শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৭:২৯ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
দেশের প্রথম ‘ছেলে সতীন’ হিসেবে গিনিস বুকে নাম লেখাতে চান নাসির হোসাইন! এবার প্রবাসীদের ব্যাগেজ রুলে আসছে পরিবর্তন, শুল্কছাড়ে যত ভরি স্বর্ণ আনতে পারবে প্রবাসীরা যে চার ধরনের শা’রীরিক মিলন ইসলামে নি’ষিদ্ধ !!বিজ্ঞানী বু-আলী ইবনে সীনা নারীদের যে ৮টি কথা বললে তারা আপনাকে মাথায় তুলে রাখবে… নওগাঁর মহাদেবপুরে বিএনপি’র উদ্যোগে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বিভাগীয় সমাবেশ সফল করার লক্ষে প্রস্তুতি সভা মাদ্রাসার এক ছাত্রকে (১২) বলৎকার মাওলানা আটক নরপশুটা আমাকে কোলে তুলে মোনাজাত করতো! গাইবান্ধায় মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার গাইবান্ধায় অধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০ হানিফ বাংলাদেশীর মার্চ ফর ডেমোক্রেসি গাইবান্ধায় জনসভায় পরিনত হয়েছে দিনাজপুর বিরামপুরে ‘বিট পুলিশিং সমাবেশ নবনির্বাচিত উলিপুর পৌর মেয়রের দায়িত্বভার গ্রহণ  ভাষা দিবস উপলক্ষে নারী অধিকার আন্দোলনের আলোচনা সভা স্থগিত পরীক্ষা চালুর দাবি রাবি শিক্ষার্থীদের ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম তানোরে বিএনপির প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

মতিঝিলের ক্যাসিনো সাম্রাজ্য দখলের পাঁয়তারা

ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট, খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, এনামুল হক আরমানসহ অনেকে গ্রেপ্তার হওয়ার পর মতিঝিলপাড়ায় অপরাধ সাম্রাজ্য এখন ফাঁকা।এছাড়া এ এলাকা নিয়ন্ত্রণকারী সম্রাটের অনুসারী অনেকে গ্রেপ্তারের ভয়ে পালিয়ে আছেন। নতুন করে এ সম্রাজ্যে নজর পড়েছে বিভিন্ন চক্রের।সমকাল

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘ দিন ধরে মতিঝিল ও আশপাশ এলাকা যারা নিয়ন্ত্রণ করতেন, তাদের অনুপস্থিতিতে যাতে অন্য কেউ সেই জায়গা দখল করতে না পারে সে ব্যাপারে সজাগ রয়েছে প্রশাসন। অনেক সময় নতুন দখলদারিত্ব কায়েম করতে গিয়ে খুনোখুনির ঘটনাও ঘটে। সেটা যাতে না হয় সে ব্যাপারে এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

রাজধানীর প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিল। সেখানে রয়েছে সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর।এছাড়া মতিঝিল ও আরামবাগে রয়েছে ৮টি নামিদামি ক্লাব।এসব ক্লাবে চলে কোটি কোটি টাকার লেনদেন। সম্প্রতি শুদ্ধি অভিযানে এসব তথ্য বেরিয়ে আসে। এ সকল অবৈধ সম্পদের ওপর নতুন করে নজর পরেছে বিভিন্ন চক্রের । বিশ্বস্ত সূত্র থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে এ সমস্ত ‘মধুর হাঁড়ি’র মালিক হওয়ার জন্ উঠেপড়ে লেগেছে একাধিক চক্র। দেশে-বিদেশে পলাতক অনেকে নতুনভাবে তাদের লোক সামনে এনে সাম্রাজ্য দখলের মাধ্যমে টাকা কামানোর চেষ্টায় মগ্ন। এরই মধ্যে কানাডা থেকে সোহাগ নামে একজন ফোন করে তার লোকজনকে দেখে রাখতে পুলিশ কর্মকর্তাদের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।  তবে কে এই সোহাগ এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে বেশি কিছু জানা সম্ভব হয়নি।

