সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:৪২ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
কুষ্টিয়ায় উন্নয়নের কান্ডারি জননেত্রী শেখ হাসিনার জম্মদিন পালন তানোরে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল দিশার প্রেমিক রোহনকে ধরলেই বেরোবে জোড়া মৃত্যুর রহস্য: দাবি যুবরাজের নাজিরপুরে অগ্নিকান্ডে বসতঘর ভস্মিভুত ক্ষয় ক্ষতি ৫ লক্ষ টাকা বকশীগঞ্জে আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস পালিত বকশীগঞ্জে নবাগত ইউএনওকে ফুলেল শুভেচ্ছা প্রদান সাঁথিয়ায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন পূজা-দিঘী কে কোন কলেজে ভর্তি হলেন? প্রতিদিন ৫০ টন ইলিশ বিক্রি হয় মাওয়ায় বিপদসীমার উপরে ধরলার পানি, তলিয়ে গেছে ১৮ হাজার হেক্টর জমির ফসল বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে শায়িত হলেন মাহবুবে আলম নুসরাত ফারিয়ার ‘হট’ ভিডিও, সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়! ভিডিও ভাইরাল দেশের বাহিরে গিয়েই ‘ছোট পোশাকে’ নুসরাত ফারিয়া যৌনতায় ভরা স্ক্রিপ্ট নিয়ে লাক্স তারকার বাসায় পরিচালক ৩ সেকেন্ডের ভিডিওতে নেট দুনিয়ায় ঝড় তুললেন সানি লিওন

