধি ত্রুটিযুক্ত বাচ্চা জন্ম দেওয়ার প্রবণতা কম থাকে। ১০০০-এর মধ্যে ১টি বাচ্চা ক্রোমোজনাল অ্যাবনরমাল হয়।
  • পাশ্চাত্য দেশগুলোতে এখন ৭ জনের মধ্যে ১ জন মা হচ্ছে ৩৫ বছরের ওপরে। যেটা ১৯৭০ সালে ১০০-এর মধ্যে ১ জন ছিল।

NOOR463348

লেট মাদারের ঝুঁকিগুলো

  • ৩০-এর দিকে অ্যাবনরমাল বাচ্চা জন্ম দেওয়ার রেট কম থাকলেও ৩৫-এর দিকে যত যাওয়া যায় তত এর ঝুঁকি বাড়তে থাকে। ৩৫-এর দিকে মা হলোDown syndrome risk তথা বিকলাঙ্গ বাচ্চা জন্ম দেবার রেট বেড়ে যায় ১০০-তে ১ জন।
  • ৩৫-এর দিকে আবার মিসক্যারেজের ঝুঁকি কম থাকলেও, ৩০-এর দিকে সেটা খুবই বেশি থাকে।
  • এই বয়সগুলোতেmobility তথা maternal illness বেড়ে যায়।
  • আরেকটা ক্ষতিকর দিক হচ্ছে বাচ্চা জন্ম দেওয়ার সময়ে প্রচুর ব্লিডিংয়ের মুখোমুখি হওয়া। Retained placenta। বাচ্চা জন্ম দেবার সময় নারীর জরায়ু থেকে পুরোplacenta বের করতে ৩০ মিনিট লাগে। হসপিটালের ম্যানেজমেন্টের সহায়তায় এটা ১৫ মিনিটে বের করা যায়। কিন্তু মাঝে মাঝে লেট মাদারদের ক্ষেত্রে জরায়ুর Tone নষ্ট হয়ে যাওয়ার জন্য এই প্লাসেন্টা ভেতরেই থেকে যায় এবং চলতে থাকে প্রচুর ব্লিডিং।

তাহলে কি প্রতিকার নেই? আমি কি তবে ক্যারিয়ার জলাঞ্জলি দিয়ে এখনি মা হয়ে যাব?
মোটেও না। Prenatal tests আছে না। হ্যাঁ, বাচ্চা কনসিভ করার আগে-পরে WHO স্বীকৃত রুটিন চেকআপ অনেকাংশে কমিয়ে আনে এই রিস্কগুলোকে। অর্থাৎ তুমি যখন ৩০-এর পরে মা হতে যাচ্ছো তোমাকে প্রথমেই গাইনোকোলজিস্টের কাছে গিয়ে এ বিষয়ে পরামর্শ নিতে হবে। তার পরামর্শ অনুযায়ী এগোলে তোমার লেট মাদার কোনোভাবেই সমস্যার মধ্যে ফেলবে না। এই Prenatal test তিনভাবে করা হয়। স্ক্রিনিং, ডায়াগনস্টিক আবার রুটিন। এই টেস্টিংয়ে ৩৫-এর ওপরে নারীদের জন্য একটা দারুণ টেস্ট করা হয় সেটা হচ্ছে Chronic Villus Samplings (CVS), এই টেস্টের ফলে লেট মাদারদের মিসক্যারেজের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে আসে। আর স্ক্রিনিং টেস্ট এসব লেট মাদারের জন্য তিনবার করা হয়। First Trimester Screening, Full integrated Screening এবং Second-Trimester Screening. এই তিন তিনবার স্ক্রিন টেস্ট করার একটাই কারণ ৩৫-এর ওপরে মায়ের গর্ভে কোনো anomalies, down syndrome আক্রান্ত বা ত্রুটিযুক্ত ভ্রুণ আছে কি না সেটা স্ক্যান করে বের করা। যদি দেখা যায় ত্রুটিযুক্ত ভ্রুণ তবে ডাক্তারদের পরামর্শেই মাকে এগোতে হবে। আসলে অনেক হাবিজাবি মনে হচ্ছে তাই না? কিন্তু Prenatal test আসলে সব বয়সী মায়েদের জন্যই প্রয়োজন। তাই আপসেট হবার কিছুই নেই। বরং সেফ মাদারহুড বরণ করে নেওয়ার জন্য নিশ্চিত এবং নিরাপদ চিকিৎসাব্যবস্থায় থাকাটাই আসল কথা। এজ এখানে কোনো ম্যাটার না।

