শনিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২১, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
ওবায়দুল কাদেরকে নিয়ে কটূক্তি, অনশনে কাদের মির্জা ওবায়দুল কাদেরের পরিবারকে রাজাকার পরিবার বললেন এমপি একরামুল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় জাতীয় অনলাইন দেশের সংবাদ নিউজ পোটালে সংবাদাতা নিয়োগ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে প্রথমে টিকা নেয়ার আহ্বান বিএনপির কাশিমপুর কারাগারে বন্দীর নারীসঙ্গ: ডেপুটি জেলারসহ ৩ কর্মকর্তা প্রত্যাহার কাল প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরে উঠবেন ৬৬ হাজার ১৮৯ গৃহহীন পরিবার তানোরের মুন্ডুমালা পৌরবাসীর বোধদয় মুজিববর্ষে ঝিনাইদহে ২৪৯টি গৃহহীন পরিবার পাবে জমিসহ ঘর: জেলা প্রশাসক ঝিনাইদহে ফুলের উৎপাদন ও বিপনন বিষয়ক কৃষক প্রশিক্ষন প্রধানমন্ত্রীসহ তিন নেত্রীকে একসঙ্গে করোনার টিকা নেয়ার আহ্বান কোন সময়ে সহবাস করলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা থাকে না? রংপুরে আল্লাহ তায়ালার গুণবাচক ৯৯ নামের স্তম্ভ কার্ডেও ডলার এনডোর্সমেন্ট করতে হবে সপ্তাহে কতবার সহবাস করবেন? পাকিস্তানি সুন্দরীদের ছবি দেখলে মাথা ঘুরে যাবে

মহিলাদের চওড়া কোমর দক্ষিণে আর উত্তরে মোটা পেট

কলকাতা: বেশি চওড়া কোমরের নিরিখে দেশের মধ্যে প্রথমে রয়েছেন চেন্নাইয়ের মহিলারা৷ আর, মোটা পেট অর্থাৎ, অতিরিক্ত মেদ জমে যাওয়া পেটের নিরিখে, যুগ্মভাবে প্রথমে রয়েছেন পুণে এবং দিল্লির মহিলারা৷ এমনই তথ্য প্রকাশ পেয়েছে সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায়৷

ওই সমীক্ষায় প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মোটা পেটের নিরিখে পুণের মহিলারা যুগ্মভাবে প্রথম স্থানে থাকলেও, পশ্চিম ভারতের ওই শহরের মহিলারা অবশ্য বেশি চওড়া কোমরের নিরিখে রয়েছেন দ্বিতীয় স্থানে৷ তেমনই, বেশি চওড়া কোমরের নিরিখে চেন্নাইয়ের মহিলারা প্রথম স্থানে থাকলেও, দক্ষিণ ভারতের ওই শহরের মহিলারা, মোটা পেটের নিরিখে রয়েছেন দ্বিতীয় স্থানে৷

এবং, এমন তথ্য মোটেও এ দেশের ওই সব মহিলার সৌন্দর্যের কোনও মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না৷ বরং, এই ধরনের তথ্যের জেরে, বিশেষজ্ঞরা একই সঙ্গে যারপরনায় উদ্বিগ্ন এবং আতঙ্কিত৷ কারণ, যেভাবে এ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মহিলাদের মধ্যে, তাঁদের কোমর ক্রমে আরও চওড়া এবং পেটে ক্রমে আরও মেদ জমে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তাতে সৌন্দর্য নয়, তাঁদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি নিয়েই উদ্বেগ-আতঙ্কে রয়েছেন বিশেষজ্ঞরা৷

মেট্রো এবং নন-মেট্রো মিলিয়ে এ দেশের মোট ১০টি শহরে সম্প্রতি এক সমীক্ষা চালানো হয়েছে৷ ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের শহরাঞ্চলের মহিলাদের মধ্যে কোন অবস্থায় রয়েছে তাঁদের হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়টি, তার উপর-ই চালানো হয়েছে ওই সমীক্ষা৷ সাফোলালাইফ স্টাডি ২০১৫ শীর্ষক ওই সমীক্ষায় প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ দেশের অন্যান্য শহরের তুলনায়, বেশি চওড়া কোমরের মহিলাদের সংখ্যা বেশি রয়েছে চেন্নাইয়ে৷ কেননা, চেন্নাইয়ের মহিলাদের মধ্যে ৭১ শতাংশের রয়েছে বেশি চওড়া কোমর৷ দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন পুণের মহিলারা৷ কেননা, ওই শহরের মহিলাদের মধ্যে ৬৫ শতাংশের রয়েছে বেশি চওড়া কোমর৷

