সোমবার, ১৭ মে ২০২১, ০৪:০৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ ১৬ কোটি ৩৭ লাখেরও বেশি মানুষের দেহে করোনা শনাক্ত গাজায় একদিনেই ৪২ জন নিহত রাজারহাটে ইউপি চেয়ারম্যান রবীনন্দ্রনাথ কর্মকারের বিরুদ্ধ প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের টাকা মারিং কাটিং করে খাওয়ার অভিযোগ। মাগুরায় অসাধু মাংস ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটে অতিষ্ঠ সাধারণ ক্রেতা যেসব এলাকায় গ্যাস থাকবে না সোমবার পুরো পরিবার শেষ, বাঁচল শুধু পাঁচ মাসের শিশুটি ২৯ মে পর্যন্ত বাড়লো প্রাথমিকের ছুটি নাড়ির টানে ঘরে ফেরা, পদ্মায় ঝরলো ৩১ প্রাণ ইসরাইলি ববর্তার বিরুদ্ধে উত্তাল বিশ্ব বেড়েছে লকডাউন, বন্ধই থাকছে লঞ্চ-ট্রেন-দূরপাল্লার বাস যুক্তরাষ্ট্র সফরে গেলেন বিমান বাহিনীর প্রধান ওআইসি’র বৈঠক জরুরি ভিত্তিতে ফিলিস্তিন ইস্যুর সমাধান চায় বাংলাদেশ ৪ দেশে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বাতিল শিগগিরই দেশে আসছে শক্তিশালী ব্যাটারি ও আল্ট্রা স্লিম ডিজাইনের অপো এফ১৯

ভারতীয় মিডিয়ার মন্তব্য, বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে ভারতের দায়িত্ব বেশি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ভারত সফরের সংবাদ গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম। সফর শেষে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পরও ভারতের বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদকীয়তে এই সফর নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে নাগরিকপঞ্জী (এনআরসি), তিস্তার পানিবণ্টন ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে কথা হচ্ছে তুমুল। এ নিয়ে দিল্লি থেকে বিবিসি বাংলায় রিপোর্ট করেছেন শুভজ্যোতি ঘোষ। প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক ধরে রাখতে দিল্লিতে অগ্রগামী ভূমিকা রাখার পরামর্শ দিয়েছে ভারতের প্রথম সারির বেশ কটি গণমাধ্যম।

বিবিসি জানাচ্ছে, এনআরসি নিয়ে একদিকে সরকার যদি দুরকম কথা বলে এবং অন্যদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায় – সেই দুটো একসঙ্গে সম্ভব নয় বলেও একাধিক সম্পাদকীয় সতর্ক করে দিয়েছে। পাশাপাশি, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা মানচিত্রে চীনের উপস্থিতি আছে ও থাকবে, এটা মেনে নিয়েই ভারতের এগোনো উচিত – এমন পরামর্শও দিয়েছে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকা।

সফরের সময় স্বাক্ষরিত বিভিন্ন সমঝোতা স্মারক বা চুক্তির চেয়ে ভারতীয় মিডিয়াতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে ‘এনআরসি’, যে প্রসঙ্গ দুদেশের যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখও করা হয়নি।

‘দ্য হিন্দু’ লিখেছে, বাংলাদেশ সরকার যদিও এখনও পর্যন্ত ভারতের মুখের কথায় ভরসা রাখছে – কিন্তু তারা এনআরসি নিয়ে যে প্রশ্নগুলো তুলেছেন সেগুলো উপেক্ষা করা দিল্লির জন্য মোটেও ঠিক হবে না।

‘দ্য হিন্দুস্থান টাইমস’-ও প্রায় একই সুরে বলছে, ‘দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের সেরা বন্ধু’ যদি এনআরসি প্রশ্নে উদ্বিঘ্ন বোধ করে তাহলে দিল্লির উচিত হবে অঙ্কুরেই সেটা বিনাশ করা।

এই পত্রিকাটি অবশ্য একই সঙ্গে তিস্তা চুক্তির প্রশ্নেও ভারতকে আরও তৎপর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

দিল্লিতে বাংলাদেশ গবেষক শ্রীরাধা দত্ত বলেছেন, ভারতীয় মিডিয়াতে এই ধরনের পর্যবেক্ষণ বেশ ইতিবাচক একটা পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে। তিনি বলেন, “এবার দেখে ভাল লাগছে যে অনেক বেশি খোলা মন নিয়ে ও একটা ন্যায্যতার দৃষ্টিতে ভারতীয় মিডিয়া দুদেশের সম্পর্ককে বিশ্লেষণ করছে। বলা যেতে পারে, বিষয়টা একতরফাভাবে পরিবেশিত হচ্ছে না।”