SM86005
শুধু মেয়েদেরই দেরি করে বিয়েতে সমস্যা, ছেলেদের নেই?
এ বড় একপাক্ষিক আলোচনা হয়ে গেল। যেহেতু এই মুহূর্তে ৩০ বছরের মেয়েকে তাড়াতাড়ি বিয়ে দিতে পারলেই বাবা-মায়েরা বাঁচে। সেহেতু মেয়েদের কথাটা একটু বেশিই আসছে। কিন্তু ছেলেদের কি এই ঝামেলা নেই? ছেলেদের রিপ্রোডাক্টিভ ফার্টিলিটি বয়সের সঙ্গে কমে এমনটা দেখা যায়নি। লেট ফাদার বলেও সে রকম টার্ম প্রচলিত নেই। তবু কেন ছেলেদের ২৭ পেরোলেই বিয়ের জন্য তোড়জোড় করা হয়? সমাজে আসলে কি চিন্তাধারা জড়িয়ে আছে এর সঙ্গে? কবি এবং লেখক রাতুল রাহা এ বিষয়ে এক সুন্দর বক্তব্য দিয়েছেন। ‘৩০-এর দিকে অনেক ছেলেকেই বাবা-মা বিয়ের জন্য তাড়া দেয়। এই তাড়া দেওয়ার কারণ বাবা-মা হয়তো মনে করে বিয়ে না করালে ছেলে বখে যাবে, টাকা ওড়াবে। কেউ কেউ হয়তো এই ভয়ও করে যে, ছেলে প্রস্টিটিউটের কাছে যাবে যৌন চাহিদা মেটাতে। মোটকথা ছেলেকে বেঁধে রাখার জন্যই মূলত বিয়ের চাপ দেওয়া। আর আরেকটা কারণ আছে, আমাদের দেশে বিয়ে করে বউ আনা মানে বিনামূল্যে গৃহকর্মী আনার মতো। বয়স্ক বাবা-মা হয়তো বউয়ের সেবা পেতে চায়।’ ৩০-এর মধ্যেও বিয়ে না করা ছেলেদের নিয়ে নানা রকম বক্তব্য প্রচলিত আছে আমাদের আশেপাশে। ‘বিয়ে করছে না কেন, সমস্যা আছে?’ এর মধ্যে কমন একটা ফ্যাক্ট। ‘বিয়ে দিয়ে দেন ভাবি, ছেলে তাইলে ঘরে থাকবে’, বাইরে বাইরে বেশি ঘোরাফেরা করা ছেলেদের শোনা কমন একটি ডায়ালগ। এই কথাগুলো যে একটা ছেলের জন্য কতটা অসম্মানের তা যদি লোকে বুঝত!

469701201JR00002_VALENTINE_
আমাদের দেশে ছেলেদের ছোটবেলা থেকে মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়, ‘তুমি পড়াশোনা করবে, চাকরি করবে তারপর ওই টাকা দিয়ে বউ পালবে।’ তাই ছেলে ‘বউ পালার’ ক্ষমতা পেলেই তাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য উঠেপড়ে লাগে আত্মীয় প্রতিবেশীরা। প্রথমত কে তাদের বোঝাবে, বউ কোনো পালার জিনিস না! সংসারটা হয় স্বামী-স্ত্রী দুজনের সাহায্য আর মেলবন্ধনে। আর্থিকভাবে দুজনই স্বাবলম্বী হলে বিয়েটা তখনই টেকে বেশি। দ্বিতীয়ত ছেলেটা আদৌ বিয়ে করার জন্য প্রিপেয়ারড কি না? সে নিজের মতো স্বাধীন একটা জীবন কাটাতেই পারে! কে না জানে? বিয়ে মানে শতেক রেসপন্সিবিলিটি, শতেক ফর্মালিটি।
তৃতীয়ত, ছেলের মেন্টালিটির সঙ্গে খাপ খায় এমন মেয়ের সঙ্গে তার বোঝাপড়া হচ্ছে কি না বিয়ের আগে? বিয়েটা তো এক দিনের জিনিস না, দীর্ঘদিনের পথ পাড়ি দেওয়া। এই দীর্ঘদিনের পথে ছেলেমেয়ে কি ঠিক সঙ্গীকে পেয়েছে কি না। মোদ্দা কথা, ছেলের ক্যারিয়ার হওয়া মানেই তার বিয়ে হয়ে যাওয়ার বয়স নয়। অবশ্যই ক্যারিয়ারের পরেই বিয়েকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। তার মানে আবার এই না, আজ জব পেলে, কাল বিয়ে করে ফেলতে হবে।

