শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৯:১৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
দায়মুক্তির জন্য গাইবান্ধায় সংবাদ সম্মেলন চরমোনাই মাহফিলে ১১ মুসল্লীর মৃত্যু আখেরী মোনাজাতে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা প্রধান অতিথি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডাঃ মকবুল গাবতলীর সাবেকপাড়া’য় ডাঃ মকবুল হোসেন সড়ক উদ্বোধন আত্রাইয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ডিজিটাল ম্যারাথন অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামে চরাঞ্চলে সুর্যমুখী চাষ বৃদ্ধির লক্ষে মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রাম শহরের ৫ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক পাকা করণের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারক লিপি প্রদান ফের খানসামায় ট্রাক্টর চাপায় মোটরসাইকেল চালক এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু আত্রাইয়ে ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত রোগীকে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান বড়াইগ্রামে নদী খননের অনিয়ম, কৃষকদের প্রতিরোধে বন্ধ কাজ নলছিটির রানাপাশা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কে হচ্ছেন নৌকার মাঝি? খানসামায় আমের গাছে গাছে মুকুলের সমারোহ,বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা বিকাশের অর্থ সহায়তায় জড়িত থাকার তদন্তপূর্বক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন সড়ক দূর্ঘটনায় আহত বেনাপোলের এতিম লিটনকে বাঁচাতে দেশবাসীর কাছে সাহায্যের আবেদন চর লাঠিয়ালডাঙ্গা যেন মাদকের গ্রাম তানোরে কৃষকের আলু লুট !

ভূঞাপুরে যমুনায় চরে গো-খাদ্যের সমারোহ

 

মো: নাসির উদ্দিন, ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা অংশে যমুনার নদীর পানি তীব্র হাড়ে কমে যাওয়ায় জেগে উঠেছে ছোট-বড় অসংখ্য চর। বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর জেগে ওঠা প্রতিটা চরাঞ্চলে দ্বীপে ঘাস, কাঁশ ঝাঁড়, কলমি ও বিভিন্ন লতা পাতায় ছেয়ে গেছে। এতে করে গরু ও ছাগলের গো-খাদ্যের বিশাল এক সমারোহ হয়েছে। দূর থেকে তাকালে মনে হয় জেগে ওঠা চরগুলোতে সবুজের নীলাভূমি।

এ দিকে, চরাঞ্চলের নি¤œআয়ের মানুষগুলো জেগে ওঠা চর থেকে ঘাস সংগ্রহ করে তা বিক্রি করে চালাচ্ছে সংসার। এছাড়াও নিজেদের গরু, মহিষ ও ছাগলের খাদ্য হিসেবেও প্রয়োজন মিটাচ্ছেন তারা। ভোর সকালে পাখির কিচিমিচি শব্দের সাথে সাথেই কৃষক-কৃষাণিরা দল বেঁধে হাতে কাস্তে (কাঁচি), প্লাস্টিকের বস্তা ও ঘাসের আঁটি বাধার জন্য রশি (দঁড়ি) নিয়ে ছোট ছোট ডিঙি দিয়ে নৌকাযোগ নদী পাড় হয়ে ছুটে আসছেন চরে ঘাস কাটার জন্য।

এমন চিত্র সরেজমিনে উপজেলার অংশে যমুনা নদীর গাবসারা, জুংগীপুর, রুলীপাড়া, কোনাবাড়ী, নলছিয়া, কালিপুর, রামপুর, শুশুয়া, গোবিন্দগঞ্জ, বাসুদেবকোল, ভদ্রশিমুলসহ নাম না জানা প্রায় অর্ধশতাধিক চর এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, স্কুল পড়–য়া ছেলে-মেয়ে থেকে শুরু করে বৃদ্ধ বয়সের লোক ও মহিলারা চরে ঘাস কাটছে। কাজ করছে বিভিন্ন ধরণের। ঘাসের মধ্য রোপণ করা হচ্ছে মৌসুমি বিভিন্ন ধরণের রবি ফসল।

কোনাবাড়ী চরে ঘাস কাটতে আসা মো. মোকছেদ আলী বলেন, গত বছরই যমুনা নদী গর্ভে বসতভিটা হারিয়েছি। অবশিষ্ট ২ শতাংশ জমি ছিল তা এবার ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। বন্যার সময় এ সব কিছু হারিয়ে রাস্তার পাশে রাত্রীযাপন করতে হয়েছে। এখন নদীর পানি কমে যাওয়ায় অনেক চর জেগেছে। অন্যের জমির উপর টং ঘর তুলে চরের মধ্যে থাকতেছি আর গরু ছাগল চরাচ্ছি। পাশাপাশি ঘাস কেটে তা পার্শ্ববর্তী এলাকার গোবিন্দাসী কাঁচা বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছি। অন্য কোনো কাজ কামও তেমন পারি না।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঘাম ঝড়ানো গরম ও তীব্র রোদ অপেক্ষা মাথায় গামছা বেঁধে ও মাথাইল দিয়ে ঘাস কাটছে, কেউ গরু-ছাগল চরাচ্ছে, কেউ পরিস্কার জমিতে চাষ করে ও চাষ ছাড়াই বালুতে রবি ফসল রোপন করছে, আবার কেউ কাজের ফাঁকে ফাঁকে রাখালি সুরে গানও গাইছে। তাদের সহযোগিতা করছে নারী ও ছোট-ছোট ছেলে-মেয়েরা।

রুলীপাড়া চরে মো. জয়ান মন্ডল বলেন, যমুনা নদীর পানি কমে এখন ধূ-ধূ বালুচর ও দ্বীপে পরিণিত হচ্ছে। বন্যার সময় গরু-ছাগলের গো-খাদ্যে তীব্র সংকট দেখা দেয়। কিন্তু বর্তমানে চরে গরু-ছাগলের খাদ্যের অভাব নেই। সকাল বেলা মাঠে (চরাক্ষেত) ছেড়ে দেই, সারাদিন ঘাস খেয়ে সন্ধার আগেই গোয়ালে ফিরে আসে। এ ৬-৭ মাস অর্থ্যাৎ আগামীতে বন্যা না হওয়া পর্যন্ত গো-খাবারের কোনো সমস্যা নেই। আরো বলেন, ফরমালিনমুক্ত ঘাস খেয়ে অল্পদিনেই গরু-ছাগল মোটাতাজা হয়ে যায়। তাছাড়া ফিট জাতীয় খাবারও খাওয়াতে হচ্ছে না।

যমুনার চরে ঘাস কাটার সময় ও ছাগল চরাচ্ছিলেন কুলসুম বেগম। তার সাথে কথা বললে তিনি বলেন, চরে ঘাসের অভাব নেই। তাই অন্যের কিনে দেয়া ১টি গাভী গররু ও ৩ টা ছাগল বর্গা নিয়েছি। ৬ মাস পালবো। এরপর এগুলো দ্বিগুণ টাকায় হাটে বেচা (বিক্রি) যাবে। লাভের অর্ধেক বর্গা আলায় দিবে আমায়। এছাড়াও প্রতিদিন ১০০-১৫০ টাকা ঘাসও বেচতে পারি। এতে করে ছেলে-মেয়েদের পড়ার খরচ ও সংসারও চলে মোটামুটি ভালো।

Please Share This Post in Your Social Media

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

38333827
Users Today : 3930
Users Yesterday : 6494
Views Today : 13547
Who's Online : 44
© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/