টাইমস অব ইন্ডিয়া লিখেছে, এনআরসি ইস্যু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি স্ট্রেইন বা উত্তেজনার কারণ – এই অভিযান বন্ধ করে ভারতের উচিত হবে দক্ষিণ এশিয়ার ‘গ্রোথ ইঞ্জিন’ বাংলাদেশ থেকে অর্থনীতির পাঠ নেওয়া।

আবার এনআরসি-কে যেভাবে সরকার একদিকে অভ্যন্তরীণ ইস্যু বলে বর্ণনা করছে আবার অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অবৈধ বিদেশিদের বাংলাদেশে ডিপোর্ট করার হুমকি দিচ্ছেন, এই দ্বিচারিতার কড়া সমালোচনা করেছে ‘স্ক্রল’ পোর্টাল।

এই পটভূমিতেই রাধা দত্ত বলেন, “স্ববিরোধিতা তো আছেই। আর সেখানে এটা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়, আপনাদের ও নিয়ে ভাবতে হবে না বললেই কিন্তু সব কিছু মিটে যায় না। বস্তুত আমার সাম্প্রতিক ঢাকা সফরগুলোতে ওদেশের মিডিয়া, অ্যাকাডেমিয়া বা নীতি-নির্ধারক সবার কাছ থেকে প্রথমেই আমাদের যে প্রশ্নটার মুখোমুখি হতে হয়েছে তা কিন্তু এনআরসি। এখন ভারতীয় মিডিয়াও যে তাদের এই উদ্বেগটা অনুধাবন করেছে, সেটা অবশ্যই একটা ইতিবাচক দিক।”

বাংলাদেশ উপকূলে ভারতের রাডার সিস্টেম বসানোর পটভূমিতে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ কমোডোর উদয় ভাস্কর আবার ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকাতে একটি নিবন্ধ লিখেছেন। নিবন্ধের শিরোনাম হলো ‘ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক নির্ধারণের ক্ষেত্রে দিল্লিকে এটা মেনে নিতে হবে যে বাংলাদেশে চীনেরও একটা উপস্থিতি আছে।’

ভারতীয় নৌবাহিনীর এই সাবেক কর্মকর্তা আরো বলেন, “চীন থেকে সবচেয়ে বেশি সামরিক সরঞ্জাম পেয়ে থাকে যে সব দেশ, সেই তালিকার ওপর দিকেই আছে বাংলাদেশ। সেখানে আরও আছে পাকিস্তান বা মিয়ানমারও।এখন আমি যেটা বলতে চেয়েছি, চীন থেকে সাবমেরিন পাওয়ার পর বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সামর্থ্য নি:সন্দেহে অনেক বেড়েছে – আর সেটা ভারতকেও নিশ্চয় উদ্বিগ্ন করবে।”

তিনি আরও বলেন, “কিন্তু বাংলাদেশ বা পাকিস্তানে চীনের এই উপস্থিতি একটা বাস্তবতা – এটাতে বিরক্ত বোধ না-করেই ভারতকে তা ডিল করার উপায় খুঁজতে হবে। হয় আমরা, নয়তো চীনের মধ্যে থেকে বেছে নাও – বাংলাদেশকে সেদিকে ঠেলে দেওয়া ঠিক হবে না।”

বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার দেব মুখার্জিও ওই পত্রিকাতেই তার মন্তব্য প্রতিবেদনে লিখেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক নিবিড় রাখতে চাইলে দিল্লিকে যে ‘আরও অনেক বেশি কিছু করতে হবে’, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

শেখ হাসিনার সফরের পর মেইনস্ট্রিম ভারতীয় মিডিয়ার মূল বক্তব্যও সেটাই – এবার কিন্তু ভারতের করে দেখানোর পালা।

Please Share This Post in Your Social Media

https://twitter.com/WDeshersangbad


বঙ্গবন্ধু কাতরকণ্ঠে বলেন, মারাত্মক বিপর্যয়

বঙ্গবন্ধু কাতরকণ্ঠে বলেন, মারাত্মক বিপর্যয়

© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/
Design And Developed By Freelancer Zone