marriage-2
সমাজ তো ভাবছে, তুমি কি বিয়ের জন্য প্রস্তুত?
রাস্তায় বের হতেই শুনছ, ‘তা জামাইয়ের মুখ দেখতে পারব তো?’। রাতের বেলায় মা ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করছে, ‘কত স্বপ্ন আমার নিজ হাতে ছেলের বিয়ে দিব’। কিন্তু তুমি কি ভাবছ? এ প্রসঙ্গে শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালে শেষ বর্ষের এমবিবিএস শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস স্বর্ণা বলেন, ‘কোনো মেয়ে বিয়ে করবে কি করবে না, এটা তার একান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপার। বিয়ে করলেও সে কোন বয়সে করবে বা কাকে করবে, এটাও তারই ব্যাপার। কিন্তু এখানে বাদ সাধে কিছু পুরুষতান্ত্রিক মহিলা। তারা চায় একটা মেয়েকে তাদের পছন্দমতো পাত্রের সঙ্গে বিয়ে দেবে। তারপর সে যেমনই হোক, বা তাকে অত্যাচার করুক বা সুখেই রাখুক, তার সঙ্গেই সুবোধ বালিকার মতো সারা জীবন কাটাতে হবে। একটা পুরুষকে আমি চিনি না, জানি না, হঠাৎ তার সঙ্গে শুতে হবে, এর চেয়ে অমানবিক আর বর্বর প্রথা কিছুই হতে পারে না।’ হ্যাঁ, তাই নিজেকে নিয়েই এখন ভাবার সময়। কী করে বুঝবে তুমি বিয়ের জন্য প্রস্তুত? Lifehack নামক লাইফস্টাইল ওয়েবসাইটটি ১০টি sign-এর কথা বলেছে। এই ১০টি sign-এর সঙ্গে তোমার সময় এবং চাহিদা মিলে গেলেই তুমি বুঝে নেবে তুমি আদতেই বিয়ের জন্য প্রস্তুত কি না!

NOOR3688
যখন তুমি জানবে তুমি কেন বিয়েটা করছ!
বিয়ে কেন করতে চাচ্ছ? ফেসবুকভর্তি বন্ধুর লাল শাড়ি কিংবা শেরওয়ানি পরার ছবি দেখে? হানিমুনে যাওয়ার স্ট্যাটাস দেখে? সুন্দর সুন্দর ওয়েডিং ফটোগ্রাফি দেখে? নাকি তুমি সত্যিই চাচ্ছ বাকি জীবনটা একজন সঙ্গীর হাত ধরে কাটিয়ে দিতে? পারবে তো সেটা? নিজেকে বারবার এই কঠিন প্রশ্নটি করো। আসলে কেন তুমি বিয়ে করতে চাচ্ছ? যখন তুমি এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর পাবেই তখন তুমি বিয়ের জন্য একেবারে প্রস্তুত!

