মঙ্গলবার, ০৯ মার্চ ২০২১, ০১:২৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
নোয়াখালী সুবর্ণচরের বিএনপি নেতা এনায়েত উল্লাহ বি কম এর ইন্তেকাল নওগাঁর মহাদেবপুরে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের গণকবর প্রাচীর দিয়ে সংরক্ষণের দাবি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের শিক্ষা জাতীয় করন নিয়ে মনের কষ্ট ফেসবুকের মাধ্যমে ব্যক্ত করলেন অধ্যক্ষ এস এম তাইজুল ইসলাম কুলিয়ারচরে দিনব্যাপী ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উদযাপন ২৫ ও ২৬ মার্চ হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল জিয়া মমতাকে ছেড়ে আসা মিঠুন এখন মোদির দলে সন্তান কোলে নিয়েই দায়িত্ব সামলাচ্ছেন নারী ট্রাফিক পুলিশ স্ত্রীসহ করোনায় আক্রান্ত সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আসাদ মিয়ানমারে রাস্তায় হাজারো হাজার লোকের বিক্ষোভ স্কুল শিক্ষককে বিয়ে করলেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী নারী প্রতারণার মামলায় ডা. সাবরিনার জামিন আবেদন নামঞ্জুর চট্টগ্রামে প্রবাসী হত্যায় ৯ জনের মৃত্যুদণ্ড সামাজিক মাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ লেখা সতর্ক করলেন প্রধান বিচারপতি নিবন্ধনধারীদের এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের নির্দেশ ১৫ দিনের মধ্যে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধনধারীদের নিয়োগ

ভারতে অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের জমির দাবি ছেড়ে দিলো সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড, মসজিদ ভাঙ্গার দিন ৬ ডিসেম্বর রামমন্দির নির্মাণ কাজ শুরু

অযোধ্যায় রাম মন্দির- বাবরি মসজিদ নিয়ে বিতর্কিত এলাকার জমির দাবি ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ভারতের সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড  এবং রাম মন্দিরের জন্য সরকার জমিটি নিচ্ছে , তাদের কোনও আপত্তি নেই, সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত একটি মধ্যস্থকারী প্যানেল তাদের রিপোর্টে এমনটাই জানিয়েছে বলে সূত্রের খবর। বাবরি মসজিদের জমির দাবি ছেড়ে দেওয়ার পাশাপাশি ওয়াকফ বোর্ড জানিয়েছে, অযোধ্যায় যে মসজিদ রয়েছে, তা সংস্কার করবে সরকার। অন্য যে কোনও উপযু্ত জায়গায় মসজিদ তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে ওয়াকফ বোর্ড, এমনটাই জানা গিয়েছে সূত্রে, ফলে ১৩৪ বছরের পুরানো রাম মন্দির-বাবরি মসজিদ নিয়ে জট খুলতে পারে বলছে এনডিটিভি।

এদিকে জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ জমির বিবাদ নিয়ে চলা মামলা নিষ্পত্তির আগেই বাবরি মসজিদের উপর রাম মন্দির নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন বিজেপি নেতা সাক্ষী মহারাজ। এমনকি মসজিদের জায়গায় মন্দির নির্মাণের দিনক্ষণও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির এই সাংসদ। সাক্ষী মহারাজ জানিয়েছেন, আগামী ৬ ডিসেম্বর থেকে ওই স্থানে রামের মন্দির নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

বহুল আলোচিত ভারতের অযোধ্যার এই জমি নিয়ে মামলার শুনানি শেষ হয়েছে বুধবার। আদালতসূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৭ নভেম্বর এই মামলার রায় ঘোষণা করবেন অ্যাটর্নি জেনারেল রাজেশ গাগৈ। রায় কী হবে, সেই দিকেই বহুদিন ধরে তাকিয়ে আছেন ভারতবর্ষের আপামর জনতা। কিন্তু এতদিন অপেক্ষা করতে মোটেই রাজি নন হিন্দুত্ববাদী নেতা সাক্ষী মহারাজ। শুনানি শেষের আগেই তিনি ঘোষণা করে দিয়েছেন, অযোধ্যায় রাম মন্দিরের নির্মাণ শুরু হবে ডিসেম্বর মাস থেকেই।

উল্লেখ্য, ২৭ বছর পূর্বে ভেঙে ফেলার আগে বিরোধপূর্ণ জায়গাটিতে ১৬ শতক আয়তনের বাবরি মসজিদ ছিল। ১৯৯২ সালের ডিসেম্বরে সেটি ভেঙে দেয় শিবসেনার হিন্দু কর্মীরা। এই কাণ্ড ঘটানোর পেছনে তারা যুক্তি দেখায়, ‘অযোধ্যা ভগবান রামচন্দ্রের জন্মভূমি। মসজিদের জায়গাটিতে আগে রামের মন্দির ছিল। পরে মন্দিরের ভগ্নাবশেষের ওপর মসজিদ তৈরি করা হয়েছে।’ মসজিদ ভেঙে ফেলার ঘটনায় পুরো ভারতজুড়ে হিংসার পরিবেশ তৈরি হয় তখন। এই ঘটনা শেষমেষ হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা পর্যন্ত গড়িয়েছিল। হিংসার আঁচ সেসময় ভারতের পার্শ্ববর্তী দেশ বাংলাদেশ ও পাকিস্তানেও কিছুটা লেগেছিল।