সংশ্নিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভৌগলিক কারণে মতিঝিল, শাহজাহানপুর ও রামপুরা এলাকা সন্ত্রাসপ্রবণ। এক সময় এ এলাকার একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করতেন কাইল্যা পলাশ, ঘাতক স্বপন ও শাহজাদা। এসব সন্ত্রাসীর পাশাপাশি যখন যে দল ক্ষমতায় ছিল সেই দলের কিছু অসাধু লোকজন এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে কোটি কোটি টাকার মালিক হন। মূলত জমি-জমার ব্যবসা, ফুটপাতে দোকান, জুট ও ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণই তাদের প্রধান কারবার। এক সময় শাহজাহানপুর ও মতিঝিল এলাকার একক আধিপত্য ছিল মির্জা আব্বাসের। পরে মির্জা আব্বাসকে হটিয়ে ওই সাম্রাজ্যের দখল নেন খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। মতিঝিল এলাকার দখল নিয়ে যুবলীগ নেতা মিল্ক্কী ও মোছা বাবু হত্যার ঘটনা ঘটে। মূলত মোছা বাবু হত্যার মধ্য দিয়ে মতিঝিল ও এজিবি কলোনির অপরাধ সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রক একটি বড় চক্রকে আইনের আওতায় নেয়া হয়।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সে সময়কার সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে শুরু হয় শুদ্ধি অভিযান। এরপর তাকে সংগঠন থেকে বহিস্কার করা হয়। খালেদ ও তার ক্যাডার বাহিনী দীর্ঘদিন মতিঝিল পাড়ায় আধিপত্য বিস্তার করে আসছিলো। খিলগাঁও-শাহজাহানপুর হয়ে চলাচলকারী গণপরিবহন থেকে নিয়মিত টাকা দিতে হতো খালেদকে। কোরবানির ঈদে শাহজাহানপুর কলোনি মাঠ, মেরাদিয়া ও কমলাপুর পশুর হাট নিয়ন্ত্রণ ছিল তার হাতে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), রেল ভবন, ক্রীড়া পরিষদ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, যুব ভবন, কৃষি ভবন, ওয়াসার টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করতেন খালেদ। সরকারি দপ্তরে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের জন্য আলাদা আলাদা ক্যাডার বাহিনী ছিল। রাজউকেও টেন্ডারে প্রায় নিয়ন্ত্রণ ছিল তার হাতে। রেল ভবনের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করতেন খালেদের ভাই মাসুদ। রাজউক ভবনের নিয়ন্ত্রণে ছিল খায়রুল ও উজ্জ্বল। খালেদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা পেতেন যুবলীগ দক্ষিণের বহিস্কৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। খালেদ, সম্রাট ও আরমান গ্রেপ্তারের পর পুরো সাম্রাজ্য এখন শূন্য। এই সুযোগে সাম্রাজ্য দখলে শুরু হয় নতুন তৎপরতা।

এরই মধ্যে সম্রাট ও খালেদ জিজ্ঞাসাবাদেও দিয়েছেন অনেক তথ্য। স্থানীয় সংসদ সদস্য,  রাজনীতিক ও অন্যান্য সংস্থার লোকজন মিলেমিশেই ক্যাসিনো থেকে মোটা অঙ্কের টাকার ভাগ নিয়ে আসছিলেন। ক্যাসিনোর সুবিধাভোগীর তালিকা বেশ দীর্ঘ।

সংশ্নিষ্ট সূত্র বলছে, ক্যাসিনো, টেন্ডার থেকে সুবিধাভোগী যাদের নাম বেরিয়ে আসছে তাদের ব্যাপারে আরও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। দেশে-বিদেশে তাদের নামে-বেনামে সম্পদের তথ্য সংগ্রহ করছে একাধিক সংস্থা। বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি নাসির উদ্দিন পিন্টুর এক আত্মীয়ের মাধ্যমে যুবলীগের বহিস্কৃত নেতা খালেদ কানাডায় টাকা পাঠিয়েছেন কি-না, তাও যাচাই করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, খালেদের নাম ভাঙিয়ে ঢাকার বাইরেও কয়েকজন লাখ লাখ টাকা বাণিজ্য করতেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার একজন চেয়ারম্যানের ব্যাপারেও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

38324463
Users Today : 1060
Users Yesterday : 3953
Views Today : 3132
Who's Online : 31
© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/