Annieversary (14)
Wedding চাচ্ছ না চাচ্ছ getting married?
ধোঁয়াশা লাগছে না? তবে খুলেই বলি, Wedding হচ্ছে সেই পার্টি, যেখানে ফ্রেন্ডস এবং ফ্যামিলির মেম্বার একসঙ্গে হবে। হই-হুল্লোড় করবে। প্রচুর খাওয়াদাওয়া করবে। একগাদা মজা হবে। শুধু এই জাঁকজমক পার্টিতে তুমি মধ্যমণি হবে বলেই বিয়ের ঢ়ষধহ করছ? নাকি তুমি আসলে বিয়ের প্ল্যানটা করছো getting married-এর জন্য। এক দিনের জন্য প্ল্যান নয় বাছা, প্ল্যানটা সারাজীবনের জন্য যদি করতে পারো তবেই এখনি সময় তোমার বিয়ে করার।

13268003_10209444647977351_1715910792038925957_o
তুমি কি এনাফ ম্যাচিউরড? ভাবো! 
বাচ্চাবেলার অনেক সুইটহার্টরা ইম্যাচিউরড এজেই ধুমধাম করে বিয়ে করে ফেলে। অনেকের বিয়ে টেকে, অনেকেরটা টেকে না। তাদের দেখে প্রভাবিত হওয়ার কিছু নেই। তোমার বয়সটা দেখো। কি মনে হয় তুমি এনাফ ম্যাচিউরড? নতুন মানুষের সঙ্গে নির্দ্বিধায় মানিয়ে নিতে পারবে? তার ভালোটা, খারাপটা, নাক ডাকাটা, হলুদ বাটার আদরটা মেনে নেওয়ার জন্য তোমার ম্যাচিউরিটি এসেছে কি না! যদি ভেবে থাকো এসেছে। তো টুপ করে বিয়েতে বসে যাও।

13063233_10209147246382497_893790599678693910_o

গভীর সম্পর্ক অনেক গভীর জিনিস! পারবে তো বজায় রাখতে?
অনেক বছর প্রেম করেছ। ধুমিয়ে ডেট করেছ, ঘুরেছ। কিন্তু বিয়ের সময় তোমাকে আরও গভীরভাবে রিলেশন নিয়ে ভাবতে হবে। লং ড্রাইভে যাওয়া, রাতভরে মাস্তি করা জীবনের সব না। পার্টনারের কঠিন কঠিন সমস্যাটা মোকাবেলা একসঙ্গে করতে পারছ কি না সেটাই দেখো। দেখেই সিদ্ধান্ত নাও বিয়ে করার।

13063104_10209147223741931_8990909218159523110_o
বিশ্বাস রাখাটা খুবই জরুরি!
প্রেম করার সময় অনেক ন্যাকামিই আসে। এর-ওর সঙ্গে বেশি সময় দিলে অভিমানে গাল ফোলানো, গুঁতিয়ে গুঁতিয়ে প্রশ্নবাণে বিদ্ধ করা! সেটা এক-দুই দিন ভালো লাগবে! কিন্তু সারাজীবন? পার্টনারকে বিশ্বাস যদি না-ই করতে পারো, সারাক্ষণ সন্দেহের বাতিক থাকে। তবে বিয়ে করার সময় এখনো তোমার আসেনি। সময় নাও আরও। বাতিক দূর করো। এটা তুমি এবং তোমার ভবিষ্যৎ পার্টনার উভয়ের জন্যই ভালো।

13254667_10209444649657393_5018192840577311913_o
না নিজে বদলাবে, না পার্টনারকে বদলাবে!
বিয়ে হয়েছে বলে পরদিনই পার্টনার তার ২৭ বছরের অভ্যাস ছেড়ে দেবে? হ্যাঁ, যদি সিগারেট খাওয়ার মতো বদভ্যাস হয় সেটা ঠিক আছে! কিন্তু কখনোই পার্টনারকে চেঞ্জ করতে যেও না। হাসিখুশি পার্টনারকে বলো না গম্ভীর হতে। তেমনি গম্ভীরকে বলো না জোর করে হাসতে। ধুম করে এটা ভেবে বসো না প্রেমিক আর স্বামী আলাদা জিনিস। বিয়ে একটা রিচুয়াল মাত্র। সম্পর্কের মধ্যে এটা বিন্দুমাত্র প্রভাব ফেলে না। তবে এটা ঠিক যে, বিয়ের পরে তোমাকে রেসপন্সিবিলিটি নিতে হবে এটা ভেবেই বিয়েতে এগোনো উচিত।