ঘটনাচক্রে, ১৯৯২ সালে অযোধ্যাতে বাবরি মসজিদ যেদিন ভেঙে ফেলা হয়, সেই তারিখটি ছিল ৬ ডিসেম্বর। সেদিকে ইঙ্গিত করে সাক্ষী মহারাজ বলেন, ‘যেদিন এই কাঠামোটিকে(বাবরি মসজিদ) ভেঙে দেওয়া হয়েছিল, সেই তারিখেই মন্দির নির্মাণ শুরু করা উচিত। এটাই যুক্তিযুক্ত।’

নিজের সংসদীয় এলাকা উন্নাওতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বিজেপি নেতা বলেন, ‘এই স্বপ্নটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের অক্লান্ত প্রচেষ্টার ফলেই বাস্তবায়িত হয়েছে।

সবশেষে বাবরকে ‘হানাদার’ তকমা দিয়ে কট্টরপন্থী এই গেরুয়া নেতা আরও বলেন, ‘সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডকে এই সত্যটি মেনে নিতেই হবে যে, বাবর তাদের পূর্বপুরুষ ছিলেন না, তিনি একজন হানাদার ছিলেন। এই মন্দির নির্মাণে হিন্দু ও মুসলমানদের একসঙ্গে কাজ করা উচিৎ।’

প্যানেল রিপোর্ট জানিয়েছে, আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার মসজিদ তালিকা দিতে পারে ওয়াকফ বোর্ড। রিপোর্টে অযোধ্যা নিয়ে জাতীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান করা হয়েছে, যে কারণে, মহান্ত ধর্মদাস এবং পদুচেরির শ্রী অরবিন্দ আশ্রম থেকে জমির প্রস্তাব এসেছে বলে খবর। এদিনই মধ্যস্থতার চেষ্টার বিস্তারিত প্রকাশ হয়, আবার এদিনই অযোধ্যা মামলা নিয়ে দৈনিক শুনানি শেষ করে সুপ্রিম কোর্ট বলে, “যথেষ্ঠ হয়েছে”।

হিন্দু এবং মুসলিম, উভয়পক্ষের তরফেই দাবি করা হয়েছে, ১৯৯২-এ ভেঙে ফেলার আগে, ওই জায়গায় ১৬ শতকের বাবরি মসজিদ ছিল, এবং ১৯৯২-এর ডিসেম্বরে সেটি ভেঙে দেয় হিন্দু কর্মীরা, তাঁদের বিশ্বাস, ওই জায়গায় ভগবান রামচন্দ্রের জন্মভূমি হিসেবে সেখানে মন্দির ছিল, এবং তারই ভগ্নাবেশের ওপর মসজিদ তৈরি করা হয়েছে। ওই ভয়ঙ্কর ঘটনায় ভারত জুড়ে হিংসার বাতাবরণ তৈরি হয়।

মঙ্গলবার বর্ষীয়ান আইনজীবী তথা “রাম লালা বিরাজমান” পক্ষের আইনজীবী কে পরাশরন, যুক্তি দেন, “শুধুমাত্র অযোধ্যাতেই ৫০-৬০টি মসজিদ রয়েছে। তবে হিন্দুদের জন্য, এটি রামের জন্মভূমি…আমরা জন্মভূমি পরিবর্তন করতে পারি না”। ওয়াকফ বোর্ডের তরফে দেওয়া প্রস্তাব মেনে নিয়েছে বাকি পক্ষরাও। তবে নির্বাণী আখরা, দ্বারকার শঙ্করচার্য এবং হিন্দু মহাসভা প্রস্তাব অনুমোদন করেছে কিনা তা জানা যায়নি।

মধ্যস্থতাকারী প্যানেলে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি এফএম কালিফুল্লা, আধ্যাত্মিক গুরু শ্রীশ্রী রবিশঙ্কর এবং বর্ষীয়ান আইনজীবী শ্রীরাম পাঞ্চু. মার্চে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে কথা বলা শুরু করেন তাঁরা।

বুধবার সকালে রিপোর্ট জমা দেন বিচারপতি কালিফুল্লা, তবে এদিন তা উল্লেখ করেননি প্রধানবিচারপতি রঞ্জন গগৈ। আগামী মাসে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানেই মধ্যস্থতাকারীদের রিপোর্টের ছাপ থাকবে। ১৭ নভেম্বর অযোধ্যা নিয়ে রায় দিতে পারেন প্রধানবিচারপতি রঞ্জন গগৈ।

এর আগে রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ জমির বিবাদ নিয়ে চলা মামলা নিষ্পত্তির আগেই বাবরি মসজিদের উপর রাম মন্দির নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন বিজেপি নেতা সাক্ষী মহারাজ। এমনকি মসজিদের জায়গায় মন্দির নির্মাণের দিনক্ষণও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির এই সাংসদ। সাক্ষী মহারাজ জানিয়েছেন, আগামী ৬ ডিসেম্বর থেকে ওই স্থানে রামের মন্দির নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

38375001
Users Today : 1721
Users Yesterday : 4902
Views Today : 9887
Who's Online : 40
© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/