ওই সমীক্ষা অনুযায়ী, তৃতীয় স্থানে রয়েছেন হায়দরাবাদের মহিলারা৷ ওই শহরের মহিলাদের মধ্যে ৬৪ শতাংশের রয়েছে বেশি চওড়া কোমর৷ এর পরের স্থানগুলিতে রয়েছেন যথাক্রমে বেঙ্গালুরু, মুম্বই, দিল্লি এবং কলকাতার মহিলারা৷ ওই সমীক্ষা অনুযায়ী, বেঙ্গালুরুর মহিলাদের মধ্যে ৪৩ শতাংশ, মুম্বইয়ের মহিলাদের মধ্যে ৩৪ শতাংশ, দিল্লির মহিলাদের মধ্যে ৩৩ শতাংশ এবং কলকাতার মহিলাদের মধ্যে ২১  শতাংশের রয়েছে বেশি চওড়া কোমর৷ সাম্প্রতিক ওই সমীক্ষায় প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গোটা দেশের নিরিখে, বেশি চওড়া কোমরের মহিলাদের সংখ্যা সব থেকে বেশি রয়েছে দক্ষিণ ভারতে৷

কেননা, ওই সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রথম চারটি স্থানের মধ্যে তিনটি শহর-ই দক্ষিণ ভারতের৷ এবং, ওই সমীক্ষা অনুযায়ী-ই, দক্ষিণ ভারতের ৫৮ শতাংশ মহিলার রয়েছে বেশি চওড়া কোমর৷ অন্যদিকে, পশ্চিম ভারতের মহিলারা রয়েছেন দ্বিতীয় স্থানে৷ ওই সমীক্ষা অনুযায়ী, পশ্চিম ভারতের মহিলাদের মধ্যে ৪৩ শতাংশের রয়েছে বেশি চওড়া কোমর৷ তৃতীয় স্থানে রয়েছে ভারতের উত্তরাঞ্চল৷ ওই সমীক্ষা অনুযায়ী, উত্তর ভারতের মহিলাদের মধ্যে ৪০ শতাংশের রয়েছে বেশি চওড়া কোমর৷ এ ক্ষেত্রে পূর্ব ভারত তথা কলকাতার মহিলাদের মধ্যে বেশি চওড়া কোমরের হার, এ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শহরগুলির নিরিখে তুলনামূলক ভাবে অনেক কম৷ কারণ, ওই সমীক্ষায় প্রকাশ, কলকাতার মহিলাদের মধ্যে ২১ শতাংশের রয়েছে বেশি চওড়া কোমর৷

বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ-আতঙ্ক হিসেবে মহিলাদের বেশি চওড়া কোমরের সঙ্গে রয়েছে তাঁদের মোটা পেট অর্থাৎ, পেটে অতিরিক্ত মেদ জমে যাওয়ার বিষয়টিও৷ ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে কোন অবস্থায় রয়েছে তাঁদের পেটে অতিরিক্ত মেদ জমে যাওয়ার বিষয়টি? সাম্প্রতিক ওই সমীক্ষা অনুযায়ী, মোটা পেট অর্থাৎ, পেটে অতিরিক্ত মেদ জমে যাওয়ার নিরিখে এ দেশের মধ্যে যুগ্মভাবে পুণে এবং দিল্লির মহিলারা প্রথম স্থানে থাকলেও, দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন চেন্নাইয়ের মহিলারা৷ ওই সমীক্ষা অনুযায়ী, যুগ্মভাবে পুণে এবং দিল্লির মহিলাদের মধ্যে ৮৩ শতাংশের রয়েছে মোটা পেট৷ এবং, চেন্নাইয়ের মহিলাদের মধ্যে মোটা পেট রয়েছে ৮২ শতাংশের৷

ওই সমীক্ষা অনুযায়ী, মোটা পেটের নিরিখে যুগ্মভাবে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন বেঙ্গালুরু এবং মুম্বইয়ের মহিলারা৷ ওই দুই শহরের মহিলাদের মধ্যে ৭৮ শতাংশের রয়েছে মোটা পেট৷ চতুর্থ স্থানে রয়েছেন হায়দরাবাদের মহিলারা৷ ওই সমীক্ষা অনুযায়ী, বেশি চওড়া কোমরের নিরিখে চারমিনার-শহরের মহিলারা এ দেশের অন্যান্য শহরগুলির মধ্যে তৃতীয় স্থানে থাকলেও, মোটা পেটের কারণে দক্ষিণ ভারতের ওই শহরের মহিলারা রয়েছেন চতুর্থ স্থানে৷ কারণ, ওই সমীক্ষা অনুযায়ী, হায়দরাবাদের মহিলাদের মধ্যে ৭৭ শতাংশের রয়েছে মোটা পেট৷ এ দেশের অন্যান্য শহরের মতো কলকাতার মহিলাদের মধ্যেও ক্রমে বাড়ছে পেটে অতিরিক্ত মেদ জমে যাওয়ার প্রবণতা৷

