বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১, ০২:৩৮ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
১৫ হাজার দুঃস্থ পরিবারকে রায়পুরের সংসদ সদস্য প্রার্থী এডভোকেট নয়নের ঈদ উপহার লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্হগিত হওয়া উপনির্বাচন সম্পন্ন করার দাবী এলাকাবাসীর ১৩ তলার গাজা টাওয়ার গুড়িয়ে দিল ইসরায়েল ভারতে ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ৪২০৫ জনের মৃত্যু ইসরাইল বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল নিউইয়র্ক ফেরিতে যাত্রীদের চাপে ৬ জনের মৃত্যু যশোরে গরীব দুস্থদের মাঝে বঙ্গবন্ধু আইন ছাত্র পরিষদের ঈদ উপহার বিতরণ বোচাগঞ্জে অসহায় আনসার ভিডিপি সদস্য/ সদস্যাদের মাঝে ঈদ উপহার বিতর বেনাপোল বাহাদুরপুর গ্রামে ১৫শ পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ চীনা রাষ্ট্রদূতের কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত মন্তব্যের নিন্দা শ্যামনগরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলা আহত-৩, আটক-৫ ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা আখি আত্মহনন, স্বামী আটক দ্বিতীয় ধাপে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ রোজা ৩০টি হবে, জানালো সৌদি আরব সেই মিতু হত্যার অভিযোগে স্বামী পুলিশকর্তা বাবুল আক্তার গ্রেপ্তার

ভূঞাপুরে যমুনায় চরে গো-খাদ্যের সমারোহ

 

মো: নাসির উদ্দিন, ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা অংশে যমুনার নদীর পানি তীব্র হাড়ে কমে যাওয়ায় জেগে উঠেছে ছোট-বড় অসংখ্য চর। বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর জেগে ওঠা প্রতিটা চরাঞ্চলে দ্বীপে ঘাস, কাঁশ ঝাঁড়, কলমি ও বিভিন্ন লতা পাতায় ছেয়ে গেছে। এতে করে গরু ও ছাগলের গো-খাদ্যের বিশাল এক সমারোহ হয়েছে। দূর থেকে তাকালে মনে হয় জেগে ওঠা চরগুলোতে সবুজের নীলাভূমি।

এ দিকে, চরাঞ্চলের নি¤œআয়ের মানুষগুলো জেগে ওঠা চর থেকে ঘাস সংগ্রহ করে তা বিক্রি করে চালাচ্ছে সংসার। এছাড়াও নিজেদের গরু, মহিষ ও ছাগলের খাদ্য হিসেবেও প্রয়োজন মিটাচ্ছেন তারা। ভোর সকালে পাখির কিচিমিচি শব্দের সাথে সাথেই কৃষক-কৃষাণিরা দল বেঁধে হাতে কাস্তে (কাঁচি), প্লাস্টিকের বস্তা ও ঘাসের আঁটি বাধার জন্য রশি (দঁড়ি) নিয়ে ছোট ছোট ডিঙি দিয়ে নৌকাযোগ নদী পাড় হয়ে ছুটে আসছেন চরে ঘাস কাটার জন্য।

এমন চিত্র সরেজমিনে উপজেলার অংশে যমুনা নদীর গাবসারা, জুংগীপুর, রুলীপাড়া, কোনাবাড়ী, নলছিয়া, কালিপুর, রামপুর, শুশুয়া, গোবিন্দগঞ্জ, বাসুদেবকোল, ভদ্রশিমুলসহ নাম না জানা প্রায় অর্ধশতাধিক চর এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, স্কুল পড়–য়া ছেলে-মেয়ে থেকে শুরু করে বৃদ্ধ বয়সের লোক ও মহিলারা চরে ঘাস কাটছে। কাজ করছে বিভিন্ন ধরণের। ঘাসের মধ্য রোপণ করা হচ্ছে মৌসুমি বিভিন্ন ধরণের রবি ফসল।

কোনাবাড়ী চরে ঘাস কাটতে আসা মো. মোকছেদ আলী বলেন, গত বছরই যমুনা নদী গর্ভে বসতভিটা হারিয়েছি। অবশিষ্ট ২ শতাংশ জমি ছিল তা এবার ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। বন্যার সময় এ সব কিছু হারিয়ে রাস্তার পাশে রাত্রীযাপন করতে হয়েছে। এখন নদীর পানি কমে যাওয়ায় অনেক চর জেগেছে। অন্যের জমির উপর টং ঘর তুলে চরের মধ্যে থাকতেছি আর গরু ছাগল চরাচ্ছি। পাশাপাশি ঘাস কেটে তা পার্শ্ববর্তী এলাকার গোবিন্দাসী কাঁচা বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছি। অন্য কোনো কাজ কামও তেমন পারি না।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঘাম ঝড়ানো গরম ও তীব্র রোদ অপেক্ষা মাথায় গামছা বেঁধে ও মাথাইল দিয়ে ঘাস কাটছে, কেউ গরু-ছাগল চরাচ্ছে, কেউ পরিস্কার জমিতে চাষ করে ও চাষ ছাড়াই বালুতে রবি ফসল রোপন করছে, আবার কেউ কাজের ফাঁকে ফাঁকে রাখালি সুরে গানও গাইছে। তাদের সহযোগিতা করছে নারী ও ছোট-ছোট ছেলে-মেয়েরা।

রুলীপাড়া চরে মো. জয়ান মন্ডল বলেন, যমুনা নদীর পানি কমে এখন ধূ-ধূ বালুচর ও দ্বীপে পরিণিত হচ্ছে। বন্যার সময় গরু-ছাগলের গো-খাদ্যে তীব্র সংকট দেখা দেয়। কিন্তু বর্তমানে চরে গরু-ছাগলের খাদ্যের অভাব নেই। সকাল বেলা মাঠে (চরাক্ষেত) ছেড়ে দেই, সারাদিন ঘাস খেয়ে সন্ধার আগেই গোয়ালে ফিরে আসে। এ ৬-৭ মাস অর্থ্যাৎ আগামীতে বন্যা না হওয়া পর্যন্ত গো-খাবারের কোনো সমস্যা নেই। আরো বলেন, ফরমালিনমুক্ত ঘাস খেয়ে অল্পদিনেই গরু-ছাগল মোটাতাজা হয়ে যায়। তাছাড়া ফিট জাতীয় খাবারও খাওয়াতে হচ্ছে না।

যমুনার চরে ঘাস কাটার সময় ও ছাগল চরাচ্ছিলেন কুলসুম বেগম। তার সাথে কথা বললে তিনি বলেন, চরে ঘাসের অভাব নেই। তাই অন্যের কিনে দেয়া ১টি গাভী গররু ও ৩ টা ছাগল বর্গা নিয়েছি। ৬ মাস পালবো। এরপর এগুলো দ্বিগুণ টাকায় হাটে বেচা (বিক্রি) যাবে। লাভের অর্ধেক বর্গা আলায় দিবে আমায়। এছাড়াও প্রতিদিন ১০০-১৫০ টাকা ঘাসও বেচতে পারি। এতে করে ছেলে-মেয়েদের পড়ার খরচ ও সংসারও চলে মোটামুটি ভালো।

Please Share This Post in Your Social Media


বঙ্গবন্ধু কাতরকণ্ঠে বলেন, মারাত্মক বিপর্যয়

বঙ্গবন্ধু কাতরকণ্ঠে বলেন, মারাত্মক বিপর্যয়

https://twitter.com/WDeshersangbad

© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/
Design And Developed By Freelancer Zone