বিয়ে কি সবকিছুর মুশকিল আসান? কখনোই না?
দীর্ঘদিন বা স্বল্প সময়ে যেকোনো সম্পর্কের সময়ে একটা কথা অনেকের ক্ষেত্রেই মনে হয়, ‘বিয়ে হলেই সমস্যা কেটে যাবে’। না, বিয়ে কোনো সমস্যার সলিউশন না। এই কথা ভেবে কতশত তরুণ-তরুণী ভুল সময়ে বিয়ে করে ফেলে আর সারাজীবন পস্তায়। সমস্যা তো দূর হয়ই না, বরং সমস্যা আরও বাড়ে। তাই বিয়ে করার আগে ভেবে নাও, তুমি কোন সমস্যা দূর করার জন্য বিয়েটা করছ না তো? সেক্ষেত্রে বিয়ের সিদ্ধান্ত মুলতবি রেখে সমস্যা সমাধানে মনোযোগী হও!

একসঙ্গে সব প্ল্যান করে ফেলো, তারপর না বিয়ে! 
বিয়েতে কী পরবে, কী খাবে! কিংবা হানিমুনে কই যাবে, বেডরুমে কী রঙের পর্দা দেবে! এসব প্ল্যান অবশ্যই করবে। কিন্তু এসব প্ল্যানের সঙ্গে এই প্ল্যান করে ফেলো। জব লাইফ কীভাবে ডিল করবে? বন্ধু কিংবা আত্মীয়দের সঙ্গে কীভাবে টাইম মেইনটেইন করবে? বাচ্চা কখন নেবে? কোনো গাইনোকোলজিস্টের পরামর্শ নিয়ে বাচ্চা নেবে? বাচ্চা হলে জব, সংসার, বাচ্চা ইকুয়ালি দুজন কীভাবে মেইনটেইন করবে! এসব নিয়েও প্ল্যান করো। তবেই না বিয়ের জন্য একেবারে প্রিপেয়ারড হবে তোমরা।

_MG_9377
শুধু তুমি না, পার্টনারকে ভালোবাসে যেন তোমার পরিবারও
পরিবার যে পার্টনারকে তোমার জন্য ঠিক করবে, তাকে তোমার ভালো লাগতে না-ই পারে। আবার তোমার পছন্দের পার্টনারকে পরিবার পছন্দ নাইবা করতে পারে। দুই পক্ষই যাকে পছন্দ করবে তখনই সেই সঙ্গীকে বিয়ে করার উপযুক্ত সময় আসবে। কারণ, বিয়েটা এখনো আমাদের কালচারে শেষ পর্যন্ত দুই পরিবারেরই মেলবন্ধন। তাই তোমার পার্টনারকে যেন পরিবার পছন্দ করে সে জন্য পরিবারকে কনভিন্স করো। আবার পরিবারের আনা ব্যক্তিটি তোমার পার্টনার হতে পারে কি না, সেটাও টাইম নিয়ে ভেবে দেখো।
তাকে ছাড়া বাঁচছো না? তখনই বিয়ে করে ফেলো!
খুব হাস্যকর না! কেউ আবার কাউকে ছাড়া না বেঁচে থাকে নাকি? কিন্তু এমন এমন মানুষের সঙ্গে মাঝে মাঝে দেখা হয়ে যায়, যাকে ছাড়া জীবন অর্থহীন মনে হয়। জীবন তাকে ছাড়া কাটানোর কথা জাস্ট ভাবা যায় না। তখনই তাকে বিয়ে করে ফেলো। সঙ্গে আগের পয়েন্টগুলো ভেবে দেখার সুযোগ তো রইলই।