তবে, ওই সমীক্ষা অনুযায়ী, মোটা পেটের নিরিখে এ দেশের বিভিন্ন শহরের মধ্যে পঞ্চম স্থানে রয়েছেন কলকাতার মহিলারা৷ কারণ, ওই সমীক্ষা অনুযায়ী, কলকাতার ৩৩ শতাংশ মহিলার পেটে রয়েছে অতিরিক্ত মেদ৷ অন্যদিকে, সাম্প্রতিক ওই সমীক্ষায় প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গোটা দেশের মধ্যে মোটা পেট অর্থাৎ, পেটে অতিরিক্ত মেদ জমে যাওয়ার কারণে প্রথমে রয়েছেন উত্তর ভারতের মহিলারা৷ কারণ, ভারতের উত্তরাঞ্চলের মহিলাদের মধ্যে ৮৫ শতাংশের রয়েছে মোটা পেট৷ দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দক্ষিণ ভারত৷ ওই সমীক্ষা অনুযায়ী, দক্ষিণ ভারতের মহিলাদের মধ্যে ৭৯ শতাংশের পেটে জমে রয়েছে অতিরিক্ত মেদ৷ অন্যদিকে, পশ্চিম ভারতের মহিলাদের মধ্যে ৭৮ শতাংশের রয়েছে মোটা পেট৷ চতুর্থ স্থানে রয়েছেন পূর্ব ভারতের মহিলারা৷

ওই সমীক্ষা অনুযায়ী, পূর্ব ভারতের মহিলাদের মধ্যে ৩৩ শতাংশের রয়েছে মোটা পেট৷ তবে, ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের আরও বেশি সংখ্যক মহিলাকে নিয়ে সমীক্ষা চালানো হলে, তাঁদের বেশি চওড়া কোমর এবং মোটা পেট অর্থাৎ, পেটে অতিরিক্ত মেদ জমে যাওয়ার তথ্যে বদলও ঘটতে পারে৷ তবে, সেই বদলের তথ্য মোটেও স্বস্তির হবে না বলেই উদ্বেগ-আশঙ্কায় রয়েছে ওয়াকিবহাল মহল৷ কিন্তু, এ দেশের বিভিন্ন শহরের মহিলাদের মধ্যে কেন এ ভাবে ক্রমে আরও বেশি চওড়া কোমর এবং পেটে অতিরিক্ত মেদ জমে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে?  ওই সমীক্ষায় প্রাপ্ত এমন তথ্যের ভিত্তিতে, কেন-ই-বা উদ্বেগ এবং আতঙ্কে রয়েছেন বিশেষজ্ঞরা?

কলকাতার মেডিকা সুপার স্পেশালিটি হসপিটালের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এবং বেসরকারি ওই হাসপাতালের-ই সিনিয়র কনসালটেন্ট কার্ডিয়াক সার্জন, চিকিৎসক কুণাল সরকারের কথায়, ‘‘খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্য এবং তার সঙ্গে দেরি করে রাতের খাবার খাওয়ার জন্য, ওই সব মহিলার পেটে আরও বেড়ে যাচ্ছে চর্বি৷ যে কারণে, ওই সব মহিলার কোমর এবং তাঁদের নিতম্বের আকৃতির অনুপাতে বজায় থাকছে না ভারসাম্য৷ এই বিষয়টিও ওই সব মহিলার ক্ষেত্রে হৃদযন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা দিচ্ছে৷’’ এখানেও শেষ নয়৷ ওই সমীক্ষায় প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আরও রয়েছে উদ্বেগ-আশঙ্কার কারণ৷ কেননা, ওই সব মহিলার রয়েছে প্রাণসংশয়ের বিষয়টিও৷

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কুণাল সরকার বলেন, ‘‘উচ্চ মাত্রায় লো-ডেনসিটি লিপোপ্রোটিন (LDL) এবং উচ্চতার সঙ্গে ওজনের অনুপাত অর্থাৎ, বডি মাস ইনডেক্স (BMI) স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি মাত্রায় থাকার কারণে, মহিলাদের মধ্যে কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজেসের হার ধীরে ধীরে মহামারির পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে৷’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘শারীরিক গঠন বদলে যাওয়ার সঙ্গে রয়েছে ধূমপান এবং বিভিন্ন ধরনের কাজে কায়িক শ্রম কমিয়ে দেওয়ার বিষয়টিও৷ যে সব মহিলা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় আক্রান্ত, তাঁদের ক্ষেত্রেও হৃদযন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে চলেছে৷’’

Please Share This Post in Your Social Media

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

38177748
Users Today : 2413
Users Yesterday : 7862
Views Today : 6571
Who's Online : 43
© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/
Design & Developed BY Freelancer Zone