#বৃহত্তর_নোয়াখালীর_এক_সংস্কৃতি_যোদ্ধার_প্রতি_বিনম্র_শ্রদ্ধাঞ্জলি

১৯৪৭খ্রি. ২২মে নোয়াখালী জেলা শহরের হরিনারায়নপুর গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। পিতা: স্বর্গীয় সতীন্দ্র মোহন সেন মাতা : স্বর্গীয় পঙ্কজীনী দেবী। পৌর কল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মেট্রিক, চৌমুহনী এস এ কলেজ থেকে এইচ.এস.সি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফলিত গণিতে এম.এস.সি সমাপ্ত করেন।
বাবার উৎসাহে ছোট বেলা থেকেই সঙ্গীত চর্চা শুরু করেন এবং নোয়াখালী শহরের কৃতি সন্তান ওস্তাদ সত্য গোপাল নন্দী ও ওস্তাদ অতুল চন্দ্র সূত্রধরের নিকট সঙ্গীতে খন্ডকালীন তালিম গ্রহন করেন। পরবর্তিতে বড় ভাই প্রমথ নাথ সেনের প্রচেষ্টায় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে প্রবেশ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন কালে পূর্ব-পাকিস্থান কালচারাল একাডেমির ছাত্র হিসেবে ওস্তাদ অজিত রায় এর কাছে রবীন্দ্রসঙ্গীত শিক্ষা গ্রহন করেন।নজরুল একাডেমি’র অধ্যক্ষ ওস্তাদ শেখ লুৎফর রহমান এর কাছে নজরুল সঙ্গীত চর্চায় মনোযোগি হয়েছেন।এরপর নোয়াখালীতে এসে কুমিল্লার প্রখ্যাত ওস্তাদ কুলেন্দু দাস’র নিকট উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতে তালিম নেন। দেশের প্রখ্যাত সংস্কৃতিজন,সংগঠক, খ্যাতিমান রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী ওস্তাদ ওয়াহিদুল হক এবঙ ড. সানজিদা খাতুন’র কাছে বিভিন্ন সময়ে রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্পর্কে মূল্যবান ও দিকনির্দেশনা মূলক উপদেশ ও সহযোগিতা পেয়েছেন।
ছাত্র জীবনে লেখাপড়ার পাশাপাশি নাটকসহ সঙ্গীতের পেছনে অনেক সময় ব্যয় করেছেন। চৌমুহনী কলেজে ছাত্র থাকাকালে শ্রদ্ধেয় বিমলেন্দু মজুমদার’র সাথে পরিচয় হলে তিনিই প্রথম একটি গান দিয়েছিলেন সুর করে দেবার জন্য। এরপর লেখাপড়ার পাশাপাশি সহপাঠি কবি ফরহাদ মজহার,তারিক মোহাম্মদ ফারুক, বিখ্যাত গীতিকার কে.জি মোস্তফা’র গানসহ আরো অনেকের গান সুরারোপ করেন এ গুণী সুরকার।
১৯৬৭-১৯৭০খ্রি. পর্যন্ত ছাত্র আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের একজন কর্মী হিসেবে ই সময়কালের গণসঙ্গীত পরিবেশনে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন দেশের কল্যাণে। এরপর স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে স্বাধীনবাংলা বেতারে কন্ঠযোদ্ধা শিল্পী অজিত রায়, মো: আবদুল জব্বার, সমর দাস, রথীন্দ্রনাথ রায়, কাদেরী কিবরিয়া অনেক সহশিল্পী মিলে মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণা মূলক গান পরিবেশন করেন। পূর্ব পাকিস্থান টেলিভিশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ফোরাম থেকে প্রায়ই সঙ্গীত পরিবেশন করতেন। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে ‘গীতবিতান” অনুষ্ঠানে নিয়মিত রবীন্দ্রসঙ্গীত পরিবেশন করতেন।
১৯৬৩খ্রি. থেকে তিনি গীতিকার ও সুরকার হিসেবে যথেষ্ট পরিচিতি লাভ করেন।
পেশাগত জীবনে তিনি ১৯৭৩খ্রি. চৌমুহনী কলেজে গণিত বিষয়ে প্রভাষক পদে নিযুক্ত হন এরপর নোয়াখালী সরকারি কলেজে ১৯৮৯খ্রি. সরকারি বিধি মোতাবেক প্রভাষক হিসেবে আত্মীকৃত হয়ে উক্ত কলেজেই সহকারী অধ্যাপক এবং সহযোগী অধ্যাপক পদে নিযুক্ত ছিলেন। পরে ২০০১খ্রি ভোলা সরকারি কলেজে বিভাগীয় প্রধান হিসেবে গণিত বিভাগে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া নোয়াখালী সরকারী কলেও তিনি শিক্ষকতা করেছেন। ২০০২খ্রি. সেনবাগ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে চাকুরী জীবন থেকে অবসর গ্রহন করেন।
১৯৭৩-১৯৯২খ্রি. পর্যন্ত চৌমুহনী গণমিলনায়তনে এবং নোয়াখালী কচিকাঁচার মেলায় সঙ্গীত শিক্ষক এবং নোয়াখালী সঙ্গীত বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন।জেলা শিল্পকলা একাডেমি,নোয়াখালী প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সঙ্গীত প্রশিক্ষক হিসেবে যুক্ত ছিলেন এবং শিল্পীপুলের দলনেতা হিসেবে কাজ শুরু করে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, নোয়াখালী জেলা সংসদ এর প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত যুক্ত ছিলেন পালন করেছেন সহ-সভাপতির দায়িত্ব। ১৯৮২খ্রি. থেকে জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ্ , নোয়াখালী জেলা শাখায় পর্যায়ক্রমে কোষাধ্যক্ষ, সাধারণ সম্পাদক এবং সহ-সভাপতি’র দায়িত্ব পালন করছিলেন। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, নোয়াখালী জেলা শাখার সহসভাপতি দায়িত্ব পালনসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ সংগঠকের ভুমিকা পালন করেন।
১৯৯২খ্রি. ২১শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা থেকে মুক্তধারা প্রকাশিত ‘মাটির গান মানুষের গান’ গ্রন্থে অধ্যাপক এ.এ.কে.এম. ফেরদৌস এর লেখা সবকটি গানের তিনি সুরকার ও স্বলিপিকার ছিলেন।তাঁর বেশ কিছু গান স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন সংকলনে এবং ঢাকা থেকে প্রকাশিত সঙ্গীত বিষয়ক একমাত্র পত্রিকা ‘সরগম’এ প্রকাশিত হয়েছে। নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় বিমলেন্দু মজুমদার রচিত গীতিনৃত্য-নাট্য ‘আঁইয়েন ব্যাকে দেশ গড়ি’ ও বদিউজ্জামান বড় লস্করের লেখা ‘মেঘনা পাড়ের পাঁচালী’র গান সমুহের সুর করেছিলেন তিনি। ৭০ ও ৮০ দশকে তিনি পাশ্ববর্তী জেলা লক্ষ্মীপুরে এসে অনেক অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করে ভুয়সী প্রশংসা অর্জন করেন।
তাঁর স্ত্রী গৌরী সেন জালাল উদ্দিন কলেজে শিক্ষকতা করেন।তিনি দুই সন্তানের গর্বিত জনক। ছেলে সুব্রত সেন ইলেক্ট্রনিক্স এন্ড কমিউনিকেশন প্রকৌশলী আর মেয়ে সুস্মিতা সেন ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করেছেন।
অধ্যাপক রমানাথ সেন ২০১৩খ্রি. জেলা শিল্পকলা একাডেমি, নোয়াখালী থেকে ‘সঙ্গীত’ বিষয়ে গুণীজন সম্মাননায় ভুষিত হয়েছেন। ২০১৮খ্রি. উদীচী’র সুবর্ণ জয়ন্তীতে নোয়াখালী শাখা তাঁকে পদক দিয়ে সম্মানিত করেছেন।
এ গুণী সংস্কৃতিজন, শিল্পী, সঙ্গীতজ্ঞ, শিক্ষাবিদ গত ০৩ আগষ্ট ২০২০খ্রি. সোমবার সকাল ১০:৩০টায় নোয়াখালীর তাঁর নিজ বাস ভবনে ইহলোকের মায়া ত্যাগ করে পরলোক গমন করেন আর রেখে গেছেন তাঁর অসংখ্য গুনমুগ্ধ উত্তরসুরী।
#সংস্কৃতিকথা_লক্ষ্মীপুর নোয়াখালী সংস্কৃতি চর্চার বাতিঘর, সংস্কৃতিজন, গীতিকার,সুরকার, শিল্পী, সঙ্গীতজ্ঞ ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক রমানাথ সেন এর বর্নাঢ্য জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনসহ ওনার আত্মার চিরশান্তি কামনা এবং তাঁর পরিবারে প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছে।
তথ্যসংগ্রহ ও সম্পাদনা: #সংস্কৃতিকথা_লক্ষ্মীপুর
কৃতজ্ঞতা: সংস্কৃতিজন এ্যাডভোকেট এমদাদ হোসেন কৈশর।

Please Share This Post in Your Social Media

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

37514054
Users Today : 5955
Users Yesterday : 6006
Views Today : 15640
Who's Online : 112
© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/
Design & Developed BY Freelancer Zone