_MG_9712
সমাজকে বলব কী করে, আমি দেরিতে বিয়ে করতে চাই? 
আমি যদি বলি, সমাজকে পাত্তা দেবার অত কী আছে? তুমি সেটা নাই মানতে পারো। কারণ তোমাকে একগাদা আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব কিংবা পাড়া প্রতিবেশী নিয়ে হয়তো জীবন কাটাতে হয়। তাই সুন্দর করেই তাদের তোমাকে বুঝিয়ে বলতে হবে, ‘কেন এই মুহূর্তে বিয়ে করতে চাচ্ছ না তুমি?’
টু নোন মাইসেলফ ব্লগ অনুযায়ী এসব ক্ষেত্রে সচরাচর কয়েক টাইপের কথা শুনতে হয়! উত্তরগুলো আগের থেকেই রেডি রাখো। প্রশ্ন আর উত্তর নিচে দেওয়া হলো-
-বাছা, এখনো বিয়ে করছ না কেন?
-আন্টি/ আংকেল, আমি আসলে বিয়ে করার পর ভাবতে চাই না বিয়ে করাটা আমার ঠিক হয়নি। তাই সময় নিচ্ছি।
-বাচ্চাকাচ্চাই জীবনের সব, তোর একটা হোক বুঝবি। হবে কেমনে? বিয়ে তো কর আগে একটা।
-বাচ্চাকাচ্চা জীবনের সব এটা তাদের জন্যই দোস্ত, যারা বাচ্চাকাচ্চা আসার আগে একটা মিনিংলেস জীবন কাটিয়েছে। আমার জন্য এটা না।
-বয়স হয়ে যাচ্ছে, এত দিন না বিয়ে করে থাকলে হয়?
-না তো আংকেল আমার তো সমস্যা হচ্ছে না। এটা বোধ হয় তাদের জন্য সমস্যার, যারা ইনসিকিউরড ফিল করে কারও ভালোবাসা না পেলে। নিজেদের যারা ভালোবাসতে পারে না। আমি সেটা খুব ভালোই পারি।
-তোমার সব বন্ধুরা তো বিয়ে করে ফেলল?
-তো কী হয়েছে? ওরা এখন ছয়তলা ছাদ থেকে লাফ দিলে, আমাকেও লাফ দিতে হবে?
-অনেক একা একা মনে হয় না নিজেকে? বিয়ে করে ফেল একটা বুঝলে?
-আপনি কি তাহলে শুধু এই কারণে বিয়ে করেছেন যে আপনার একা একা মনে হয় তাই?
-এটাই ঠিক সময় তোমার বিয়ে করার!
-আপনি কি করে জানলেন আমার এটাই ঠিক সময়! এখন বিয়ে করার পর যদি দেখি এটা ভুল সময় ছিল! শুধু আপনার কথা শুনে তো এই সিদ্ধান্ত নিতে পারি না আমি!
-শুনো আপু, কেউ পারফেক্ট না পৃথিবীতে। তাই তুমি কখনোই পৃথিবীতে পারফেক্ট কাউকে খুঁজে পাবা না।
-বইন, তোমারে কে বলল আমি পারফেক্ট পারসনকে খুঁজছি। আমি এমন একজনকে খুঁজছি, যে আমার জন্য পারফেক্ট।
অতএব, মোক্ষম জবাব দাও। বিয়ের সিদ্ধান্ত নিজে নাও।
বিয়েটা তাহলে করেই ফেললাম!
অনেক সিদ্ধান্ত, অনেক বাধাবিপত্তি শেষ করে যখন পাশের সঙ্গীটার হাত ধরে যাবে নিজের মন যেন বলে ওঠে, ‘আমি পাইলাম ইহাকে পাইলাম’।

11
স্বল্প আয়োজন আর ব্যাপক ভাবনার পর যখন সঙ্গীর কাঁধে মাথা রেখে দূরপাল্লায় ছুটছ, তখন যেন ভেতর থেকে জানান পাও, ‘সময় নিয়ে আমি ভুল করিনি’। সকালে উঠে একসঙ্গে চাকরিতে যাওয়া, সংসারের খরচটা দুজন দেওয়া, বাচ্চা দুজন মিলে পালন করা, ঝড়ঝাপটা একসঙ্গে সামলানোর জন্য যে যা-ই বলুক একটা ম্যাচিউরড এজ লাগে। সমাজের কথা শুনে, নিজের ক্যারিয়ার বা স্বপ্নকে জলাঞ্জলি দিয়ে বিয়ে করে নিজের সাজানো জীবনকেই তুমি শেষ করবে। শেষ হবে তুমিও। কেন এটা হতে দেবে তুমি? তাই এখনই জানার সময় নিজেকে। বিয়ের জন্য তুমি প্রস্তুত কি না! সুন্দর এক জীবনের জন্য একটু তো ভাবতে হবেই, তাই না?

Please Share This Post in Your Social Media

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

37632973
Users Today : 1093
Users Yesterday : 5388
Views Today : 3605
Who's Online : 32
© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/
Design & Developed BY Freelancer Zone